সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মুহাম্মদ বিন কাসিমের পতন: ক্ষমতা, রাজনৈতিক কোন্দল এবং এক ট্র্যাজিক অধ্যায়

মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুতে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তবে তাঁর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর জীবনপ্রদীপ যেভাবে নিভে গিয়েছিল, তা অত্যন্ত করুণ এবং বিতর্কিত। সাধারণ ইতিহাস কিংবা উপকথার বাইরে গিয়ে যদি ইবনে আল-বালাজুরি, জি. আর. হটিং কিংবা পি. কে. হিটি-র মতো ইতিহাসবিদদের সূত্র বিশ্লেষণ করা হয়, তবে দেখা যায় যে তাঁর মৃত্যু মূলত উমাইয়া খিলাফতের অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফলাফল ছিল। ১. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ও মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থান মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থানের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তাঁর অভিভাবক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের । ৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান হাজ্জাজকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করেন। ৭০৫ সালে আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর নতুন খলিফা আল-ওয়ালিদও হাজ্জাজকে তাঁর পদে বহাল রাখেন। এই হাজ্জাজের নেতৃত্বেই মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি সেখানে উমাইয়া শাসন সুদৃঢ় করেন। ২. অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উত্তরাধিকার সংকট হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কঠোর শাসন খিলাফতের ভেতরে বহু শত্রুর জন্ম দিয়েছিল: মুহাল্লাব পরিবারের সাথে দ্বন...

মালি

 


পশ্চিম আফ্রিকার স্থলবেষ্টিত দেশ মালি। পশ্চিম আফ্রিকার এই বড় দেশটির উত্তরে প্রায় অর্ধেক জুড়ে রয়েছে সাহারা মরুভূমি। দেশটির দক্ষিণে নাইজার ও সেনেগাল নদী। দেশের বাকি অংশ জুড়ে রয়েছে সবুজ তৃণভূমি।

রাজধানী ও সর্ববৃহত্ শহর বামাকো।

আয়তন : ১২ লাখ ৪০ হাজার ১৯২ বর্গকিমি। আফ্রিকার অষ্টম বৃহত্তম।

জনসংখ্যা : এক কোটি ৪৫ লাখ।

জাতি-গোষ্ঠী: মান্দে ৫০%, পিউল১৭%, ভোলটেইক ১২%, তরেজ ১২%, সোঙ্গাঈতুয়ারেগ ও মুর১০%।

ধর্ম মুসলিম৯০% , প্রকৃতি উপাসক ৯% খ্রিস্টান ১% ।

দাপ্তরিক ভাষা : ফরাসি।

মুদ্রা : ওয়েস্ট আফ্রিকান সিএফএ ফ্র্যাঁঙ্ক।

জাতিসংঘে যোগদান : ১৯৬০ সাল।

ইতিহাস

৩০০ থেকে ১৫০০ অব্দ পর্যন্ত দেশটি আফ্রিকার তিনটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য ঘানা, মালি ও সোঙ্গাই সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। নবম ও দশম শতাব্দীতে মালির সাথে মুসলমানদেরসংযোগ সাধিতহয়।মরক্কোর মুরাবিত (১০৪০-১১৪৬) বাহিনী মালিরকয়েকটি অঞ্চলকে মুসলমানদেরনিয়ন্ত্রণে আনে। মালি সাম্রাজ্য (১২৩৫-১৬৭০)মধ্যযুগের খুবই শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্র ছিল। ১২৪৮ সালে মালিশক্তিশালী ঘানারাজ্য দখল করে নেয়।এ রাজবংশের রাজাদের মানসা বলা হত। মালির ভাষায় মানসা অর্থ আমীর/রাজা/ সুলতান। মানসা মুসার শাসনামলে মালি সালতানাত গৌরবের চরম শিখরে আরোহন করে।মরক্কোর বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা যখন এই সাম্রাজ্যে সফর করেন তখন টিম্বাকটুতেরাজা ছিলেন মানসাসুলায়মান । ইবনে বতুতা বলে, নাইজার নদীর তীরে মালি সম্রাজ্যে পৌছে তিনি সূলতানের সাথে সাক্ষাত করেন। তৎকালীন মালি সম্রাজ্যের সূলতান ছিলেন মানসা সুলায়মান যিনি ১৩৪১ সাল থেকে এখানকার সূলতান হিসেবে আছেন। মানসা সূলতান কিপ্টেমির জন্য কুখ্যাত ছিলেন। এখানকার স্থানীয়দের আতিথিওতা ইবন বতুতার কাছে মনমুগ্ধকর মনে হলেও সূলতানের আতিথিওতা খুব একটা পছন্দ হল না তার। ইবন বতুতার বর্ননা মতে এখানকার মানুষ ধর্মভীরু হলেও এখানকার নারীরা ইসলামী পর্দাপ্রথা মানতেন না। তারা সকলেই এমনকি সুলতানের কন্যারাও সকলের সামনে বিবস্ত্র হয়ে ঘুরে বেড়াতো। মালিতেই ইবন বতুতা সার্বপ্রথম জলহস্তি দেখেন। মালিতে আট মাস অবস্থান করে তিনি তার কাফেলা নিয়ে টিম্বাকটুরদিকে রওনা হন।

মালি সাম্রাজ্যের অধঃপতনের যুগে এই অঞ্চলে সোঙ্গাইসালতানাতের (১৪০০-১৫৮৫)অভ্যুদয় ঘটে।আশকিয়া মোহাম্মদ তুরেএই বংশের বিখ্যাতসুলতান ছিলেন। ১৫৯০খ্রিস্টাব্দে মরক্কো সোঙ্গাইরাজ্য জয় করে। মরক্কোর ২০০বছরের শাসন ছিল খুবই দুর্বল। ফলে মালিসহ সাহারারদক্ষিণাঞ্চলীয় মুসলিম রাষ্ট্রগুলিতে তখন ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেয়। নাইজেরিয়ার ওস্মান দাও ফদিও ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে সোকোতোসাম্রাজ্য স্থাপন করে ট্রান্স সাহারা অঞ্চলে মুসলিম শক্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা কর। কিন্তু তা খুবই স্বল্পস্থায়ী হয়।এর পরইমামসামেরি তুরেসেনেগালআপার ভোল্টাঅঞ্চলে অন্য একটি মুসলিম রাজ্য স্থাপনের চেষ্টা করেন।১৯০৪সনে ফরাসিরা তার পুত্রকে বন্দি করে মালি দখল করে এবং মালিকে ফরাসি পশ্চিম আফ্রিকার অংশকরে নেয়।১৯৫৮সালের ২৪নভেম্বর সেনেগাল এবং মালি মিলেমালি ফেডারেশন নামে একটি একক ফেডারেশন গঠিত হয়ছিল । ১৯৬০ সালে ২০জুন মালি এবং সেনেগাল একত্রে মালিফেডারেশনের অঙ্গ হিসেবে স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু তিন মাস পর ২২সেপ্টেম্বর সেনেগালের ফেডারেশন হতে বের হয়ে যায়।১৯৯১ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসকের অধীনে ছিল দেশটি। ১৯৯২ সালে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন হয়। ২০১১ সালে থেকে দেশের উত্তর প্রান্তে তুয়ারেগ জাতি-গোষ্ঠীর বিদ্রোহ দেখা দেয়। বিদ্রোহ দমনে সরকারি ব্যর্থতার অভিযোগে কিছু সেনা মিলে ২০১২ সালে তত্কালীন প্রেসিডেন্ট আমাদো টোরেকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক শাসন জারি করে। পরে অবশ্য বেসামরিক শাসন পুনর্বহাল হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় পরের বছর। নানা অস্থিরতার কারণে মালিতে জঙ্গি তত্পরতা ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১৩ সালে মালি ও ফরাসি সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে শক্ত হাতে তা দমন করা হয়। ২০২০ সালের১৮ আগস্ট মালিতেবিদ্রোহ ঘটে। প্রধানমন্ত্রী বোউবোউ সিসে ও প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বোউবাকার কেইতাকে আটক করে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় বিদ্রোহী সেনারা। তারা বাধ্য করে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগ করতে এবং পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করতে। বিদ্রোহী সেনাদের চাপের মুখে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে পদত্যাগ করেন এবং সরকার ও পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। কয়েকদিন বিদ্রোহী সেনাদের কাছে বন্দি অবস্থায় ছিলেন প্রেসিডেন্ট। ১০ দিন পর তিনি মুক্তি পান।

সর্বকালের সেরা ধনীর

১৪ শতাব্দীতে ইউরোপে যখন দুর্ভিক্ষ আর খাদ্যাভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যায়, তখন পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ও সচ্ছল এলাকা ছিল আফ্রিকার মুসলিম দেশ মালি? আর ইতিহাসে গত এক হাজার বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধনবান যে ব্যক্তিটি জীবন যাপন করেছেন তিনি মালির মুসলিম রাজা মানসা মুসা (১২৮০-১৩৩৭) ?পশ্চিম আফ্রিকার সবচেয়ে বিশাল, দীর্ঘস্থায়ী ও ধনাঢ্য মালি সাম্রাজ্য’ এর যে গোড়াপত্তনকারী, একাধিক সূত্রমতে তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা ) এর প্রিয় মুয়াজ্জিন, কৃষ্ণকায় সাহাবী বিলাল (রা) এর একজন সরাসরি বংশধর। মালির রাজা আবু বাকর অ্যামেরিকা আবিষ্কারের মিশনে গিয়ে আর ফিরে না আসলে সিংহাসনে বসেন তার ভাই মানসা মুসা। তিনি তার রাজত্বে আরো ২৪ টি শহর যুক্ত করেন, যার একটি ছিল টিম্বাকটু।

তাঁর রাজত্ব বিস্তৃত ছিল ২,০০০ মাইলজুড়ে, আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু করে বর্তমান নিজার, সেনেগাল, মৌরিতানিয়া, মালি, বুর্কিনা ফাসো, গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ, গিনি এবং আইভোরি কোস্টের বড় অংশ ছিল তার রাজত্বে। তাঁর শাসনামলে মালি রাজত্বের আকার বাড়তে থাকে। এই বিশাল সাম্রাজ্যের সাথে তাঁর আয়ত্ত্বে আসে মূল্যবান খনিজ সম্পদ- বিশেষ করে স্বর্ণ এবং লবণ।ব্রিটিশ মিউজিয়ামের হিসেবে মানসা মুসার শাসনামলে তৎকালীন বিশ্বে যে পরিমাণ স্বর্ণের মজুত ছিল তার অর্ধেকই ছিল মালিতে। আর তার সবটারই মালিক ছিলেন মানসা মুসা।মালির অন্যান্য রাজাদের থেকে যা মানসা মুসাকে আলাদা করেছে তা হলো ইসলামের প্রতি তার ভালোবাসা ও একনিষ্ঠতা। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতে আদায়ের পাশাপাশি আরবিখুব ভালোভাবে জানতেন ও নিয়মিত কুরআন পাঠ করতেন। আল্লাহর দেয়া তার বিশাল ধনভান্ডার তিনি ব্যায় করেছিলেন আফ্রিকার বুকে ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্য। সাদাকা করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন আফ্রিকায় কিংবদন্তী। তিনি পশ্চিম আফ্রিকায় প্রচুর মাসজিদ নির্মাণ করেন যাদের মধ্যে অনেক মসজিদ ৭০০ বছর পর আজও টিকে আছে। মক্কা থেকে বেশ কয়েকজন ইসলামী চিন্তাবিদকে সাথে নিয়ে আসেন মানসা মুসা। যাদের মধ্যে ছিলেন নবী মোহাম্মদের সরাসরি বংশধর এবং একজন আন্দালুসিয়ান কবি ও স্থপতি আবু এস হক এস সাহেলি, যাকে কিনা বিখ্যাত জিংগারেবার মসজিদের নকশাকার হিসেবে ধারণা করা হয়।মানসা মুসা সেই কবিকে পারিশ্রমিক হিসেবে ২০০ কেজি স্বর্ণ দিয়েছিলেন বলে কথিত আছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৮২ লক্ষ মার্কিন ডলার। এছাড়া দ্বীনি ইলম শিক্ষার জন্য সারা সাম্রাজ্য জুড়ে অসংখ্য মাদ্রাসা তার পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত হয়। টিম্বাকতুর সাংকোরে মাদ্রাসাকে তিনি পুরোপুরি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করেন। সেখানে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা ছিল। আর তাতে শিক্ষা দিতেন আরব, মাগরিব, আন্দালুস থেকে আসা নামী-দামী শিক্ষককেরাএতে ছিল আলেকজান্দ্রিয়ার পর বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লাইব্রেরী যাতে শারীয়া, মেডিসিন, জ্যোতির্বিদ্যা ইত্যাদির প্রায় দশ লাখ পান্ডুলিপি মজুদ ছিল। তার পৃষ্ঠপোষকতায় টিম্বাকতু তৎকালীন বিশ্বের অন্যতম সেরা জ্ঞান বিজ্ঞানের কেন্দ্রে পরিণত হয়। যে বিষয়টির জন্য মানসা মুসা বিখ্যাত তা ১৩২৪ সালে তার ইউনিক হজ্জযাত্রা যার উপমা ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টি নেই। এর ফলে সারা বিশ্বে তার নাম চাউর হয়ে যায় আর ইউরোপ প্রথমবারের মত মানচিত্রেমালির নাম যোগ করে। বলা হয় ৬০,০০০ মানুষের একটি দল নিয়ে মালি ত্যাগ করেন মুসা।তার সেই দলে ছিলেন সম্পূর্ণ মন্ত্রী পরিষদ, কর্মকর্তারা, সৈনিক, কবি, ব্যবসায়ী, উটচালক এবং ১২,০০০ দাস-দাসী। একইসাথে খাবারের জন্য ছিলো ছাগল এবং ভেড়ার এক বিশাল বহর।৮০-১০০ টি হাতির পিঠে চড়ানো ছিল শুধু সোনা; হাজার হাজার কেজি সোনা। আরও শত শত উটের পিঠে ছিল খাবার, কাপড়সহ সহ প্রয়োজনীয় রসদপাতি। মিসর হয়ে মক্কা যাবার পথে যত গরীব মুসলিম তার সামনে পড়েছে সবাইকে তিনি স্বর্ণ সাদাকা দেন। প্রতি জুমআতে থেমে তিনি সেই এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণ শুরু করতেন ও পরে সম্পূর্ণ করার অর্থ দিয়ে দিতেন। ডানে-বামে তার স্বর্ণ বিতরণের ফলে মিসর ও হিজাযে দশ বছর স্বর্ণ মুদ্রার মান পড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্মার্টঅ্যাসেট ডট কমের এক হিসেবে, মানসা মুসার মক্কা যাত্রার ফলে স্বর্ণের যে অবমূল্যায়ন হয় তাতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে তৎকালীন সময়ে ১৫০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল।কায়রোতে মানসা মুসার ভ্রমণ সেখানকার বাসিন্দাদের মনে এতটাই দাগ কেটেছিল যে তাঁর ভ্রমণের ১২ বছর পর যখন আল-উমারি শহরটিতে যান, তখনো মানুষের মুখে মুখে ছিল মানসা মুসার স্তুতিবাক্য।হজ্জ থেকে ফেরার সময় মিসরে পৌঁছে দেখেন তিনি এতো বেশী খরচ করে ফেলেছেন যে দেশে ফেরা মুশকিল। শেষ পর্যন্ত মিসরে অর্থ ধার নিয়ে তাকে দেশে ফিরে যেতে হয়। কিছুদিন আগে প্রকাশিত ফোর্বস বিলিয়নিয়ারের তালিকায় সেরা ধনী হয়েছেন আমাজোনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। ১৩১ বিলিয়ন (১৩ হাজার ১০০ কোটি) ডলার সম্পদের মালিক মি. বোজোস আধুনিক সময়ের সেরা ধনী।তবে সর্বকালের সেরা ধনীর সম্পদের কাছাকাছিও তিনি নেই।সেই খেতাবের মালিক মানসা মুসা, তিনিএতটাই ধনী ছিলেন যে তার দানশীলতার কারণে একটি পুরো দেশের অর্থনীতিতে পর্যন্ত ধস নেমেছিল।মুসার সম্পদের যে শ্বাসরুদ্ধকর বর্ণনা পাওয়া যায় তাতে আসলে তিনি যে কতটা সম্পদশালী এবং ক্ষমতাশালী ছিলেন তা ধারণা করাও কঠিন,কারো পক্ষে যতটা বর্ণনা করা সম্ভব তার চেয়েও ধনী ছিলেন মানসা মুসা,"- ২০১২ সালে একটি মার্কিন ওয়েবসাইট, সেলিব্রিটি নেট ওর্থ তাঁর মোট সম্পদের মূল্য ৪০ হাজার কোটি ডলার বলে একটি ধারণা দেয়। তবে অর্থনীতির ইতিহাসবিদরা একমত যে সংখ্যা দিয়ে তাঁর সম্পদের কোন সঠিক ধারণা দেয়া একরকম অসম্ভব। ১৩৩৭ সালে ৫৭ বছর বয়সে মানসা মুসার মৃত্যুর পর তার ছেলেরা আর সেই সাম্রাজ্য ধরে রাখতে পারেনি। ছোট রাজ্যগুলো একে একে বেরিয়ে যেতে থাকে এবং একসময় পুরো সাম্রাজ্য ধসে পড়ে।

