সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মুহাম্মদ বিন কাসিমের পতন: ক্ষমতা, রাজনৈতিক কোন্দল এবং এক ট্র্যাজিক অধ্যায়

মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুতে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তবে তাঁর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর জীবনপ্রদীপ যেভাবে নিভে গিয়েছিল, তা অত্যন্ত করুণ এবং বিতর্কিত। সাধারণ ইতিহাস কিংবা উপকথার বাইরে গিয়ে যদি ইবনে আল-বালাজুরি, জি. আর. হটিং কিংবা পি. কে. হিটি-র মতো ইতিহাসবিদদের সূত্র বিশ্লেষণ করা হয়, তবে দেখা যায় যে তাঁর মৃত্যু মূলত উমাইয়া খিলাফতের অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফলাফল ছিল। ১. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ও মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থান মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থানের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তাঁর অভিভাবক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের । ৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান হাজ্জাজকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করেন। ৭০৫ সালে আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর নতুন খলিফা আল-ওয়ালিদও হাজ্জাজকে তাঁর পদে বহাল রাখেন। এই হাজ্জাজের নেতৃত্বেই মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি সেখানে উমাইয়া শাসন সুদৃঢ় করেন। ২. অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উত্তরাধিকার সংকট হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কঠোর শাসন খিলাফতের ভেতরে বহু শত্রুর জন্ম দিয়েছিল: মুহাল্লাব পরিবারের সাথে দ্বন...

সমাবর্তন গাউন

আরবি পোশাক (থাওব) আমাদের আজকের দিন পর্যন্ত শিক্ষা জীবনে বিশুদ্ধ এবং স্পষ্ট চিহ্ন হিসাবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা শেষে, স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শেষে শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে তথা সমাবর্তনে সবাই যে গাউন পরে থাকে তা আরবীয় পোশাক থাওবের উত্তরসূরী। থাওব একটি গোড়ালি-দৈর্ঘ্যের পোশাক, সাধারণত লম্বা হাতা থাকে। এটি সাধারণত আরব উপদ্বীপ, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং অন্যান্য প্রতিবেশী আরব দেশ এবং পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকার কিছু দেশে পরা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের সময় যে টুপি পরেন তা চারকোণা ফ্ল্যাট টুপি। এমন আকৃতির কারণ কি জানেন? এমন আকৃতির কারণ মুসলিম স্পেনের কর্ডোভায় স্নাতক হওয়া মুসলিম ছাত্ররা আল কোরআনের প্রতি তাদের সত্যিকারের আনুগত্য ও ভালোবাসা প্রদর্শনের জন্য স্নাতক শেষে শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে তাদের মাথার উপরে একটি কোরআনের কপি বহন করতেন।

