১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে যখন রাজিয়া সুলতানা দিল্লির শাসক হন, তখন তিনি এমন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন যা এর আগে অন্য কোনো সুলতানকে মোকাবিলা করতে হয়নি। এটি কোনো বিদেশি আক্রমণ বা গৃহযুদ্ধ ছিল না; বরং বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ সাধারণ যে তিনি একজন নারী ছিলেন। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে দিল্লির রাজপরিবারের নারীদের পর্দা প্রথার আড়ালে অন্তরালে থাকার প্রত্যাশা করা হতো এবং তারা খুব কমই জনসমক্ষে আসতেন। একজন রানীর কাজ ছিল কেবল প্রাসাদের দেয়ালের আড়ালে থেকে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা, প্রকাশ্যে শাসন করা নয়। কিন্তু রাজিয়া কোনো পুতুল শাসক হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন না। সিংহাসনে বসার পরপরই তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নেন যা তুর্কি অভিজাত এবং রক্ষণশীল সমাজের একটি বড় অংশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। ঐতিহ্য ভাঙার সাহসী পদক্ষেপ রাজিয়া সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় পর্দা পরিহার করেন এবং জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি একজন সুলতানের পুরুষসুলভ পোশাক পরিধান করা শুরু করেন, যার মধ্যে ছিল পাগড়ি (কুলাহ) এবং পুরুষ শাসকদের ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় আলখাল্লা। তিনি উন্মুক্ত দরবারে বসতেন, ব্যক্তিগতভাবে জনগণের আবেদন শুনতেন, বিচারকার্য পরিচালনা করতেন, সৈন্য...
ইরাক এবং লেভান্তে ইসলামী বিজয়গুলোকে সুসংহত করার ক্ষেত্রে আল-জাজিরা আল-ফুরাতিয়া (উচ্চ মেসোপটেমিয়া)-র বিজয় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল । এটি মুসলিমদের ভৌগোলিক অর্জনগুলোকে সুরক্ষিত করে, খ্রিস্টান আরব উপজাতি ও বাইজেন্টাইনদের মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং বাইজেন্টাইন আর্মিতে আরবদের নিয়োগ দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় । এছাড়া এটি সম্রাট হিরাক্লিয়াসকে আর্মেনিয়ার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করা থেকেও বাধাগ্রস্ত করেছিল । বিজয়ের কৌশলগত গুরুত্ব ও পটভূমি আমওয়াসের প্লেগের সময় আবু উবায়দার দুঃখজনক ইন্তেকালের পর, খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হিমস, কিনস린 এবং আল-জাজিরার গভর্নর হিসেবে ইয়াদ বিন গানমকে নিয়োগ দেন । ১৮ হিজরির মধ্য শাবানে (৬৩৯ খ্রিস্টাব্দের ২১ আগস্ট) তিনি রাক্কা দিয়ে এই অভিযান শুরু করেন এবং রক্তপাতহীনভাবে তা জয় করেন । মূল পয়েন্ট: এডেসা (আল-রুহা)-র দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্গ অবরোধ করার পর টানা ছয় দিন প্রতিরোধের মুখে বাইজেন্টাইন কমান্ডার শান্তির আবেদন জানান। ইয়াদ লোকজনকে নিরাপত্তা প্রদান করেন এবং জিযিয়া ও খারাজ (কর) বিনিময়ে সন্ধি গ্রহণ করেন । হারান থেকে মেসোপটেমিয়ার ...