প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি বিশ্ব মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছিল। তবে শত শত বছর ধরে শাসন করা অটোমান বা উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতন এবং তার ধ্বংসস্তূপ থেকে আধুনিক তুরস্কের উত্থান ইতিহাসবিদদের কাছে এক অনন্য রোমাঞ্চকর অধ্যায়। ১. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয় ও সেভ্র চুক্তি (Treaty of Sèvres) ১৯১৮ সালের ৩০ অক্টোবর মুদ্রোসের যুদ্ধবিরতি (Armistice of Mudros)-র মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্যের পরাজয় চূড়ান্ত হয় । এর ঠিক পরপরই, ১৯১৮ সালের ১২ নভেম্বর থেকে বিজয়ী মিত্রবাহিনী অটোমান ভূখণ্ড দখল করতে শুরু করে । মিত্রবাহিনী চেয়েছিল অটোমান সাম্রাজ্যকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে । সেই উদ্দেশ্যে ১৯২০ সালের ১০ আগস্ট স্বাক্ষরিত হয় আলোচিত সেভ্র চুক্তি । এই চুক্তির মাধ্যমে অটোমান সাম্রাজ্য বিলুপ্ত করে এর ভূখণ্ড মিত্রশক্তিদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল । তবে চুক্তির অপমানজনক শর্তগুলোর কারণে তুর্কি জাতীয়তাবাদীরা তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় । ২. মুস্তফা কামাল পাশার নতুন সরকার ও স্বাধীনতা যুদ্ধ সেভ্র চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলাকালীনই মুস্তফা কামাল পাশা -র নেতৃত্বে নতুন এক রাজনৈতিক বিপ্লব ঘটে ।...
১২৯৯ সাল। আনাতোলিয়ার বুকে এক নতুন ইতিহাসের জন্ম হতে যাচ্ছিল। বিলেজিক, ইয়ারহিসার , ইনেগোল এবং ইয়েনিশেহির বিজয়ের পর তরুণ তুর্কি নেতা উসমান বে ( Osman Bey) সেলজুকদের অধীনতা পাশ কাটিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ঘোষণা করলেন। প্রতিষ্ঠিত হলো ‘ উসমানীয় (অটোমান) রাজ্য ’ । কিন্তু রাজ্যের ভিত্তি শক্ত করতে এবং নিজের অবস্থান পোক্ত করতে তার প্রয়োজন ছিল একটি বড় বিজয়ের। আর সেই সুযোগ তৈরি হলো বাইজেন্টাইনদের সাবেক রাজধানী নিকিয়া ( Nicaea/ আজকের ইজনিক) অবরুদ্ধ করার মাধ্যমে। বাইজেন্টাইনদের প্রথম প্রতিরোধ চূর্ণ নিকিয়া হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় বাইজেন্টাইন সম্রাট দ্বিতীয় অ্যান্ড্রো নিকোস ( Andronikos II) ১২০২ সালের বসন্তে তার ছেলে ও সহ-সম্রাট নবম মাইকেলকে এক বিশাল বাহিনী নিয়ে পাঠান। কিন্তু উসমান বে এবং তার দুঃসাহসী যোদ্ধারা বাইজেন্টাইন বাহিনীকে মাঝপথেই আটকে দেন। লড়াইয়ের তীব্রতা দেখে মাইকেল তার সৈন্যদল নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হন। বাফেউসের মহাযুদ্ধ (১৩০২): বাঁক বদলে দেওয়া মুহূর্ত প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর , একই বছরের জুলাই মাসে সম্রাট অ্যান্ড্রো নিকোস তার সেনাপতি জর্জ মুজালনের নেতৃত্বে আরেকটি ...