সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মুহাম্মদ বিন কাসিমের পতন: ক্ষমতা, রাজনৈতিক কোন্দল এবং এক ট্র্যাজিক অধ্যায়

মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুতে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তবে তাঁর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর জীবনপ্রদীপ যেভাবে নিভে গিয়েছিল, তা অত্যন্ত করুণ এবং বিতর্কিত। সাধারণ ইতিহাস কিংবা উপকথার বাইরে গিয়ে যদি ইবনে আল-বালাজুরি, জি. আর. হটিং কিংবা পি. কে. হিটি-র মতো ইতিহাসবিদদের সূত্র বিশ্লেষণ করা হয়, তবে দেখা যায় যে তাঁর মৃত্যু মূলত উমাইয়া খিলাফতের অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফলাফল ছিল। ১. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ও মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থান মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থানের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তাঁর অভিভাবক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের । ৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান হাজ্জাজকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করেন। ৭০৫ সালে আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর নতুন খলিফা আল-ওয়ালিদও হাজ্জাজকে তাঁর পদে বহাল রাখেন। এই হাজ্জাজের নেতৃত্বেই মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি সেখানে উমাইয়া শাসন সুদৃঢ় করেন। ২. অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উত্তরাধিকার সংকট হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কঠোর শাসন খিলাফতের ভেতরে বহু শত্রুর জন্ম দিয়েছিল: মুহাল্লাব পরিবারের সাথে দ্বন...

তাজিকিস্তান

 


তাজিকিস্তান আয়তনে মধ্য এশিয়ার একটি ক্ষুদ্রতম স্থলবেষ্টিত দেশ। এর উত্তরে কিরগিজস্তান, উত্তরে ও পশ্চিমে উজবেকিস্তান, পূর্বে গণচীন এবং দক্ষিণে আফগানিস্তান।প্রায় ৯০ শতাংশ পর্বতমালা নিয়ে গড়ে উঠেছে তাজিকিস্তান। দেশটির জলভাগের পরিমাণ আয়তনের মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ। দেশটির প্রধান দুটি পর্বতমালার নাম পামির এবং আলায়। তাজিকিস্তানে অবস্থিত পৃথিবীর ছাদ খ্যাত পামির মালভূমি পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।এটি মধ্যএশিয়ার দরিদ্র রাষ্টগুলোর মধ্যে অন্যতম।তাজিকিস্তান জাতিসংঘ, সিআইএস, ওএসসিই, ওআইসি, ইসিও, এসসিও এবং সিএসটিও এর সদস্য।

রাজধানী : দুশানবে।১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর শহরটি স্বাধীন তাজিকিস্তানের রাজধানীতে পরিণত হয়।

আয়তন : ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০০ বর্গ কিলোমিটার।

 

জনসংখ্যা : ২০১২ সালের পরিসংখ্যান মতে জনসংখ্যা ৭৭ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮৫ জন।

জাতিগোষ্ঠী : ২০০০ সালের শুমারী অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার ৭৯ দশমিক ৯ ভাগ তাজিক, ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ উজবেক, ১ দশমিক ১ শতাংশ রাশিয়ান, কিরগিজ ১ দশমিক ১ শতাংশ এবং বাকি ২ দশমিক ৬ শতাংশ অন্যান্য।

ধর্ম : জনসংখ্যার ৯৮ শতাংশ মুসলমান, যাদের ৯৫ শতাংশ সুন্নি ও ৩ শতাংশ শিয়া। এ ছাড়া রয়েছে কিছু সুফিবাদী। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসা প্রজাতন্ত্রগুলোর মধ্যে এটিই একমাত্র দেশ যেখানে ইসলাম ২০০৯ সালে রাষ্ট্রীয় ধর্মের মর্যাদা লাভ করে।সুন্নিদের বেশির ভাগই হানাফি মাজহাবের অনুসারী। আল্লামা রুমি (রহ.)-এর শায়খ খাজা শামসুদ্দীন তিবরিজের আধ্যাত্মিক গুরু কামালুদ্দিন খুজন্দি (রহ.)ও এখানকার সন্তান বলে ধারণা করা হয়। ২ শতাংশের মধ্যে অর্থোডক্স, প্রোটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিক খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও ইহুদি রয়েছে।

