সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মুহাম্মদ বিন কাসিমের পতন: ক্ষমতা, রাজনৈতিক কোন্দল এবং এক ট্র্যাজিক অধ্যায়

মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুতে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তবে তাঁর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর জীবনপ্রদীপ যেভাবে নিভে গিয়েছিল, তা অত্যন্ত করুণ এবং বিতর্কিত। সাধারণ ইতিহাস কিংবা উপকথার বাইরে গিয়ে যদি ইবনে আল-বালাজুরি, জি. আর. হটিং কিংবা পি. কে. হিটি-র মতো ইতিহাসবিদদের সূত্র বিশ্লেষণ করা হয়, তবে দেখা যায় যে তাঁর মৃত্যু মূলত উমাইয়া খিলাফতের অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফলাফল ছিল। ১. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ও মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থান মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থানের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তাঁর অভিভাবক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের । ৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান হাজ্জাজকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করেন। ৭০৫ সালে আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর নতুন খলিফা আল-ওয়ালিদও হাজ্জাজকে তাঁর পদে বহাল রাখেন। এই হাজ্জাজের নেতৃত্বেই মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি সেখানে উমাইয়া শাসন সুদৃঢ় করেন। ২. অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উত্তরাধিকার সংকট হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কঠোর শাসন খিলাফতের ভেতরে বহু শত্রুর জন্ম দিয়েছিল: মুহাল্লাব পরিবারের সাথে দ্বন...

অপরাধীকে লেবাস দিয়ে নয় অপরাধ দিয়ে বিবেচনা করুন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালকজ (ডিজি) ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেনের গাড়িচালক মালেককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। মালেকের ধানমন্ডি, উত্তরাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় বিলাসবহুল ৭ তলা ও ১০তলা তিনটি বাড়ি আছে। এছাড়াও ছেলের নামে তুরাগে ডেইরি ফার্ম করেছেন কোটি টাকা দিয়ে। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ৭ জন আত্মীয়কে বিভিন্ন পদে চাকরি দিয়েছেন তিনি। কেউ অপরাধ করলে প্রথমেই তার লেবাস, দাড়ি, টুপি নিয়ে চুলকানি শুরু হয়ে যায়। আপনিও এমন লেবাসধারী বক ধার্মিক হতে পারবেন। গুলিস্তান থেকে ১০০ টাকার পাঞ্জাবি ও দুই সপ্তাহ সেভ না করে। সুতরাং ধর্মের বেশভূষায় কাউকে অপরাধ করতে দেখলে আপনার চুলকানি হওয়াটা অমূলক। ধর্ম ও লেবাসকে ব্যবহার করে অনেকেই ফায়দা লুটছে সেজন্য নেককার ধর্মভীরু ব্যক্তিত্ব সমালোচনার টার্গেট হতে পারে না। আপনার স্ত্রীর সঙ্গে যে পুরুষ পরকীয়া করছে এজন্য যেমন সব পুরুষ খারাপ না, তেমনই! অপরাধীর একটাই পরিচয় সে অপরাধী। দাড়ি টুপি জাস্ট অবলম্বন। ঢালাও ভাবে ধর্মকে নিয়ে প্রশ্ন করা, কটাক্ষ করা অর্বাচীনের বহিঃপ্রকাশ।ধর্ম কখনো এসব অপরাধ করতে উদ্বুদ্ধ ও অনুমোদন দেয় না। এটা নতুন কিছু নয়। বোরকা পরিহিত মাকে সন্তানের জন্য খেল...

উড়ে এসে জুড়ে বসা ইসরায়েলের সাম্রাজ্য বিস্তার

মো আবু রায়হানঃ দখলদার ইহুদিবাদী ইসরায়েল এখন একটি স্বীকৃত স্বাধীন রাষ্ট্র যদিও এর স্বীকৃত কোন সীমানা নেই। ১৯৪৭ সালে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে দ্বিখণ্ডিত করা সংক্রান্ত ১৮১ নম্বর প্রস্তাব অনুসারে মাত্র ৪৫ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের প্রদান করে এবং বাকি ৫৫ শতাংশ ভূমি ইহুদিবাদীদের হাতে ছেড়ে দেয়। ১৯৪৯ সালে ইসরাইল, লেবানন, জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী আয়তন ২০ হাজার ৭৭০ বর্গকিলোমিটার হলেও ইসরাইলের আয়তন এখন ২৭ হাজার ৭৯৯ বর্গকিলোমিটার। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৪২ ও ৩৩৮ নম্বর প্রস্তাবে জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর ও বাইতুল মোকাদ্দাস তথা জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হিসেবে অভিহিত করা হলেও ইসরাইল জবরদখল করে রেখেছে। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ দ্বারা প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন বিভাগ যেভাবে প্রস্তাবিত হয়েছিল, যেখানে ফিলিস্তিন ভূখন্ড (গাজা ভূখন্ড ও ওয়েস্ট ব্যাংক) ছাড়াও ইসরায়েল শাসনাধীন অঞ্চলও ছিল এবং জেরুজালেমকে ঘোষিত রাষ্টের রাজধানী আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।বর্তমানে ফিলিস্তিনের মোট আয়তন ৬,০২০ বর্গকিলোমিটার। পশ্চিম তীরের আয়তন ৫,৬৫৫ বর্গকিলোমিটার এবং গাজা ভূখণ্ড ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার। ফিলিস্তিন এখন অবর...

মীর জাফরের মীর পদবি বিবর্তনে মির্জা পদবির উদ্ভব

#মো.আবু রায়হান মুঘল সাম্রাজ্যে বিভিন্ন সামরিক শাখার প্রধানদেরকে মীর পদবী দেওয়া হতো।মূলত মীর একটি রাজকীয় পদবী বা রাজদত্ত পদবী যা পাক-ভারত উপমহাদেশের অনেক অঞ্চলে বা রাজ্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।ইসলামিক প্রভাবের বিভিন্ন দেশ বা রাজ্যে এই পদবী ব্যবহৃত হয়ে থাকে। হায়দারাবাদের নিজামদের পদবী ছিল মীর। মীর শব্দটিকে ফার্সি শব্দ। পীর এর আরবি পরিভাষা হিসেবে অনুমান করা হয়ে থাকে। অনেকেই মীর শব্দটি আরবি আমীর শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে বলে মনে করেন। এছাড়া মুর্শিদাবাদের নবাব সৈয়দ মীর জাফর আলী খান এর ক্ষেত্রে রাজকীয় পদবী হিসেবে মীর পদবী ব্যবহার হতে দেখা যায়। মীর জাফরের পরবর্তী বংশধরগণ মীর পদবী ব্যবহারের পরিবর্তে মীর জাদা বা সংক্ষেপে মির্জা পদবী ব্যবহার করতো নামের। মীর্জা শব্দটির উৎপত্তি ফার্সী আমীরজাদা হতে, যার অর্থ আমীর-পুত্র। তবে এটি শুধু তৈমুর লং এর পরবর্তী বংশধরদের ব্যাবহার করতে দেখা গেছে। মির্জা বাংলাদেশ এবং বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের পদবি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতায় সামরিক বাহিনীর অবৈধ ভূমিকার কুশীলব হিসেবে ভাবা হয় মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জাকে। ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজদের পা-চাটা ...

ওসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে একজন আরব গাদ্দার

  হুসাইন বিন আলী ছিলেন হাশেমীয় নেতা। যুব তুর্কি আন্দোলনের পর ১৯০৮ সালে অটোমান সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ তাকে মক্কার আমির হিসেবে নিযুক্ত করেন।১৯০৮ সাল থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত মক্কার শরীফ ও আমির ছিলেন। পরবর্তীতে নিজেকে মক্কার বাদশাহ ঘোষণা করার পর তিনি আন্তর্জাতিক সমর্থন পান। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯১৬ সালে তিনি উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আরব বিদ্রোহের সূচনা করেন। আরব বিদ্রোহের সূচনা-১৯১৬ সালের আগে হুসাইন বিন আলী আরব জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া না গেলেও উসমানীয় সাম্রাজ্যে তুর্কি জাতীয়তাবাদ যা ১৯০৮ সালের তরুণ তুর্কি বিপ্লবের সময় সর্বোচ্চ সীমায় পৌছায়, তা হাশিমীদেরকে অসন্তুষ্ট করে এবং ফলশ্রুতিতে উসমানীয় বিপ্লবীদের সাথে তাদের দ্বন্দ্বের সূচনা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে হুসাইন উসমানীয়দের সাথে মিত্রতা বজায় রাখলেও তার পুত্র আবদুল্লাহর পরামর্শে গোপনে ব্রিটিশদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যান। আবদুল্লাহ ১৯১৪ সালে উসমানীয় সংসদে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিশ্বাস করতেন যে ক্রমান্বয়ে জাতীয়তাবাদী হয়ে উঠা উসমানীয় প্রশাসন থেকে আলাদা হওয়া উচিত। উসমানীয় সরকার ...

বাংলাদেশ কী ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে ?

মো.আবু রায়হানঃইসরায়েলের সাথে সম্পর্কের প্রশ্নে মুসলিম বিশ্বে একটা নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আরব দেশ যেন ইসরায়েলের ব্যাপারে তাদের বৈরি অবস্থান নমনীয় করছে।সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার আলোকে সাংবাদিক-বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব মোকাবিলা করতে বেশ কিছু মধ্যপন্থী সুন্নি আরব দেশগুলোর সাথে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠছে।ইরানের উত্থান, উপসাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত পুরো অঞ্চল জুড়ে তাদের প্রভাব বৃদ্ধি, এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসুচিতে বিশেষ করে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে সৌদি আরব, মিশর এবং জর্ডন।এ পরিস্থিতির চাপে মধ্যপন্থী সুন্নি আরব কিছু দেশ ইসরায়েলের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে।ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কয়েক মাস আগেই লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, 'ইরানের আগ্রাসন মোকাবিলার জন্য' তারা মধ্যপন্থী সুন্নি দেশগুলোর সাথে একটা 'কার্যকর জোট' গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন।তার মতে, আরব দেশগুলোর ইসরায়েলের প্রতি মনোভাবও নরম হচ্ছে। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৬৪টি রাষ্ট্র ইসরায়েলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।এগুলোর মধ্যে আমেরিকা, চীন...

বলকান উপদ্বীপের ছোট্ট মুসলিম দেশ কসোভো

মো.আবু রায়হানঃবলকান উপদ্বীপের ছোট্ট একটি স্বাধীন মুসলিম দেশ কসোভো। ১৯৯০-এর দশকের বলকান যুদ্ধের মাধ্যমে সাবেক ইউগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর কসোভো ছিল সার্বিয়ারই একটি প্রদেশ। কসোভোর দক্ষিণ-পশ্চিমে আলবেনিয়া, দক্ষিণ-পূর্বে মেসিডোনিয়া, পশ্চিমে ক্রোয়েশিয়া ও উত্তরে সার্বিয়া অবস্থিত। কসোভোর আয়তন ১০ হাজার ৯০৮ বর্গকিলোমিটার। দেশটির সবচেয়ে বড় শহর ও রাজধানীর নাম প্রিস্টিনা।কসোভোর জনসংখ্যা ১৯ লাখ সাত হাজার ৫৯২ জন। যার মধ্যে মুসলমান রয়েছে ৯৬ শতাংশ, রোমান ক্যাথলিক ২.২, অর্থডক্স ১.৫ ও অন্যান্য ধর্মের মানুষ রয়েছে ১ শতাংশেরও কম।কসোভো সর্বশেষ স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র। ইউরোপের বুকে ইসলামের স্মারক বুকে নিয়ে টিকে আছে। কসোভোর ইতিহাস পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর মতো। বাইজান্টাইন ও সার্বিয়ানরা দীর্ঘদিন দেশটি শাসন করেছে। উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মুরাদের সময় সার্বিয়ানদের বিরুদ্ধে বিখ্যাত কসোভো যুদ্ধ হয়। কসোভো সমভুমির এই যুদ্ধ ইতিহাসে ঐতিহাসিক যুদ্ধ হিসাবে পরিচিত। ১৪৫৫ সালে এই অঞ্চলটি উসমানীয় সাম্রাজ্যের অংশে পরিণত হয়। এখানকার আলবেনীয় জনগোষ্টীর ওপর ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা এতটাই করারোপ করেছিলো যে মানুষের জীবন যাপন দুর্বিষহ হয়ে...

মুসলিমবিশ্ব ও ইসরায়েল সম্পর্ক

  মো.আবু রায়হানঃইসরায়েলের সাথে সম্পর্কের প্রশ্নে মুসলিম বিশ্বে একটা নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আরব দেশ যেন ইসরায়েলের ব্যাপারে তাদের বৈরি অবস্থান নমনীয় করছে।সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার আলোকে সাংবাদিক-বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব মোকাবিলা করতে বেশ কিছু মধ্যপন্থী সুন্নি আরব দেশগুলোর সাথে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠছে।ইরানের উত্থান, উপসাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত পুরো অঞ্চল জুড়ে তাদের প্রভাব বৃদ্ধি, এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসুচিতে বিশেষ করে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে সৌদি আরব, মিশর এবং জর্ডন।এ পরিস্থিতির চাপে মধ্যপন্থী সুন্নি আরব কিছু দেশ ইসরায়েলের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে।ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কয়েক মাস আগেই লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, 'ইরানের আগ্রাসন মোকাবিলার জন্য' তারা মধ্যপন্থী সুন্নি দেশগুলোর সাথে একটা 'কার্যকর জোট' গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন।তার মতে, আরব দেশগুলোর ইসরায়েলের প্রতি মনোভাবও নরম হচ্ছে। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৬৪টি রাষ্ট্র ইসরায়েলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।এগুলোর মধ্যে আমেরিকা, চ...

অনৈক্যের বেড়াজালে মুসলিম বিশ্বের রাজনীতি

মো.আবু রায়হানঃ ইসলাম ধর্মের প্রচার শুরু হয় ৬১০ সালে। ৬২২সালে মদীনায় প্রথম ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ৬৩২ সালের মধ্যে হযরত মুহাম্মাদ (সা:) আরবের অধিকাংশ ভূখণ্ড নিজের অধিকারে আনেন।তারপর খুলাফায়ে রাশেদা সুদীর্ঘ ত্রিশ বছর মুসলিমবিশ্ব শাসন করেন। এই সময় দেখা দেয় অন্তর্দ্বন্দ্ব। এরপর উমাইয়া বংশের শাসন শুরু হয়। তারপর আব্বাসীয় বংশ আসে। এরমধ্যে ইসলাম স্পেন থেকে চিন সীমান্ত অবধি ছড়িয়ে যায়। এরপর আফগান শাসকরা ভারত আক্রমণ করেন ও পরে উপমহাদেশেও মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর তুর্কিশক্তির উত্থান হয়। ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ বাধে। স্পেনে পুনরায় খ্রিষ্টীয় শাসন হয়। এরমধ্যে উসমানীয় তুর্কিদের হাতে পুর্ব রোমান সাম্রাজ্যের পতন হয়।পৃথিবীর মানচিত্রের একটা বিরাট অংশজুড়ে অর্ধশতাধিক মুসলিম রাষ্ট্র শোভা পাচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ৩৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে বসবাস করছে ১৮০ কোটি মুসলিম ।বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ২৪.১% মুসলিম।বিশ্বে ৬০টি মুসলিম রাষ্ট্র রয়েছে ।বিশ্বের মোট রাষ্ট্রের ২৬% মুসলিম রাষ্ট্র। ধর্মীয় সংগঠন বা ধর্ম বিশ্বাস হিসেবে ইসলামকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদন দিয়েছে ২৬টি রাষ্ট্র । যেখানে সরকারের কার্য...

পূর্ব তিমুরে মুসলমান

মো.আবু রায়হানঃতিমুর সাগরের উত্তর তীরে এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত একটি দ্বীপ তিমুর।দ্বীপটি ৩০,৭৭৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে। দ্বীপের নাম টাইমুর শব্দ থেকে এসেছে, মলয় ভাষাতে তিমুর শব্দের অর্থ হল পূর্ব; দ্বীপটির এরূপ নামকরণের কারণ দ্বীপটির অবস্থান। কারণ দ্বীপটি লেসা সুন্দা দ্বীপপুঞ্জের পূর্ব দিকে অবস্থিত। দ্বীপটি পূর্ব অংশে পূর্ব তিমুরের সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং পশ্চিম অংশ ইন্দোনেশিয়ার অংশ হিসাবে বিভক্ত। ইন্দোনেশিয়ান অংশ, পশ্চিম তিমুর নামেও পরিচিত, পশ্চিম অংশটি নুসা তেনগারা প্রদেশের অংশ। পশ্চিম তিমুরের মধ্যে অবস্থিত ইস্ট টিয়ার্সের একটি ছিটমহল রয়ে যাকে ওইকেসেস জেলা বলা হয়। দ্বীপটি শতাব্দী ধরে রাজনৈতিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত। ডাচ ও পর্তুগিজ দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণের জন্য চুক্তির দ্বারা দ্বীপটিকে বিভক্ত করে ১৬৫১ সালে ওলন্দাজরা তিমুরের পশ্চিমে কুপাং রাজ্যটি দখল করে নেয়। এটা ছিল তিমুর দ্বীপের প্রায় অর্ধেক। তিমুরের পুবের অংশটি তখন পর্তুগিজদের দখলে। পর্তুগিজ ব্যবসায়ী ও ধর্মযাজকেরা ১৫৫১ সালেই সেখানে পৌঁছেছিলেন। ১৮৫৯ সালে পতুর্গালের সঙ্গে ওলান্দাজদের একটা চুক্তি...

Turkey- Cyprus conflict

Turkey and Greece are both members of NATO. But they have become rivals in the race to extract energy from the eastern Mediterranean region. Istanbul's Aya Sophia Museum - which had an Orthodox Christian church for centuries - has been declared a mosque by Turkey. This incident also shocked Greece. Recently, huge gas reserves were discovered in the sea off the coast of the island of Cyprus. It was then that the Cypriot government, Greece, Israel and Egypt set out to work together to use these resources. In November 2019, Turkey signed an agreement with Libya. According to Ankara, they have created a special economic zone from the southern coast of Turkey to the northeastern coast of Libya. This year, Ankara has discovered the largest gas reserves in Turkey's history in the Mediterranean. Erdogan later announced that he would continue his exploration. Countries Greece and Cyprus. The two countries are not willing to accept Turkish sovereignty in that part of the sea. Greece refu...

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...

কাবা ঘর নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মো. আবু রায়হানঃ কাবা মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে, পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।কাবা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ মুকাআব অর্থ ঘন থেকে।কাবা একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত। (The Kaaba, meaning cube in Arabic, is a square building elegantly draped in a silk and cotton veil.)।যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।কাবার ভৌগোলিক অবস্থান ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব।পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর বায়তুল্লাহ বা পবিত্র কাবা ঘর ।আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে তা মক্কা নগরীতে। (সুরা আল ইমরান - ৯৬)। “প্রথম মাসজিদ বায়তুল্লাহিল হারাম তারপর বাইতুল মাকদিস, আর এ দুয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো চল্লিশ বছরের”।(মুসলিম- ৫২০)। ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি ...