ইতিহাসের পাতায় কিছু সমাপ্তি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং তা এক গভীর ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। ২৩ আগস্ট—উসমানীয় রাজবংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ (Caliph Abdul Majid II) -এর জীবনের এক মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধূর অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন। খেলাফতের পতন এবং উসমানীয় রাজবংশের তুরস্ক থেকে নির্বাসনের পর তাঁর জীবন কীভাবে এক নিদারুণ নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়েছিল, এটি তারই এক ঐতিহাসিক দলিল। ১. নির্বাসিত জীবন ও প্যারিসের নিঃসঙ্গ মৃত্যু তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যখন উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করা হয়, তখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, তখন চরম দুর্দিনে প্যারিসের এক ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ এতটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল যে, বেশ কয়েক দিন ধরে তা ফ্ল্যাটেই রাখা ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তাঁর মরদেহ প্যারিস মসজিদে নিয়ে গিয়ে হিমঘরে (frozen storage) রাখা হয়। ২. অপূর্ণ ইচ্ছে ও শেষ ঠিকানার সন্ধান আবদুল মজিদ জীবনের ...
আহমদ ইবনে মজিদ (মৃত্যু: ১৫০২) ছিলেন মধ্যযুগের একজন অত্যন্ত প্রখ্যাত আরব নাবিক, গণিতবিদ ও কার্টোগ্রাফার। ১৪৯০ সালে রচিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'কিতাব আল-ফাওয়ায়েদ ফি উসুল ইলম আল-বাহর ওয়া আল-কওয়ায়েদ' (Kitab al-Fawa'id fi Usul 'Ilm al-Bahr wa 'l-Qawa'id) সামুদ্রিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক হয়ে আছে। তিনি প্রায় ১৪৩২ সালে বর্তমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমার জুলফার অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি নেভিগেশন বা জাহাজ চালনা বিদ্যায় চরম দক্ষতা অর্জন করেন এবং তাঁর অসাধারণ দক্ষতার জন্য তাঁকে "সমুদ্রের সিংহ" (The Lion of the Sea) উপাধিতে ভূষিত করা হয়।ইবনে মজিদ সামুদ্রিক বিজ্ঞানের ওপর প্রায় ৪০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এসব বইয়ে তিনি চন্দ্র কক্ষপথ (lunar mansions), রম্ব লাইন (rhumb lines) এবং নক্ষত্রের অবস্থান নির্ণয়ের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল নেভিগেশন টেকনিকগুলো বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। তাঁর এই বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক জ্ঞান মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব আফ্রিকা, ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক রুটগুলোতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ...