সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মুহাম্মদ বিন কাসিমের পতন: ক্ষমতা, রাজনৈতিক কোন্দল এবং এক ট্র্যাজিক অধ্যায়

মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুতে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তবে তাঁর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর জীবনপ্রদীপ যেভাবে নিভে গিয়েছিল, তা অত্যন্ত করুণ এবং বিতর্কিত। সাধারণ ইতিহাস কিংবা উপকথার বাইরে গিয়ে যদি ইবনে আল-বালাজুরি, জি. আর. হটিং কিংবা পি. কে. হিটি-র মতো ইতিহাসবিদদের সূত্র বিশ্লেষণ করা হয়, তবে দেখা যায় যে তাঁর মৃত্যু মূলত উমাইয়া খিলাফতের অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফলাফল ছিল। ১. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ও মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থান মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থানের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তাঁর অভিভাবক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের । ৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান হাজ্জাজকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করেন। ৭০৫ সালে আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর নতুন খলিফা আল-ওয়ালিদও হাজ্জাজকে তাঁর পদে বহাল রাখেন। এই হাজ্জাজের নেতৃত্বেই মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি সেখানে উমাইয়া শাসন সুদৃঢ় করেন। ২. অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উত্তরাধিকার সংকট হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কঠোর শাসন খিলাফতের ভেতরে বহু শত্রুর জন্ম দিয়েছিল: মুহাল্লাব পরিবারের সাথে দ্বন...

প্রথম মুসলিম দেশ হিসাবে কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক

 


মো. আবু রায়হান: কাতার পারস্য উপসাগরের একটি দেশ।এটি আরব উপদ্বীপের পূর্ব উপকূল থেকে উত্তর দিকে প্রসারিত কাতার উপদ্বীপে অবস্থিত। কাতারের দক্ষিণে সৌদি আরব, এবং এর পশ্চিমে দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন অবস্থিত। আরব উপদ্বীপের মত কাতারও একটি উত্তপ্ত ও শুষ্ক মরু এলাকা। এখানে ভূ-পৃষ্ঠস্থ কোন জলাশয় নেই এবং প্রাণী ও উদ্ভিদের সংখ্যাও যৎসামান্য।

রাজধানীঃ দোহা

আয়তনঃ ১১ হাজার ৫১৮ বর্গকিলোমিটার আয়তন।আয়তনের দিক দিয়ে এটি বিশ্বের ১৫৮ তম বৃহত্তম দেশ।বাংলাদেশের তুলনায়ও প্রায় ১৩ গুণ ছোট

জনসংখ্যাঃ  প্রায় ২৬ লাখ ৪১ হাজার। কাতারে জনসংখ্যায় নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা অনেক বেশি।

ধর্মঃ জনসংখ্যার প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মে১৩.৮ শতাংশ খ্রিস্টধর্মে১৩.৮ শতাংশ হিন্দুধর্মে এবং ৩.১ শতাংশ মানুষ বৌদ্ধধর্মে বিশ্বাসী।

ভাষাঃ আরবি ভাষা কাতারের সরকারি ভাষা। এখানকার প্রায় ৫৬% লোক আরবি ভাষাতে কথা বলেন। প্রায় এক-চতুর্থাংশ লোক ফার্সি ভাষায় কথা বলেন। বাকীরা ভারতীয় উপমহাদেশের ও ফিলিপিন দ্বীপপুঞ্জের অন্যান্য ভাষাতে কথা বলেন। আন্তর্জাতিক কাজকর্মে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয়।

মুদ্রার -রিয়াল।

প্রাগৌতিহাসিক কাল থেকে কাতারে প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। প্রত্নতত্তবিদ ডে কার্ডির মতেকাতারে প্রাণের অস্তিত্ব ছিলো। এখানের আবহাওয়া ছিলো বৃষ্টিবহুলজলপ্রপাতউচু ঘাস ও স্বচ্ছ পানির নালা ছিলো বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। আধুনিক ইতিহাসের জনক হেরাডোটাসের মতেকাতারে 'কান্নানিয়াননামক জেলে সম্প্রদায়ের বসবাস ছিলো। এরা মাছ ধরার মৌসুমে অস্থায়ী অভিযান করে মাছ শিকার করত। খ্রিঃপূঃ ৪৯৯-৪৪৯ অব্দে পারস্য ও প্রাচীন গ্রিক সাম্রাজ্যের যুদ্ধের রেকর্ড হতে এ তথ্য পাওয়া যায়। প্রাচীনকালে কাতারের বিভিন্ন প্রত্নতত্ত যেমনমাটির বাসনচকমকি পাথরপাথর কাটার যন্ত্র বিশ্লেষণ করে পাওয়া যায়এ কাতারের পূর্ব উপকূল রাস আব্রুখের সাথে মেসোপটেমিয়ান আল উবায়েদ গোত্রের ব্যবসা ছিলো। পরবর্তিতে টলেমির মানচিত্রে কাতারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যেখানে একে কাথারা ও এর একটি শহর কাদারা নামে দেখানো হয়।

ইসলাম পূর্ব যুগে কাতার আরব উপ দ্বীপের অন্যান্য দেশের মতোই পারস্যের 'শাসানীরাজবংশের অধিনস্থ ছিলো। পরবর্তিতে সপ্তম শতকে সমগ্র আরব উপ দ্বীপে ইসলাম প্রসার লাভ করলে এ অঞ্চলও ইসলামের ছায়ায় চলে আসে। এ সময় বনু আমের বিন আবদ উল কায়েসবনু সা'দ বিন যায়েদ মিনাহ বিন তামি্ম নামক বিভিন্ন গোত্রের বসবাস ছিলো। বর্তমান শাসক গোষ্ঠী আল-থানিআ্ল তামিমিরই একটি শাখা।হযরতমুহাম্মদ (সা) দক্ষিণ আরবীয় অঞ্চলে ইসলাম প্রসারে আলা আল হাদরামি কে প্রেরণ করেন ৬২৮ সালে। তখন কাতার অঞ্চলে শাসন করছিল স্থানীয় বনু তামিম গোত্র। বনু তামিমের গোত্র প্রধান মুনযির বি্ন সাওয়া আল তামিমি ইসলাম গ্রহণে সম্মত হন এবং পরবর্তীতে অন্যান্য গোত্রে ইসলাম প্রসারে ভূমিকা রাখেন। উমাইয়া (৬৬১-৭৫০ খ্রী) ও আব্বাসীয় (৭৫০-১২৫৮ খ্রী) আমলে দামেস্ক ও বাগদাদ কেন্দ্রিক ব্যবসা গড়ে ওঠে।

ষোড়শ শতকে কাতার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতার মুখে পড়ে। এ শতকের প্রথমার্ধ ছিলো মামলুকের অধিকারে। পরবর্তীতে মামলুকের প্রভাব কমে যাওয়ায় আরব অঞ্চলে অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হয় উসমানীয় সালতানাত। এছাড়াস্থানীয় শক্তি ছিলো হরমুজ। উসমানীয় সালতানাত মামলুককে সরিয়ে আরব অঞ্চলে অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। ইরানের সাফাভি রাজবংশ উসমানীয় থেকে বাগদাদ দখল করে। একই সময় স্প্যানিশ- পর্তুগীজদের হাতে মুসলিম ইউরোপীয় শক্তি আল আন্দালুসের পতন হয়। পর্তুগীজ নৌ শক্তি বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তারে ছড়িয়ে পরে। এরা খুব অল্প সময়ে দূর্ধর্ষতার জন্য খ্যাতি অর্জন করে। ১৫০৯ সালে উসমানিয়ামামলুক ও ভারতীয় মুসলিম রাজশক্তি মিলিত হয়ে পর্তুগীজদের দমনে শক্তি প্রয়োগ করেন। ইতিহাসে এটি তিন রাজার যুদ্ধ নামে পরিচিত। এ যুদ্ধে পর্তুগীজ দের নৌবহরের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়।বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে দেশটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে।কাতার ও ব্রিটিশ চুক্তি ১৮৬৮ সালে ব্রিটিশ আল থানি চুক্তির মাধ্যমে জন্ম লাভ করে আধুনিক কাতারের। ১৮৬৮ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে লুইস পেলি আল ওয়াকরায় মুহাম্মাদ আল থানি ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে মিলিত হন। ১২ সেপ্টেম্বর ১৮৬৮ সালে মুহাম্মদ বিন থানি চুক্তিবদ্ধ হতে সম্মত হন। বিষয় গুলো ছিলোঃ ১। দোহায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান করা। ২। সমুদ্রে অশান্তি সৃষ্টি হতে বিরত থাকা। ৩। যে নিজেদের ও প্রতিবেশীর মাঝে সৃষ্ট যে কোন ধরনের সমস্যায় ব্রিটিশদের ফয়সালা গ্রহণ করা। ৪। বাহরাইনের তৎকালীন আমীর আলি বিন খলিফার সাথে সুসম্পর্ক রাখা। ৫। বাহরাইনের পূর্ববর্তী আমির মোহাম্মদ বিন খলিফাকে কাতারে পাওয়া গেলে তাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়া।দেশটিতে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ আছে। এই প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে দেশটির অর্থনীতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৯শ শতকের শেষভাগ থেকে আল-থানি গোত্রের লোকেরা কাতার অঞ্চলটিকে একটি আমিরাত হিসেবে শাসন করে আসছে। ১৯৭১ সালে এটি পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করেকাতারের রাজনীতি একটি পরম রাজতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। কাতারের আমীর হলেন একাধারে রাষ্ট্রের প্রধান ও সরকার প্রধান তামিম বিন হামাদ আল থানি ২০১৩ সালে তার পিতা হামাদ বিন খলিফা আল থানির হাত থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে দেশটির আমীর ছিলেন হামাদ বিন খলিফা আল থানি। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি দেশটির প্রধানমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন নাসের বিন খলিফা আল থানি এর পদত্যাগের পর ৬ষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খালিদ বিন খলিফা বিন আব্দুল আজিজ আল থানি। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্তও এটি একটি তুলনামূলকভাবে দরিদ্র দেশ ছিল। ঐ সময় দেশটিতে পেট্রোলিয়ামের মজুদ আবিষ্কৃত হয় এবং এগুলি উত্তোলন শুরু হয়। বর্তমানে মাথাপিছু আয়ের হিসেবে কাতার বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলির একটি। কাতারের নাগরিক সুযোগ সুবিধার মান খুবই উন্নত। আরব উপদ্বীপের মত কাতারও একটি উত্তপ্ত ও শুষ্ক মরু এলাকা। এখানে ভূ-পৃষ্ঠস্থ কোন জলাশয় নেই এবং প্রাণী ও উদ্ভিদের সংখ্যাও যৎসামান্য।

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ -দোহা (রাজধানী দোহা'র সাথে যুক্ত আল রাইয়ান ও দায়্যান মিউনিসিপ্যালিটি) আল ওয়াকর্যা ,আল খোর ,দায়্যান , আল রাইয়ান , মিসাইড ,দোক্ষান ,আল সামাল ।

২০১৭ সালের জুনে উপসাগরীয় দেশ কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরবমিসরবাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। কাতারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে।দোহার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ এনে কাতারের ওপর স্থলনৌ ও আকাশ পথে অবরোধ আরোপ করে দেশ গুলি। অবরোধ আরোপ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের পর তা প্রত্যাহারে কাতারকে ১৩টি শর্ত দেয় তারা । এসব শর্তের মধ্যে ছিল আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক বন্ধতুর্কি বাহিনীকে কাতার থেকে বহিষ্কারইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ। শর্ত মানতে অস্বীকার করে কাতার জানিয়ে দেয়এসব পদক্ষেপ দোহার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত।অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তিন বছর আগে সৌদি ও আরব আমিরাতের নেতৃত্বেকাতারের ওপর আরোপ করাঅবরোধ দোহাকে কাবু করতে পারছে না। যে উদ্দেশ্যে এই অবরোধ আরোপ করা হয়েছিলসেটিও থাকছে নাগালের বাইরে। কাতারকে আঞ্চলিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার বদলে এই অবরোধ উল্টো তুরস্ক ও ইরানের সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেছে।সৌদি হুমকি উপেক্ষা করে ইরানতুরস্ক ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করে কাতার। দেশটিতে বিখ্যাত মুসলিম সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদের নামে তৈরি তুর্কি ঘাঁটিতে থানি সরকারের সমর্থনে কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান। দেশটিতে তুরস্ক ও ইরান জরুরি খাদ্যসহ অন্যান্য সামগ্রী পাঠিয়ে পাশে দাঁড়ানোয় সৌদি জোটের অবরোধ ভেস্তে যায়। ওমান ও কুয়েতও অবরোধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়নি। কাতারের বন্দর ও বিমানবন্দরে খাদ্য ও অন্যান্য দ্রব্যের সরবরাহে এখনো উল্লেখযোগ্য ঘাটতির সৃষ্টি হয়নি। ২০১৭ সালের জুন থেকে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের (বাহরাইন ও মিসরসহ) আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে কাতার এয়ারওয়েজের জন্য। কেবল আকাশসীমা নয়কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিকসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেয় এই জোট। তাই তখন বাধ্য হয়ে কাতার এয়ারওয়েজের উড়োজাহাজগুলো ব্যবহার করছে ইরানের আকাশসীমা। আর এ কারণে ইরান কাতারের কাছ থেকে পাচ্ছে বার্ষিক ১৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আল জাজিরা আরব বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল।আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক মালিকানাধীন এবং কাতারের দোহা সদর দফতর থেকে সম্প্রচারিত একটি সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল। আল জাজিরা চ্যানেল কাতার সরকার মালিকানাধীন। স্যাটেলাইট চ্যানেলটি আরবি ভাষার টেলিভিশন স্টেশন এর সাথে অরবিট কমিউনিকেশন কোম্পানির একটি যৌথ উদ্যোগে ১লা নভেম্বর ১৯৯৬ সালে উদ্বোধনকরা হয়ে।প্রাথমিকভাবে এটি আরবি ভাষায় চালু হলেও বর্তমানে স্যাটেলাইট চ্যানেলটি টিভি চ্যানেল হিসেবে আল জাজিরা থেকে একাধিক ভাষায় ইন্টারনেট এবংটিভি চ্যানেল সহ বিশ্বের বিভিন্ন নেটওয়ার্কের সঙ্গে ক্রমবর্ধমানভাবে প্রসারিত হচ্ছে। আল জাজিরা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবেশ করেছে।কাতারের ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিতে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশ আল-জাজিরা টিভির সম্প্রচার বন্ধের শর্ত দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় গণমাধ্যমে আল জাজিরা আল-জাজিরা সৌদি আর মিশরের মতো কট্টর রক্ষণশীল শাসকদের শত্রু হয়ে গেছে। ওইশাসকরা চায় না রাজতন্ত্রের শাসিত জনগণ রাজতন্ত্রের সমালোচনা করা সংবাদ দেখুক। প্রথম দিকে চ্যানেলটি নির্ভীক প্রতিবেদনউত্তপ্ত বিতর্ক ও আরব অঞ্চলের স্বৈরাচারী শাসকদের বিষয়ে ঢালাও আলোচনা করে অন্যদের থেকে নিজেদের আলাদা করেছিল। ২০১১ সালে আরব-বসন্তনামে আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে যুগান্তকারী বৈপ্লবিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ঘটনাপ্রবাহের অসাধারণ কাভারেজ দেওয়ায় এরই মধ্যে চ্যানেলটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।এছাড়াকায়রোর তাহরির স্কোয়ারে সংঘটিত আরব বসন্তের সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক ঘটনাপ্রবাহের ওপর চ্যানেলটির কাভারেজ বিশ্বের কোটি কোটি উৎসুক সংবাদশ্রোতা এবং দর্শকের মনোযোগ কাড়ে। মিসরে বিপ্লবেরসময় আল জাজিরার ওয়েবসাইটে ঢোকার পরিমাণ বা ট্রাফিক বেড়ে গিয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ শতাংশ! ওই সময় কায়রোতে থাকা চ্যানেলটির অফিসে লুটতরাজ চালিয়েছিল সরকারি বাহিনী। আর তাহরির স্কয়ারে শোনা যাচ্ছিল লং লিভ আল জাজিরাস্লোগান।চ্যানেলটি লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের ওপরও সবার আগে সবচেয়ে বেশি সংবাদ সরবরাহের কৃতিত্ব দেখিয়েছে। লিবিয়ার নেতা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি ধরা পড়া ও নিহত হওয়ার খবর ও ছবি সবার আগে বিশ্ববাসীকে আল জাজিরাই দিয়েছিলো। আরব বসন্ত ঘিরে চ্যানেলটির সংবাদ পরিবেশনের ধরন একটি সন্ধিক্ষণের সৃষ্টি করে। প্রতিবাদ-বিক্ষোভের সরাসরি সম্প্রচার শুরু করে চ্যানেলটি। ওই সময় এটি ছিল এসব তথ্যের একটি প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তারা সাদ্দাম হোসেনকে স্বৈরাচারীহিসেবে অভিহিত করেছিলআবার ইসরায়েলের বিভিন্ন খবরও সম্প্রচার করত। এটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীইসলামপন্থী ও আরব জাতীয়তাবাদীদের একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছিল। অর্থনৈতিক সঙ্কটে নিপতিত ইউরোপের রাজপথে জনতার বিক্ষোভের পাশাপাশি জাপানের সুনামির বিপর্যয়কর ঘটনাবলীও বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করেছে। এসব ঘটনার প্রতি মুহূর্তের খবর পরিবেশন করার জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলো আল জাজিরা।

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মাথাপিছু আয়ের দেশ কাতার। ছোট এ দেশটিতে তেল ও গ্যাসের বিশাল মজুতের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। ২০১২ সালে, কাতার বিশ্বের তৃতীয়বারের জন্য (মাথাপিছু আয় অনুসারে) শীর্ষে থাকা দেশটির খেতাব অর্জন করে। ২০১০ সালে প্রথম লুক্সেমবার্গকে পেছনে ফেলেছে। ২০১২ সালে কাতারের জিডিপি ১৮২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে এবং জানা যায় যে গ্যাস রফতানি ও তেলের উচ্চমূল্যের কারণে এটি সর্বকালের উচ্চতায় পৌঁছেছিল।

দীর্ঘ ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে কাতারের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সুসম্পর্ক।মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের বন্ধুপ্রতিম দেশ কাতারে ১৯৭৩ সাল থেকে জনশক্তি রফতানি হচ্ছে। বর্তমানে ৪ লাখের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত আছেন সেখানে। যাদের অধিকাংশই নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত। কাতারে বিপুল পরিমাণ জনশক্তি রপ্তানী করে বাংলাদেশ। সরকারি হিসাব বলছে২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট জনশক্তি রপ্তানির ২২ শতাংশের গন্তব্যস্থল ছিল কাতার। দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতপাকিস্তানফিলিপিন্সের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। কাতার চ্যারিটির বাংলাদেশে স্কুলএতিমখানা এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে।২০১৪ সালে দোহায় বাংলাদেশ-কাতার মহিলা সমিতি গঠন করা হয়েছিল।দেশটির বিভিন্ন মসজিদের মুয়াজ্জিন ও ইমামদের বড় অংশ বাংলাদেশি। দেশটির ২ হাজার ৪শর মতো মসজিদে প্রায় ১ হাজার ৩শবাংলাদেশি ইমাম ও মুয়াজ্জিন কর্মরত। কাতারিদের কাছে মুসলিম রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশি ইমাম-মুয়াজ্জিন বেশ সম্মানিত।

দেশটিতে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ সত্তরের দশকে শেল কোম্পানি দেশটির সবচেয়ে বড় সম্পদ আবিষ্কার করে: দ্য নর্থ ফিল্ড’, বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র!এই প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে দেশটির অর্থনীতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্তও এটি একটি তুলনামূলকভাবে দরিদ্র দেশ ছিল। ঐ সময় দেশটিতে পেট্রোলিয়ামের মজুদ আবিষ্কৃত হয় এবং এগুলি উত্তোলন শুরু হয়। বর্তমানে মাথাপিছু আয়ের হিসেবে কাতার বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলির একটি।গত এক দশকে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে প্রচুর সম্পদ কিনেছে কাতার। কয়েকমাস আগে কাতারের অর্থমন্ত্রী বিবিসিকে জানিয়েছিলেনযুক্তরাজ্যে তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৫ থেকে ৫১ বিলিয়ন ডলারের মতো। শুধু তাই নয়আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আরও ৫ বিলিয়ন পাউন্ডের মতো সম্পদ ক্রয়ের ইচ্ছা রয়েছে দেশটির।বিশ্বে ইসলামপন্থীদের প্রথম মানসম্পন্ন টেলিভিশন চ্যানেল আলজাজিরা কিন্তু কাতারের। প্রতিষ্ঠানটির করা সর্বশেষ ক্রুসেড সিরিজটা’ বিশ্বে আলোড়ন ফেলেছে। এ ছাড়া খেলাধুলার জনপ্রিয় চ্যানেল বিএনও তাদের। ফুটবল ক্লাব পিএসজির নাম তো আপনারা অবশ্যয় শুনেছেন। এই ক্লাবটির মালিকও কিন্তু কাতার।এই দেশেই ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে।বর্তমানে বিশ্বে কাতার এয়ারওয়েজ বিমান ভ্রমণের জন্য শ্রেষ্ঠ এয়ারলাইন্স। হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি ২০১৪ সালে তৈরি হয়েছিল। প্রতিবছর প্রায় ৫০ মিলিয়ন যাত্রীকে পরিচালনা করার ক্ষমতা রয়েছে এই বিমানবন্দরটির। হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের নবম বৃহত্তম। কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত দা এস্পায়ার টাওয়ার এই দেশের সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং। কাতারে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপাদন হয়। যার অন্যতম প্রধান কারন এই দেশে কোন বনভূমি নেই। বিশ্বে কোন বনভূমি নেই এইরকম দেশের সংখ্যা মোট ৪ টি। যার বাকি ৩ টি দেশ হলও সান মারিনোগ্রীনল্যান্ড এবং ওমান।দেশটি পেট্রোলিয়াম রফতানিকারী সংস্থাগুলির (ওপেক) সদস্য রাষ্ট্র ছিল, ১৯৬১ সালে যোগদান করে এবং ২০১৯ এর জানুয়ারী মাসে বের হয়ে যায়।

কাতারের রাজধানী দোহা পরিণত হয়েছে ইসলামী শিল্পের অনন্য জাদুঘরে। জাদুঘরটির নকশা করেছেন স্থপতি আই. এম. পাই। ইসলামি শিল্পের যাদুঘরের মূল ভবনের পেছনে একটি ২৮০,০০০ বর্গমিটার বিশিষ্ট পার্ক রয়েছে। পাঁচতলা বিশিষ্ট এই জাদুঘরে রয়েছে একটা উপহারের দোকান, পাঠাগার, শ্রেণীকক্ষ এবং একটি ২০০-আসন বিশিষ্ট থিয়েটার। নামাজ পরা ও ওজু করার জন্য জাদুঘরে রয়েছে বিশেষ স্থান। এছাড়া জাদুঘরে আছে রেস্টুরেন্ট, যেখানে আরবি খাবারের পাশাপাশি ফরাসি, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের খাবার পাওয়া যায়।জাদুঘরটির স্থাপত্য প্রাচীন ইসলামি স্থাপত্য দ্বারা প্রভাবিত। তথাপি এর রয়েছে অনন্য স্থাপনাশৈলী। এই স্থাপনা শৈলীর ভবন এই অঞ্চলে এটাই প্রথম। জাদুঘরে ইসলামি শিল্পকলার বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। এছাড়া গবেষণা ও পড়ার জন্য আছে পাঠাগার। মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্ট ৪৫,০০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত। স্থানটি আসলে একটা কৃত্রিক উপদ্বীপ, এখান থেকে দোহা উপসাগরের দক্ষিণ প্রান্ত দেখা যায়। জাদুঘরটির নির্মাণ কাজ ২০০৬ সালে শেষ হয়, কিন্ত পরবর্তীকালে কয়েকবার জাদুঘরের অভ্যন্তরীন নকশায় পরিবর্তন করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৮ সালের ২২ নভেম্বরে জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হয়। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ২০০৮ সালের ৮ ডিসেম্বরে। জাদুঘরটির স্থপতি ছিলেন আম. এম. পাই। এসময় তার বয়স ছিল ৯১ বছর। নকশা করার পূর্বে আই. এম. পাই প্রায় ছয় মাস ধরে মুসলিম বিশ্ব ভ্রমণ করেন মুসলিম স্থাপত্য ও ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান লাভের জন্য।

২০২২ সালে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার ২২তম আসর বসছে কাতার ।এক হিসেবে কাতারকে সৌভাগ্যবান রাষ্ট্র বললেই চলে। কেননা, ফিফা বিশ্বকাপের ৯২ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম আরব-মুসলিম দেশ হিসেবে দেশটি বিশ্বকাপের আয়োজন করতে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়; এটি সর্বকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও শীতকালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপ।২০০২ সালের দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পর এশিয়াতে অনুষ্ঠিত এটি হবে ফিফার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।এটিই হবে ৩২ দল বিশিষ্ট ফিফার সর্বশেষ আসর, এর পরবর্তীতে ৪৮টি দল নিয়ে উত্তর আমেরিকাতে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। এটিই হবে প্রথম বিশ্বকাপ যা মে, জুন বা জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হবে না; এর পরিবর্তে প্রতিযোগিতাটি নভেম্বরের শেষ দিকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত নির্ধারিত। সূচি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উন্মোচন হবে ২০ নভেম্বর কাতারের রাজধানী দোহা সিটির আল বাইত স্টেডিয়ামে। স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় প্রথম ম্যাচ শুরু হবে।এটি প্রায় ২৮ দিনের সময়সীমাতে শেষ করা হবে, ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর, যা কাতার জাতীয় দিবসও। জানা গেছে, আল বাইত স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৬০ হাজার। আর ফাইনালের ভেন্যু লুসাইল স্টেডিয়ামে দর্শক ধারণ ক্ষমতার ৮০ হাজার।বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কাতার যেসব স্টেডিয়াম তৈরি করছে তারই মধ্যে আল খোর স্টেডিয়াম একটি। বারোটি স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে। কোনোটি সামুদ্রিক নৌকার, কোনোটি ঝিনুক, কোনটি মরুদ্যানের নকশার আদলে। শুধু বাইরের চাকচিক্যই নয়। এসব স্টেডিয়ামের ভিতরেও থাকছে অভিনবত্ব। খেলোয়াড় আর দর্শকদের জন্য আরামদায়ক আবহাওয়া নিশ্চিত করবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি। ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে গড়ে ওঠা নির্মাণ খাতে বাংলাদেশীরা জড়িত ।কাতার বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে গত ১০ বছরে (২০১১ সাল থেকে ২০২০সাল ) বাংলাদেশি ১০১৮ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।পাশাপাশি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ৬হাজার ৫০০শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে ।এসব দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলংকা।মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিশ্বকাপ আয়োজনের গৌরব অর্জনের পর থেকে কাতারে প্রতি সপ্তাহে গড়ে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপালও শ্রীলঙ্কার ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গার্ডিয়ানের নির্ভরযোগ্যসূত্র ও দেশগুলোর সরকারি অনুযায়ী দশ বছরে ৫হাজার ৯২৭জন প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।এর মধ্যে মৃত বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা ১হাজার ১৮।বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামবানানোর কাজ করছেন এমন অবস্থাতেই ৩৭জন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছেন।যদিও বিশ্বকাপ আয়োজন কমিটি এরমধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যুকে কাজের বাইরের ঘটনায় মৃত্যু বলে চালিয়েদিয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম আরব-মুসলিম রাষ্ট্রে সর্বকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ শীতকালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা দর্শক ও ভক্তদের স্বাগত জানাতে বর্ণিল সাজে সেজেছে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত কাতার। দেশটির রাজধানী দোহাসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে মহানবী (সা.)-এর হাদিস সম্বলিত ম্যুরাল।বিশ্বকাপ ভক্তদের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরে অভিনব কায়দায় অভ্যর্থনা জানাতে এমন উদ্যোগ নেয় কাতার। তাই বিভিন্ন স্থানে দেয়ালজুড়ে সাঁটানো হয় বর্ণিল ম্যুরাল, ব্যানার ও ফেস্টুন। এতে লেখা হয় সামাজিক শিষ্টাচার বিষয়ক মহানবী (সা.)-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী। আরবি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা অর্থপূর্ণ হাদিসগুলো চলার পথে দর্শক ও পাঠকদের মনে তৈরি করে অন্য রকম অনুভূতি।একটি দেয়ালে সাদা রঙের ওপর কালো বর্ণে দয়া-অনুকম্পা নিয়ে মহানবী (সা.)-এর একটি বাণী দেখা যায় যার অর্থ হলো, ‘অন্যের প্রতি দয়া করে না তার প্রতি দয়া করা হয় না’। অন্য স্থানে মহানবী (সা.)-এর আরেকটি বাণী দেখা যায় যার অর্থ হলো, ‘সব ভালো কাজই দান।কাতারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপে সেসব মুসলিম 'ফ্যান টিকিট' বা 'হায়া কার্ড' পাবেন তারা সেই কার্ড দেখিয়ে ওমরাহ করতে পারবেন। পাশাপাশি, মদিনায় যেতে পারবেন। । তবে, সৌদি আরবে আসতে ভিসা প্লাটফর্ম থেকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিমা নিতে হবে।কার্ডধারীরা বিশ্বকাপ শুরুর ১০ তিন আগে সৌদি আরবে ঢুকতে পারবেন এবং ২ মাস সেখানে অবস্থান করতে পারেন।

২০২১ সালে মুসলিম বিশ্বের সাংস্কৃতিক রাজধানী নির্বাচিত হয় কাতারের রাজধানী দোহা। মুসলিম বিশ্বের সাংস্কৃতিক রাজধানীর খেতাব দোহার জন্য পুরো ২০২১ সাল বরাদ্দ থাকে। আরব ও মুসলিম বিশ্বে ইসলামী সভ্যতা-সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের ভিত্তিতে এটি নির্বাচন করা হয়ে থাকে।বিশ্ববিখ্যাত সংস্থা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর অঙ্গসংগঠন ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সাইন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন (আইসিইএসসিও)-এর উদ্যোগে প্রতি বছর মুসলিম বিশ্বের সাংস্কৃতি রাজধানী নির্বাচন করা হয়। ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সাইন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন প্রতি বছর বিশ্বের তিনটি ঐতিহ্যবাহী শহরকে মুসলিম বিশ্বের সাংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে থাকে। আরব বিশ্ব, আফ্রিকা ও এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী শহরগুলোর ইসলামবিষয়ক ও সাংস্কৃতিক নানা কর্মতৎপরতার ভিত্তিতে তা নির্বাচন করা হয়।সর্বপ্রথম ২০০৫ সালে পবিত্র মক্কা নগরীকে সাংস্কৃতিক রাজধানী নির্বাচিত করা হয়েছিল।

খাবার ঐতিহ্যবাহী কাতারি খাবার ভারতীয় এবং ইরানী রান্না দ্বারা প্রভাবিত। কাতারি স্পেশাল ডিশগুলির মধ্যে রয়েছে ঘুজি, মোটাবেল, বিরিয়ানী, টাবৌল্লহ এবং হুমুস।

আইন কাতারে ২ ধরনের আইন প্রচলিত আছে। প্রথম সিভিল আইন আর ২য় শরীয় আইন। শরীয় আইন খুবই শক্ত আর কঠিন। শরীয় আইন অনুযায়ী যদি আপনি ধর্মকে নিন্দা করেন তাহলে ৭ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে।কাতারের আইন ‘আপত্তিকর’। তা ইসলাম বিরোধী যে কোনও আচার বা বিশ্বাসকে শাস্তি দেয়। ইসলামের নিন্দা করলেও শাস্তি দান করে। পাশাপাশি, খ্রিস্টান এবং ইহুদিদের আচরণের নিন্দা করলেও শাস্তি দেয়। এই তিনটি ধর্মের কোনও একটির মানহানি করলে, তার বিরুদ্ধে লেখালেখি করলে, তা পড়লে, সেটা হল কাতারের আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বিশ্বকাপ ফুটবলে
১৯৭০ সালে বাহরাইনের মাটিতে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল ম্যাচ খেলা কাতার ১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। কিন্তু বিশেষ কারণে প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। আয়োজক দেশ হিসেবে এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। বিশ্বকাপ না খেললেও এশিয়ান কাপে কাতার একটি বড় নাম। ২০১৯ সালের চ্যাম্পিয়নও তারা ।



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...

কাবা ঘর নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মো. আবু রায়হানঃ কাবা মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে, পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।কাবা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ মুকাআব অর্থ ঘন থেকে।কাবা একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত। (The Kaaba, meaning cube in Arabic, is a square building elegantly draped in a silk and cotton veil.)।যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।কাবার ভৌগোলিক অবস্থান ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব।পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর বায়তুল্লাহ বা পবিত্র কাবা ঘর ।আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে তা মক্কা নগরীতে। (সুরা আল ইমরান - ৯৬)। “প্রথম মাসজিদ বায়তুল্লাহিল হারাম তারপর বাইতুল মাকদিস, আর এ দুয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো চল্লিশ বছরের”।(মুসলিম- ৫২০)। ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি ...