ইতিহাসের পাতায় কিছু সমাপ্তি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং তা এক গভীর ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। ২৩ আগস্ট—উসমানীয় রাজবংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ (Caliph Abdul Majid II) -এর জীবনের এক মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধূর অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন। খেলাফতের পতন এবং উসমানীয় রাজবংশের তুরস্ক থেকে নির্বাসনের পর তাঁর জীবন কীভাবে এক নিদারুণ নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়েছিল, এটি তারই এক ঐতিহাসিক দলিল। ১. নির্বাসিত জীবন ও প্যারিসের নিঃসঙ্গ মৃত্যু তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যখন উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করা হয়, তখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, তখন চরম দুর্দিনে প্যারিসের এক ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ এতটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল যে, বেশ কয়েক দিন ধরে তা ফ্ল্যাটেই রাখা ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তাঁর মরদেহ প্যারিস মসজিদে নিয়ে গিয়ে হিমঘরে (frozen storage) রাখা হয়। ২. অপূর্ণ ইচ্ছে ও শেষ ঠিকানার সন্ধান আবদুল মজিদ জীবনের ...
১৯৩৮ সালের ২১শে এপ্রিল, বিখ্যাত মুসলিম চিন্তাবিদ, দার্শনিক এবং বিখ্যাত উর্দু ও ফার্সি কবি আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে মৃত্যুবরণ করেন। তার কর্মজীবন জুড়ে, ইকবাল বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক পুনরুজ্জীবনের উপর লেখেন এবং বক্তৃতা প্রদান করেন। ১৯২৮-২৯ সালে মাদ্রাজ (বর্তমানে চেন্নাই), হায়দ্রাবাদ এবং আলীগড়ে তিনি যে ছয়টি বক্তৃতা দিয়েছিলেন তা ১৯৩৪ সালে The Reconstruction of Religious Thought in Islam (দ্য রিকনস্ট্রাকশন অফ রিলিজিয়াস থট ইন ইসলাম) নামে প্রকাশিত হয়েছিল। ইকবালের ইসলামিক স্টাডিজে, বিশেষ করে তাসাউফ (সুফিবাদ) -এর প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। তাঁর থিসিস, The Development of Metaphysics in Persia, (দ্য ডেভেলপমেন্ট অফ মেটাফিজিক্স ইন পারস্য) ইউরোপে পূর্বে অজানা ইসলামি রহস্যবাদের (তাসাউফ) কিছু দিক প্রকাশ করে।