সেলজুক সাম্রাজ্যের সময়কালে পারস্যের জ্ঞান-বিজ্ঞানের আকাশে যে উজ্জ্বল নক্ষত্রটি সবচেয়ে বেশি দ্যুতি ছড়িয়েছিলেন, তিনি হলেন ওমর খৈয়াম (১০৪৮–১১৩১ খ্রিষ্টাব্দ)। একজন গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, দার্শনিক এবং কবি—সব পরিচয়ই যেন তাঁর কাছে ম্লান। তিনি একইসাথে বিজ্ঞানের কঠোর যুক্তি আর কবিতার সূক্ষ্ম অনুভূতির এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন।
বিজ্ঞান ও গণিতে বিস্ময়কর অবদান ওমর খৈয়াম গণিতের জগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন।
বীজগণিত: তিনি ত্রিঘাত সমীকরণ (cubic equations) নিয়ে একটি অসাধারণ অভিসন্দর্ভ রচনা করেছিলেন।
জ্যামিতি: বৃত্ত ও পরাবৃত্তের (parabola) ছেদবিন্দু ব্যবহার করে জ্যামিতিক সমস্যার সমাধান আবিষ্কার ছিল তাঁর সময়ের চেয়েও অনেক এগিয়ে। এছাড়া তিনি ইউক্লিডের সমান্তরাল স্বীকার্য নিয়েও গভীর গবেষণা করেছিলেন।
জ্যোতির্বিদ্যা: ফার্সি পঞ্জিকা বা 'জালালী ক্যালেন্ডার' সংস্কারে তাঁর অবদান অতুলনীয়। তাঁর হিসেব করা সৌর বছর এতটাই নির্ভুল ছিল যে, হাজার বছরেও এতে মাত্র এক দিনের পার্থক্য হতো।
সাহিত্যের অমর স্রষ্টা বিজ্ঞানের বাইরে তিনি সারা বিশ্বে মূলত পরিচিত তাঁর 'রুবাইয়াত' (Rubaiyat) বা চতুর্দশপদী কবিতার জন্য। ঊনবিংশ শতাব্দীতে তাঁর এই কবিতাগুলো যখন ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়, তখন বিশ্ববাসী তাঁর দার্শনিক চেতনার পরিচয় পায়। মৃত্যু, সময়, এবং ভাগ্যের নির্মম পরিহাস নিয়ে তাঁর গভীর চিন্তা আজও পাঠকদের বিমোহিত করে।
উপসংহার একজন পলিম্যাথ বা বহুবিদ হিসেবে ওমর খৈয়াম প্রমাণ করেছেন যে, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং দার্শনিক চিন্তাধারা একে অপরের পরিপূরক। তিনি আজও জ্ঞানের জগতে এক রহস্যময় এবং অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বেঁচে আছেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন