মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুতে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তবে তাঁর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর জীবনপ্রদীপ যেভাবে নিভে গিয়েছিল, তা অত্যন্ত করুণ এবং বিতর্কিত। সাধারণ ইতিহাস কিংবা উপকথার বাইরে গিয়ে যদি ইবনে আল-বালাজুরি, জি. আর. হটিং কিংবা পি. কে. হিটি-র মতো ইতিহাসবিদদের সূত্র বিশ্লেষণ করা হয়, তবে দেখা যায় যে তাঁর মৃত্যু মূলত উমাইয়া খিলাফতের অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফলাফল ছিল। ১. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ও মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থান মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থানের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তাঁর অভিভাবক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের । ৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান হাজ্জাজকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করেন। ৭০৫ সালে আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর নতুন খলিফা আল-ওয়ালিদও হাজ্জাজকে তাঁর পদে বহাল রাখেন। এই হাজ্জাজের নেতৃত্বেই মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি সেখানে উমাইয়া শাসন সুদৃঢ় করেন। ২. অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উত্তরাধিকার সংকট হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কঠোর শাসন খিলাফতের ভেতরে বহু শত্রুর জন্ম দিয়েছিল: মুহাল্লাব পরিবারের সাথে দ্বন...
ইয়ারমুক (আগস্ট ৬৩৬) এবং আল-কাদিসিয়ার (নভেম্বর ৬৩৬) ঐতিহাসিক বিজয়ের পর রাশেদুন খিলাফতের নজর পড়ে মিশরের দিকে। খলিফা উমর (রা.)-এর অনুমতিক্রমে সেনাপতি আমর ইবনুল আস (রা.) প্রায় ৪,০০০ সৈন্যের এক বাহিনী নিয়ে ৬৩৯ সালের ডিসেম্বরে মিশরের অভিমুখে যাত্রা করেন। ১. প্রাথমিক অভিযান ও প্রতিরোধ (৬৪০ খ্রিষ্টাব্দ) পেলুসিয়াম (Pelusium) জয়: নীল নদ বদ্বীপের পূর্ব সীমানার এই গুরুত্বপূর্ণ দুর্গটি ৬৪০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুসলিম বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে। বেলবেইসের (Belbeis) পতন: তীব্র অবরোধের পর মার্চ মাসের শেষের দিকে বেলবেইস শহর বিজিত হয়। পেলুসিয়াম ও বেলবেইসে বাইজেন্টাইন বাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে আমর ইবনুল আস (রা.) খলিফার কাছে অতিরিক্ত সৈন্যের আবেদন জানান। ২. বাবিলন অবরোধ ও হেলিওপলিসের যুদ্ধ মে ৬৪০-এর মধ্যে মুসলিম বাহিনী বাবিলন দুর্গ অবরোধ শুরু করে। তবে হেলিওপলিসে অবস্থানরত বাইজেন্টাইন বাহিনী পিছন থেকে আক্রমণ করতে পারে—এই আশঙ্কায় আমর ইবনুল আস (রা.) বাবিলনে কিছু সৈন্য রেখে মূল বাহিনী নিয়ে হেলিওপলিসের দিকে অগ্রসর হন। ঐতিহাসিক জয়: জুলাইয়ের শুরুতে অতিরিক্ত সৈন্য এসে পৌঁছায় এবং ৬ জুলাই ৬৪০ তারিখে ...