আহমদ ইবনে মজিদ (মৃত্যু: ১৫০২) ছিলেন মধ্যযুগের একজন অত্যন্ত প্রখ্যাত আরব নাবিক, গণিতবিদ ও কার্টোগ্রাফার। ১৪৯০ সালে রচিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'কিতাব আল-ফাওয়ায়েদ ফি উসুল ইলম আল-বাহর ওয়া আল-কওয়ায়েদ' (Kitab al-Fawa'id fi Usul 'Ilm al-Bahr wa 'l-Qawa'id) সামুদ্রিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক হয়ে আছে। তিনি প্রায় ১৪৩২ সালে বর্তমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমার জুলফার (Julfar) অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি নেভিগেশন বা জাহাজ চালনা বিদ্যায় চরম দক্ষতা অর্জন করেন এবং তাঁর অসাধারণ দক্ষতার জন্য তাঁকে "সমুদ্রের সিংহ" (The Lion of the Sea) উপাধিতে ভূষিত করা হয়।ইবনে মজিদ সামুদ্রিক বিজ্ঞানের ওপর প্রায় ৪০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এসব বইয়ে তিনি চন্দ্র কক্ষপথ (lunar mansions), রম্ব লাইন (rhumb lines) এবং নক্ষত্রের অবস্থান নির্ণয়ের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল নেভিগেশন টেকনিকগুলো বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। তাঁর এই বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক জ্ঞান মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব আফ্রিকা, ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক রুটগুলোতে আঞ্চলিক ও আন্...
হেজাজের প্রথম রাজা এবং মক্কার আমীর শরীফ হুসাইন বিন আলী (১৮৫৩–১৯২১) ছিলেন হাশেমী রাজবংশের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধর।
১৯০৮ সালে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলোর দায়িত্বে নিয়োজিত হন। হুসাইন আঞ্চলিক সম্প্রদায়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মুসলিম হাজীদের নিরাপত্তা ও লজিস্টিকস নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তবে, ১৯০৮ সালের তরুণ তুর্কি বিপ্লব এবং তাদের জাতীয়তাবাদী নীতির কারণে অটোমান সাম্রাজ্যের সাথে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে, কারণ তিনি মনে করতেন এই নীতিগুলো ইসলামী ঐতিহ্যকে দুর্বল করে দিচ্ছে। অবশেষে, ব্রিটিশদের সহায়তায় তিনি ১৯১৬ সালের ১০ জুন 'মহান আরব বিদ্রোহ' শুরু করেন এবং তাঁর বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো দখল করে ওই অঞ্চলে অটোমান শাসনের অবসান ঘটান।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন