সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

জুলাই ২৮, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

তুমি কি সুন্দরী নও? তাহলে ঘোমটা খোলো!”—আলজেরিয়ায় ফরাসি ঔপনিবেশিক প্রচারণা, নারী ও প্রতিরোধের রাজনীতি

  “Are you not pretty? Unveil yourself!”— একটি প্রচারপোস্টারের এই বাক্য আজ আলজেরিয়ার ঔপনিবেশিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত প্রতীক। প্রথম দর্শনে এটি যেন নারীমুক্তি , সৌন্দর্য ও আধুনিকতার আহ্বান। কিন্তু ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায় , এই ধরনের প্রচারণা ছিল ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক রাজনীতির অংশ। আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের (১৯৫৪ – ১৯৬২) সময় ফরাসি কর্তৃপক্ষ আলজেরীয় সমাজের সাংস্কৃতিক কাঠামোকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ছিল নারীদের পোশাক — বিশেষত ঐতিহ্যবাহী হাইক ( haïk) ও পর্দা। ফরাসি ঔপনিবেশিক প্রচারণায় পর্দাকে অনেক সময় আলজেরীয় নারীর “ অবদমন ” ও “ পশ্চাৎপদতার ” প্রতীক হিসেবে দেখানো হতো। বিপরীতে , পর্দা সরানোকে উপস্থাপন করা হতো “ মুক্তি ”, “ আধুনিকতা ” ও “ সভ্যতার ” প্রতীক হিসেবে। কিন্তু এই প্রচারণার অন্তর্নিহিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল আরও গভীর। প্রশ্নটি ছিল শুধু — একজন নারী কী পোশাক পরবেন ? বরং প্রশ্নটি হয়ে উঠেছিল — আলজেরীয় সমাজের সাংস্কৃতিক পরিচয় কে নির্ধারণ করবে ? ঔপনিবেশিক শাসনের চোখে “ আলজেরীয় নারী ” ফ্রান্স ১৮৩০ সালে আলজে...

তুমি কি সুন্দরী নও? তাহলে ঘোমটা খোলো!”—আলজেরিয়ায় ফরাসি ঔপনিবেশিক প্রচারণা, নারী ও প্রতিরোধের রাজনীতি

  “Are you not pretty? Unveil yourself!”— একটি প্রচারপোস্টারের এই বাক্য আজ আলজেরিয়ার ঔপনিবেশিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত প্রতীক। প্রথম দর্শনে এটি যেন নারীমুক্তি , সৌন্দর্য ও আধুনিকতার আহ্বান। কিন্তু ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায় , এই ধরনের প্রচারণা ছিল ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক রাজনীতির অংশ। আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের (১৯৫৪ – ১৯৬২) সময় ফরাসি কর্তৃপক্ষ আলজেরীয় সমাজের সাংস্কৃতিক কাঠামোকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ছিল নারীদের পোশাক — বিশেষত ঐতিহ্যবাহী হাইক ( haïk) ও পর্দা। ফরাসি ঔপনিবেশিক প্রচারণায় পর্দাকে অনেক সময় আলজেরীয় নারীর “ অবদমন ” ও “ পশ্চাৎপদতার ” প্রতীক হিসেবে দেখানো হতো। বিপরীতে , পর্দা সরানোকে উপস্থাপন করা হতো “ মুক্তি ”, “ আধুনিকতা ” ও “ সভ্যতার ” প্রতীক হিসেবে। কিন্তু এই প্রচারণার অন্তর্নিহিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল আরও গভীর। প্রশ্নটি ছিল শুধু — একজন নারী কী পোশাক পরবেন ? বরং প্রশ্নটি হয়ে উঠেছিল — আলজেরীয় সমাজের সাংস্কৃতিক পরিচয় কে নির্ধারণ করবে ? ঔপনিবেশিক শাসনের চোখে “ আলজেরীয় নারী ” ফ্রান্স ১৮৩০ সালে আলজে...

বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক্সের যুগের বহু আগে: বনু মুসার বিস্ময়কর স্বয়ংক্রিয় ফোয়ারা

আজকের ‘ অটোমেশন ’ বা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি কি সত্যিই আধুনিক যুগের আবিষ্কার ? ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় , এর শিকড় অনেক গভীরে — প্রায় ১ , ২০০ বছর আগের বাগদাদে। নবম শতাব্দীতে আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী   বাগদাদ   ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এই সময়ের তিন ভাই — মুহাম্মদ ইবন মুসা , আহমদ ইবন মুসা এবং আল-হাসান ইবন মুসা , সম্মিলিতভাবে পরিচিত   বনু মুসা ( Banū Mūsā)   নামে — গণিত , জ্যোতির্বিজ্ঞান ও যান্ত্রিক প্রকৌশলের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁরা এমন সব যান্ত্রিক যন্ত্রের নকশা তৈরি করেছিলেন , যার মধ্যে ছিল স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা , পানি-নির্ভর যন্ত্র , ফোয়ারা , প্রদীপ এবং নানা ধরনের কৌশলগত যান্ত্রিক ব্যবস্থা। তিন ভাই , তিন বিশেষ দক্ষতা বনু মুসার তিন ভাই একসঙ্গে কাজ করলেও তাঁদের নিজস্ব আগ্রহ ও দক্ষতার ক্ষেত্র ছিল কিছুটা আলাদা। মুহাম্মদ ইবন মুসা   জ্যামিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে বিশেষভাবে পারদর্শী ছিলেন। আহমদ ইবন মুসা   যান্ত্রিক প্রকৌশল ও মেকানিক্যাল ডিভাইস নিয়ে কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন। আর   আল-হাসান ইব...

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...

কাবা ঘর নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মো. আবু রায়হানঃ কাবা মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে, পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।কাবা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ মুকাআব অর্থ ঘন থেকে।কাবা একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত। (The Kaaba, meaning cube in Arabic, is a square building elegantly draped in a silk and cotton veil.)।যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।কাবার ভৌগোলিক অবস্থান ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব।পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর বায়তুল্লাহ বা পবিত্র কাবা ঘর ।আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে তা মক্কা নগরীতে। (সুরা আল ইমরান - ৯৬)। “প্রথম মাসজিদ বায়তুল্লাহিল হারাম তারপর বাইতুল মাকদিস, আর এ দুয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো চল্লিশ বছরের”।(মুসলিম- ৫২০)। ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি ...