সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

অক্টোবর ৯, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ইস্তাম্বুল থেকে মদিনা: উসমানীয় সাম্রাজ্যের শেষ খলিফা আবদুল মজিদ দ্বিতীয়-এর করুণ প্রস্থান

ইতিহাসের পাতায় কিছু সমাপ্তি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং তা এক গভীর ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। ২৩ আগস্ট—উসমানীয় রাজবংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ (Caliph Abdul Majid II) -এর জীবনের এক মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধূর অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন। খেলাফতের পতন এবং উসমানীয় রাজবংশের তুরস্ক থেকে নির্বাসনের পর তাঁর জীবন কীভাবে এক নিদারুণ নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়েছিল, এটি তারই এক ঐতিহাসিক দলিল। ১. নির্বাসিত জীবন ও প্যারিসের নিঃসঙ্গ মৃত্যু তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যখন উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করা হয়, তখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, তখন চরম দুর্দিনে প্যারিসের এক ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ এতটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল যে, বেশ কয়েক দিন ধরে তা ফ্ল্যাটেই রাখা ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তাঁর মরদেহ প্যারিস মসজিদে নিয়ে গিয়ে হিমঘরে (frozen storage) রাখা হয়। ২. অপূর্ণ ইচ্ছে ও শেষ ঠিকানার সন্ধান আবদুল মজিদ জীবনের ...

দক্ষিণ এশিয়া

  দক্ষিণ এশিয়া বা দক্ষিণাঞ্চলীয় এশিয়া বলতে এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত ভারতীয় উপমহাদেশ ও তার সন্নিকটস্থ অঞ্চলকে বোঝায়। এর পশ্চিমে পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্য , উত্তরে মধ্য এশিয়া , আর পূর্বে পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ - পূর্ব এশিয়া। আগে সাতটি দেশকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে ধরা হতো। দেশগুলো হলো — ভারত , পাকিস্তান , বাংলাদেশ , ভুটান , নেপাল , দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ । পরে আফগানিস্তানকেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে যুক্ত করা হয়। এই আটটি দেশই সার্কের ( দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থ ) সদস্য। অনেক সময় এই নামটি দিয়ে প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের দক্ষিণে অবস্থিত সমগ্র এশিয়াকেও বোঝানো হয়। দক্ষিণ এশিয়ার আয়তন ৫১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৬৪১ বর্গকিলোমিটার। ২০২০ সালের হিসেব মতে জনসংখ্যা ১৯৪ কোটি ৭৬ লক্ষ ২৮ হাজা র ১০০ জন। ধর্ম দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যা প্রায় ১.৭৪৯ বিলিয়ন , যা এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চল করে তুলেছে।২০১০ সালে হিন্দু , জৈন এবং শিখ ধর্মের লোক বিশ্বের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি ছিল , ৯০০ মিলিয়ন হিন্দু , প্রায় ৫১০ মিলিয়ন মুসলমান , পাশাপাশি ৩৫ মিলিয়ন ...

আইভরি কোস্ট

  দেশটির পশ্চিমে গিনি ও লাইবেরিয়া , উত্তরে বুর্কিনা ফাসো ও পূর্বে ঘানা। আলাসেন ওয়াট্টারা আরবিতে দেশটির নাম ‘সাহিলুল আজ’। যার অর্থ হলো , হস্তীদন্তের উপকূল। দেশটির রাজনৈতিক রাজধানী ইয়ামুসুক্রো। বৃহত্তম বন্দর নগরী আবিদজান হলো অর্থনৈতিক রাজধানী। আয়তনঃ ৩২২ , ৪৬৩ বর্গকিলোমিটার জনসংখ্যা ধর্মঃ ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ মুসলিম। নামকরণ আইভরি কোস্টের নামকরণের ব্যাপারে বলা হয় , প্রাচীনকালে আফ্রিকার ব্যবসায়ীরা হাতির দাঁত একত্র করে উপকূলে এসে বিক্রি করত। তা থেকেই ‘আইভরি কোস্ট’ বা ‘হাতির দাঁতের উপকূল’ নামে পরিচিতি লাভ করে। ইতিহাস ইউরোপীয় উপনিবেশসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র দ্বারা শাসিত দেশটি ১৯৬০ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৬০ সালের ৭ আগস্ট দেশটি ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। তবে ফ্রান্সের সঙ্গে দেশটি এখনো বিভিন্ন চুক্তিতে আবদ্ধ। ১৯৯৯ সালে আবারও দুটি গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি হয়। প্রথমটি ২০০২-২০০৭ সালের দিকে। দ্বিতীয়টি ২০১০-২০১১ সালে। ইসলামের আগমন আইভরি কোস্টে নানা উপায়ে ইসলামের আগমন হয়। মুসলিম ব্যবসায়ীদের পদচারণ ছিল আফ্রিকার এ অঞ্চলে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মুসলিম বণিকদের সদাচার ও সততা দেখে মুগ্ধ হয় স্থান...

গিনি-বিসাউ

    গিনি-বিসাউউত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার একটি প্রজাতন্ত্র। এটি আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলির একটি। এর উত্তরে সেনেগাল , পূর্বে ও দক্ষিণে গিনি , এবং পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর। সমুদ্রে অবস্থিত প্রায় ৬০টি দ্বীপও গিনি-বিসাউয়ের সীমানাভুক্ত ; এদের মধ্যে বিসাগোস দ্বীপপুঞ্জ অন্যতম। দেশটির আয়তন ৩৬ , ১২৫ বর্গকিমি। গিনি-বিসাউতে ইসলাম এদেশের প্রধান ধর্ম। এখানের প্রায় ১.৪ মিলিয়ন নাগরিকের মধ্যে প্রায় ৫০% ইসলাম ধর্মের অনুসারী।[১] সুফী প্রভাব সহ সবচেয়ে বড় অংশ হলো মালিকি মাযহাবের সুন্নি। প্রায় ৬% শিয়া এবং ২% আহমদিয়া উপস্থিত আছেন।[ ইতিহাস দেশটি অতীতে একটি পর্তুগিজ উপনিবেশ ছিল ; তখন এর নাম ছিল পর্তুগিজ গিনি। ১৯৭৪ সালে এক রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দেশটি পর্তুগাল থেকে স্বাধীন হয়। স্বাধীনতা লাভের পর প্রতিবেশী গিনির নামের সাথে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর জন্য এর নামের সাথে রাজধানী ও বৃহত্তম শহর বিসাউ-এর নাম যোগ করা হয়। দেশের ১৫ লক্ষ মানুষের দুই-তৃতীয়াংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলির একটি।

গিনি

    গিনি প্রজাতন্ত্র পশ্চিম আফ্রিকার একটি রাষ্ট্র। পূর্বে দেশটি ফরাসি গিনি নামে পরিচিত ছিল।গিনি নামে আরো দুটি দেশ আছে। একটি হলো গিনি বিসাও এবং অন্যটি ইকুয়াটোরিয়াল গিনি। এ দুটি দেশ থেকে পৃথক করার জন্য গিনিকে গিনি-কোনাক্রি নামেও অভিহিত করা হয়।গিনি অঞ্চলের নামানুসারেই তিনটি দেশের নামকরণ করা হয়। এটি একটি পুর্তগীজ শব্দ। রাজধানী ও বৃহত্তম শহর: কোনাক্রি। আয়তন: ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৬ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা: ১ কোটি ২০ লাখ ৯১ হাজার ৫৩৩ জন। জাতিগোষ্ঠী : ফুলা ৪২% , মানদিনকা ৩১% , সুসু ১৩% , কিসি ৫% , কেপেলে ৫% , অন্যান্য ৪%। প্রধান ধর্ম: ইসলাম। সরকারি ভাষা: ফরাসি। মুদ্রা: গিনিয়ান ফ্রাঙ্ক। স্বাধীনতা ঘোষণা: ২ অক্টোবর , ১৯৫৮(ফ্রান্স থেকে)। জাতিসংঘে যোগদান: ১২ ডিসেম্বর , ১৯৫৮। সরকার গিনি একটি প্রজাতন্ত্র। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়। এটি মুসলিমপ্রধান দেশ। দেশের ৮৫ শতাংশ মানুষই মুসলমান। গিনিতে ইসলাম ইসলাম আরব উপদ্বীপ থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সুনীতিটা কেইটা ( ১২১৭ –১২৫৫) মালি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা (যা বর্তমান গিনির পাশাপাশি অন্যান্য আধু...

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যে গাছ ইহুদিদের আশ্রয় দেবে অর্থাৎ ইহুদিদের বন্ধু গাছ

মো.আবু রায়হান: কিয়ামত সংঘটিত হবার   পূর্বে হযরত ঈসা (আ.) এর সঙ্গে দাজ্জালের জেরুজালেমে যুদ্ধ হবে। সেই যুদ্ধে ইহুদিরা দাজ্জালের পক্ষাবলম্বন করবে। হযরত ঈসা (আ.) দাজ্জালকে হত্যা করবেন।এদিকে   ইহুদিরা প্রাণ ভয়ে পালাতে চেষ্টা করবে।   আশেপাশের গাছ ও পাথর/ দেয়ালে আশ্রয় নেবে। সেদিন গারকাদ নামক একটি গাছ ইহুদিদের আশ্রয় দেবে। গারকাদ ইহুদীবান্ধব গাছ।গারকাদ একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ হল কাটাওয়ালা ঝোঁপ।গারকাদ এর ইংরেজী প্রতিশব্দ Boxthorn । Box এর অর্থ সবুজ ঝোঁপ এবং thorn এর অর্থ কাঁটা। এ ধরনের গাছ বক্সথর্ন হিসেবেই পরিচিত। এই গাছ চেরি গাছের মতো এবং চেরি ফলের মতো লাল ফলে গাছটি শোভিত থাকে।   ইসরায়েলের সর্বত্র বিশেষত অধিকৃত গাজা ভূখন্ডে গারকাদ গাছ ব্যাপকহারে   দেখতে পাওয়া যায়।ইহুদিরা কোথাও পালাবার স্থান পাবে না। গাছের আড়ালে পালানোর চেষ্টা করলে গাছ বলবে , হে মুসলিম! আসো , আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে। আসো এবং তাকে হত্যা কর। পাথর বা দেয়ালের পিছনে পলায়ন করলে পাথর বা দেয়াল বলবে , হে মুসলিম! আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে , আসো! তাকে হত্যা কর। তবে গারকাদ নামক গাছ ইহুদ...

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...