সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

আইন জালুতের যুদ্ধ: যে যুদ্ধে থেমে গিয়েছিল মঙ্গোলদের দুর্বার অগ্রযাত্রা

  ১২৬০ খ্রিষ্টাব্দ। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে তখন আতঙ্কের কালো মেঘ। মঙ্গোল বাহিনীর নাম শুনলেই নগরীর দরজা বন্ধ হয়ে যেত, মানুষ পালানোর পথ খুঁজত। একের পর এক নগরী ধ্বংস করে এগিয়ে আসছিল চেঙ্গিস খানের উত্তরসূরিদের বাহিনী। এরই মধ্যে মঙ্গোল সাম্রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী সেনাপতি হুলাগু খান মধ্যপ্রাচ্যে ভয়ংকর অভিযান শুরু করেন। বাগদাদ থেকে সিরিয়া—ধ্বংসের পথে মঙ্গোল বাহিনী ১২৫৮ সালে হুলাগুর বাহিনী আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ দখল করে। শেষ আব্বাসীয় খলিফা আল-মুস্তাসিম বিল্লাহ নিহত হন এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাগদাদ ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়। এরপর হুলাগুর বাহিনী সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হয়। ১২৬০ সালের জানুয়ারিতে আলেপ্পো অবরোধ করা হয়। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই শহরটি মঙ্গোলদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর মঙ্গোল বাহিনী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হয় এবং মার্চ মাসে দামেস্কও তাদের দখলে আসে। মনে হচ্ছিল—মঙ্গোলদের থামানোর মতো কোনো শক্তিই আর অবশিষ্ট নেই। কিন্তু ইতিহাস তখন অন্য একটি অধ্যায়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মিশরে উঠে এল মামলুক শক্তি মঙ্গোলদের এই অপ্রতিরোধ...

উইন্ডিজে ইসলাম ও মুসলমান

মো আবু রায়হানঃওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্যারিবীয় অববাহিকা এবং উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরীয় একটি অঞ্চলবিশেষ। দ্বীপ এলাকা অ্যান্টিলিজ এবং লুকেয়ান দ্বীপপুঞ্জও এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। ক্রিস্টোফার কলম্বাস কর্তৃক এ অঞ্চল আবিষ্কৃত হবার পর ইউরোপীয়রা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম দেশ ভারত থেকে এ অঞ্চলকে পৃথকীকরণে প্রয়াস পান। সপ্তদশ শতক থেকে ঊনবিংশ শতক পর্যন্ত ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক অঞ্চল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছিল ব্রিটিশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ড্যানিশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেদারল্যান্ডস অ্যান্টিলেজ (ডাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ), ফরাসী ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং স্প্যানিশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বৃহৎ অর্থে, সাবেক ড্যানিশ ও স্প্যানিশ দ্বীপপুঞ্জের কিছু দ্বীপ সম্মিলিতভাবে আমেরিকান ওয়েস্ট ইন্ডিজ নামে পরিচিত যা সাম্প্রতিককালে পরিচিতি পাচ্ছে।ভূ-রাজনীতিতে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জকে উত্তর আমেরিকার উপঅঞ্চল বা উপমহাদেশ হিসেবে বিবেচিত হয় , যা তিরিশটি সার্বভৌম রাষ্ট্র ও নির্ভরশীল অঞ্চল নিয়ে গঠিত। ১৯৫৮ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে ১৯৬২ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ক্যারিবীয় অঞ্চলে ইংরেজি বলা অঞ্চলকে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফেডারেশন নামের একটি ক্ষণস্থ...

ম্যান্ডেলার দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় মুসলমান

মো আবু রায়হানঃ দক্ষিণ আফ্রিকা আফ্রিকা মহাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত রাষ্ট্র। দেশটির সরকারি নাম দক্ষিণ আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র । দেশটির দক্ষিণে ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত। দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর সীমান্তে নামিবিয়া, বোতসোয়ানা ও জিম্বাবুয়ে এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সীমানায় মোজাম্বিক ও এসওয়াতিনি (প্রাক্তন সোয়াজিল্যান্ড) রাষ্ট্রগুলি অবস্থিত। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা ক্ষুদ্র স্বাধীন রাষ্ট্র লেসোথোকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। ১৫শ শতকের শেষভাগে আফ্রিকার সর্বদক্ষিণ বিন্দুতে পর্তুগিজরা একটি বসতি স্থাপন, যা ছিল অঞ্চলটির ইউরোপীয় উপনিবেশিকীকরণের সূচনা। ১৬৫২ সালে ওলন্দাজরা দক্ষিণ-পশ্চিমের উত্তমাশা অন্তরীপে একটি উপনিবেশ স্থাপন করে। ১৭৯৫ সালে ব্রিটিশ সেনারা উত্তমাশা অন্তরীপটি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ১৮০৬ সাল নাগাদ সমগ্র ওলন্দাজ উপনিবেশটিকেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ৩১শে মে ১৯৬১ তে দেশটি নামমাত্র প্রজাতন্ত্র লাভ করে। সেসময় শুধু শ্বেতাঙ্গদের ভোট দানের অধিকার ছিল। ওয়েস্টমিনিস্টার সিস্টেমের মাধ্যমে কার্যত ক্ষমতাহীন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ হতেন।১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো জাত-পাত নির্বিশেষে নির্...

বিশ্বের চারটি শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র

মো আবু রায়হানঃ  বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৮০ কোটি মুসলমান রয়েছে এবং এদের মধ্যে অধিকাংশ মুসলমান সুন্নি মতাদর্শের অনুসারী। শিয়া মুসলমানরা ইসলামের দ্বিতীয় বৃহত্তম শাখা। পৃথিবীর ৮৫℅ মুসলমান সুন্নি এবং ১৫℅ শিয়া। Shia make up roughly 10% of all Muslims, and globally their population is estimated between 154 to 200 million, according to a 2009 report from the Pew Forum. Iran has the largest Shia majority, with more than 66 million making up nearly 90% of the population.শিয়াদের অধিকাংশ বারো ইমামের অনুসারী, বাকিরা বিভিন্ন দল উপদলে বিভক্ত। দ্বাদশ ইমামে বিশ্বাসী শিয়া ইসলামের বৃহত্তম উপশাখা এবং ২০১২ সালের একটি জরিপ মতে শিয়া মুসলমানদের ৮৫% হল দ্বাদশ ইমামে বিশ্বাসী বা ইসনা আশারিয়া। ইরান, ইরাক, বাহরাইন, আজারবাইজান চারটি শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। জাতিগত তুর্কি–অধ্যুষিত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একমাত্র আজারবাইজান শিয়া প্রধান রাষ্ট্র।লেবানন, ইয়েমেনে, সিরিয়া, কুয়েত, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সউদিআরব, পাকিস্তান, ভারতেও প্রচুর শিয়া রয়েছে । বাহরাইনে শিয়া জনগোষ্ঠী শতকরা ৭০ ভাগ, ইরানে ৯০ ভাগ, ইরাকে ৬৩ ভাগ, কুয়ে...
  মো.আবু রায়হানঃ উগান্ডা আফ্রিকার একটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র। দেশটির পূর্বে কেনিয়া, উত্তরে সুদান, পশ্চিমে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণ-পশ্চিমে রুয়ান্ডা এবং দক্ষিণে তানজানিয়া। দক্ষিণাঞ্চলের কিছু উল্লেখযোগ্য ভূমি ভিক্টোরিয়া হ্রদের তীর ঘেঁষে অবস্থিত। এই অংশটিই একাধারে কেনিয়া এবং তানজানিয়ার সাথে সীমান্ত রক্ষা করে চলেছে। উগান্ডা নামটির উৎপত্তি হয়েছে বুগান্ডা রাজত্ব থেকে। কাম্পালা উগান্ডার রাজধানী ও বৃহত্তম নগরী।১৯শ শতকের শেষের দিকে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের আগমনের পূর্বে এখানে অনেকগুলি শক্তিশালী রাজত্ব ছিল, যাদের মধ্যে বুগান্ডা ও বুনিয়োরো উল্লেখযোগ্য। ১৮৯৪ সালে উগান্ডা একটি ব্রিটিশ প্রোটেক্টোরেটে পরিণত হয়। ১৯২৬ সালে এর বর্তমান সীমানা নির্ধারিত হয়। ১৯৬২ সালে এটি ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৭০-এর দশকে ও ১৯৮০-র দশকের শুরুর দিকে উগান্ডা দুইটি রক্তঝরানো স্বৈরশাসন (ইদি আমিন ও মিল্টন ওবোতে) এবং দুইটি যুদ্ধের শিকার হয়। আয়তন ২ লাখ ৪১ হাজার ৩৮ বর্গকিলোমিটার।জনসংখ্যা চার কোটি ৬১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩৩ জন। মুসলিম জনসংখ্যা ৪,০৬০,০০০ জন। ২০১৩ জাতীয় আদমশুমারি অনুসারে উগান্ডায় ইসলামের...

হিমালয়ের কন্যা নেপালে ইসলাম ও মুসলিম

কাশ্মিরি তাকিয়া মসজিদ মো.আবু রায়হানঃহিমালয়ের কন্যা নেপাল একটি দক্ষিণ এশীয় দেশ ।দেশটির উত্তরে চীন এবং দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমে ভারত।এখানেই পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট অবস্থিত। বিংশ শতাব্দীতে এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে নেপাল গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছিল। ১৯৯০ সাল থেকে শুরু করে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশটি একটি গৃহদ্বন্দ্বে ভুগছিল। ১৯৯১ সাল থেকে রাজা বীরেন্দ্র বীরবিক্রম শাহ দেব গণতন্ত্রের চর্চা শুরু করেন। ২০০১ সালে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে সপরিবারে নিহত হওয়ার পর সিংহাসনে বসেন তাঁর বড় ভাই জ্ঞানেন্দ্র বীরবিক্রম শাহ দেব। পরে মাওবাদী আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার করে সিংহাসন ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। রাজতন্ত্র বিলোপের দাবিতে ১৯৯৬ সাল থেকে আন্দোলন শুরু করে মাওবাদীরা। এতে ১২ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়, বাস্তুচ্যুত হয় লক্ষাধিক। এরপর ২০০৬ সালে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ওই একই বছরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবিধানিক নির্বাচনের জন্য নেপালের সংসদ ২০০৬ সালের জুন মাসে রাজতন্ত্রের অবসানের পক্ষে ভোট দেয়।২০০৮ সালের মে মাস পর্যন্ত নেপাল একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ছিল। ঐ মাসের ২৮ তারিখে নেপালে...

শ্রীলঙ্কায় ইসলাম ও মুসলিম

  Jamiul Alfar Masjid(  Red Mosque ), Colombo মো.আবু রায়হানঃশ্রীলঙ্কা দক্ষিণ এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। এর সরকারি নাম গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রী শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার উত্তর-পশ্চিমে ভারতের সাথে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে মালদ্বীপের সাথে সমুদ্র সীমানা রয়েছে।দেশটিকে একেশ্বরবাদী রাষ্ট্র বলা হয়।প্রাচীনকাল থেকেই শ্রীলঙ্কা অনেক নামে পরিচিত হয়ে আসছে।১৫০৫ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগিজরা এই দ্বীপে পৌঁছে এর নাম দেয় শেইলাও যার ইংরেজি শব্দ হল সিলন।১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশদের অধীনে থাকা অবস্থায় তারা এই নামেই পরিচিত ছিল।১৯৪৮ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি সিলন নামে দেশটি স্বাধীনতা পায়।১৯৬০ সালের ২১শে জুলাই শ্রীমাভো বন্দেরনায়েক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি ছিলেন সারা পৃথিবীর প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭২ সালে দাপ্তরিক নাম পরিবর্তন করে শ্রীমাভো বন্দেরনায়েক সিলন থেকে শ্রীলঙ্কা নামকরণ করেন।শ্রীলঙ্কার প্রশাসনিক রাজধানীর নাম শ্রী জয়াবর্ধেনেপুরা কোট্টে। এর প্রধান শহর কলম্বো। প্রাচীনকাল থেকেই শ্রীলঙ্কা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত।শ্রীলঙ্কা ভারতের দক্ষিণ উপকূল হতে ৩১ কিলো...
মো.আবু রায়হানঃওশেনিয়া হিসাবে পরিচিত অঞ্চলটিতে হাজার হাজার ক্ষুদ্র দ্বীপ রয়েছে যা কোনও মহাদেশের অংশ নয়, প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে পলিনেশিয়া, মেলোনেশিয়া আর মাইক্রোনেশিয়া; প্রশান্ত মহাসাগরের এই তিন অঞ্চল এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড নিয়ে ওশেনিয়া বা অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ। ওশেনিয়া বিস্তৃত ভৌগলিক মহাদেশের একটি সাধারণ শব্দ যার মধ্যে অস্ট্রেলাসিয়া, মেলেনেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া এবং পলিনেশিয়া রয়েছে।অস্ট্রেলিয়া ভূতাত্ত্বিকভাবে একটি মহাদেশ ।ওশেনিয়ার সীমানা বিভিন্ন উপায়ে সংজ্ঞায়িত করা হয়। বেশিরভাগ সংজ্ঞায় অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশ যেমন অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং নিউগিনি এবং মেরিটাইম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওশেনিয়াতে ১৪ টি দেশ রয়েছে- অস্ট্রেলিয়া, মাইক্রোনেশিয়া, ফিজি, কিরিবাতি, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, নাউরু, নিউজিল্যান্ড, পালাউ, পাপুয়া নিউ গিনি, সামোয়া, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, টঙ্গা, টুভালু এবং ভানুয়াতু। ওশেনিয়া মহাদেশ এর আয়তন ৮১ লাখ ১২ হাজার বর্গ কিমি |ওশেনিয়ার ইসলাম বলতে ওশেনিয়ার ইসলাম এবং মুসলমানদের বোঝায়। বর্তমান অনুমান অনুসারে ওশ...

সামোয়ায় ইসলাম ও মুসলিম

  মো আবু রায়হানঃ স্বাধীন সামোয়া রাষ্ট্র ( Independent State of Samoa) দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র। সামোয়া দ্বীপপুঞ্জ দুটি ভাগে বিভক্ত পূর্ব দ্বীপপুঞ্জগুলি ১৯০৪ সালে মার্কিন অঞ্চলে পরিণত হয়েছিল এবং আজকাল তা আমেরিকান সামোয়া হিসাবে পরিচিত।পশ্চিম দ্বীপপুঞ্জগুলি পশ্চিম সামোয়া হিসাবে পরিচিতি লাভ করে।স্বাধীন সামোয়া রাষ্ট্র নিউজিল্যান্ডের প্রায় ২৯০০ কিমি উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। প্রায় ৪৮০ কিমি দীর্ঘ সামোয়ান দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তর পশ্চিম ভাগ নিয়ে রাষ্ট্রটি গঠিত।রাষ্ট্রটি বহুদিন যাবৎ পশ্চিম সামোয়া নামে পরিচিত ছিল। দেশটি ১৮৯৯ থেকে ১৯১৫ অবধি জার্মান সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। ১৯১৫ সাল থেকে ১৯৬২ সালে স্বাধীনতা অর্জনের আগ পর্যন্ত যৌথ ব্রিটিশ, নিউজিল্যান্ডের উপনিবেশিক প্রশাসনের মাধ্যমে দখল অব্যাহত ছিল।সামোয়া এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিদেশী প্রভাব ও আধিপত্যের পরে নিউজিল্যান্ড থেকে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল।দেশটি জাতিসংঘের স্বীকৃতি পায় ১৯৭৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর।১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দেশটি পশ্চিমা সামোয়া নামে পরিচিত ছিল।১৯৯৭ সালে এটির নাম সরকারীভাবে বদলে সামোয়া রাখা হয়। রাষ্...

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যে গাছ ইহুদিদের আশ্রয় দেবে অর্থাৎ ইহুদিদের বন্ধু গাছ

মো.আবু রায়হান: কিয়ামত সংঘটিত হবার   পূর্বে হযরত ঈসা (আ.) এর সঙ্গে দাজ্জালের জেরুজালেমে যুদ্ধ হবে। সেই যুদ্ধে ইহুদিরা দাজ্জালের পক্ষাবলম্বন করবে। হযরত ঈসা (আ.) দাজ্জালকে হত্যা করবেন।এদিকে   ইহুদিরা প্রাণ ভয়ে পালাতে চেষ্টা করবে।   আশেপাশের গাছ ও পাথর/ দেয়ালে আশ্রয় নেবে। সেদিন গারকাদ নামক একটি গাছ ইহুদিদের আশ্রয় দেবে। গারকাদ ইহুদীবান্ধব গাছ।গারকাদ একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ হল কাটাওয়ালা ঝোঁপ।গারকাদ এর ইংরেজী প্রতিশব্দ Boxthorn । Box এর অর্থ সবুজ ঝোঁপ এবং thorn এর অর্থ কাঁটা। এ ধরনের গাছ বক্সথর্ন হিসেবেই পরিচিত। এই গাছ চেরি গাছের মতো এবং চেরি ফলের মতো লাল ফলে গাছটি শোভিত থাকে।   ইসরায়েলের সর্বত্র বিশেষত অধিকৃত গাজা ভূখন্ডে গারকাদ গাছ ব্যাপকহারে   দেখতে পাওয়া যায়।ইহুদিরা কোথাও পালাবার স্থান পাবে না। গাছের আড়ালে পালানোর চেষ্টা করলে গাছ বলবে , হে মুসলিম! আসো , আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে। আসো এবং তাকে হত্যা কর। পাথর বা দেয়ালের পিছনে পলায়ন করলে পাথর বা দেয়াল বলবে , হে মুসলিম! আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে , আসো! তাকে হত্যা কর। তবে গারকাদ নামক গাছ ইহুদ...

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...