১. প্রাথমিক অভিযান ও প্রতিরোধ (৬৪০ খ্রিষ্টাব্দ)
পেলুসিয়াম (Pelusium) জয়: নীল নদ বদ্বীপের পূর্ব সীমানার এই গুরুত্বপূর্ণ দুর্গটি ৬৪০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুসলিম বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে।
বেলবেইসের (Belbeis) পতন: তীব্র অবরোধের পর মার্চ মাসের শেষের দিকে বেলবেইস শহর বিজিত হয়।
পেলুসিয়াম ও বেলবেইসে বাইজেন্টাইন বাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে আমর ইবনুল আস (রা.) খলিফার কাছে অতিরিক্ত সৈন্যের আবেদন জানান।
২. বাবিলন অবরোধ ও হেলিওপলিসের যুদ্ধ
মে ৬৪০-এর মধ্যে মুসলিম বাহিনী বাবিলন দুর্গ অবরোধ শুরু করে। তবে হেলিওপলিসে অবস্থানরত বাইজেন্টাইন বাহিনী পিছন থেকে আক্রমণ করতে পারে—এই আশঙ্কায় আমর ইবনুল আস (রা.) বাবিলনে কিছু সৈন্য রেখে মূল বাহিনী নিয়ে হেলিওপলিসের দিকে অগ্রসর হন।
ঐতিহাসিক জয়: জুলাইয়ের শুরুতে অতিরিক্ত সৈন্য এসে পৌঁছায় এবং ৬ জুলাই ৬৪০ তারিখে থিওডোরের নেতৃত্বাধীন বাইজেন্টাইন বাহিনীকে হেলিওপলিসের যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে রাশেদুন বাহিনী।
৩. মিশর বিজয় সম্পন্ন
হেলিওপলিসের এই বড় জয়ের ফলে মিশরে মুসলিমদের অবস্থান সুসংহত হয়: ১. ডিসেম্বর ৬৪০: বাবিলন দুর্গ চূড়ান্তভাবে বিজিত হয়। ২. সেপ্টেম্বর ৬৪১: বাইজেন্টাইন মিশরের রাজধানী আলেকজান্দ্রিয়া (Alexandria) মুসলিমদের অধীনে আসে।মিশর বিজয়ের পর সেনাপতি আমর ইবনুল আস (রা.) ৬৪২ খ্রিষ্টাব্দে মিশরের প্রথম রাজধানী 'ফুস্তাত' (বর্তমান কায়রো) প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে আফ্রিকা মহাদেশের প্রথম মসজিদ ‘আমর ইবনুল আস মসজিদ’ নির্মাণ করেন।
ঐতিহাসিক তাৎপর্য: হেলিওপলিসের যুদ্ধ ছিল একটি নির্ধারক বিজয়, যা কেবল মিশরেই মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেনি, বরং পরবর্তীতে উত্তর আফ্রিকায় ইসলাম বিস্তারের পথও উন্মুক্ত করেছিল।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন