ইতিহাসের পাতায় কিছু সমাপ্তি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং তা এক গভীর ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। ২৩ আগস্ট—উসমানীয় রাজবংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ (Caliph Abdul Majid II) -এর জীবনের এক মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধূর অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন। খেলাফতের পতন এবং উসমানীয় রাজবংশের তুরস্ক থেকে নির্বাসনের পর তাঁর জীবন কীভাবে এক নিদারুণ নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়েছিল, এটি তারই এক ঐতিহাসিক দলিল। ১. নির্বাসিত জীবন ও প্যারিসের নিঃসঙ্গ মৃত্যু তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যখন উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করা হয়, তখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, তখন চরম দুর্দিনে প্যারিসের এক ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ এতটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল যে, বেশ কয়েক দিন ধরে তা ফ্ল্যাটেই রাখা ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তাঁর মরদেহ প্যারিস মসজিদে নিয়ে গিয়ে হিমঘরে (frozen storage) রাখা হয়। ২. অপূর্ণ ইচ্ছে ও শেষ ঠিকানার সন্ধান আবদুল মজিদ জীবনের ...
#মো. আবু রায়হান সাইয়েদ জামাল উদ্দিন আফগানি (১৮৩৮/১৮৩৯ – ৯ মার্চ ১৮৯৭) ছিলেন উনিশ শতকের একজন ইসলামি আদর্শবাদী, ইসলামি আধুনিকতাবাদের অন্যতম জনক ও প্যান ইসলামিক ঐক্যের একজন প্রবক্তা। ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হামেদান শহরের অদূরে আসাদাবাদে তাঁর জন্ম হয়েছিল।যদিও তিনি নিজেকে আফগানিস্থানের অধিবাসি বলে দাবি করতেন। তিনি নিজেকে সুন্নি বলে জাহির করতেন কিন্তু তিনি একজন শিয়া । আফগানি ইরানে আসাদাবাদি বলে পরিচিত। দর্শন, ধর্ম, মহাকাশ-বিদ্যা ও ইতিহাসে অসাধারণ পাণ্ডিত্য ছিল তাঁর। আরবী, ফার্সি, তুর্কি, ইংরেজি, ফরাসি ও রাশিয়ার কয়েকটি ভাষায়ও পারদর্শী ছিলেন সাইয়্যেদ জামাল।ধর্মতত্ত্বের চেয়ে পাশ্চাত্য চাপের প্রতিক্রিয়ায় মুসলিমদের রাজনৈতিক ঐক্যের দিকেই তার ঝোক বেশি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। প্যান ইসলামিজম বা সর্ব-ইসলামবাদ হল মুসলিমদের ঐক্যকেন্দ্রিক একটি রাজনৈতিক আন্দোলন।আরবিতে বলা হয়— আল-ওহদাতুল ইসলামিয়া ।সারা পৃথিবীর মুসলিমরা একটি একক রাষ্ট্র বা খেলাফতের অধীনে থাকবে, এটাই হলো মূলকথা । আধুনিক কালে এটাকে একটু ভিন্নমাত্রায় সংজ্ঞায়িত করে বলা হয়— রাষ্ট্র অনেকগুলো হোক, কিন্তু তাদের সবার সম্মিলিত একটি স্বেচ্ছাস...