মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুতে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তবে তাঁর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর জীবনপ্রদীপ যেভাবে নিভে গিয়েছিল, তা অত্যন্ত করুণ এবং বিতর্কিত। সাধারণ ইতিহাস কিংবা উপকথার বাইরে গিয়ে যদি ইবনে আল-বালাজুরি, জি. আর. হটিং কিংবা পি. কে. হিটি-র মতো ইতিহাসবিদদের সূত্র বিশ্লেষণ করা হয়, তবে দেখা যায় যে তাঁর মৃত্যু মূলত উমাইয়া খিলাফতের অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফলাফল ছিল। ১. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ও মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থান মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থানের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তাঁর অভিভাবক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের । ৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান হাজ্জাজকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করেন। ৭০৫ সালে আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর নতুন খলিফা আল-ওয়ালিদও হাজ্জাজকে তাঁর পদে বহাল রাখেন। এই হাজ্জাজের নেতৃত্বেই মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি সেখানে উমাইয়া শাসন সুদৃঢ় করেন। ২. অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উত্তরাধিকার সংকট হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কঠোর শাসন খিলাফতের ভেতরে বহু শত্রুর জন্ম দিয়েছিল: মুহাল্লাব পরিবারের সাথে দ্বন...
১২৯৯ সাল। আনাতোলিয়ার বুকে এক নতুন ইতিহাসের জন্ম হতে যাচ্ছিল। বিলেজিক, ইয়ারহিসার , ইনেগোল এবং ইয়েনিশেহির বিজয়ের পর তরুণ তুর্কি নেতা উসমান বে ( Osman Bey) সেলজুকদের অধীনতা পাশ কাটিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ঘোষণা করলেন। প্রতিষ্ঠিত হলো ‘ উসমানীয় (অটোমান) রাজ্য ’ । কিন্তু রাজ্যের ভিত্তি শক্ত করতে এবং নিজের অবস্থান পোক্ত করতে তার প্রয়োজন ছিল একটি বড় বিজয়ের। আর সেই সুযোগ তৈরি হলো বাইজেন্টাইনদের সাবেক রাজধানী নিকিয়া ( Nicaea/ আজকের ইজনিক) অবরুদ্ধ করার মাধ্যমে। বাইজেন্টাইনদের প্রথম প্রতিরোধ চূর্ণ নিকিয়া হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় বাইজেন্টাইন সম্রাট দ্বিতীয় অ্যান্ড্রো নিকোস ( Andronikos II) ১২০২ সালের বসন্তে তার ছেলে ও সহ-সম্রাট নবম মাইকেলকে এক বিশাল বাহিনী নিয়ে পাঠান। কিন্তু উসমান বে এবং তার দুঃসাহসী যোদ্ধারা বাইজেন্টাইন বাহিনীকে মাঝপথেই আটকে দেন। লড়াইয়ের তীব্রতা দেখে মাইকেল তার সৈন্যদল নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হন। বাফেউসের মহাযুদ্ধ (১৩০২): বাঁক বদলে দেওয়া মুহূর্ত প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর , একই বছরের জুলাই মাসে সম্রাট অ্যান্ড্রো নিকোস তার সেনাপতি জর্জ মুজালনের নেতৃত্বে আরেকটি ...