ইতিহাসের পাতায় কিছু সমাপ্তি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং তা এক গভীর ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। ২৩ আগস্ট—উসমানীয় রাজবংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ (Caliph Abdul Majid II) -এর জীবনের এক মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধূর অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন। খেলাফতের পতন এবং উসমানীয় রাজবংশের তুরস্ক থেকে নির্বাসনের পর তাঁর জীবন কীভাবে এক নিদারুণ নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়েছিল, এটি তারই এক ঐতিহাসিক দলিল। ১. নির্বাসিত জীবন ও প্যারিসের নিঃসঙ্গ মৃত্যু তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যখন উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করা হয়, তখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, তখন চরম দুর্দিনে প্যারিসের এক ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ এতটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল যে, বেশ কয়েক দিন ধরে তা ফ্ল্যাটেই রাখা ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তাঁর মরদেহ প্যারিস মসজিদে নিয়ে গিয়ে হিমঘরে (frozen storage) রাখা হয়। ২. অপূর্ণ ইচ্ছে ও শেষ ঠিকানার সন্ধান আবদুল মজিদ জীবনের ...
ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু সভ্যতা রয়েছে, যা মানবজাতিকে পথ দেখিয়েছে নতুন আলোর দিকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো 'আল-আন্দালুস' —আইবেরীয় উপদ্বীপে গড়ে ওঠা এক অনন্য মুসলিম রাজ্য, যা আজও জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির সুদিন হিসেবে স্মরণ করা হয়। আল-আন্দালুস ও মুসলিম শাসনের সূচনা (৭১১ খ্রিস্টাব্দ) ৭১১ খ্রিস্টাব্দে উমাইয়া সেনাপতি তারিক ইবনে জিয়াদ জিব্রালটার প্রণালী পার হয়ে আইবেরীয় উপদ্বীপে (বর্তমান স্পেন ও পর্তুগাল) পদার্পণ করেন। তাঁর বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্বে সেখানে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এই অঞ্চলের নাম দেওয়া হয় 'আল-আন্দালুস' । দ্রুতই উন্নতির পথে এগিয়ে চলা এই অঞ্চলটি ৭৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বর্তমান স্পেন ও পর্তুগালের প্রায় পুরোটাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এমনকি তারা ফ্রান্সের দক্ষিণাংশেও নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়েছিল, যা সেসময়ের ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিত। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র আল-আন্দালুস কেবল রাজনৈতিক বিজয়ের গল্প ছিল না, এটি ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লবের এক সূতিকাগার। মুসলিম শাসনামলে এই অঞ্চলটি হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, উন্নত কৃষি...