কিন্তু
রাজ্যের ভিত্তি শক্ত করতে এবং নিজের অবস্থান পোক্ত করতে তার প্রয়োজন ছিল একটি বড়
বিজয়ের। আর সেই সুযোগ তৈরি হলো বাইজেন্টাইনদের সাবেক রাজধানী নিকিয়া
(Nicaea/আজকের
ইজনিক) অবরুদ্ধ
করার মাধ্যমে।
বাইজেন্টাইনদের প্রথম প্রতিরোধ চূর্ণ
নিকিয়া
হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় বাইজেন্টাইন সম্রাট দ্বিতীয় অ্যান্ড্রো নিকোস (Andronikos
II) ১২০২ সালের বসন্তে
তার ছেলে ও সহ-সম্রাট নবম মাইকেলকে এক বিশাল বাহিনী নিয়ে পাঠান। কিন্তু উসমান বে
এবং তার দুঃসাহসী যোদ্ধারা বাইজেন্টাইন বাহিনীকে মাঝপথেই আটকে দেন। লড়াইয়ের
তীব্রতা দেখে মাইকেল তার সৈন্যদল নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হন।
বাফেউসের মহাযুদ্ধ (১৩০২): বাঁক বদলে দেওয়া মুহূর্ত
প্রথম
প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, একই
বছরের জুলাই মাসে সম্রাট অ্যান্ড্রো নিকোস তার সেনাপতি জর্জ মুজালনের নেতৃত্বে
আরেকটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী পাঠান। অবশেষে নিকোমিডিয়ার (আজকের ইজমিতে) কাছে ‘বাফেউস’
(Bapheus) নামক স্থানে দুই
মুখোমুখি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়।
এই
রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে উসমান বে বাইজেন্টাইন বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। পরাজয়ের
ধাক্কায় বাইজেন্টাইন সেনারা প্রাণ বাঁচাতে নিকোমিডিয়া শহরের প্রাচীরের ভেতরে গিয়ে
আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
যুদ্ধের
ফলাফল: ১.
বিথিনিয়া (Bithynia) অঞ্চলের
গ্রাম ও মুক্তাঞ্চলের ওপর বাইজেন্টাইনদের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ চিরতরে হারিয়ে যায়। ২.
পুরো অঞ্চলজুড়ে অটোমানদের অবাধ বিস্তারের পথ খুলে যায়।
আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে উসমান বে
বাফেউসের
যুদ্ধের খবর চারদিকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। বাইজেন্টাইন ইতিহাসবিদ জর্জ
প্যাকাইমেরেসের (George Pachymeres) মতে, এই
বিজয়ের মহাকাব্যিক খবর শুনে পশ্চিম আনাতোলিয়া থেকে হাজার হাজার তুর্কি যোদ্ধা
উসমান বে-র অধীনে যোগ দিতে ছুটে আসেন। রাতারাতি উসমান বে হয়ে ওঠেন এক অপরাজেয় ও
জনপ্রিয় নেতা।
কেন বাফেউসের যুদ্ধ এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিখ্যাত
তুর্কি ইতিহাসবিদ খালিল ইনালচিক (Halil İnalcık) মনে করেন, উসমানীয় রাজবংশের বৈধতা ও সার্বভৌম
ক্ষমতার মূল ভিত্তি তৈরি হয়েছিল এই বাফেউসের যুদ্ধের মাধ্যমেই। এই জয় প্রমাণ
করেছিল যে অটোমানরা কেবল সাধারণ কোনো উপজাতি নয়, বরং একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী রাষ্ট্রের
জন্ম হয়েছে।
দীর্ঘ যুদ্ধের সূচনা
এই
পরাজয় বাইজেন্টাইন সম্রাট সহজেই মেনে নিতে পারেননি। ফলে শুরু হয় শতাব্দীপ্রাচীন ‘অটোমান-বাইজেন্টাইন
যুদ্ধ’। এর
পর থেকে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য একে একে আনাতোলিয়ায় তাদের সমস্ত ভূখণ্ড হারাতে
থাকে, যা
পরবর্তীতে উসমানীয়দের এক বিশ্বজয়ী পরাশক্তিতে রূপান্তরের পথ সুগম করে দেয়।
ইতিহাসের যে যুদ্ধগুলো একটি নতুন সাম্রাজ্যের জন্ম দিয়েছিল, বাফেউসের যুদ্ধ নিঃসন্দেহে তার মধ্যে অন্যতম। উসমান বে-র এই দূরদর্শী নেতৃত্বের গল্প আপনাকে কেমন লাগলো? আপনার অনুভূতি জানান কমেন্টে!
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন