সেলজুক সাম্রাজ্যের সময়কালে পারস্যের জ্ঞান-বিজ্ঞানের আকাশে যে উজ্জ্বল নক্ষত্রটি সবচেয়ে বেশি দ্যুতি ছড়িয়েছিলেন, তিনি হলেন ওমর খৈয়াম (১০৪৮–১১৩১ খ্রিষ্টাব্দ)। একজন গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, দার্শনিক এবং কবি—সব পরিচয়ই যেন তাঁর কাছে ম্লান। তিনি একইসাথে বিজ্ঞানের কঠোর যুক্তি আর কবিতার সূক্ষ্ম অনুভূতির এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। বিজ্ঞান ও গণিতে বিস্ময়কর অবদান ওমর খৈয়াম গণিতের জগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন। বীজগণিত: তিনি ত্রিঘাত সমীকরণ (cubic equations) নিয়ে একটি অসাধারণ অভিসন্দর্ভ রচনা করেছিলেন। জ্যামিতি: বৃত্ত ও পরাবৃত্তের (parabola) ছেদবিন্দু ব্যবহার করে জ্যামিতিক সমস্যার সমাধান আবিষ্কার ছিল তাঁর সময়ের চেয়েও অনেক এগিয়ে। এছাড়া তিনি ইউক্লিডের সমান্তরাল স্বীকার্য নিয়েও গভীর গবেষণা করেছিলেন। জ্যোতির্বিদ্যা: ফার্সি পঞ্জিকা বা 'জালালী ক্যালেন্ডার' সংস্কারে তাঁর অবদান অতুলনীয়। তাঁর হিসেব করা সৌর বছর এতটাই নির্ভুল ছিল যে, হাজার বছরেও এতে মাত্র এক দিনের পার্থক্য হতো। সাহিত্যের অমর স্রষ্টা বিজ্ঞানের বাইরে তিনি সারা বিশ্বে মূলত পরিচিত তাঁর 'রুবাইয়াত' (Rubaiyat) বা চতুর...
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন কিছু মনীষী রয়েছেন, যাঁদের আবিষ্কার আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। ত্রয়োদশ শতাব্দীর এমনই এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন ইবনে আল-নাফিস (১২১০–১২৮৮ খ্রিষ্টাব্দ)। একজন প্রখ্যাত আরব চিকিৎসক, দার্শনিক এবং বহুশাস্ত্রজ্ঞ (পলিম্যাথ) হিসেবে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। বিশেষ করে মানবদেহের রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। জন্ম ও প্রাথমিক জীবন ইবনে আল-নাফিস ১২১০ খ্রিষ্টাব্দে সিরিয়ার দামেস্কের নিকটবর্তী একটি অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। সেই সময়ে দামেস্ক ছিল ইসলামিক স্বর্ণযুগের অন্যতম প্রধান জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। নিজের জন্মভূমি দামেস্কে তিনি শৈশব ও কৈশোরে ধর্মতত্ত্ব, ইসলামী আইনশাস্ত্র (ফিকহ), দর্শন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে গভীর ও ব্যাপক শিক্ষা লাভ করেন। তৎকালীন প্রখ্যাত চিকিৎসকদের অধীনে তাঁর চিকিৎসাবিদ্যার হাতেখড়ি হয়েছিল। কায়রোতে কর্মজীবন ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা দামেস্কে পড়াশোনা শেষ করার পর ইবনে আল-নাফিস মিসরের কায়রোতে চলে আসেন এবং জীবনের একটি দীর্ঘ সময় সেখানে অতিবাহিত করেন। কায়রোতে তিনি অত্যন্ত সম্মা...