পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কিছু শহরের জন্ম হয়েছে যা কেবল কোনো রাজ্যের রাজধানী হিসেবেই টিকে থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছে জ্ঞান, শিল্প ও সভ্যতার বাতিঘর। মধ্যযুগের সেই গোলকধাঁধার মতো বিশ্বসেরা নগরীটির নাম— বাগদাদ । খলিফাদের দাপ্তরিক নথিপত্র, তৈরি পোশাকের গায়ে বোনা লেখা কিংবা সরকারি মুদ্রায় এই শহরের নাম খোদাই করা থাকত "মদিনাত আস-সালাম" বা "শান্তির শহর"। কিন্তু ইতিহাস এবং সাধারণ মানুষের মুখে মুখে শহরটি পরিচিতি পায় তার প্রাচীন নামেই—বাগদাদ। এক বিস্ময়ের নাম বাগদাদ একাদশ শতকের বিখ্যাত মুসলিম পন্ডিত খতিব আল-বাগদাদি এই শহরের সৌন্দর্য ও বৈভব দেখে মোহিত হয়ে লিখেছিলেন: "সমগ্র বিশ্বে এমন কোনো শহর নেই যা আয়তনে, জাঁকজমকে কিংবা জ্ঞানী ও মহান ব্যক্তিত্বের সংখ্যায় বাগদাদের সাথে তুলনীয় হতে পারে... এর অসংখ্য রাস্তা, বাজার, অলিগলি, মসজিদ, হামামখানা আর দোকানপাটের দিকে তাকালেই বোঝা যায় এটি অন্য সব শহর থেকে কতটা আলাদা।" বাস্তবেই, অল্প সময়ের মধ্যে বাগদাদ মধ্যযুগের বিশ্বের বৃহত্তম নগরে পরিণত হয়েছিল। বাজার জুড়ে বইয়ের দোকান, গণগ্রন্থাগার এবং বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইসলামিক বিশ্বের কোণায় ...
৭১১ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাস। ইউরোপের ইতিহাসে এটি কেবল একটি সাধারণ বছর নয়, বরং একটি নতুন যুগের সূচনা। জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রম করে উমাইয়া সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ পা রেখেছিলেন ইউরোপের মাটিতে। তাঁর এই অভিযান এবং পরবর্তী গুয়াদালেতের যুদ্ধ (Battle of Guadalete) স্পেন ও পর্তুগাল নিয়ে গঠিত আইবেরীয় উপদ্বীপের রাজনীতি ও ইতিহাসকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল। যুদ্ধপূর্ব প্রেক্ষাপট: খণ্ডিত এক সাম্রাজ্য অষ্টম শতাব্দীর শুরুতে স্পেনের শাসন ক্ষমতায় ছিল ভিসিগথ সাম্রাজ্য। কিন্তু ভিতর থেকে সেই সাম্রাজ্য ছিল জীর্ণ এবং গৃহযুদ্ধে জর্জরিত। রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে ভিসিগথ অভিজাতদের মধ্যে চরম বিরোধ চলছিল। ঠিক এই অস্থিরতার সময়ে ক্ষমতায় আসেন ডন রদ্রিগো (Don Rodrigo) , যিনি ছিলেন ভিসিগথদের শেষ রাজা। কিন্তু রাজ্যজুড়ে আনুগত্যের অভাব এবং অভ্যন্তরীণ শত্রুতার কারণে তাঁর সিংহাসন ছিল অত্যন্ত নড়বড়ে। তারিক বিন জিয়াদের ঐতিহাসিক অভিযান উত্তর আফ্রিকার উমাইয়া গভর্নর মুসা ইবনে নুসাইরের আদেশে সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ মাত্র ৭,০০০ (পরবর্তীতে আরও যোগ হওয়াসহ প্রায় ১২,০০০) আরব ও বার্বার সৈন্যের এক বাহিনী নিয়ে আইবেরীয়...