সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের বিস্তার: একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ

  মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতকাল ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম একটি স্থানীয় ধর্মীয় আন্দোলন থেকে আঞ্চলিক শক্তিতে রূপ নেয়। মদিনা থেকে শুরু করে এই আন্দোলন কূটনীতি, চুক্তি এবং সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সমগ্র আরব উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়ে। মূল দিকসমূহ: রাজনৈতিক ঐক্য: আরবের বিভিন্ন গোত্র ইসলামের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব মেনে নেয়, যার ফলে দীর্ঘদিনের আন্তঃগোত্রীয় দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে। কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র: মদিনাকে কেন্দ্র করে একটি সুসংহত ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান: এই নবগঠিত রাষ্ট্রটি এমন এক সময়ে গঠিত হয়েছিল যখন এর পশ্চিমে বাইজেন্টাইন (রোমান) সাম্রাজ্য এবং পূর্বে সাসানীয় (পারস্য) সাম্রাজ্য অবস্থান করছিল—উভয় সাম্রাজ্যই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। মানচিত্র (Map Overview) ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের বিস্তৃতি বোঝাতে সাধারণত যে ঐতিহাসিক মানচিত্রগুলো (যেমন: আল মুকাদ্দামা বা অন্যান্য ঐতিহাসিক ম্যাপ) ব্যবহার করা হয়, তাতে নিম্নলিখিত ভৌগোলিক সীমানা দেখা যায়: সবুজ বা নির্দিষ্ট রঙে চিহ্নিত এলাকা: সম্পূর্ণ আরব উপদ্বীপ (মক্কা, মদিনা,...

সাংবিধানিকভাবে ঘোষিত ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দেশগুলো

মুসলিম প্রধান দেশসমূহে ধর্মীয় অবস্থা বিবেচনা করে দেশগুলোকে চারটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে।ক. ইসলামি রাষ্ট্র-রাষ্ট্রীয় কার্যে ইসলামকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ।খ.দেশ ধর্ম-ধর্মীয় সংগঠন বা ধর্ম বিশ্বাস রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদন।গ. ধর্মনিরপেক্ষ-রাষ্ট্র-রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মীয় বিষয়সমূহে নিরপেক্ষতা ঘোষণা নেই। ঘ. আনুষ্ঠানিক বা সরকারিভাবে কোন বক্তব্য নেই।বিশ্বে সাংবিধানিকভাবে ঘোষিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র দেশ চারটি- ১. ইসলামিক রিপাবলিক অব আফগানিস্তান ২. ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান ৩. ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ৪. ইসলামিক রিপাবলিক অব মৌরিতানিয়া এসব দেশে ইসলামি আইন পুরোপুরি বলবদ নেই বললেই চলে। শিয়া অধ্যুষিত ইরানে কিছুটা ইসলামি আইন চালু আছে।পাকিস্তানে খুবই নগণ্য।বাকি দেশ আলঙ্কারিক ইসলামি প্রজাতন্ত্র। The classical  sharia  system is exemplified by Saudi Arabia and some other Gulf states. Iran shares many of the same features, but also possesses characteristics of mixed legal systems, such as a parliament and codified  laws . আফগানিস্তান আফগানিস্তান যার সরকারি নাম  Islamic Republic of A...

যে যুদ্ধ থামিয়ে দিল মুসলমানদের ইউরোপ জয়

চার্লস মার্টেল হাতুরি হাতে মো.আবু রায়হানঃমহানবী (সা.) এর ওফাতের একশ বছরের মাথায় বিশ্ব ইতিহাসে ঘটল টুরসের যুদ্ধ।যা একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণকারী যুদ্ধ। যে যুদ্ধে পরাজয়ে থেমে গেল মুসলমানদের ইউরোপ জয়। বিশ্ব ইতিহাসে এই যুদ্ধের গুরুত্ব অপরিসীম। ঐতিহাসিক Godefroid Kurth বলেন, “must ever remain one of the great events in the history of the world, as upon its issue depended whether Christian Civilization should continue or Islam prevail throughout Europe.” টুরসের যুদ্ধ সম্পর্কে জানার আগে আসুন পটভূমি জেনে আসি। ইসলামের ইতিহাসে উমাইয়া আমলকে বলা হয় সম্প্রসারণের যুগ বা The age of expansion। মুসলমানরা একদিন বিশাল পারসিক সাম্রাজ্য পদানত করলো।ধীরে ধীরে অধিকৃত হল সিরিয়া, আর্মেনিয়া ও উত্তর আফ্রিকাসহ বাইজান্টাইনীয় সাম্রাজ্যের বৃহত্তর অংশও। ৭১১ সালে জিব্রাল্টারে তারিক বিন জিয়াদের অবতরণের মাধ্যমে আইবেরিয়ান উপদ্বীপে তথা স্পেনে মুসলিম আরবদের অভিযান শুরু। তারিক বিন জিয়াদ এবং মুসা ইবনে নুসাইরের স্পেন বিজয়ের পরপরই খলীফা ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিকের শাসনামলে ফ্রান্স তথা মধ্য ইউরোপ অভিমুখে মুসলমানদের বিজয়াভিযা...

স্পেন বিজয়ী তারেক বিন জিয়াদের ঐতিহাসিক ভাষণ

মো.আবু রায়হানঃতারিক বিন জিয়াদ ৭১১ থেকে ৭১৮ সাল পর্যন্ত ভিসিগথ শাসিত স্পেনের মুসলিম বিজয় অভিযানের একজন সেনানায়ক।বিশ্ব ইতিহাসে তাঁকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেনা কমান্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উমাইয়া খলিফা প্রথম আল ওয়ালিদের আদেশে তিনি একটি বিরাট বাহিনীকে মরক্কোর উত্তর উপকূল থেকে নেতৃত্ব দিয়ে স্পেন জয় করেন। তারিক বিন জিয়াদ উত্তর আফ্রিকার বার্বার বংশোদ্ভূত লোক।তবে বেশ কিছু ভিন্ন রকম তথ্য আছে। Tariq bin Ziyad was a new convert to Islam from the Berber tribe of Algeria. He was said to be a freed slave. তারিক ছিলেন মুসা বিন নুসায়েরের একজন দাস, পরবর্তীতে মুসা তাকে মুক্ত করে দিয়ে তাকে বাহিনীর সেনাপতি বানান। যদিও তাঁর দাস হবার সম্ভাবনা তার উত্তরসূরিরা অস্বীকার করেন। মুসা বিন নুসায়েরে ৭১০-৭১১ সালে তানজিয়ার জয়ের পর তারিক বিন জিয়াদকে এর গভর্নর নিয়োগ দেন।বলা হয় তারিক বিন জিয়াদ স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে স্পেন জয় করেন। অভিযানের দায়িত্ব লাভের পর তিনি মহানবী (সা.)-কে স্বপ্ন দেখেন। ঐতিহাসিক ইবনে বাশকাওয়ালের বর্ণনায়, ‘তিনি দেখলেন, আনসার ও মুহাজির সাহাবিগণ রাসুল (সা.)-এর চারপাশে বসে আছেন। তাঁদের গলায় ...

জীব জন্তুরা মুসলমানদের বন ছেড়ে দিয়েছিল

মো.আবু রায়হান: আরব উপদ্বীপের বাইরে,আফ্রিকা মহাদেশ প্রথম যেখানে ইসলাম ৭ম শতাব্দীর গোড়ার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের মুসলিম জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই মহাদেশে বাস করে। ২০০২ সালের হিসাব অনুসারে, আফ্রিকার মোট জনসংখ্যার ৪৫% মুসলিম । উত্তর আফ্রিকায় ইসলামের একটি বড় উপস্থিতি রয়েছে। এছাড়াও হর্ন অব আফ্রিকা ( ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, জিবুতি,সোমালিয়া) সোয়াহিলি কোস্ট ও অনেকাংশ পশ্চিম আফ্রিকা ইসলাম আছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় সংখ্যালঘু কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে।মুসলমানদের প্রথম হিজরত ছিল আফ্রিকার আবিসিনিয়ায়(বর্তমানের ইথিওপিয়ায়)।বর্তমানের জিবুতি, সোমালিয়া ও ইরিত্রিয়া অতিক্রম করে হিজরতের সময় মুসলমানেরা ইথিওপিয়ায় আশ্রয় নেয়।Following the conquest of North Africa by Muslim Arabs in the 7th century CE, Islam spread throughout West Africa via merchants, traders, scholars, and missionaries, that is largely through peaceful means whereby African rulers either tolerated the religion or converted to it themselves. In this way, Islam spread across and around the Sahara Desert.আফ্...

আফ্রিকায় ইসলামের আগমন ও উকবা বিন নাফের বীরত্ব

মো.আবু রায়হান: আরব উপদ্বীপের বাইরে,আফ্রিকা মহাদেশ প্রথম যেখানে ইসলাম ৭ম শতাব্দীর গোড়ার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের মুসলিম জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই মহাদেশে বাস করে। ২০০২ সালের হিসাব অনুসারে, আফ্রিকার মোট জনসংখ্যার ৪৫% মুসলিম । উত্তর আফ্রিকায় ইসলামের একটি বড় উপস্থিতি রয়েছে। এছাড়াও হর্ন অব আফ্রিকা ( ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, জিবুতি,সোমালিয়া) সোয়াহিলি কোস্ট ও অনেকাংশ পশ্চিম আফ্রিকা ইসলাম আছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় সংখ্যালঘু কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে।মুসলমানদের প্রথম হিজরত ছিল আফ্রিকার আবিসিনিয়ায়(বর্তমানের ইথিওপিয়ায়)।বর্তমানের জিবুতি, সোমালিয়া ও ইরিত্রিয়া অতিক্রম করে হিজরতের সময় মুসলমানেরা ইথিওপিয়ায় আশ্রয় নেয়।Following the conquest of North Africa by Muslim Arabs in the 7th century CE, Islam spread throughout West Africa via merchants, traders, scholars, and missionaries, that is largely through peaceful means whereby African rulers either tolerated the religion or converted to it themselves. In this way, Islam spread across and around the Sahara Desert.আফ্...

চীনে মুসলমানদের আগমন ও প্রথম মসজিদ

মো.আবু রায়হানঃ ইসলামের আবির্ভাবের শুরুতে যে সব স্থানে প্রথম ইসলামের বাণী প্রচারিত হয় সেসব স্থানের মধ্য চীন অন্যতম।বর্তমানে মুসলিমরা চীনা জনসংখ্যার ১.৫ শতাংশ। সাম্প্রতিক আদমশুমারি থেকে জানা যায়, চীনে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মুসলিম রয়েছে। এদের অধিকাংশই হুই, উইঘুর, কাযাখ ও তাতার জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। মুসলিমরা চীনের একটি অন্যতম সংখ্যালঘু গোষ্ঠী।তারা তৃতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জনগোষ্ঠী।কম-বেশি চীনের সবখানেই মুসলমান রয়েছে। হুই মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও জিনজিয়াং প্রদেশে রাষ্ট্রের দমন ও নিপীড়নমূলক কার্যক্রমের শিকার উইঘুর জনগোষ্ঠী মুসলিম জনসংখ্যার গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে আছে।হুই,উইঘুর, কাজাক, উজবেক, তাজিক, তাতার, কিরগিজ, ডোংসিয়াং, সালার, বোনান প্রভৃতি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইসলামের অনুসারীর সংখ্যা বেশি।জিংজিয়াং, গানচু, নিংজিয়া, ইউনান, হেনান ও কুনমিং অঞ্চলে মুসলমানরা সংখ্যাধিক্য। চীনের সরকারিভাবে স্বীকৃত ৫৫টি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে দশটি গোষ্ঠীই প্রধানত সুন্নি মুসলিম। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের আর্থিক সংস্থার সহায়তায় চীনে ২০১৪ সালে একটি অত্যাধুনিক শিল্পকলা, কারুকার্য...

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...

কাবা ঘর নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মো. আবু রায়হানঃ কাবা মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে, পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।কাবা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ মুকাআব অর্থ ঘন থেকে।কাবা একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত। (The Kaaba, meaning cube in Arabic, is a square building elegantly draped in a silk and cotton veil.)।যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।কাবার ভৌগোলিক অবস্থান ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব।পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর বায়তুল্লাহ বা পবিত্র কাবা ঘর ।আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে তা মক্কা নগরীতে। (সুরা আল ইমরান - ৯৬)। “প্রথম মাসজিদ বায়তুল্লাহিল হারাম তারপর বাইতুল মাকদিস, আর এ দুয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো চল্লিশ বছরের”।(মুসলিম- ৫২০)। ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি ...