আজকের ব্লগে আমরা সংক্ষেপে সেই ঐতিহাসিক ও অলৌকিক ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানব।
১. হজরত উজাইর (আ.)-এর ক্ষেত্রে ১০০ বছর সময় থেমে থাকা
পবিত্র কুরআনের সুরা আল-বাকারার ২৫৯ নম্বর আয়াতে এক বিশেষ ব্যক্তির ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়, যাঁকে তাফসির ও ইতিহাসবিদগণ হজরত উজাইর (আ.) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তিনি একবার এমন এক জনবসতির ওপর দিয়ে যাচ্ছিলেন যা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। তিনি মনে মনে ভাবলেন, মৃত্যুর পর আল্লাহ কীভাবে এই জনপদকে আবার জীবন দান করবেন? তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুনিদ্রায় আচ্ছন্ন করেন এবং তাঁর সাথে থাকা গাধাটিও মারা যায়। এভাবেই কেটে যায় দীর্ঘ এক শ বছর।
একশ বছর পর আল্লাহ তাআলা তাঁকে পুনর্জীবিত করেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কতকাল এখানে ছিলে? তিনি উত্তর দিলেন, একদিন বা একদিনের কিছু কম সময়। অথচ তাঁর চোখের সামনে তাঁর গাধার হাড়গোড়গুলো অলৌকিকভাবে মাংস ও চামড়ায় ঢেকে জীবিত হয়ে ওঠে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁর ওপর দিয়ে একটি শতাব্দী পার হয়ে গেলেও তাঁর খাবার ও পানীয় সম্পূর্ণ সতেজ ও অবিকৃত ছিল এবং সময়ের কোনো বার্ধক্য বা প্রভাব তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি।
২. নবী ইউশা ইবন নুন (আ.)-এর যুদ্ধ জয়কালে সূর্য থেমে যাওয়া
সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, বনি ইসরাইলের একজন নবী (যাঁকে অধিকাংশ বর্ণনায় ইউশা ইবন নুন বলে উল্লেখ করা হয়েছে) আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন।
যুদ্ধ যখন বিজয়ের একেবারে দোরগোড়ায়, তখন শুক্রবারের বিকেলবেলা সূর্য ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলো। পরদিন শনিবার হওয়ায় শনিবারে যুদ্ধ করা তাঁদের শরিয়তে নিষিদ্ধ ছিল। যদি সূর্য ডুবে যেত, তবে শত্রুরা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেত এবং বিজয় হাতছাড়া হয়ে যেত। পরিস্থিতি উপলব্ধি করে সেই নবী সূর্যের দিকে তাকিয়ে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, "তুমি আল্লাহর হুকুমে চলমান, আর আমিও আল্লাহর হুকুমে আদেশপ্রাপ্ত। হে আল্লাহ, একে আমাদের জন্য আটকে রাখুন।"
আল্লাহ তাআলা তাঁর সেই প্রার্থনা কবুল করেন এবং বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সূর্যের গতিকে থামিয়ে রাখেন।
৩. রাদুদ শামস: হযরত আলী (রা.)-এর আসরের নামাজের জন্য সূর্য ফিরিয়ে দেওয়া
ইসলামের ইতিহাস ও হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়, নবুওয়াতি যুগে একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর ওহি নাজিল হচ্ছিল এবং সে সময় তাঁর মোবারক মাথাটি হজরত আলী (রা.)-এর কোলের ওপর রাখা ছিল। ওহির ভার ও অবস্থার কারণে হজরত আলী (রা.) যথাসময়ে আসরের নামাজ আদায় করতে পারেননি এবং সূর্য প্রায় অস্ত যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
নবীজি (সা.) বিষয়টি অনুধাবন করে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। তাঁর দোয়ার বরকতে আল্লাহ তাআলা অস্তমিত প্রায় সূর্যকে একটু ওপরের দিকে ফিরিয়ে দেন, যেন হজরত আলী (রা.) অত্যন্ত শান্তিতে ও আরামে আসরের নামাজ আদায় করে নিতে পারেন। ইসলামের ইতিহাসে এই ঘটনাটি 'রাদুদ শামস' (সূর্য ফিরিয়ে দেওয়া) নামে পরিচিত।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন