ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু যুদ্ধ রয়েছে, যা কেবল দুটি সাম্রাজ্যের ভাগ্যই পরিবর্তন করে দেয় না, বরং পুরো পৃথিবীর সভ্যতার গতিপথ বদলে দেয়। ৬৩৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে সংঘটিত ইয়ারমুকের যুদ্ধ এমনই এক যুগান্তকারী অধ্যায়। এই যুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমেই ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার জমিনে বাইজেন্টাইন (পূর্ব রোমান) সাম্রাজ্যের আধিপত্য চিরতরে ধসে পড়েছিল। ১. যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সপ্তম শতাব্দীর প্রথমার্ধে পারস্যের সাসনানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্যের পর উদীয়মান ইসলামী শক্তির সামনে প্রধান পরাশক্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছিল বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য। সেই সময় সাম্রাজ্যের নেতৃত্বে ছিলেন সম্রাট হেরাক্লিয়াস (Heraclius)। ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে বাইজেন্টাইনরা সাময়িকভাবে দামেস্ক পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, পরবর্তীতে তারা ইয়ারমুকের মাঠে মূল মুসলিম বাহিনীর মুখোমুখি হয়। যদিও এই যুদ্ধকে সাধারণভাবে ইসলাম ও খ্রিস্টান শক্তির সংঘাত হিসেবে দেখা হয়, তবে সেসময়ের বাস্তবতায় অনেক যোদ্ধা ছিলেন যারা সরাসরি এই দুই ধর্মের কোনোটির সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত ছিলেন না। ২. সংখ্যায় কম, ঈমানে বলীয়ান: কৌশলগত লড়াই ইয়ারমুকের প্রান্তরে বাইজেন্টাইন...
ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাসে যাঁদের অটল বিশ্বাস, অতুলনীয় সততা এবং নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ দ্বীন ইসলামকে শক্তিশালী করেছিল, হযরত আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনি কেবল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর একজন ঘনিষ্ট সাহাবীই ছিলেন না, বরং ছিলেন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ জন সাহাবীর (আশারা মুবাশশারা) একজন। ১. নাম, বংশ পরিচয় ও ইসলাম গ্রহণ আসল নাম: আমির ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল জাররাহ। তাঁর দাদার নাম 'জাররাহ'-এর নামানুসারে তিনি ইবনুল জাররাহ হিসেবে পরিচিত হন। বংশ: তিনি কুরাইশ গোত্রের বনু হারিস ইবনে ফিহর শাখার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইসলাম গ্রহণ: ইসলাম প্রচারের একেবারে শুরুর দিকে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দাওয়াতে তিনি ইমানের সুশীতল ছায়ায় আসেন। তিনি ছিলেন নবম ব্যক্তি যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ছায়াসঙ্গী হয়ে আমৃত্যু ইসলাম প্রচারে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। ২. ‘আমীনুল উম্মত’ উপাধির নেপথ্য ইতিহাস রাসূলুল্লাহ ﷺ বিভিন্ন সাহাবীকে তাঁদের বিশেষ গুণের জন্য বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করেছেন। হযরত আব...