টিকটক

  বর্তমানে উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের কাছে জনপ্রিয় একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ টিকটক। অবশ্য এর আইওএস ভার্সনও এখন বাজারে আছে। এটি অত্যন্ত অল্প সময়ে পৃথিবীব্যাপী তার অবস্থান শক্ত করে নিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৭৫টি ভাষায় এই অ্যাপটি বানানো হয়েছে।ছোট ভিডিওর জন্য বিখ্যাত এই অ্যাপসের মাধ্যমে এরই মধ্যে নিজেকে সেলিব্রেটি বানিয়ে ফেলেছেন অনেকেই। বিভিন্ন গানের অংশ, সিনেমা ও নাটকের কৌতুক ডায়ালগগুলোর সঙ্গে অভিনয় করে অনেকেই বানিয়েছেন হাজার হাজার ফলোয়ার। কৌতুকের ছলে এই সর্বনাশা অ্যাপটি দ্রুত ধ্বংসের মুখে ঢেলে দিচ্ছে স্মার্টফোন ব্যবহারকারী মুসলমানদের। সর্বনাশা মহামারি থেকে বাঁচাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এই অ্যাপটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদি এখনো অনেকে ভিপিএন ব্যবহার করে এসব অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। মানুষ এ ধরনের অ্যাপগুলো ব্যবহার করে বিনোদনের জন্য। যা মানুষের অনেক সময় নষ্ট করে, ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা নষ্ট করে। ঈমানদারদের আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল রাখে। পবিত্র কোরআনে এ ধরনের সব কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর মানুষের মধ্য থেকে কেউ কেউ না জেনে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বেহ...
মার্কিন মেরিন সদস্য রিচার্ড ম্যাককিনি বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত।তিনি প্রায় ২৫ বছর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে চাকরির পর অবসর নেন।অবসরের পর যদিও তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে নেই, তবু তিনি মানসিকভাবে সবসময় নিজেকে যোদ্ধা মনে করতেন। ইসলাম ছিল তার মনোজগতের সেই যুদ্ধক্ষেত্রের প্রতিপক্ষ।এই ঘৃণা থেকেই তিনি ইন্ডিয়ানাতে অবস্থিত ইসলামিক সেন্টার উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।পরিকল্পনামাফিক তিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে সেখানকার মুসলমানদের সঙ্গে ধর্মীয় কর্মকান্ডে অংশ নেন। একসময় ইসলাম নিয়ে তার ভুল ধারণা ভেঙ্গে যায় এবং ইসলামে ধর্মান্তরিত হন। সামরিক বাহিনীতে কাজ করার সময়, ম্যাককিনির কাছে হত্যা করা ছিল খুবই সহজ বিষয় এবং তার প্রতিটি হত্যার জন্য তিনি ছোট করে একটি বিন্দুর মত ট্যাটু তার বুকে আঁকতেন। তিনি জানান তিনি এমন অনেক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন যা তিনি কারো সাথেই কখনো আলোচনা করেননি। তিনি বলেন, আমি ইসলামকে ঘৃণা করতাম না, কিন্তু বিভিন্ন বিষয় আমি প্রত্যক্ষ করি যার ফলে আমার অনুভূতি এমন হয়ে যায়। চাকরী শেষে আমেরিকায় ফিরে আসার পর তিনি তার নিজের সাথে মানিয়ে নেওয়ার সংগ্রামে লিপ্ত হন। তিনি মদ পান করা শুরু করেন এবং মুসলিমদের প্রত...

কেয়ামতের আগে যে মসজিদের মিনারের কাছে ঈসা (আ.) অবতরণ করবেন

উমাইয়া মসজিদ বা দামেস্কের গ্রেট মসজিদ নামেও পরিচিত। এটি পবিত্র মসজিদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন। এটি সিরিয়া প্রধান মসজিদ। মুসলমানদের একটি অংশের মতে এটি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের চতুর্থ পবিত্র স্থান। ইসলামের অনেক বড় বড় আলোকিত ব্যক্তি সেখানে শিক্ষা দিয়েছেন এবং ধর্ম প্রচার করেছেন। তন্মধ্যে সুলতান সালাহ উদ্দীন আল-আইয়ুবী, ইমাম আল-গাজালী, ইমাম শামস উদ্দীন ইবনে কুদামাহ, ইমাম তাকিউদ-দীন আস-সুবকি, ইমাম তাজ উদ্দীন আস-সুবকি, ইমাম 'আব্দুল বাকী আল-মাওয়াহিবি, ইমাম 'আব্দুল কাদির ইবনে বদরান, ইমাম মুহাম্মাদ সাঈদ রমজান আল-বুতি অন্যান্য। মসজিদটি একটি সুন্দর উঠোন সহ বড় এবং প্রশস্ত। সেখানে প্রার্থনা ও শিক্ষা দেওয়ার জায়গা রয়েছে। এটিতে সূক্ষ্ম মোজাইক পাথরের খোদাই এবং মার্বেল সজ্জা সহ উজ্জ্বল সজ্জা রয়েছে। এটি স্থাপত্যের একটি আধ্যাত্মিকভাবে উল্লেখযোগ্য অংশ। এটা বিশ্বাস করা হয় যে হযরত ঈসা (আ) মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত গ্র্যান্ড উমাইয়া মসজিদের একটি মিনারের পাশে অবতরণ করবেন। তিনি ফজরের নামাজের সময় অবতরণ করবেন। দামেস্কের উমাইয়া জামে মসজিদে তাকবিরে উলা বলা হয়ে যাবে এমন সময় অবতরণ করবেন...

নামাজে পোশাক

আপনি যখন চাকরির ইন্টারভিউতে যান। আপনি বসের সামনে উপস্থাপনযোগ্য দেখতে সেরা এবং সবচেয়ে দামি পোশাক পরেন। যখন আপনি আপনার নামাজে আল্লাহর সাথে কথোপকথন করেন তখন আপনি জগিং প্যান্ট এবং পিছনে রোনালদো লেখা সহ একটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড শার্ট পরেন! আল্লাহ তায়ালা বলেন, "হে বনি আদম, প্রত্যেক নামাজের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করে নাও আর (হালাল বস্তু তৃপ্তির সঙ্গে) খাও ও পান করো; কিন্তু অপব্যয় কোরো না। নিশ্চয় আল্লাহ অপব্যয়ীদের পছন্দ করেন না।" (সুরা আরাফ আয়াত-৩১) টাইট-ফিট প্যান্ট ও শার্ট এবং শরীরের সঙ্গে লেগে থাকা কাপড় পড়ে নামাজ পড়া উচিত নয়। টাইট হওয়ার কারণে নামাজে একাগ্রতা ভঙ্গ হয়। তাছাড়া কাপড়ের উপর থেকে (বিশেষ করে পিছন থেকে) লজ্জাস্থানের উঁচু-নীচু অংশ ও আকার বোঝা যায়। অনেকে এভাবে নামাজ পড়াকে মাকরূহ বলেছেন। সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, উত্তম পোশাকে নামাজ পড়া। হাদিসের অনুসরণ ও অনুকরণে আমল করা। নামাজের পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পোশাকের বিষয়ে সতর্ক থাকা।

সৌদি জাতীয় দিবস

২৩ সেপ্টেম্বর এই দিনটিকে সৌদিরা জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করে। এদিন সারাদেশ জুড়ে লোককাহিনী নাচ, গান এবং ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সাথে উদযাপন করা হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ সালে বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের একটি রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে নেজদ এবং হেজাজের দুটি রাজ্য একত্রিত হয় এবং সৌদ বংশের নামানুসারে সৌদি আরবের নামকরণ করা হয়। এভাবে আবদুল আজিজ সৌদি আরবের প্রথম বাদশাহ হন। হুসেইন বিন আলী যখন ১৯১৬ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন তখন তিনি হেজাজের হাশিমীয় রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯২৫-২৬ সাল নাগাদ সৌদ বংশ হাশিমীয়দের পরাজিত করে হেজাজ দখল করে। অবশেষে হেজাজ এবং নেজদ রাজ্য ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩২ সালে এ দুটি রাজ্য একত্রিত হয়ে আধুনিক সৌদি আরব প্রতিষ্ঠিত হয়।

𝐥𝐨𝐯𝐞 𝐚𝐭 𝐟𝐢𝐫𝐬𝐭 𝐬𝐢𝐠𝐡𝐭 কি?

  𝐥𝐨𝐯𝐞 𝐚𝐭 𝐟𝐢𝐫𝐬𝐭 𝐬𝐢𝐠𝐡𝐭 কি?তাদের জিজ্ঞাসা করুন যারা মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছেন এবং বলেছেন: "আমরা তাঁর মতো (সুন্দর ও নিখুঁত) কাউকে দেখিনি, আগেও না পরেও! হজরত জাবির ইবনে সামুরা রাজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, চন্দ্রালোকে উজ্জ্বল এক রজনীতে আমি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি। আমি একবার হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে আরেকবার চাঁদের দিকে দেখছিলাম। তখন হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরীরে লাল রেখা বিশিষ্ট পোশাক ছিল। আমার দৃষ্টিতে এবং বিশ্বাসে তখন হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে চাঁদের চেয়েও বেশি সুন্দর দেখাচ্ছিল (তিরমিজি, মেশকাত)। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সৌন্দর্য চাঁদসহ বিভিন্ন অপরূপ সৌন্দর্যের বস্তুর সঙ্গে তুলনা শুধু আমাদের বুঝে আসার জন্য। বস্তুত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সৌন্দর্যের কোনো বস্তুর সঙ্গে তুলনা হয় না। হজরত ইউসুফ (আ.)-এর সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আনা মালিহ ওয়া আঁঁখি আছবাহ’ অর্থাৎ আমি লাবণ্যময় আর আমার ভাই ইউসুফ (আ.) উজ্জ্বল। রাবী বি...

রুহুল্লাহ খোমেনি

রুহুল্লাহ খোমেনি ১৯৭৯ সালের ইরানী বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন। যা তৎকালীন পাহলভি রাজবংশের মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে উৎখাত করেছিল। এভাবে তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর সর্বোচ্চ নেতা হন। ১৯৬০-এর দশকের গোড়ার দিকে পাহলভি রাজবংশের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি সংসদ স্থগিত করেন এবং শ্বেত বিপ্লব নামে পরিচিত একটি আক্রমণাত্মক আধুনিকীকরণ কর্মসূচি চালু করেন। খোমেনিই ছিলেন শাহের কর্মসূচী এবং তার শাসনামলের দুর্নীতির একজন স্পষ্টবাদী সমালোচক। যার জন্য খোমেনিকে ১৯৬৩ সালে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। এক বছরের কারাবাসের পর, খোমেনিকে ৪ নভেম্বর, ১৯৬৪ সালে ইরান থেকে জোরপূর্বক নির্বাসিত করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৯ সালে জানুয়ারিতে যখন শাহ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন, খোমেনী দেশে ফেরার সুযোগ পান এবং ফিরেই ২৫০০ বছরের পুরনো পারসিক রাজতন্ত্রের উপড়ে ফেলেন। বিপ্লবের পর খোমেইনী ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সংবিধান মোতাবেক জাতির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বহনকারী সর্বোচ্চ নেতার পদে অধিষ্ঠিত হন এবং আমৃত্যু এই দায়িত্ব পালন করেন।

হিজাবের দেশে হিজাব অবমাননা

হিজাব বা পর্দা নারীর সৌন্দর্য ও মর্যাদার প্রতীক। নারীর সতীত্ব ও ইজ্জত-আবরুর রক্ষাকবচ। নারী-পুরুষ উভয়ের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার অতি সহজ ও কার্যকর উপায়। ইসলাম পর্দা পালনের যে বিধান আরোপ করেছে তা মূলত অশ্লীলতা ও ব্যভিচার নিরসনের লক্ষ্যে এবং সামাজিক অনিষ্টতা ও ফেতনা-ফাসাদ থেকে বাঁচার নিমিত্তেই করেছে। ইরানের শাসক রেজা শাহ প্রাচীন ইরানি ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য সংস্কৃতি চালু করেন। পুরুষদের জন্য ইউরোপীয় পোশাক পরিধান করা বাধ্যতামূলক করেন। ১৯২৮ সালে প্রাশ্চাত্য ড্রেস চালু করেন। মহিলাদের হিজাব নিষিদ্ধ করা হয় এবং পাশ্চাত্য পোশাক পরতে নির্দেশ দেয়া হয়। তার স্ত্রী ও মেয়ে বিনা হিজাবে ইউরোপীয় পোশাকে জনসমক্ষে হাজির হতেন। টুপি-পাগড়ির পরিবর্তে পাহলভী শিরোভূষণ বাধ্যতামূলক করা হয়। পারস্য ভাষাকে আরবি প্রভাব মুক্ত করা হয়। রেজা শাই ধর্মীয় পোশাক পরিধানের জন্য সরকারের অনুমতি নেওয়ার বিধান চালু করেন। ১৯৩৫ সালে রেজা শাহ পাহলভি মাশহাদের গোহারশাদ আকা মসজিদে নারীদের হিজাব সরাতে বাধ্য করেন। তার এই ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ওই বছরের ১২ জুলাই কিছু মানুষ শহিদ হয়। ...

সাদিও মানে একজন সেনেগালীয় পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়

সাদিও মানে হলেন একজন সেনেগালীয় পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়।সাদিও মানে ১৯৯২ সালের ১০শে এপ্রিল তারিখে সেনেগালের সেদিউয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানেই তার শৈশব অতিবাহিত করেছেন। সাদিওর বাবা তাকে ছোটবেলায় ফুটবল খেলতে নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি ফুটবলকে পেশা হিসেবে অনুসরণ করেন। তিনি একজন অনুশীলনকারী মুসলমান এবং প্রতিটি ম্যাচ শুরুর পূর্বে তাকে দোয়া করতে দেখা যায়। তিনি বর্তমানে জার্মানির পেশাদার ফুটবল লিগের শীর্ষ স্তর বুন্দেসলিগার ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং সেনেগাল জাতীয় দলের হয়ে একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। ২০২২–২৩ মৌসুমে, তিনি ৩২ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে লিভারপুল হতে জার্মান বায়ার্ন মিউনিখে যোগদান করেছেন। সাদিওর পরিবার ছিল দরিদ্র। ছোটবেলায় রাতে খাবার না পেয়ে ক্ষুধার জ্বালায় মাটি খেয়ে রাত কাটিয়েছেন তিনি। সাদিও মানে বলনে, "যখন আমি আমার শহর বাম্বালি ছেড়েছিলাম, তখন আমি তিনটি জিনিসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমার বাবা-মাকে হতাশ করব না, একজন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় হব এবং একটি স্কুল তৈরি করতে আমার গ্রামে ফিরে যাব।" তার বাবা-মা গর্বিত, বিস্মিত এবং উত্তেজিত হয়েছিলেন যখন তারা ত...

বিশ্ববিখ্যাত মুসলিম স্কলার শায়খ ড. ইউসুফ আল-কারাজাভি

বিশ্ববিখ্যাত মুসলিম স্কলার ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলার্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্ষীয়ান আলেমেদ্বীন শায়খ ড. ইউসুফ আল-কারাজাভি আজ ইন্তেকাল করেছেন। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুরে কাতারের রাজধানী দোহায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন । মৃত্যুকালে কারজাভির বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। তার ইন্তেকালের বিষয়টি নিশ্চিত করে শায়খ কারাজাভির ছেলে কবি আব্দুর রহমান ইউসুফ। শায়খ কারাজাভির ছেলে কবি রূপক টুইট বার্তায় আব্দুর রহমান ইউসুফ জানান, ‘ঘোড়সওয়ার ঘোড়া থেকে নেমে গেলেন।’আল জাজিরা টেলিভিশনে শরীয়াহ এবং জীবন নামক তার অনুষ্ঠান তাকে পৃথিবীব্যাপি পরিচিত করে তোলে। শায়খ কারাজাভির জন্ম ১৯২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। মিসরের উত্তর নীলনদের তীরবর্তী সাফাত তোরাব গ্রামে। দুই বছর বয়সে বাবা ইন্তিকাল করলে চাচা তার লালন-পালন করেন। দশ বছর বয়সে তিনি সম্পূর্ণ কোরআন হিফজ করেন।হিফজ সম্পন্ন করে আল-আজহার কারিকুলামে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা করেন। উচ্চ মাধ্যমিকে জাতীয় মেধায় দ্বিতীয় হন। প্রাচীন ইসলামী বিদ্যাপীঠ আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উসুলুদ দ্বীন অনুষদ থেকে অনার্স, আরবি ...

ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেম ?

  ১৯৬৭ সালে আরবদের সঙ্গে যুদ্ধে জিতে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় এবং পুরো জেরুজালেম শহরটিকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রের অংশ হিসাবে ঘোষণা করে।২০১৭ সালে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়ে বিতর্ক উসকে দেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর একবছর পর তা বাস্তবায়ন হয়। এ নিয়ে ফিলিস্তিনের পাশাপাশি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।অবরুদ্ধ গাজা উপত্যাকা এবং পশ্চিম তীরে টানা কয়েকদিন বিক্ষোভ করেন ফিলিস্তিনিরা। বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের গুলিতে নিহত হন অর্ধশত ফিলিস্তিনি। গত বছর জেরুজালেমে নিজেদের দূতাবাস চালু করে ইউরোপীয় দেশ কসোভো। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও গুয়াতেমালার পর তৃতীয় ও প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে এই শহরে নিজেদের দূতাবাস খুলে দেশটি। ব্রিটেন তাদের দুতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিতে চাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ২১ সেপ্টেম্বর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী লাপিদের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস। বৈঠকে লাপিদকে তিনি ব্রিটিশ দূতাবাস তেল ...

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...

কাবা ঘর নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মো. আবু রায়হানঃ কাবা মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে, পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।কাবা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ মুকাআব অর্থ ঘন থেকে।কাবা একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত। (The Kaaba, meaning cube in Arabic, is a square building elegantly draped in a silk and cotton veil.)।যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।কাবার ভৌগোলিক অবস্থান ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব।পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর বায়তুল্লাহ বা পবিত্র কাবা ঘর ।আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে তা মক্কা নগরীতে। (সুরা আল ইমরান - ৯৬)। “প্রথম মাসজিদ বায়তুল্লাহিল হারাম তারপর বাইতুল মাকদিস, আর এ দুয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো চল্লিশ বছরের”।(মুসলিম- ৫২০)। ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি ...