প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি বিশ্ব মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছিল। তবে শত শত বছর ধরে শাসন করা অটোমান বা উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতন এবং তার ধ্বংসস্তূপ থেকে আধুনিক তুরস্কের উত্থান ইতিহাসবিদদের কাছে এক অনন্য রোমাঞ্চকর অধ্যায়। ১. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয় ও সেভ্র চুক্তি (Treaty of Sèvres) ১৯১৮ সালের ৩০ অক্টোবর মুদ্রোসের যুদ্ধবিরতি (Armistice of Mudros)-র মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্যের পরাজয় চূড়ান্ত হয় । এর ঠিক পরপরই, ১৯১৮ সালের ১২ নভেম্বর থেকে বিজয়ী মিত্রবাহিনী অটোমান ভূখণ্ড দখল করতে শুরু করে । মিত্রবাহিনী চেয়েছিল অটোমান সাম্রাজ্যকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে । সেই উদ্দেশ্যে ১৯২০ সালের ১০ আগস্ট স্বাক্ষরিত হয় আলোচিত সেভ্র চুক্তি । এই চুক্তির মাধ্যমে অটোমান সাম্রাজ্য বিলুপ্ত করে এর ভূখণ্ড মিত্রশক্তিদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল । তবে চুক্তির অপমানজনক শর্তগুলোর কারণে তুর্কি জাতীয়তাবাদীরা তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় । ২. মুস্তফা কামাল পাশার নতুন সরকার ও স্বাধীনতা যুদ্ধ সেভ্র চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলাকালীনই মুস্তফা কামাল পাশা -র নেতৃত্বে নতুন এক রাজনৈতিক বিপ্লব ঘটে ।...
পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কিছু শহরের জন্ম হয়েছে যা কেবল কোনো রাজ্যের রাজধানী হিসেবেই টিকে থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছে জ্ঞান, শিল্প ও সভ্যতার বাতিঘর। মধ্যযুগের সেই গোলকধাঁধার মতো বিশ্বসেরা নগরীটির নাম— বাগদাদ । খলিফাদের দাপ্তরিক নথিপত্র, তৈরি পোশাকের গায়ে বোনা লেখা কিংবা সরকারি মুদ্রায় এই শহরের নাম খোদাই করা থাকত "মদিনাত আস-সালাম" বা "শান্তির শহর"। কিন্তু ইতিহাস এবং সাধারণ মানুষের মুখে মুখে শহরটি পরিচিতি পায় তার প্রাচীন নামেই—বাগদাদ। এক বিস্ময়ের নাম বাগদাদ একাদশ শতকের বিখ্যাত মুসলিম পন্ডিত খতিব আল-বাগদাদি এই শহরের সৌন্দর্য ও বৈভব দেখে মোহিত হয়ে লিখেছিলেন: "সমগ্র বিশ্বে এমন কোনো শহর নেই যা আয়তনে, জাঁকজমকে কিংবা জ্ঞানী ও মহান ব্যক্তিত্বের সংখ্যায় বাগদাদের সাথে তুলনীয় হতে পারে... এর অসংখ্য রাস্তা, বাজার, অলিগলি, মসজিদ, হামামখানা আর দোকানপাটের দিকে তাকালেই বোঝা যায় এটি অন্য সব শহর থেকে কতটা আলাদা।" বাস্তবেই, অল্প সময়ের মধ্যে বাগদাদ মধ্যযুগের বিশ্বের বৃহত্তম নগরে পরিণত হয়েছিল। বাজার জুড়ে বইয়ের দোকান, গণগ্রন্থাগার এবং বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইসলামিক বিশ্বের কোণায় ...