সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

পর্দা প্রথা বর্জন লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

পর্দা প্রথা ভেঙে সিংহাসনে বসা এক সাহসী নারীর গল্প: রাজিয়া সুলতানা

১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে যখন রাজিয়া সুলতানা দিল্লির শাসক হন, তখন তিনি এমন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন যা এর আগে অন্য কোনো সুলতানকে মোকাবিলা করতে হয়নি। এটি কোনো বিদেশি আক্রমণ বা গৃহযুদ্ধ ছিল না; বরং বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ সাধারণ যে তিনি একজন নারী ছিলেন। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে দিল্লির রাজপরিবারের নারীদের পর্দা প্রথার আড়ালে অন্তরালে থাকার প্রত্যাশা করা হতো এবং তারা খুব কমই জনসমক্ষে আসতেন। একজন রানীর কাজ ছিল কেবল প্রাসাদের দেয়ালের আড়ালে থেকে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা, প্রকাশ্যে শাসন করা নয়। কিন্তু রাজিয়া কোনো পুতুল শাসক হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন না। সিংহাসনে বসার পরপরই তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নেন যা তুর্কি অভিজাত এবং রক্ষণশীল সমাজের একটি বড় অংশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। ঐতিহ্য ভাঙার সাহসী পদক্ষেপ রাজিয়া সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় পর্দা পরিহার করেন এবং জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি একজন সুলতানের পুরুষসুলভ পোশাক পরিধান করা শুরু করেন, যার মধ্যে ছিল পাগড়ি (কুলাহ) এবং পুরুষ শাসকদের ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় আলখাল্লা। তিনি উন্মুক্ত দরবারে বসতেন, ব্যক্তিগতভাবে জনগণের আবেদন শুনতেন, বিচারকার্য পরিচালনা করতেন, সৈন্য...

পর্দা প্রথা ভেঙে সিংহাসনে বসা এক সাহসী নারীর গল্প: রাজিয়া সুলতানা

১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে যখন রাজিয়া সুলতানা দিল্লির শাসক হন, তখন তিনি এমন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন যা এর আগে অন্য কোনো সুলতানকে মোকাবিলা করতে হয়নি। এটি কোনো বিদেশি আক্রমণ বা গৃহযুদ্ধ ছিল না; বরং বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ সাধারণ যে তিনি একজন নারী ছিলেন। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে দিল্লির রাজপরিবারের নারীদের পর্দা প্রথার আড়ালে অন্তরালে থাকার প্রত্যাশা করা হতো এবং তারা খুব কমই জনসমক্ষে আসতেন। একজন রানীর কাজ ছিল কেবল প্রাসাদের দেয়ালের আড়ালে থেকে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা, প্রকাশ্যে শাসন করা নয়। কিন্তু রাজিয়া কোনো পুতুল শাসক হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন না। সিংহাসনে বসার পরপরই তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নেন যা তুর্কি অভিজাত এবং রক্ষণশীল সমাজের একটি বড় অংশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। ঐতিহ্য ভাঙার সাহসী পদক্ষেপ রাজিয়া সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় পর্দা পরিহার করেন এবং জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি একজন সুলতানের পুরুষসুলভ পোশাক পরিধান করা শুরু করেন, যার মধ্যে ছিল পাগড়ি (কুলাহ) এবং পুরুষ শাসকদের ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় আলখাল্লা। তিনি উন্মুক্ত দরবারে বসতেন, ব্যক্তিগতভাবে জনগণের আবেদন শুনতেন, বিচারকার্য পরিচালনা করতেন, সৈন্য...

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যে গাছ ইহুদিদের আশ্রয় দেবে অর্থাৎ ইহুদিদের বন্ধু গাছ

মো.আবু রায়হান: কিয়ামত সংঘটিত হবার   পূর্বে হযরত ঈসা (আ.) এর সঙ্গে দাজ্জালের জেরুজালেমে যুদ্ধ হবে। সেই যুদ্ধে ইহুদিরা দাজ্জালের পক্ষাবলম্বন করবে। হযরত ঈসা (আ.) দাজ্জালকে হত্যা করবেন।এদিকে   ইহুদিরা প্রাণ ভয়ে পালাতে চেষ্টা করবে।   আশেপাশের গাছ ও পাথর/ দেয়ালে আশ্রয় নেবে। সেদিন গারকাদ নামক একটি গাছ ইহুদিদের আশ্রয় দেবে। গারকাদ ইহুদীবান্ধব গাছ।গারকাদ একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ হল কাটাওয়ালা ঝোঁপ।গারকাদ এর ইংরেজী প্রতিশব্দ Boxthorn । Box এর অর্থ সবুজ ঝোঁপ এবং thorn এর অর্থ কাঁটা। এ ধরনের গাছ বক্সথর্ন হিসেবেই পরিচিত। এই গাছ চেরি গাছের মতো এবং চেরি ফলের মতো লাল ফলে গাছটি শোভিত থাকে।   ইসরায়েলের সর্বত্র বিশেষত অধিকৃত গাজা ভূখন্ডে গারকাদ গাছ ব্যাপকহারে   দেখতে পাওয়া যায়।ইহুদিরা কোথাও পালাবার স্থান পাবে না। গাছের আড়ালে পালানোর চেষ্টা করলে গাছ বলবে , হে মুসলিম! আসো , আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে। আসো এবং তাকে হত্যা কর। পাথর বা দেয়ালের পিছনে পলায়ন করলে পাথর বা দেয়াল বলবে , হে মুসলিম! আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে , আসো! তাকে হত্যা কর। তবে গারকাদ নামক গাছ ইহুদ...

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...