১২৬০ খ্রিষ্টাব্দ। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে তখন আতঙ্কের কালো মেঘ। মঙ্গোল বাহিনীর নাম শুনলেই নগরীর দরজা বন্ধ হয়ে যেত, মানুষ পালানোর পথ খুঁজত। একের পর এক নগরী ধ্বংস করে এগিয়ে আসছিল চেঙ্গিস খানের উত্তরসূরিদের বাহিনী। এরই মধ্যে মঙ্গোল সাম্রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী সেনাপতি হুলাগু খান মধ্যপ্রাচ্যে ভয়ংকর অভিযান শুরু করেন। বাগদাদ থেকে সিরিয়া—ধ্বংসের পথে মঙ্গোল বাহিনী ১২৫৮ সালে হুলাগুর বাহিনী আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ দখল করে। শেষ আব্বাসীয় খলিফা আল-মুস্তাসিম বিল্লাহ নিহত হন এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাগদাদ ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়। এরপর হুলাগুর বাহিনী সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হয়। ১২৬০ সালের জানুয়ারিতে আলেপ্পো অবরোধ করা হয়। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই শহরটি মঙ্গোলদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর মঙ্গোল বাহিনী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হয় এবং মার্চ মাসে দামেস্কও তাদের দখলে আসে। মনে হচ্ছিল—মঙ্গোলদের থামানোর মতো কোনো শক্তিই আর অবশিষ্ট নেই। কিন্তু ইতিহাস তখন অন্য একটি অধ্যায়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মিশরে উঠে এল মামলুক শক্তি মঙ্গোলদের এই অপ্রতিরোধ...
জাপানকে সাধারণত বৌদ্ধ ও শিন্তো ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে দেখা হয়। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দশকে দেশটির ধর্মীয় ও সামাজিক বৈচিত্র্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে—জাপানে মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা ও উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। জাপানে মুসলিমের সংখ্যা কত? বিভিন্ন গবেষণা ও অনুমানভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিকে বা ২০২৫ সালের শুরুর দিকে জাপানে মুসলিমের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার-এর কাছাকাছি পৌঁছেছিল। এই সংখ্যার মধ্যে রয়েছেন বিদেশি মুসলিম নাগরিক ও বাসিন্দা এবং জাপানি মুসলিমরা। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, জাপানে ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি গণনা নেই। ফলে মুসলিম জনসংখ্যার বিভিন্ন হিসাব গবেষণার পদ্ধতি ও তথ্যের উৎসভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কেন বাড়ছে জাপানে মুসলিম জনসংখ্যা? জাপানে মুসলিম সম্প্রদায়ের বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হলো মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলো থেকে মানুষের অভিবাসন। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে কর্মী, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য অভিবাসী জাপানে আসছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, আন্তঃদেশীয় বিবাহ এবং জাপানিদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের ঘটনাও মুসলিম সম্প্রদায়ের বিস্তারে...