সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

জুলাই ২৮, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আইন জালুতের যুদ্ধ: যে যুদ্ধে থেমে গিয়েছিল মঙ্গোলদের দুর্বার অগ্রযাত্রা

  ১২৬০ খ্রিষ্টাব্দ। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে তখন আতঙ্কের কালো মেঘ। মঙ্গোল বাহিনীর নাম শুনলেই নগরীর দরজা বন্ধ হয়ে যেত, মানুষ পালানোর পথ খুঁজত। একের পর এক নগরী ধ্বংস করে এগিয়ে আসছিল চেঙ্গিস খানের উত্তরসূরিদের বাহিনী। এরই মধ্যে মঙ্গোল সাম্রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী সেনাপতি হুলাগু খান মধ্যপ্রাচ্যে ভয়ংকর অভিযান শুরু করেন। বাগদাদ থেকে সিরিয়া—ধ্বংসের পথে মঙ্গোল বাহিনী ১২৫৮ সালে হুলাগুর বাহিনী আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ দখল করে। শেষ আব্বাসীয় খলিফা আল-মুস্তাসিম বিল্লাহ নিহত হন এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাগদাদ ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়। এরপর হুলাগুর বাহিনী সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হয়। ১২৬০ সালের জানুয়ারিতে আলেপ্পো অবরোধ করা হয়। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই শহরটি মঙ্গোলদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর মঙ্গোল বাহিনী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হয় এবং মার্চ মাসে দামেস্কও তাদের দখলে আসে। মনে হচ্ছিল—মঙ্গোলদের থামানোর মতো কোনো শক্তিই আর অবশিষ্ট নেই। কিন্তু ইতিহাস তখন অন্য একটি অধ্যায়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মিশরে উঠে এল মামলুক শক্তি মঙ্গোলদের এই অপ্রতিরোধ...

তুমি কি সুন্দরী নও? তাহলে ঘোমটা খোলো!”—আলজেরিয়ায় ফরাসি ঔপনিবেশিক প্রচারণা, নারী ও প্রতিরোধের রাজনীতি

  “Are you not pretty? Unveil yourself!”— একটি প্রচারপোস্টারের এই বাক্য আজ আলজেরিয়ার ঔপনিবেশিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত প্রতীক। প্রথম দর্শনে এটি যেন নারীমুক্তি , সৌন্দর্য ও আধুনিকতার আহ্বান। কিন্তু ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায় , এই ধরনের প্রচারণা ছিল ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক রাজনীতির অংশ। আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের (১৯৫৪ – ১৯৬২) সময় ফরাসি কর্তৃপক্ষ আলজেরীয় সমাজের সাংস্কৃতিক কাঠামোকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ছিল নারীদের পোশাক — বিশেষত ঐতিহ্যবাহী হাইক ( haïk) ও পর্দা। ফরাসি ঔপনিবেশিক প্রচারণায় পর্দাকে অনেক সময় আলজেরীয় নারীর “ অবদমন ” ও “ পশ্চাৎপদতার ” প্রতীক হিসেবে দেখানো হতো। বিপরীতে , পর্দা সরানোকে উপস্থাপন করা হতো “ মুক্তি ”, “ আধুনিকতা ” ও “ সভ্যতার ” প্রতীক হিসেবে। কিন্তু এই প্রচারণার অন্তর্নিহিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল আরও গভীর। প্রশ্নটি ছিল শুধু — একজন নারী কী পোশাক পরবেন ? বরং প্রশ্নটি হয়ে উঠেছিল — আলজেরীয় সমাজের সাংস্কৃতিক পরিচয় কে নির্ধারণ করবে ? ঔপনিবেশিক শাসনের চোখে “ আলজেরীয় নারী ” ফ্রান্স ১৮৩০ সালে আলজে...

বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক্সের যুগের বহু আগে: বনু মুসার বিস্ময়কর স্বয়ংক্রিয় ফোয়ারা

আজকের ‘ অটোমেশন ’ বা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি কি সত্যিই আধুনিক যুগের আবিষ্কার ? ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় , এর শিকড় অনেক গভীরে — প্রায় ১ , ২০০ বছর আগের বাগদাদে। নবম শতাব্দীতে আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী   বাগদাদ   ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এই সময়ের তিন ভাই — মুহাম্মদ ইবন মুসা , আহমদ ইবন মুসা এবং আল-হাসান ইবন মুসা , সম্মিলিতভাবে পরিচিত   বনু মুসা ( Banū Mūsā)   নামে — গণিত , জ্যোতির্বিজ্ঞান ও যান্ত্রিক প্রকৌশলের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁরা এমন সব যান্ত্রিক যন্ত্রের নকশা তৈরি করেছিলেন , যার মধ্যে ছিল স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা , পানি-নির্ভর যন্ত্র , ফোয়ারা , প্রদীপ এবং নানা ধরনের কৌশলগত যান্ত্রিক ব্যবস্থা। তিন ভাই , তিন বিশেষ দক্ষতা বনু মুসার তিন ভাই একসঙ্গে কাজ করলেও তাঁদের নিজস্ব আগ্রহ ও দক্ষতার ক্ষেত্র ছিল কিছুটা আলাদা। মুহাম্মদ ইবন মুসা   জ্যামিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে বিশেষভাবে পারদর্শী ছিলেন। আহমদ ইবন মুসা   যান্ত্রিক প্রকৌশল ও মেকানিক্যাল ডিভাইস নিয়ে কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন। আর   আল-হাসান ইব...

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যে গাছ ইহুদিদের আশ্রয় দেবে অর্থাৎ ইহুদিদের বন্ধু গাছ

মো.আবু রায়হান: কিয়ামত সংঘটিত হবার   পূর্বে হযরত ঈসা (আ.) এর সঙ্গে দাজ্জালের জেরুজালেমে যুদ্ধ হবে। সেই যুদ্ধে ইহুদিরা দাজ্জালের পক্ষাবলম্বন করবে। হযরত ঈসা (আ.) দাজ্জালকে হত্যা করবেন।এদিকে   ইহুদিরা প্রাণ ভয়ে পালাতে চেষ্টা করবে।   আশেপাশের গাছ ও পাথর/ দেয়ালে আশ্রয় নেবে। সেদিন গারকাদ নামক একটি গাছ ইহুদিদের আশ্রয় দেবে। গারকাদ ইহুদীবান্ধব গাছ।গারকাদ একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ হল কাটাওয়ালা ঝোঁপ।গারকাদ এর ইংরেজী প্রতিশব্দ Boxthorn । Box এর অর্থ সবুজ ঝোঁপ এবং thorn এর অর্থ কাঁটা। এ ধরনের গাছ বক্সথর্ন হিসেবেই পরিচিত। এই গাছ চেরি গাছের মতো এবং চেরি ফলের মতো লাল ফলে গাছটি শোভিত থাকে।   ইসরায়েলের সর্বত্র বিশেষত অধিকৃত গাজা ভূখন্ডে গারকাদ গাছ ব্যাপকহারে   দেখতে পাওয়া যায়।ইহুদিরা কোথাও পালাবার স্থান পাবে না। গাছের আড়ালে পালানোর চেষ্টা করলে গাছ বলবে , হে মুসলিম! আসো , আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে। আসো এবং তাকে হত্যা কর। পাথর বা দেয়ালের পিছনে পলায়ন করলে পাথর বা দেয়াল বলবে , হে মুসলিম! আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে , আসো! তাকে হত্যা কর। তবে গারকাদ নামক গাছ ইহুদ...

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...