সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ইয়ারমুকের যুদ্ধ (৬৩৬ খ্রি.): বিশ্ব ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক ঐতিহাসিক বিজয়

ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু যুদ্ধ রয়েছে, যা কেবল দুটি সাম্রাজ্যের ভাগ্যই পরিবর্তন করে দেয় না, বরং পুরো পৃথিবীর সভ্যতার গতিপথ বদলে দেয়। ৬৩৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে সংঘটিত ইয়ারমুকের যুদ্ধ এমনই এক যুগান্তকারী অধ্যায়। এই যুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমেই ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার জমিনে বাইজেন্টাইন (পূর্ব রোমান) সাম্রাজ্যের আধিপত্য চিরতরে ধসে পড়েছিল। ১. যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সপ্তম শতাব্দীর প্রথমার্ধে পারস্যের সাসনানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্যের পর উদীয়মান ইসলামী শক্তির সামনে প্রধান পরাশক্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছিল বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য। সেই সময় সাম্রাজ্যের নেতৃত্বে ছিলেন সম্রাট হেরাক্লিয়াস (Heraclius)। ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে বাইজেন্টাইনরা সাময়িকভাবে দামেস্ক পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, পরবর্তীতে তারা ইয়ারমুকের মাঠে মূল মুসলিম বাহিনীর মুখোমুখি হয়। যদিও এই যুদ্ধকে সাধারণভাবে ইসলাম ও খ্রিস্টান শক্তির সংঘাত হিসেবে দেখা হয়, তবে সেসময়ের বাস্তবতায় অনেক যোদ্ধা ছিলেন যারা সরাসরি এই দুই ধর্মের কোনোটির সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত ছিলেন না। ২. সংখ্যায় কম, ঈমানে বলীয়ান: কৌশলগত লড়াই ইয়ারমুকের প্রান্তরে বাইজেন্টাইন...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

হযরত আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রা.): 'আমীনুল উম্মত' ও জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবি

ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাসে যাঁদের অটল বিশ্বাস, অতুলনীয় সততা এবং নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ দ্বীন ইসলামকে শক্তিশালী করেছিল, হযরত আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনি কেবল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর একজন ঘনিষ্ট সাহাবীই ছিলেন না, বরং ছিলেন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ জন সাহাবীর (আশারা মুবাশশারা) একজন। ১. নাম, বংশ পরিচয় ও ইসলাম গ্রহণ আসল নাম: আমির ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল জাররাহ। তাঁর দাদার নাম 'জাররাহ'-এর নামানুসারে তিনি ইবনুল জাররাহ হিসেবে পরিচিত হন। বংশ: তিনি কুরাইশ গোত্রের বনু হারিস ইবনে ফিহর শাখার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইসলাম গ্রহণ: ইসলাম প্রচারের একেবারে শুরুর দিকে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দাওয়াতে তিনি ইমানের সুশীতল ছায়ায় আসেন। তিনি ছিলেন নবম ব্যক্তি যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ছায়াসঙ্গী হয়ে আমৃত্যু ইসলাম প্রচারে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। ২. ‘আমীনুল উম্মত’ উপাধির নেপথ্য ইতিহাস রাসূলুল্লাহ ﷺ বিভিন্ন সাহাবীকে তাঁদের বিশেষ গুণের জন্য বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করেছেন। হযরত আব...

চেঙ্গিজ খান: ধ্বংসের প্রতীক নাকি অমর কিংবদন্তি?

  ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু নাম রয়েছে, যা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বারুদ, রক্ত আর এক বিভীষিকাময় তাণ্ডবের চিত্র। মঙ্গোল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেঙ্গিজ খান তেমনই এক নাম। ইতিহাসবিদ জন ম্যান (John Man) তাঁর "Genghis Khan: Life, Death, and Resurrection" বইটিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন যে, মানবজাতি এর আগে কখনো এমন ধ্বংসাত্মক শক্তির মুখোমুখি হয়নি, যা মঙ্গোলরা বিশ্ববাসীর ওপর নিয়ে এসেছিল। মুসলিম জাহানের ওপর মঙ্গোলীয় তাণ্ডব মঙ্গোলদের আগ্রাসনে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তিল তিল করে গড়ে ওঠা মুসলিম বিশ্বের বাণিজ্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির কেন্দ্রগুলো নিমেষেই ছাইয়ে পরিণত হয়েছিল। ১২৫৮ সালে বাগদাদের পতন ছিল এই ধ্বংসলীলার সবচেয়ে মর্মান্তিক অধ্যায়ের একটি। বাগদাদের পতন ও লাইব্রেরি ধ্বংসের সেই ক্ষত পুরো মুসলিম বিশ্বকে এমন এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছিল, যা ইতিহাসের এক কালিমালিপ্ত অধ্যায় হয়ে রয়েছে। মঙ্গোল বাহিনীর অদম্য গতি এবং নিষ্ঠুর রণকৌশলের সামনে যেন কোনো দেওয়ালই টিকে থাকতে পারেনি। মৃত্যুর রহস্য এবং এক অদ্ভুত লোককাহিনি কিন্তু রক্ত ও বারুদের গন্ধ ছাড়িয়ে চেঙ্গিজ খানকে ঘিরে মঙ্গোল সমাজ...

রিং অব ফায়ার এবং আল-বাতানি: যে মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানী বদলে দিয়েছিলেন আকাশের ইতিহাস

  আকাশের দিকে তাকিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা মানুষের প্রাচীনকাল থেকেই রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর হলো যখন চাঁদের কালো বৃত্তের চারপাশ দিয়ে সূর্যের আলো ঠিকরে বেরিয়ে একটি উজ্জ্বল বলয় তৈরি করে—যাকে আমরা "রিং অব ফায়ার" (Ring of Fire) বা বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে জানি। কিন্তু এই মহাজাগতিক বিস্ময়ের পেছনের বিজ্ঞানটি একদিনে উন্মোচিত হয়নি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গ্রিক ও রোমান পন্ডিতদের ভুল ধারণার জাল ছিন্ন করে যিনি প্রথম এই রহস্যের সঠিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, তিনি হলেন মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিজ্ঞানী আল-বাতানি (Al-Battānī) । ১. প্রাচীন জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং টলেমির দীর্ঘমেয়ি ভুল ধারণা আল-বাতানির যুগ আসার আগে প্রাচীন পৃথিবীর জ্যোতির্বিজ্ঞান বহু শতাব্দী ধরে গ্রিক ও রোমান চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত ছিল। প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্লডিয়াস টলেমি (Claudius Ptolemy) এবং তাঁর অনুসারীরা বিশ্বাস করতেন যে, চাঁদ সর্বদা পৃথিবীর এতটাই কাছে বা যথেষ্ট বড় থাকে যে এটি সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দিতে সক্ষম। তাঁদের মতে, সূর্যগ্রহণ মানেই হলো পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ—যেখানে সূর্য স...

যেসব ঐতিহাসিক মুহূর্তে অলৌকিকভাবে থেমে গিয়েছিল পৃথিবীর সময় ও সূর্যের গতি

মহাবিশ্বের সমস্ত নিয়ম-কানুন ও প্রাকৃতিক শৃঙ্খলা আল্লাহ তাআলার সুনির্দিষ্ট হুকুমে পরিচালিত হয়। সাধারণ নিয়মে পৃথিবীর ঘূর্ণন এবং সময়ের প্রবাহ স্বাভাবিকভাবে চললেও, ইসলামের ইতিহাস, পবিত্র কোরআন এবং নির্ভরযোগ্য হাদিসের পাতায় এমন কিছু বিশেষ ও বিরল মুহূর্তের কথা উল্লেখ রয়েছে, যেখানে আল্লাহ তাআলার বিশেষ কুদরতে সময় বা সূর্যের গতি থমকে গিয়েছিল কিংবা স্থগিত রাখা হয়েছিল। আজকের ব্লগে আমরা সংক্ষেপে সেই ঐতিহাসিক ও অলৌকিক ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানব। ১. হজরত উজাইর (আ.)-এর ক্ষেত্রে ১০০ বছর সময় থেমে থাকা পবিত্র কুরআনের সুরা আল-বাকারার ২৫৯ নম্বর আয়াতে এক বিশেষ ব্যক্তির ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়, যাঁকে তাফসির ও ইতিহাসবিদগণ হজরত উজাইর (আ.) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি একবার এমন এক জনবসতির ওপর দিয়ে যাচ্ছিলেন যা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। তিনি মনে মনে ভাবলেন, মৃত্যুর পর আল্লাহ কীভাবে এই জনপদকে আবার জীবন দান করবেন? তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুনিদ্রায় আচ্ছন্ন করেন এবং তাঁর সাথে থাকা গাধাটিও মারা যায়। এভাবেই কেটে যায় দীর্ঘ এক শ বছর । একশ বছর পর আল্লাহ তাআলা তাঁকে পুনর্জীবিত করেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস ক...

ইবনে সিনা: হৃদরোগ ও নাড়ির চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী মুসলিম মনীষী

মুসলিম বিশ্বের স্বর্ণযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও দার্শনিক ছিলেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সিনা (Ibn Sina) । ইউরোপে তিনি Avicenna নামে পরিচিত। একাদশ শতাব্দীর এই বহুমুখী প্রতিভা চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন, যা মধ্যযুগীয় চিকিৎসাশাস্ত্রকে নতুন মাত্রা দেয়। তাঁর বিখ্যাত চিকিৎসাগ্রন্থ ‘আল-কানুন ফিৎ-তিব’ (The Canon of Medicine) বহু শতাব্দী ধরে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নাড়ি পরীক্ষায় ইবনে সিনার অবদান ইবনে সিনার চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল নাড়ি বা Pulse সম্পর্কে তাঁর বিশদ বিশ্লেষণ। প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস ও গ্যালেন নাড়ি এবং শারীরিক অবস্থার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। ইবনে সিনা তাঁদের জ্ঞানকে আরও বিশ্লেষণ ও সুসংগঠিত করেন। তিনি মনে করতেন, রোগীর নাড়ির গতি ও প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব। নাড়ি পরীক্ষার দশটি বৈশিষ্ট্য ইবনে সিনা নাড়ি পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে একাধিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনার একটি কাঠামো তৈরি করেন। এর মধ্যে নাড়ি...

আয়ুবা সুলায়মান ডিয়ালো: দাসত্ব থেকে লন্ডনের অভিজাত সমাজে

  ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের জীবন কেবল ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নয়; বরং একটি যুগের নির্মম বাস্তবতার দলিল। আয়ুবা সুলায়মান ডিয়ালো (Ayuba Suleiman Diallo) , যিনি Job ben Solomon নামেও পরিচিত, ছিলেন এমনই একজন পশ্চিম আফ্রিকান মুসলিম পণ্ডিত। দাস হিসেবে আটলান্টিক পাড়ি দিতে বাধ্য হওয়ার পরও তিনি তাঁর জ্ঞান, বিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা ধরে রেখেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা ফিরে পান। সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম আয়ুবা সুলায়মান ডিয়ালো আনুমানিক ১৭০১ সালে পশ্চিম আফ্রিকার বুন্দুতে (বর্তমান সেনেগাল) এক সম্ভ্রান্ত ফুলানি বা ফুলবে মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার ছিল সমাজে প্রভাবশালী এবং ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। শৈশব থেকেই তিনি ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হন। তিনি সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করেছিলেন এবং একজন হাফিজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। পাশাপাশি তিনি আরবি ভাষায় পড়তে ও লিখতে দক্ষ ছিলেন। দাসত্বের নির্মম শিকার ১৭৩১ সালে তাঁর জীবনে নেমে আসে এক ভয়াবহ বিপর্যয়। ব্রিটিশ তামাক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্কিত দাস ব্যবসায়ীরা তাঁকে বন্দি করে আমেরিকার মেরিল্যান্ডে নিয়ে যায়। ...

জাবির ইবনে হাইয়ান: রসায়ন বিজ্ঞানের জনক

ইসলামের স্বর্ণযুগে মুসলিম মনীষীরা জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় যে অসামান্য অবদান রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে জাবির ইবনে হাইয়ান অন্যতম। ইউরোপীয় লেখায় তিনি Geber নামে পরিচিত। তাঁকে “রসায়ন বিজ্ঞানের জনক” হিসেবে অভিহিত করা হয়। শৈশব ও শিক্ষাজীবন জাবির ইবনে হাইয়ানের জন্ম আনুমানিক ৭২১ খ্রিস্টাব্দে পারস্যে। তিনি তৎকালীন বিখ্যাত আলেম ও ইমাম জাফর আস-সাদিক (রহ.)-এর কাছে শিক্ষা লাভ করেন বলে ঐতিহ্যগতভাবে উল্লেখ করা হয়। জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি তিনি চিকিৎসা, জ্যোতির্বিজ্ঞান, ধাতুবিদ্যা ও রসায়ন নিয়ে গভীরভাবে গবেষণা করেন। রসায়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন জাবিরের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল আলকেমিকে কেবল তাত্ত্বিক ও দার্শনিক চিন্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষাভিত্তিক একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ জ্ঞানচর্চায় রূপ দেওয়া। তিনি রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে নিয়মিত পরীক্ষা করতেন এবং পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপের ওপর গুরুত্ব দিতেন। তাঁর গবেষণায় পাতন, বাষ্পীভবন, স্ফটিকীকরণ, পরিস্রবণ ও ক্যালসিনেশনের মতো বিভিন্ন পরীক্ষাগার পদ্ধতির উন্নতি ঘটে। এসব পদ্ধতি পরবর্তী সময়ে রসায়নবিজ্ঞানের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খনিজ অ্যাসিড ও অ্যা...

জাপানে দ্রুত বাড়ছে মুসলিম সম্প্রদায়: বদলে যাচ্ছে দেশটির ধর্মীয় চিত্র

জাপানকে সাধারণত বৌদ্ধ ও শিন্তো ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে দেখা হয়। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দশকে দেশটির ধর্মীয় ও সামাজিক বৈচিত্র্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে—জাপানে মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা ও উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। জাপানে মুসলিমের সংখ্যা কত? বিভিন্ন গবেষণা ও অনুমানভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিকে বা ২০২৫ সালের শুরুর দিকে জাপানে মুসলিমের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার-এর কাছাকাছি পৌঁছেছিল। এই সংখ্যার মধ্যে রয়েছেন বিদেশি মুসলিম নাগরিক ও বাসিন্দা এবং জাপানি মুসলিমরা। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, জাপানে ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি গণনা নেই। ফলে মুসলিম জনসংখ্যার বিভিন্ন হিসাব গবেষণার পদ্ধতি ও তথ্যের উৎসভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কেন বাড়ছে জাপানে মুসলিম জনসংখ্যা? জাপানে মুসলিম সম্প্রদায়ের বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হলো মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলো থেকে মানুষের অভিবাসন। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে কর্মী, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য অভিবাসী জাপানে আসছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, আন্তঃদেশীয় বিবাহ এবং জাপানিদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের ঘটনাও মুসলিম সম্প্রদায়ের বিস্তারে...

পর্দা প্রথা ভেঙে সিংহাসনে বসা এক সাহসী নারীর গল্প: রাজিয়া সুলতানা

১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে যখন রাজিয়া সুলতানা দিল্লির শাসক হন, তখন তিনি এমন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন যা এর আগে অন্য কোনো সুলতানকে মোকাবিলা করতে হয়নি। এটি কোনো বিদেশি আক্রমণ বা গৃহযুদ্ধ ছিল না; বরং বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ সাধারণ যে তিনি একজন নারী ছিলেন। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে দিল্লির রাজপরিবারের নারীদের পর্দা প্রথার আড়ালে অন্তরালে থাকার প্রত্যাশা করা হতো এবং তারা খুব কমই জনসমক্ষে আসতেন। একজন রানীর কাজ ছিল কেবল প্রাসাদের দেয়ালের আড়ালে থেকে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা, প্রকাশ্যে শাসন করা নয়। কিন্তু রাজিয়া কোনো পুতুল শাসক হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন না। সিংহাসনে বসার পরপরই তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নেন যা তুর্কি অভিজাত এবং রক্ষণশীল সমাজের একটি বড় অংশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। ঐতিহ্য ভাঙার সাহসী পদক্ষেপ রাজিয়া সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় পর্দা পরিহার করেন এবং জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি একজন সুলতানের পুরুষসুলভ পোশাক পরিধান করা শুরু করেন, যার মধ্যে ছিল পাগড়ি (কুলাহ) এবং পুরুষ শাসকদের ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় আলখাল্লা। তিনি উন্মুক্ত দরবারে বসতেন, ব্যক্তিগতভাবে জনগণের আবেদন শুনতেন, বিচারকার্য পরিচালনা করতেন, সৈন্য...

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যে গাছ ইহুদিদের আশ্রয় দেবে অর্থাৎ ইহুদিদের বন্ধু গাছ

মো.আবু রায়হান: কিয়ামত সংঘটিত হবার   পূর্বে হযরত ঈসা (আ.) এর সঙ্গে দাজ্জালের জেরুজালেমে যুদ্ধ হবে। সেই যুদ্ধে ইহুদিরা দাজ্জালের পক্ষাবলম্বন করবে। হযরত ঈসা (আ.) দাজ্জালকে হত্যা করবেন।এদিকে   ইহুদিরা প্রাণ ভয়ে পালাতে চেষ্টা করবে।   আশেপাশের গাছ ও পাথর/ দেয়ালে আশ্রয় নেবে। সেদিন গারকাদ নামক একটি গাছ ইহুদিদের আশ্রয় দেবে। গারকাদ ইহুদীবান্ধব গাছ।গারকাদ একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ হল কাটাওয়ালা ঝোঁপ।গারকাদ এর ইংরেজী প্রতিশব্দ Boxthorn । Box এর অর্থ সবুজ ঝোঁপ এবং thorn এর অর্থ কাঁটা। এ ধরনের গাছ বক্সথর্ন হিসেবেই পরিচিত। এই গাছ চেরি গাছের মতো এবং চেরি ফলের মতো লাল ফলে গাছটি শোভিত থাকে।   ইসরায়েলের সর্বত্র বিশেষত অধিকৃত গাজা ভূখন্ডে গারকাদ গাছ ব্যাপকহারে   দেখতে পাওয়া যায়।ইহুদিরা কোথাও পালাবার স্থান পাবে না। গাছের আড়ালে পালানোর চেষ্টা করলে গাছ বলবে , হে মুসলিম! আসো , আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে। আসো এবং তাকে হত্যা কর। পাথর বা দেয়ালের পিছনে পলায়ন করলে পাথর বা দেয়াল বলবে , হে মুসলিম! আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে , আসো! তাকে হত্যা কর। তবে গারকাদ নামক গাছ ইহুদ...

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...