তুয়ারেগ বিদ্রোহ

তুয়ারেগমূলত যাযাবর উপজাতি। তারা একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রাম করছে বহু বছর ধরে।১৯৬০ সালে ফ্রান্স যখন মালিকে স্বাধীনতা দেয়, তারপর থেকে তুয়ারেগরা সেখানে বৈষম্য এবং নিপীড়নের শিকার হয় বলে অভিযোগ করে আসছে।২০১২ সালে তিম্বুকতুসহ উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকা দখল করে নেয় তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা। মালির উত্তরাঞ্চলকে নিয়ে তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা স্বতন্ত্র ‘আযাওয়াদ’ রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দেয়।। তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে স্বাধীনতা ঘোষণার পর আফ্রিকান ইউনিয়ন তা প্রত্যাখান করে। তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা মালির মরুভূমি এলাকাগুলো দখল করে রাজধানী বামাকোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মালিতে হস্তক্ষেপ করে ফ্রান্স এবং আগুয়ান বিদ্রোহীদের মরুভূমির প্রান্তের দিকে হটিয়ে দেয়। ২০১৩ সালে দেশটিতে উগ্রপন্থী ইসলামি গোষ্ঠী ও তুয়ারেগ যোদ্ধাদের বিদ্রোহ ঠেকাতে শান্তিরক্ষী মোতায়েন করা হয়। ২০১৫ সালে ১৬ দেশের বিভিন্ন শান্তি মিশনে দায়িত্ব পালনের সময় মোট ১২০ জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। স্বায়ত্তশাসন চাওয়া উত্তরাঞ্চলকে অধিকতর প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাহিনী গঠন ও উন্নয়নের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতির পর ২০১৫ সালে সরকারের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে তুয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠী। চুক্তিতে তুয়ারেগসহ তাদের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী জোট কো-অর্ডিনেশন অব মুভমেন্টস অব আজাওয়াদ-সিএমএ'র সশস্ত্র যোদ্ধাদের সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীতে নিয়োগ দেয়ার শর্তও রাখা হয়।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...

কাবা ঘর নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মো. আবু রায়হানঃ কাবা মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে, পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।কাবা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ মুকাআব অর্থ ঘন থেকে।কাবা একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত। (The Kaaba, meaning cube in Arabic, is a square building elegantly draped in a silk and cotton veil.)।যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।কাবার ভৌগোলিক অবস্থান ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব।পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর বায়তুল্লাহ বা পবিত্র কাবা ঘর ।আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে তা মক্কা নগরীতে। (সুরা আল ইমরান - ৯৬)। “প্রথম মাসজিদ বায়তুল্লাহিল হারাম তারপর বাইতুল মাকদিস, আর এ দুয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো চল্লিশ বছরের”।(মুসলিম- ৫২০)। ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি ...