প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি বিশ্ব মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছিল। তবে শত শত বছর ধরে শাসন করা অটোমান বা উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতন এবং তার ধ্বংসস্তূপ থেকে আধুনিক তুরস্কের উত্থান ইতিহাসবিদদের কাছে এক অনন্য রোমাঞ্চকর অধ্যায়।
১. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয় ও সেভ্র চুক্তি (Treaty of Sèvres)
১৯১৮ সালের ৩০ অক্টোবর মুদ্রোসের যুদ্ধবিরতি (Armistice of Mudros)-র মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্যের পরাজয় চূড়ান্ত হয়
মিত্রবাহিনী চেয়েছিল অটোমান সাম্রাজ্যকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে
২. মুস্তফা কামাল পাশার নতুন সরকার ও স্বাধীনতা যুদ্ধ
সেভ্র চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলাকালীনই মুস্তফা কামাল পাশা-র নেতৃত্বে নতুন এক রাজনৈতিক বিপ্লব ঘটে
একই সময়ে সেভ্র চুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে গ্রিক বাহিনী আনাতোলিয়া অঞ্চলে সামরিক অভিযান শুরু করে
৩. সুলতানতন্ত্রের অবসান ও লোজান শান্তি চুক্তি
মুদানিয়া চুক্তির পর মিত্রশক্তি ইস্তাম্বুলের অটোমান সরকার এবং আঙ্কারার জাতীয়তাবাদী সরকার—উভয়কেই নতুন শান্তি সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানায়
এর ফলে আঙ্কারা সরকারই সমগ্র তুরস্কের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে ১৯২২ সালের ২০ নভেম্বর শুরু হওয়া লোজান শান্তি সম্মেলনে (Lausanne Peace Conference) অংশ নেয়
দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯২৩ সালের ২৪ জুলাই বিখ্যাত লোজান চুক্তি (Treaty of Lausanne) স্বাক্ষরিত হয়
মিত্রশক্তির সৈন্যরা ইস্তাম্বুল ছেড়ে চলে যায় (১৯২৩ সালের ৪ অক্টোবর)
। তুরস্ক তার সাবেক আরব প্রদেশগুলোর ওপর থেকে দাবি ছেড়ে দেয় এবং সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ও ডোডেকানিজ দ্বীপাঞ্চলে ইতালির অধিকার মেনে নেয়
। সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল—আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে তুরস্কের স্বীকৃতি লাভ
।
৪. নতুন সূর্য: তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের ঘোষণা
লোজান চুক্তির মাধ্যমে অর্জিত এই বিজয়ের ধারাবাহিকতায় ১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজাতন্ত্রী তুরস্ক (Republic of Turkey) ঘোষণার মাধ্যমে আধুনিক স্বাধীন রাষ্ট্রের যাত্রা শুরু হয়
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন