সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের বিস্তার: একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ

  মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতকাল ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম একটি স্থানীয় ধর্মীয় আন্দোলন থেকে আঞ্চলিক শক্তিতে রূপ নেয়। মদিনা থেকে শুরু করে এই আন্দোলন কূটনীতি, চুক্তি এবং সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সমগ্র আরব উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়ে। মূল দিকসমূহ: রাজনৈতিক ঐক্য: আরবের বিভিন্ন গোত্র ইসলামের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব মেনে নেয়, যার ফলে দীর্ঘদিনের আন্তঃগোত্রীয় দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে। কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র: মদিনাকে কেন্দ্র করে একটি সুসংহত ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান: এই নবগঠিত রাষ্ট্রটি এমন এক সময়ে গঠিত হয়েছিল যখন এর পশ্চিমে বাইজেন্টাইন (রোমান) সাম্রাজ্য এবং পূর্বে সাসানীয় (পারস্য) সাম্রাজ্য অবস্থান করছিল—উভয় সাম্রাজ্যই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। মানচিত্র (Map Overview) ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের বিস্তৃতি বোঝাতে সাধারণত যে ঐতিহাসিক মানচিত্রগুলো (যেমন: আল মুকাদ্দামা বা অন্যান্য ঐতিহাসিক ম্যাপ) ব্যবহার করা হয়, তাতে নিম্নলিখিত ভৌগোলিক সীমানা দেখা যায়: সবুজ বা নির্দিষ্ট রঙে চিহ্নিত এলাকা: সম্পূর্ণ আরব উপদ্বীপ (মক্কা, মদিনা,...

শয়তানের যত ক্ষমতা

কোরআনে শয়তান শব্দটি এক বচন ।যা ৬৩ বার আর ‘শায়াতিন’ শব্দটি বহু বচন ।যা ১৮ বার উল্লেখ করা হয়েছে।শয়তান অর্থ বিতাড়িত, বিদূরিত, বঞ্চিত ইত্যাদি। শয়তান হক থেকে বিদূরিত এবং কল্যাণ থেকে বঞ্চিত বলে তাকে শয়তান বলা হয়। এ ছাড়া তার আরো নাম আছে।পৃথিবীতে শয়তান মুমিনের প্রধান শত্রু। কোরআনের অসংখ্য স্থানে আল্লাহ শয়তান সম্পর্কে মানবজাতিকে সতর্ক করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না; সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৬৮) অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২০৮)। শয়তানের খাদ্য হলো, হাড়, গোবর ইত্যাদির ঘ্রাণ ও বিসমিল্লাহবর্জিত খাদ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে খাবার গ্রহণের সময় বিসমিল্লাহ পড়া হয় না, শয়তান তা নিজের জন্য বৈধ মনে করে।’ তার পানীয় হলো মদ, শিকারের ফাঁদ হলো নারী, বার্তাবাহক হলো গণক, কিতাব হলো অশ্লীল কল্পিত গ্রন্থাবলি, কথা হলো মিথ্যা, মুয়াজ্জিন হলো বাঁশি, বাদ্যযন্ত্র, উপাসনালয় হলো বাজার।আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাস...

যেসব প্রাণী জান্নাতে যাবে

পৃথিবীতে মানুষের পরেই প্রাণিজগতের স্থান। প্রাণিজগৎকে পৃথক জাতিসত্তার স্বীকৃতি দিয়ে কোরআন বলছে: পৃথিবীতে বিচরণশীল যত প্রাণী আছে আর যত পাখি দুই ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়, তারা সবাই তোমাদের মতো একেক জাতি।' (সুরা আনআম, আয়াত ৩৮) পবিত্র কোরআনে বিক্ষিপ্তভাবে অসংখ্য আয়াতে প্রাণিজগতের প্রসঙ্গ এসেছে। এর বাইরেও পৃথকভাবে বিভিন্ন প্রাণীর নামে অনেকগুলো সুরার নামকরণ করা হয়েছে। যেমন সুরা বাকারা (গাভি), সুরা আনআম(উট, গরু, বকরি), সুরা নাহল (মৌমাছি), সুরা নামল(পিপীলিকা), সুরা আনকাবুত (মাকড়সা), সুরা ফিল(হাতি) ইত্যাদি। এসব নামকরণ থেকে প্রাণিজগতের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্ট ফুটে ওঠে। যেসব প্রাণী(জীব) জান্নাতে যাবে- ১,হযরত মুহাম্মদ(সা:) যে উটে আরেহন করে হিজরত করেছিলেন। ২,হযরত সালেহ(আ:) এর উট। ৩,হযরত ইবরাহীম(আ:) যেই গো-বৎসটি মেহমানদের জন্য ভুনা করেছিলেন। ৪,হযরত ইসমাঈল(আ:) এর বদলায় যে মেষটি প্রেরণ করা হয়েছিল। ৫,হযরত মূসা(আ:) যে গাভীটি কুরবানী দিয়েছিলেন। ৬,হযরত ইউনুস(আ:) কে যে মৎস্যটি গ্রাস করে পরে বের করেছিল। ৭,হযরত উজায়র(আ:) এর গাধাটি। ৮,হযরত সুলাইমান(আ:) যে পিপড়াটির সাথে কথা বলেছিলেন। ৯,হযরত সুলাইমান(...

হযরত ইদরীস (আ.) বিজ্ঞানী নবী ছিলেন

#মো. আবু রায়হান পৃথিবীর প্রথম সহস্রাব্দে হযরত ইদরীস (আ) এর আগমন।হযরত আদম (আ.)-এর ইন্তেকালের ৩৮০ বছর আগে ইরাকের প্রাচীন নগরী বাবেল শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বেশির ভাগ সাহাবি(রা.)-এর মতে, তিনি নুহ(আ.)-এর পরের নবী। কিন্তু ইতিহাসবিদ ইবনে ইসহাকের মতে, তিনি নবী হযরত নুহ (আ.)-এর দাদা।’ ইতিহাসবিদরা এ মতকে দুর্বল বলে মনে করেছেন। আদম (আ.)-এর পর তিনিই প্রথম নবী ও রাসুল, যাঁর প্রতি আল্লাহ ৩০টি সহিফা (ছোট কিতাব) নাজিল করেছেন।ইদরিস (আ.)-এর মূল নাম ‘আখনুখ’। ইদরিস তাঁর উপাধি। ইদরিস অর্থ শিক্ষা-শিক্ষকতায় ব্যস্ত ব্যক্তি। যেহেতু তিনি বহুবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন, তাই তাকে ইদরিস বা বিদ্যাবিশারদ বলা হয়। ইদরিস (আ.)-এর মাধ্যমে পৃথিবীর ইতিহাসে সভ্যতা, সংস্কৃতি ও অনেক বিজ্ঞানসম্মত কাজের আবিষ্কার হয়। তিনি একাধারে বিজ্ঞানী, সফল রাষ্ট্র পরিচালক, কর্মবীর ও কর্মশিল্পী ছিলেন। ইদরিস (আ.) এমন এক ব্যক্তি, যাঁকে মুজিজা হিসেবে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও অঙ্কবিদ্যা দান করা হয়েছে।’ (তাফসিরে বাহরে মুহিত)। ইদরিস (আ.)-এর মাধ্যমে পৃথিবীতে চিকিৎসাশাস্ত্র একটি অবকাঠামোর রূপ পায়। এর আগে চিকিৎসাশাস্ত্রের নির্ধারিত নির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা ছিল ...

চাকার আবিষ্কারক হযরত আদম (আ.)

#মো.আবু রায়হান মানবসভ্যতার ইতিহাসে চাকার আবিস্কার একটি যুগান্তকারী ঘটনা। চাকা বা চক্র যানবাহনে ব্যবহৃত একপ্রকারের বৃত্তাকার যন্ত্রাংশ। চাকার কেন্দ্রস্থলের অবস্থিত অক্ষ বরাবর এটি ঘুরতে পারে। চাকার উপরে গড়িয়ে গড়িয়ে যানবাহন অবস্থান পরিবর্তন করে থাকে।তবে কোথায় কখন এ চাকা আবিস্কার হয়, তার অকাট্য প্রমাণ নেই বললেই চলে। ফলে এ আবিস্কার নিয়ে রয়েছে নানা মুনির নানা মত। অবশ্য বিশেষজ্ঞ অনেকেই মনে করেন, যিশুখ্রিষ্টের জন্মের ৫০০০ বছর আগে তথা আজ থেকে ৭০০০ বছরেরও বেশি আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় (বর্তমান ইরাকের একটি সভ্যতা) চাকা আবিস্কৃত হয়। ককেশাসের উত্তর দিকে বেশকিছু কবর পাওয়া গেছে, যাতে ৩৭০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে ঠেলাগাড়িতে করে মৃতদেহ কবর দেওয়া হতো। ৩৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি সময়ে তৈরি করা একটি মাটির পাত্র দক্ষিণ পোল্যান্ডে পাওয়া গেছে, যাতে চার চাকার একটি গাড়ির ছবি আছে। এটিই এ পর্যন্ত প্রাপ্ত চাকাযুক্ত গাড়ির ছবির সবচেয়ে পুরনো নিদর্শন বা চিহ্ন। মনে করা হয়, গাছের গোল গুঁড়ি গড়িয়ে যেতে দেখে চাকার ধারণা আসে মানুষের মাথায়। তারা গুঁড়িটি পাতলা করে কেটে তার মাঝখানে ছিদ্র করে লাঠির মতো কিছু দিয়ে চাকতি দ...

মরতেই হবে

জন ডেভিডসন রকফেলার সিনিয়র, যিনি জন ডি রকফেলার নামেই পরিচিত। তিনি ছিলেন আমেরিকার সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড ওয়েল কোম্পানির কর্ণধার।তিনি চাইতেন ১০০ বছর বাঁচবেন এবং এক লাখ ডলারের মালিক হবেন। প্রথম চাওয়াটি মাত্র ২ বছরের জন্য পূরণ হয়নি। কিন্তু দ্বিতীয় ইচ্ছাকে তিনি ছাড়িয়ে গিয়ে আমেরিকার ইতিহাসের প্রথম বিলিয়নিয়ার হয়ে যান। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল আজকের দিনের হিসেবে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার! তার মতো প্রভাবশালী আর ধনী ব্যবসায়ী তার মৃত্যুর প্রায় ১০০ বছরেও আসেননি। দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার জন্য অনেকরকম পরিকল্পনা করেছিলেন মাইকেল জ্যাকসন। কোনও কিছুই কাজে লাগেনি। মৃত্যু এসেছিল নিভৃতে, নিঃশব্দে। ছো মেরে তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল অন্য জগতে।ব্যাড অ্যালবামটি হিট হওয়া পর টাকা আর খ্যাতি এই দুইয়ের কোনো অভাব হয়নি মাইকেলের। সুন্দর এই পৃথিবীর মায়া তারও ছিল। তাই অমর হওয়ার রাস্তা খুঁজছিলেন তিনি। এ জন্য বিশ্বের সর্বোচ্চ চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। নিজের ক্লোন তৈরি করে অমর হতে চেয়েছিলেন মাইকেল জ্যাকসন। মৃত্যুর আগে এর জন্য তিনি লাখ লাখ ডলার ব্যয়ও করেছেন। তার জীবনী লেখক মাইকেল সি লাকম্যান এক সাক...

মৌমাছি ও আল কুরআন

#মো. আবু রায়হান মৌমাছি বা মধুমক্ষিকা বা মধুকর আমাদের জন্য উত্কৃষ্ট মধু আহরণ করে।পৃথিবীতে ৯টি স্বীকৃত গোত্রের অধীনে প্রায় বিশ হাজার মৌমাছি প্রজাতি আছে। যদিও এর বেশিরভাগেরই কোন বর্ণনা নেই এবং এর প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। মৌমাছির চাকের গঠন ষড়ুভুজাকার হওয়ায় গবেষকেরা ভাবতেন, মৌমাছি বুঝি জ্যামেতি জানে৷ বিস্ময়কর ভাবে গবেষণা করে দেখা গেছে মৌমাছিরা যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ করতে পারে৷ মৌমাছি মহান আল্লাহর অপূর্ব সৃষ্টি। যাকে আরবিতে বলা হয় ‘নাহল’। পবিত্র কোরআনে ‘নাহল’ নামে একটি সুরা অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরাটি পবিত্র কোরআনের ১৬তম সূরা। সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ১২৮টি। এই সূরার ৬৮ আয়াতের থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে। ‘আপনার পালনকর্তা মধু মক্ষিকাকে আদেশ দিলেন: পর্বতগাহ্রে, বৃক্ষ এবং উঁচু চালে গৃহ তৈরি কর। এরপর সব প্রকার ফল থেকে ভক্ষণ কর এবং আপন পালনকর্তার উম্মুক্ত পথ সমূহে চলমান হও। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।’ (সূরা: নাহল, আয়াত,৬৮- ৬৯)।প্রিয় নবী (সা.) মধু খেতে ...

হাতি ও বিড়ালের মল থেকে কফি তৈরি

#মো.আবু রায়হান কফি বিশ্বব্যাপী খুবই জনপ্রিয় পানীয়। কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’—মান্না দের জনপ্রিয় গান সবারই শোনা। তাঁর গানের মতো আড্ডা না থাকলেও কফি কিন্তু ঠিকই রয়ে গেছে। একসময় বাঙালিদের মধ্যে কফি খাওয়াটা মোটামুটি অভিজাত শ্রেণির মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এত কফিশপও ছিল না। কিন্তু এখন চিত্র ভিন্ন। এখন তো আড্ডা মানেই যেন কফি! জনপ্রিয় এই পানীয় আবিষ্কারক একজন মুসলিম। তার নাম খালেদি। তিনি কোনো বিজ্ঞানী নন, সাধারণ এক মুসলিম রাখাল। আরব-ইথিওপীয় খালেদি নবম শতকে জনপ্রিয় এই পানীয়র ব্যবহার শুরু করেন। খালেদির মেষগুলো প্রায়ই ক্লান্ত হয়ে যেত। হঠাৎ একদিন তিনি দেখলেন, মেষগুলোর ক্লান্তিভাব দূর হয়ে গেছে। উদ্যম ও চঞ্চলতায় ভরে উঠেছে সেগুলো। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি লক্ষ করলেন, মেষগুলো লাল জামের মতো মতো কী যেন খাচ্ছে। ধর্মপ্রাণ খালেদি গাছ থেকে কয়েকটি ফল নিয়ে দ্রুত হাজির হলেন স্থানীয় মসজিদের ইমামের কাছে। ফলগুলো কাঁচা খাওয়া সম্ভব হবে না ভেবে ইমাম পাশে রাখা জ্বলন্ত আগুনে ফেললেন। দেখলেন আগুনের ভেতর থেকে দারুণ সুঘ্রাণ বের হচ্ছে। পরে ইমামের শিষ্যরা ফলগুলো সিদ্ধ করে গরম পানিসহ পান করলেন। এভাবেই ...

উটের যুদ্ধ ইসলামের প্রথম ভাতৃঘাতি যুদ্ধ

#মো.আবু রায়হান উটের যুদ্ধ বা উষ্ট্রের যুদ্ধ বা জামালের যুদ্ধ ( Battle of the Camel) ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে ইরাকের বসরায় সংঘটিত হয়। এটি ইসলামের ইতিহাসের প্রথম গৃহযুদ্ধ।এই যুদ্ধ ছিল ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী এর বিরুদ্ধে হযরত তালহা-জুবায়ের ও আয়েশা (রা)সম্মলিত যুদ্ধ। পটভূমি হযরত ওসমান (রা) এর বিভিন্ন প্রদেশে প্রাদেশিক শাসনকর্তা নিয়োগ নিয়ে একদল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ টেনে বিদ্রোহ শুরু করে।হযরত ওসমান বিভিন্নভাবে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করতে থাকেন। তাদের কথামত মিশরের গভর্নরকে প্রতিস্থাপন করে আবু বকরের ছেলে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর কে নিয়োগ করলেও বিদ্রোহীরা শান্ত হয় নি। তারা নানাভাবে অভিযোগ টেনে এনে ওসমান (রা) এর অপসারণের দাবী করতে থাকে। ওসমান সবকিছু মীমাংসার আশ্বাস দিলেও তারা ৬৫৬ সালের ১৭ জুন তারা বাড়ি অবরুদ্ধ করে এবং এক পর্যায়ে তারা তার কক্ষে প্রবেশ করে কুরআন তেলাওয়াত করা অবস্থায় হত্যা করে।ওসমান (রা.)-এর হত্যাকাণ্ডের পর আলী (রা.) খলিফা হন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করে যখনই আলী (রা.) ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কাজে হাত দেন তখনই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবের কার...

সিফফিনের যুদ্ধ খারেজি ফেরকা ও আলীর শাহাদত

#মো. আবু রায়হান সিফফিনের যুদ্ধ বা জঙ্গে সিফফিন,৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে,হিজরি ৩৭ সনে ঘটে যাওয়া, একটি বিভীষিকাময় গৃহযুদ্ধ। উষ্ট্রের যুদ্ধের পর, এটি ছিল মুসলিম ইতিহাসের সর্ববৃহৎ গৃহযুদ্ধ। ইউফ্রেটিস তথা ফোরাত নদীর পশ্চিম তীরে সিফফিন নামক প্রান্তরে তৎকালীন চতুর্থ ও সর্বশেষ খোলাফায়ে রাশেদীন হযরত আলী(রা:) ও সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান এর মধ্যে যুদ্ধটি সংঘটিত হয়। যুদ্ধে দু পক্ষেই রাসূলের (সা) সর্বাধিক অনুগত সাহাবীগণ বিদ্যমান ছিলেন। পটভূমি খলিফার প্রতি ভুল বুঝাবুঝি হেতু হযরত ওসমান হত্যার বিচার দাবি করে সিরিয়ার গভর্ণর মুয়াবিয়া বড় আন্দোলন গড়ে তোলেন। যাকে অন্যায় ভাবে মুনাফেক সাবাঈ দল হত্যা করেছিল। নিহত ওসমান (রা) এর রক্তমাখা জামা আর স্ত্রী নায়লার কাটা আঙুলগুলো নিয়ে নুমান বিন বশির মদিনা ত্যাগ করেন। তিনি উমার (রা) কর্তৃক নিয়োগ দেয়া সিরিয়ার গভর্নর হযরত মুয়াবিয়া (রা) এর নিকট উপস্থিত করেন ওগুলো। মুয়াবিয়া তখন সেগুলো সবাইকে দেখাতে মিম্বরে স্থাপন করলেন। সে জামা আর আঙুলগুলো দেখে কান্নাকাটি আর প্রতিশোধের আগুন জেগে ওঠে। উল্লেখ্য উসমান (রা) আর মুয়াবিয়া (রা) ছিলেন আত্মীয়। এ দিকে আলী (র...

ইয়ারমুকের যুদ্ধ ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুপম উদাহরণ

আধুনিক কালের ইয়ারমুক #মো.আবু রায়হান ইয়ারমুকের যুদ্ধ ৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দে রাশিদুন খিলাফত ও বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের মধ্যে সংঘটিত হয়। ৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দের আগস্টে ইয়ারমুক নদীর তীরে ছয়দিনব্যপী এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। জর্দান নদী ও ইয়ারমুক নদীর মিলনস্থলে ইয়ারমুক প্রান্তর অবস্থিত। বর্তমানের সিরিয়া, জর্দান ও ফিলিস্তিনের সীমান্তবর্তী এই উপত্যকার তিনদিকে ছিলো ওয়াদী আল রুক্কাদ, ওয়াদী আল ইয়ারমুক, ওয়াদী আল আলান এর খাড়া পাহাড় বেষ্টিত সরু গিরিপথ। এই যুদ্ধে মুসলিমদের বিজয়ের ফলে সিরিয়ায় বাইজেন্টাইন শাসনের অবসান ঘটে। সামরিক ইতিহাসে এই যুদ্ধ অন্যতম ফলাফল নির্ধারণকারী যুদ্ধ হিসেবে গণ্য হয়। মুহাম্মদ (সা) এর মৃত্যুর পর এই যুদ্ধ জয় মুসলিম বিজয়ের প্রথম বৃহৎ বিজয় হিসেবে দেখা হয়। এর ফলে খ্রিষ্টান লেভান্টে ইসলাম দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ৬৩৬ সালের জানুয়ারি মাস নাগাদ মুসলিম বাহিনী সিরিয়ার প্রতিটি লড়াইয়ে রোমানদের হারাতে হারাতে পশ্চিম সিরিয়ার হিমস শহর দখল করে নেয়। পুরো সিরিয়ান ফ্রন্টে কেবল আলেপ্পো তখন রোমানদের একমাত্র শক্তিশালী ঘাঁটি, যা হারালে রোমানদের সিরিয়াতে দাঁড়ানোর মত আর জায়গা থাকবে না। এমন কঠিন অবস্থায় রোমান ক...

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...

কাবা ঘর নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মো. আবু রায়হানঃ কাবা মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে, পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।কাবা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ মুকাআব অর্থ ঘন থেকে।কাবা একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত। (The Kaaba, meaning cube in Arabic, is a square building elegantly draped in a silk and cotton veil.)।যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।কাবার ভৌগোলিক অবস্থান ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব।পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর বায়তুল্লাহ বা পবিত্র কাবা ঘর ।আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে তা মক্কা নগরীতে। (সুরা আল ইমরান - ৯৬)। “প্রথম মাসজিদ বায়তুল্লাহিল হারাম তারপর বাইতুল মাকদিস, আর এ দুয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো চল্লিশ বছরের”।(মুসলিম- ৫২০)। ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি ...