আকাশের দিকে তাকিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা মানুষের প্রাচীনকাল থেকেই রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর হলো যখন চাঁদের কালো বৃত্তের চারপাশ দিয়ে সূর্যের আলো ঠিকরে বেরিয়ে একটি উজ্জ্বল বলয় তৈরি করে—যাকে আমরা "রিং অব ফায়ার" (Ring of Fire) বা বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে জানি। কিন্তু এই মহাজাগতিক বিস্ময়ের পেছনের বিজ্ঞানটি একদিনে উন্মোচিত হয়নি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গ্রিক ও রোমান পন্ডিতদের ভুল ধারণার জাল ছিন্ন করে যিনি প্রথম এই রহস্যের সঠিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, তিনি হলেন মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিজ্ঞানী আল-বাতানি (Al-Battānī) । ১. প্রাচীন জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং টলেমির দীর্ঘমেয়ি ভুল ধারণা আল-বাতানির যুগ আসার আগে প্রাচীন পৃথিবীর জ্যোতির্বিজ্ঞান বহু শতাব্দী ধরে গ্রিক ও রোমান চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত ছিল। প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্লডিয়াস টলেমি (Claudius Ptolemy) এবং তাঁর অনুসারীরা বিশ্বাস করতেন যে, চাঁদ সর্বদা পৃথিবীর এতটাই কাছে বা যথেষ্ট বড় থাকে যে এটি সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দিতে সক্ষম। তাঁদের মতে, সূর্যগ্রহণ মানেই হলো পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ—যেখানে সূর্য স...
মহাবিশ্বের সমস্ত নিয়ম-কানুন ও প্রাকৃতিক শৃঙ্খলা আল্লাহ তাআলার সুনির্দিষ্ট হুকুমে পরিচালিত হয়। সাধারণ নিয়মে পৃথিবীর ঘূর্ণন এবং সময়ের প্রবাহ স্বাভাবিকভাবে চললেও, ইসলামের ইতিহাস, পবিত্র কোরআন এবং নির্ভরযোগ্য হাদিসের পাতায় এমন কিছু বিশেষ ও বিরল মুহূর্তের কথা উল্লেখ রয়েছে, যেখানে আল্লাহ তাআলার বিশেষ কুদরতে সময় বা সূর্যের গতি থমকে গিয়েছিল কিংবা স্থগিত রাখা হয়েছিল। আজকের ব্লগে আমরা সংক্ষেপে সেই ঐতিহাসিক ও অলৌকিক ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানব। ১. হজরত উজাইর (আ.)-এর ক্ষেত্রে ১০০ বছর সময় থেমে থাকা পবিত্র কুরআনের সুরা আল-বাকারার ২৫৯ নম্বর আয়াতে এক বিশেষ ব্যক্তির ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়, যাঁকে তাফসির ও ইতিহাসবিদগণ হজরত উজাইর (আ.) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি একবার এমন এক জনবসতির ওপর দিয়ে যাচ্ছিলেন যা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। তিনি মনে মনে ভাবলেন, মৃত্যুর পর আল্লাহ কীভাবে এই জনপদকে আবার জীবন দান করবেন? তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুনিদ্রায় আচ্ছন্ন করেন এবং তাঁর সাথে থাকা গাধাটিও মারা যায়। এভাবেই কেটে যায় দীর্ঘ এক শ বছর । একশ বছর পর আল্লাহ তাআলা তাঁকে পুনর্জীবিত করেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস ক...