ইতিহাসের পাতায় কিছু সমাপ্তি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং তা এক গভীর ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। ২৩ আগস্ট—উসমানীয় রাজবংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ (Caliph Abdul Majid II) -এর জীবনের এক মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধূর অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন। খেলাফতের পতন এবং উসমানীয় রাজবংশের তুরস্ক থেকে নির্বাসনের পর তাঁর জীবন কীভাবে এক নিদারুণ নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়েছিল, এটি তারই এক ঐতিহাসিক দলিল। ১. নির্বাসিত জীবন ও প্যারিসের নিঃসঙ্গ মৃত্যু তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যখন উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করা হয়, তখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, তখন চরম দুর্দিনে প্যারিসের এক ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ এতটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল যে, বেশ কয়েক দিন ধরে তা ফ্ল্যাটেই রাখা ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তাঁর মরদেহ প্যারিস মসজিদে নিয়ে গিয়ে হিমঘরে (frozen storage) রাখা হয়। ২. অপূর্ণ ইচ্ছে ও শেষ ঠিকানার সন্ধান আবদুল মজিদ জীবনের ...
হেজাজের প্রথম রাজা এবং মক্কার আমীর শরীফ হুসাইন বিন আলী (১৮৫৩–১৯২১) ছিলেন হাশেমী রাজবংশের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধর।
১৯০৮ সালে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলোর দায়িত্বে নিয়োজিত হন। হুসাইন আঞ্চলিক সম্প্রদায়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মুসলিম হাজীদের নিরাপত্তা ও লজিস্টিকস নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তবে, ১৯০৮ সালের তরুণ তুর্কি বিপ্লব এবং তাদের জাতীয়তাবাদী নীতির কারণে অটোমান সাম্রাজ্যের সাথে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে, কারণ তিনি মনে করতেন এই নীতিগুলো ইসলামী ঐতিহ্যকে দুর্বল করে দিচ্ছে। অবশেষে, ব্রিটিশদের সহায়তায় তিনি ১৯১৬ সালের ১০ জুন 'মহান আরব বিদ্রোহ' শুরু করেন এবং তাঁর বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো দখল করে ওই অঞ্চলে অটোমান শাসনের অবসান ঘটান।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন