১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে যখন রাজিয়া সুলতানা দিল্লির শাসক হন, তখন তিনি এমন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন যা এর আগে অন্য কোনো সুলতানকে মোকাবিলা করতে হয়নি। এটি কোনো বিদেশি আক্রমণ বা গৃহযুদ্ধ ছিল না; বরং বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ সাধারণ যে তিনি একজন নারী ছিলেন। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে দিল্লির রাজপরিবারের নারীদের পর্দা প্রথার আড়ালে অন্তরালে থাকার প্রত্যাশা করা হতো এবং তারা খুব কমই জনসমক্ষে আসতেন। একজন রানীর কাজ ছিল কেবল প্রাসাদের দেয়ালের আড়ালে থেকে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা, প্রকাশ্যে শাসন করা নয়। কিন্তু রাজিয়া কোনো পুতুল শাসক হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন না। সিংহাসনে বসার পরপরই তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নেন যা তুর্কি অভিজাত এবং রক্ষণশীল সমাজের একটি বড় অংশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। ঐতিহ্য ভাঙার সাহসী পদক্ষেপ রাজিয়া সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় পর্দা পরিহার করেন এবং জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি একজন সুলতানের পুরুষসুলভ পোশাক পরিধান করা শুরু করেন, যার মধ্যে ছিল পাগড়ি (কুলাহ) এবং পুরুষ শাসকদের ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় আলখাল্লা। তিনি উন্মুক্ত দরবারে বসতেন, ব্যক্তিগতভাবে জনগণের আবেদন শুনতেন, বিচারকার্য পরিচালনা করতেন, সৈন্য...
১. মূল আবিষ্কার ও প্রকৌশলগত উদ্ভাবন ছয় সিলিন্ডারের জল পাম্প (১৫৫৯): তিনি একটি উন্নত জলবাহী যন্ত্র তৈরি করেন, যা জল উত্তোলনের জন্য একটি জলের সাহায্যে চালিত স্কুপ-হুইল, অ্যাক্সেলের ওপর ক্যাম সিস্টেম এবং ভালভ ব্যবহার করত। প্রাথমিক বাষ্পীয় টারবাইন (১৫৫১): তিনি এমন একটি বাষ্পচালিত যন্ত্রের বর্ণনা দিয়েছিলেন, যা চাকার ডানার দিকে চালিত বাষ্পের জেট দ্বারা চালিত হতো এবং এটি ভবিষ্যতের বাষ্প প্রযুক্তির অগ্রদূত হিসেবে কাজ করেছিল। নির্ভুল ঘড়ি ও অ্যালার্ম সিস্টেম: তিনি এমন উন্নত জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক ঘড়ি তৈরি করেছিলেন যা মিনিট ও সেকেন্ডের মাপে সময় পরিমাপ করতে পারত, পাশাপাশি প্রাথমিক মেকানিক্যাল অ্যালার্ম সিস্টেমও আবিষ্কার করেছিলেন। ২. জ্যোতির্বিজ্ঞানে অবদান কনস্টান্টিনোপল মানমন্দির (১৫৭৭): নক্ষত্রপুঞ্জ নিখুঁতভাবে ম্যাপ করা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব আপডেট করার উদ্দেশ্যে তিনি সুলতান তৃতীয় মুরাদের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি অত্যাধুনিক মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ৩. ইসমাইল আল-জাজারির সাথে তুলনা ইসমাইল আল-জাজারি (দ্বাদশ শতাব্দী): তিনি মূলত রোবটিক ডিভাইস (অটোমাটা) এবং ক্র্যাঙ্কশাফটের মতো মৌলিক যান্ত্...