মুসলিম বিশ্বের স্বর্ণযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও দার্শনিক ছিলেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সিনা (Ibn Sina) । ইউরোপে তিনি Avicenna নামে পরিচিত। একাদশ শতাব্দীর এই বহুমুখী প্রতিভা চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন, যা মধ্যযুগীয় চিকিৎসাশাস্ত্রকে নতুন মাত্রা দেয়। তাঁর বিখ্যাত চিকিৎসাগ্রন্থ ‘আল-কানুন ফিৎ-তিব’ (The Canon of Medicine) বহু শতাব্দী ধরে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নাড়ি পরীক্ষায় ইবনে সিনার অবদান ইবনে সিনার চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল নাড়ি বা Pulse সম্পর্কে তাঁর বিশদ বিশ্লেষণ। প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস ও গ্যালেন নাড়ি এবং শারীরিক অবস্থার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। ইবনে সিনা তাঁদের জ্ঞানকে আরও বিশ্লেষণ ও সুসংগঠিত করেন। তিনি মনে করতেন, রোগীর নাড়ির গতি ও প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব। নাড়ি পরীক্ষার দশটি বৈশিষ্ট্য ইবনে সিনা নাড়ি পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে একাধিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনার একটি কাঠামো তৈরি করেন। এর মধ্যে নাড়ি...
ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের জীবন কেবল ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নয়; বরং একটি যুগের নির্মম বাস্তবতার দলিল। আয়ুবা সুলায়মান ডিয়ালো (Ayuba Suleiman Diallo) , যিনি Job ben Solomon নামেও পরিচিত, ছিলেন এমনই একজন পশ্চিম আফ্রিকান মুসলিম পণ্ডিত। দাস হিসেবে আটলান্টিক পাড়ি দিতে বাধ্য হওয়ার পরও তিনি তাঁর জ্ঞান, বিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা ধরে রেখেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা ফিরে পান। সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম আয়ুবা সুলায়মান ডিয়ালো আনুমানিক ১৭০১ সালে পশ্চিম আফ্রিকার বুন্দুতে (বর্তমান সেনেগাল) এক সম্ভ্রান্ত ফুলানি বা ফুলবে মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার ছিল সমাজে প্রভাবশালী এবং ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। শৈশব থেকেই তিনি ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হন। তিনি সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করেছিলেন এবং একজন হাফিজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। পাশাপাশি তিনি আরবি ভাষায় পড়তে ও লিখতে দক্ষ ছিলেন। দাসত্বের নির্মম শিকার ১৭৩১ সালে তাঁর জীবনে নেমে আসে এক ভয়াবহ বিপর্যয়। ব্রিটিশ তামাক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্কিত দাস ব্যবসায়ীরা তাঁকে বন্দি করে আমেরিকার মেরিল্যান্ডে নিয়ে যায়। ...