সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

১৬ শতকের উসমানীয়-মিশরীয় বহুবিদ্যাবিদ তাকি আল-দ্বীন এবং তাঁর আবিষ্কারসমূহ

  ১. মূল আবিষ্কার ও প্রকৌশলগত উদ্ভাবন ছয় সিলিন্ডারের জল পাম্প (১৫৫৯): তিনি একটি উন্নত জলবাহী যন্ত্র তৈরি করেন, যা জল উত্তোলনের জন্য একটি জলের সাহায্যে চালিত স্কুপ-হুইল, অ্যাক্সেলের ওপর ক্যাম সিস্টেম এবং ভালভ ব্যবহার করত। প্রাথমিক বাষ্পীয় টারবাইন (১৫৫১): তিনি এমন একটি বাষ্পচালিত যন্ত্রের বর্ণনা দিয়েছিলেন, যা চাকার ডানার দিকে চালিত বাষ্পের জেট দ্বারা চালিত হতো এবং এটি ভবিষ্যতের বাষ্প প্রযুক্তির অগ্রদূত হিসেবে কাজ করেছিল। নির্ভুল ঘড়ি ও অ্যালার্ম সিস্টেম: তিনি এমন উন্নত জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক ঘড়ি তৈরি করেছিলেন যা মিনিট ও সেকেন্ডের মাপে সময় পরিমাপ করতে পারত, পাশাপাশি প্রাথমিক মেকানিক্যাল অ্যালার্ম সিস্টেমও আবিষ্কার করেছিলেন। ২. জ্যোতির্বিজ্ঞানে অবদান কনস্টান্টিনোপল মানমন্দির (১৫৭৭): নক্ষত্রপুঞ্জ নিখুঁতভাবে ম্যাপ করা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব আপডেট করার উদ্দেশ্যে তিনি সুলতান তৃতীয় মুরাদের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি অত্যাধুনিক মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ৩. ইসমাইল আল-জাজারির সাথে তুলনা ইসমাইল আল-জাজারি (দ্বাদশ শতাব্দী): তিনি মূলত রোবটিক ডিভাইস (অটোমাটা) এবং ক্র্যাঙ্কশাফটের মতো মৌলিক যান্ত্...

১৬ শতকের উসমানীয়-মিশরীয় বহুবিদ্যাবিদ তাকি আল-দ্বীন এবং তাঁর আবিষ্কারসমূহ

 


১. মূল আবিষ্কার ও প্রকৌশলগত উদ্ভাবন

  • ছয় সিলিন্ডারের জল পাম্প (১৫৫৯): তিনি একটি উন্নত জলবাহী যন্ত্র তৈরি করেন, যা জল উত্তোলনের জন্য একটি জলের সাহায্যে চালিত স্কুপ-হুইল, অ্যাক্সেলের ওপর ক্যাম সিস্টেম এবং ভালভ ব্যবহার করত।

  • প্রাথমিক বাষ্পীয় টারবাইন (১৫৫১): তিনি এমন একটি বাষ্পচালিত যন্ত্রের বর্ণনা দিয়েছিলেন, যা চাকার ডানার দিকে চালিত বাষ্পের জেট দ্বারা চালিত হতো এবং এটি ভবিষ্যতের বাষ্প প্রযুক্তির অগ্রদূত হিসেবে কাজ করেছিল।

  • নির্ভুল ঘড়ি ও অ্যালার্ম সিস্টেম: তিনি এমন উন্নত জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক ঘড়ি তৈরি করেছিলেন যা মিনিট ও সেকেন্ডের মাপে সময় পরিমাপ করতে পারত, পাশাপাশি প্রাথমিক মেকানিক্যাল অ্যালার্ম সিস্টেমও আবিষ্কার করেছিলেন।

২. জ্যোতির্বিজ্ঞানে অবদান

  • কনস্টান্টিনোপল মানমন্দির (১৫৭৭): নক্ষত্রপুঞ্জ নিখুঁতভাবে ম্যাপ করা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব আপডেট করার উদ্দেশ্যে তিনি সুলতান তৃতীয় মুরাদের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি অত্যাধুনিক মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

৩. ইসমাইল আল-জাজারির সাথে তুলনা

  • ইসমাইল আল-জাজারি (দ্বাদশ শতাব্দী): তিনি মূলত রোবটিক ডিভাইস (অটোমাটা) এবং ক্র্যাঙ্কশাফটের মতো মৌলিক যান্ত্রিক যন্ত্রাংশের ওপর বেশি জোর দিয়েছিলেন।

  • তাকি আল-দ্বীন (ষোড়শ শতাব্দী): তিনি প্রায়োগিক বলবিদ্যা (practical mechanics), প্রাথমিক বাষ্পীয় শক্তি এবং উচ্চ-নির্ভুলতাসম্পন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সময় পরিমাপের উদ্ভাবনের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছিলেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যে গাছ ইহুদিদের আশ্রয় দেবে অর্থাৎ ইহুদিদের বন্ধু গাছ

মো.আবু রায়হান:  কিয়ামত সংঘটিত হবার  পূর্বে হযরত ঈসা (আ.) এর সঙ্গে দাজ্জালের জেরুজালেমে যুদ্ধ হবে। সেই যুদ্ধে ইহুদিরা দাজ্জালের পক্ষাবলম্বন করবে। হযরত ঈসা (আ.) দাজ্জালকে হত্যা করবেন।এদিকে  ইহুদিরা প্রাণ ভয়ে পালাতে চেষ্টা করবে।  আশেপাশের গাছ ও পাথর/ দেয়ালে আশ্রয় নেবে। সেদিন গারকাদ নামক একটি গাছ ইহুদিদের আশ্রয় দেবে। গারকাদ ইহুদীবান্ধব গাছ।গারকাদ একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ হল কাটাওয়ালা ঝোঁপ।গারকাদ এর ইংরেজী প্রতিশব্দ Boxthorn। Boxএর অর্থ সবুজ ঝোঁপ এবং thorn এর অর্থ কাঁটা। এ ধরনের গাছ বক্সথর্ন হিসেবেই পরিচিত। এই গাছ চেরি গাছের মতো এবং চেরি ফলের মতো লাল ফলে গাছটি শোভিত থাকে।  ইসরায়েলের সর্বত্র বিশেষত অধিকৃত গাজা ভূখন্ডে গারকাদ গাছ ব্যাপকহারে  দেখতে পাওয়া যায়।ইহুদিরা কোথাও পালাবার স্থান পাবে না। গাছের আড়ালে পালানোর চেষ্টা করলে গাছ বলবে, হে মুসলিম! আসো, আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে। আসো এবং তাকে হত্যা কর। পাথর বা দেয়ালের পিছনে পলায়ন করলে পাথর বা দেয়াল বলবে, হে মুসলিম! আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে, আসো! তাকে হত্যা কর। তবে গারকাদ নামক গাছ ইহুদিদেরকে ...

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...