দাপ্তরিক ভাষা : তাজিক। এদের মধ্যে তাজিক ভাষাতে প্রায় ৬২% লোক এবং রুশ ভাষাতে প্রায় ৫% লোক কথা বলেন। তাজিকিস্তানে প্রচলিত অন্যান্য ভাষাগুলির মধ্যে আছে উজবেক ভাষা (১৬% বক্তা), ফার্সি ভাষা এবং পশতু ভাষা।

মুদ্রা : সোম।

জাতিসংঘে যোগদান : ২ মার্চ ১৯৯২।

নামকরণ

তাজিকিস্তানের শাব্দিক অর্থ তাজিকদের আবাসস্থল। যেখানে ফার্সি স্থান অনুসর্গ ব্যবহৃত যার অর্থ জায়গাবা দেশ ।বিশং শতাব্দীর শেষ কয়েকটি দশকে সোভিয়েত প্রশাসনের অধীনে চলে যাওয়ার পরই এ নামটি তাজিকদের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এর আগে কখনো ইরানের কোনো অংশের জন্য অথবা ইরানি ভাষাভাষী লোকদের জন্য এ শব্দটি ব্যবহৃত হতো। সোভিয়েত প্রশাসনই মধ্য এশিয়ার তাজিক জনগণের জন্য এ শব্দটি নির্বাচন করে।তাজিকিস্তানের বেশির ভাগ জনগণ তাজিক জাতির লোক। তাই এটি ‘তাজিকিস্তান’—অর্থাৎ তাজিক জাতির আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।

ইতিহাস

তাজিকিস্তান নামে যে স্থানটি বর্তমানে পরিচিত তার পত্তন হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০০ বছর আগে। তখন থেকে এ ভূখণ্ডটি বিভিন্ন সম্রাটের শাসনাধীনে ছিল। বিশেষ করে পারস্যের সম্রাটদের অধীনে এ ভূখণ্ডটি থাকে দীর্ঘ সময় ধরে। বুদ্ধ-পূর্ব যুগে আধুনিক তাজিকিস্তান জারাভশান ভ্যালির অন্তর্ভুক্ত হয়ে কামবোজার অংশ ছিল। আর তখন কামবোজা সাম্রাজ্যটি শাসন করত পারস্যের আচেহমানিদ সম্রাটরা। আলেকজান্ডারের হাতে পারস্য সম্রাটদের পরাজিত হওয়ার পর এ অঞ্চলটি গ্রেসো-ব্যাকট্রিয়ান সাম্রাজ্যের উত্তরাংশ হিসেবে পরিগণিত হয়।খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীর শেষাংশ থেকে শুরু করে দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রথমাংশ পর্যন্ত এটি ব্যাকট্রিয়ান সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবেই থাকে। এরপর এটা হয়ে যায় তুর্কিস্তানের অংশ। তারপর কিছু দিন এটি চীন সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে গণ্য হয়।

একসময় উজবেকিস্তান, কিরঘিজস্তান ও তাজিকিস্তানের পুরো এলাকা একসঙ্গে ছিল। হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে মুসলমানরা এই অঞ্চল জয় করে নেয়। সম্রাট সামানি আরবদের উচ্ছেদ করেন। সে সময় তিনি সমরকন্দ ও বোখারাকে আরো বড় ও সমৃদ্ধ করে তোলেন। এর পর থেকে উভয় শহর তাজিকদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গণ্য হতে থাকে (উভয় শহরই এখন উজবেকিস্তানের অন্তর্গত)। এরপর মঙ্গোলরাও কিছু সময়ের জন্য এর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এমনিভাবে বিভিন্ন সাম্রাজ্যের অধীনে কখনো এই অংশের সাথে কখনো ওই অংশের সাথে যুক্ত হয়ে এগিয়ে গেছে তাজিকিস্তানের ইতিহাসতাজিকিস্তান এর নাম শুনা যায়সামানি সাম্রাজ্য (৮৭৫-৯৯৯) থেকে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে রাশিয়ার সম্রাটরা মধ্য এশিয়ায় তাদের সাম্রাজ্য বিস্তার করতে থাকেন। ১৮৬৪ এবং ১৮৮৫ সালের মধ্যে রাশিয়া উত্তরে বর্তমান কাজাখস্তান, পশ্চিমে কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত এবং দক্ষিণে আফগানিস্তান সীমান্ত পর্যন্ত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।১৯১৭ সালে এ অঞ্চলে যখন রাশিয়ার ক্ষমতা কমিউনিস্টদের হাতে চলে যায়। তখন এ অঞ্চলের তুর্কিস্তানের অংশের ক্ষমতা দখল করে নেয় বলশেভিকরা। এ ক্ষোভ থেকেই বাসমাচি গোষ্ঠী গেরিলা কার্যক্রম শুরু করে। পরে তারা বলশেভিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং সোভিয়েত শাসনাধীন খিভা ও বোখারা জয় করে নেয়। কিন্তু এরপর বিভিন্ন কারণে তাদের এই স্বাধীনতা আন্দোলন ব্যর্থ হয়ে পড়ে। চার বছরব্যাপী এ যুদ্ধের পর বলশেভিক সৈন্যরা তাজিকিস্তানের গ্রাম ও মসজিদগুলো পুড়িয়ে দেয় এবং লোকজনকে ব্যাপক হারে গ্রেফতার করে। এর পর থেকে সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের প্রচারণা শুরু করে। এ সময় তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের নির্যাতন করতে থাকে। একই সময় মসজিদ, চার্চ ও সিনাগগগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়।১৯২২ সালেই বাসমাচি আন্দোলন স্তব্ধ হয়ে গেলেও সোভিয়েত সরকার প্রতিবিপ্লব দমন করার জন্য মধ্য এশিয়াকে জাতিভিত্তিক পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান নামে দু’টি ইউনিয়ন প্রজাতন্ত্র স্থাপন করে। এ সময় তাজিক ও কিরগিজ নামের দুইটি স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্র স্থাপিত হলেও এগুলো ছিল উজবেক সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের অংশ। ১৯২৯ সালে তাজিকিস্তানকে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রে পরিণত করা হয়। এ সময়ে জীবনযাত্রার মান, শিক্ষা এবং শিল্প সব দিক দিয়েই তাজিকিস্তান সোভিয়েতের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর পেছনে পড়ে যায়।এ অঞ্চলের মুসলমানরা আগে থেকেই রুশদের নির্যাতনে জর্জরিত ছিল; কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার পর নির্যাতনের মাত্রা তুঙ্গে পৌঁছে যায়। সব মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয়, নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করা হয়। দ্বীনি শিক্ষা তো দূরের কথা, কোরআন শরিফ নিজের কাছে রাখাও সে যুগে অপরাধ বলে সাব্যস্ত করা হতো। কোনো আলেম প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলেই তাঁকে অত্যন্ত ভয়ংকর মৃত্যুর মুখে পড়তে হতো। প্রায় ৭৪ বছর মুসলমানরা কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে পার করেছে, কিন্তু সেখানকার ওলামায়ে কেরাম এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইসলামকে টিকিয়ে রাখার জন্য নজিরবিহীন ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাঁরা লুকিয়ে লুকিয়ে নামাজ আদায় করতেন, দ্বীনি শিক্ষা দিতেন। গভীর রাতে যখন মানুষ স্বপ্নের রাজ্যে বিচরণ করত, তাঁদের কামরা তখন দ্বীনি ইলমের আলোয় আলোকিত হয়ে থাকত। তাঁরা আরামের ঘুম বিসর্জন দিয়েছাত্রদের ইলম শিক্ষা দিতেন। যার ফলে ৭৪ বছর নির্যাতনের চাকায় পিষ্ট হয়েও তাঁরা নিজেদের ইমান-আমল ঠিক রেখেছিলেন।১৯৯০ সাল পর্যন্ত এ অবস্থাই চলতে থাকে। সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ দিকে বিশেষ করে ১৯৮৯ সালে মিখাইল গর্বাচভের আমলে ইসলাম চর্চার ওপর নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা হয়। সে সময় ইসলাম এবং অর্থডক্স খ্রিস্টধর্মের চর্চা বেশ খোলামেলাভাবেই শুরু হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান চালু হয়, মসজিদগুলো খুলে দেয়া হয়, নতুন নতুন মসজিদ নির্মিত হয়। ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন তাজিকিস্তান থেকে তার নিয়ন্ত্রণ গুটিয়ে নেয় এবং তাজিকিস্তান ১৯৯০ সালে ৯ সেপ্টেম্বর নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে।ইরান সর্বপ্রথম তাজিকিস্তানকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তারাই প্রথম তাজিক রাজধানী দুশানবেতে তাদের দূতাবাস স্থাপন করে।স্বাধীনতার ঠিক পরপরই দেশটিতে সাম্যবাদী সরকার ও ইসলামপন্থাবিরোধী দলগুলোর মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।এ সময় অমুসলিম নাগরিক বিশেষ করে ইহুদি এবং রুশরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। নির্যাতন ও দারিদ্র্যের আশঙ্কা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির আশায় তারা পাশের অন্যান্য প্রাক্তন সোভিয়েত দেশে পালিয়ে যায়। ১৯৯৪ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এমোমালি রেহমান তার পূর্বসূরি আব্দুল মালিক আব্দুল্লাহ জানবকে পরাজিত করে ক্ষমতায় আসেন। ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে রেহমান ৯৮ শতাংশ ভোটে এবং ২০০৬ সালের নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো ৭৯ শতাংশ ভোট নিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন।১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর মার্কিন, ভারতীয় এবং ফ্রেঞ্চ সৈন্যও দেশটিতে ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে।যুদ্ধ অবসানের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক সাহায্য দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে শুরু করে। তবে অন্যান্য মধ্য এশীয় দেশগুলোর মতনই বিভিন্ন এনজিও দেশটিতে স্বেচ্ছাচারী শাসন ব্যবস্থা। তবে সব কিছু ছাপিয়ে তাজিকদের যে বিষয়টি গর্ব করার মতো তা হলো, দেশটির ৯৯.৫ শতাংশ লোক লিখতে ও পড়তে পারে।

 

তাজিকিস্তানে ইসলাম

মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারকারী ধর্ম ইসলাম এসেছে সপ্তম শতাব্দীতে আরবদের মাধ্যমে। সে সময় থেকেই ইসলাম তাজিক সংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়। ইসলামী ও পার্সিয়ান উভয় সংস্কৃতির সমন্বয়ে স্থাপত্যশৈলী মধ্য এশিয়ায় ব্যাপক প্রসিদ্ধি অর্জন করে। তাজিক জাতির পিতা বলে খ্যাত ইসমাঈল সামানাই এ অঞ্চলে মুসলিম মিশনারীর কার্যক্রমে ব্যাপক সহায়তা করেন। মধ্য এশিয়ার জনগণ ব্যাপকভাবে ইসলাম গ্রহণ শুরু করে, বিশেষ করে তারাজে-আধুনিক যুগে যাকে কাজাখস্তান বলে সবাই চেনে।

বর্তমান মুসলমানদের অবস্থা

সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ দিকে বিশেষ করে ১৯৮৯ সালে মিখাইল গর্বাচভের আমলে তাজিকিস্তানে ইসলাম চর্চার ওপর নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা হয়। সে সময় ইসলাম এবং অর্থডক্স খ্রিস্টধর্মের চর্চা বেশ খোলামেলাভাবেই শুরু হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান চালু হয়, মসজিদগুলো খুলে দেওয়া হয়, নতুন নতুন মসজিদ নির্মিত হয়। তাসখন্দকে ভিত্তি করে মধ্য এশিয়ায় ইসলামিক বোর্ড গঠিত হয়। বহু আলেম নিভৃতবাস থেকে বেরিয়ে এসে প্রকাশ্যে ওয়াজ-নসিহত করতে থাকেন। শুরু হয় তাবলিগের কাজও। টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমায় তাজিকিস্তান থেকে বেশ কয়েকটি জামাত অংশ নেয়।তাজিকিস্তানের জনগণ ধর্মভীরু। তাঁরা নিজেদের মতো করে ধর্মচর্চা করে থাকেন। বিশেষ করে পাশে আফগানিস্তান থাকায় সেখানকার ভাবধারায় প্রভাবান্বিত হয়ে ধর্মচর্চার প্রভাব অত্যধিক। বহু পবিবারের শিশু বিদেশে, বিশেষ করে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে গিয়ে মাদ্রাসায় শিক্ষা গ্রহণ করে। কিন্তু সে দেশের সরকারের জন্য এটা বিব্রতকর। পশ্চিমা ধাঁচের সরকার অন্য সব দেশের মতো সেখানেও জঙ্গি তালাশ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন দেশের জনগণকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের পড়ালেখা না করানোর জন্য পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, এর ফলে ভবিষ্যতে সন্তানরা সন্ত্রাসী হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এর আগে ২০০৫ সালে দেশটির সেক্যুলার স্কুলগুলোয় মেয়েদের হিজাব পরিধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু দেশটির মহিলারা নিজেদের ঐতিহ্য হিসেবেই হিজাব পরে থাকেন।রাস্তায় প্রচুর দাড়ি-টুপিওয়ালা মুসলমান ও হিজাব পরা মুসলিম মহিলাদের দেখা যায়। সবমিলিয়ে বলা চলে, তাজিকিস্তানে মুসলমানরা দীর্ঘকালের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চার সুযোগ পেয়ে খুশি।

কিছু ক্ষেত্রে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও তাজিকিস্তান সরকারের কিছু উদ্যোগ বিশ্বের মুসলিমদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—তাজিক সরকার ২০০৯ সালকে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বর্ষ হিসেবে পালন করেছে। সে বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদদের আমন্ত্রণ জানানো হয় একটি আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামে। ২০১০ সালে বিশ্ব ইসলামী সংস্থা ওআইসির একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবে। এতে বিশ্বের ৫৬টি মুসলিম দেশের প্রতিনিধিরা যোগদান করেন। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে রাজধানী দুশানবে। কাতারের অর্থায়নে এ মসজিদের নির্মাণকাজ ২০০৯ সাল থেকে চলে আসছে। এ ছাড়া গত বছর তাজিকিস্তানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের হাই স্কুলগুলোতে ইসলামী ইতিহাস যোগ করার ঘোষণা দিয়েছে, যা এ বছর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

বর্তমানে তাজিকিস্তানের রাজধানীতে শতাধিক মসজিদ রয়েছে। অথচ সোভিয়েত আমলে কমিউনিস্টরা অনেক মসজিদ ধ্বংস করেছিল পুরো তাজিকিস্তানের। দুশানবেতে তখন মসজিদ বলতে অবশিষ্ট ছিলো- এই ইমাম আবু হানিফা মসজিদ। তখন মাইকে আজান নিষিদ্ধ ছিলোআর মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার অনুমতি মিলত শুধু ষাটোর্ধ্বদের। যাদের তখন চাকরির বয়স শেষ।তাজিকিস্তানে এখন মসজিদকেন্দ্রিক প্রচুর মাদরাসাও রয়েছে। রাস্তায় প্রচুর দাড়ি-টুপিওয়ালা মুসলমান ও হিজাব পরা মুসলিম মহিলাদের দেখা যায়। সবমিলিয়ে বলা চলে, তাজিকিস্তানে মুসলমানরা দীর্ঘকালের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চার সুযোগ পেয়ে খুশি।

তাজিকিস্তানের রাজনীতি

তাজিকিস্তানের রাজনীতি একটি রাষ্ট্রপতিশাসিত প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন একাধারে রাষ্ট্রের প্রধান ও সরকারপ্রধান। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার এবং ৬৩ সদস্যবিশিষ্ট দ্বিকাক্ষিক আইনসভা উভয়ের উপর ন্যস্ত। ২০০৩ সালের নতুন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ৭ বছর মেয়াদের জন্য জনগনের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে এমোমালি রাহমন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তবে তিনি ১৯৯৪ সাল থেকেই দেশটির শাসক। প্রধানমন্ত্রীর পদের তেমন কোন ক্ষমতা নেই। সংবিধান অনুসারে বিচার বিভাগ সরকার থেকে স্বাধীন।

প্রেসিডেন্টের নামের টাইটেল-

সংবাদ মাধ্যমে এখন আর শুধুমাত্র প্রেসিডেন্ট এমোমালি রাখমান বললেই চলবে না। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, তার এই পরিচয়ই যথেষ্ট নয়।প্রেসিডেন্টের বিষয়ে কোনো খবর পরিবেশন করতে গেলে তার নামের সময় বলতে হবে,"দ্যা ফাউন্ডার অফ পিস এন্ড ন্যাশনাল ইউনিটি, লিডার অফ দ্য ন্যাশন, প্রেসিডেন্ট অফ দ্য রিপাবলিক অফ তাজিকিস্তান, হিজ এক্সিলেন্সি এমোমালি রাখমান।" "শান্তি এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতিষ্ঠাতা, জাতির নেতা, তাজিকিস্তান প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট, মহামান্য এমোমালি রাখমান।"বলা হচ্ছে, টেলিভিশনে খবরের সময় টিভির পর্দায় প্রেসিডেন্টের পুরো নাম এভাবে তুলে ধরতে ১৫ সেকেন্ডের মতো সময় লাগছে।

অর্থনীতি

মধ্য এশিয়ার দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোর অন্যতম হচ্ছে তাজিকিস্তান। দেশটির বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থানও তেমন একটা সুবিধাজনক স্থানে নেইঅর্থনৈতিক খাতে ব্যাপক দুর্নীতি, সংস্কারের ক্ষেত্রে অপূর্ণতা এবং অব্যবস্থাপনাকেই এর জন্য মূল দায়ী হিসেবে ধারণা করা হয়। ২০০১ সালে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই খারাপের দিকে চলে যায় যে, সে বছরের ২১ আগস্ট রেড ক্রস দেশটিকে দুর্ভিক্ষ আক্রান্ত দেশ বলে ঘোষণা করে দেশটির জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রার্থনা করে। পরবর্তী বছরগুলোতে তাজিকিস্তান কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে এবং পার্শ্ববর্তী তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে পৌঁছে যায়।

সম্প্রতি দেশটিতে আনজাব টানেল নির্মাণ শেষ হয়েছে, যা পর্বতময় দেশটির উত্তরাঞ্চলের সাথে রাজধানীর যোগাযোগকে সহজ করবে। এ টানেলটি ইরান ও আফগানিস্তানের সাথে দেশটির যোগাযোগের জন্য রাস্তার অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। আর এ বিষয়টি দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থাকে আরো সমৃদ্ধ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় তাজিকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে একটি ব্রিজ নির্মিত হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার সাথে তাজিকিস্তানের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে মজবুত করতে সাহায্য করবে। দেশটির অর্থ খাতের প্রধান ভূমিকা পালনকারী বিষয়গুলো হচ্ছে অ্যালুমিনিয়াম ও তুলা এবং প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। রাষ্ট্র পরিচালিত অ্যালুমিনিয়াম ফ্যাক্টরি ট্যালকো মধ্য এশিয়ার বৃহত্তম অ্যালুমিনিয়াম কোম্পানি। এ ছাড়া দেশটি হাইড্রোইলেকট্রিক শক্তি উৎপাদনে বিশ্বে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এ খাতে দেশটিতে রাশিয়া, চীন ও ইরান অর্থ বিনিয়োগ করছে।[

তাজিকিস্তানের অর্থনীতিতে প্রবাসী বিশেষ করে রাশিয়াতে বসবাসকারী তাজিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গত কয়েক বছরের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে এর অবদান অসামান্য। বৈধ আয়ের পাশাপাশি তাজিকিস্তানে অবৈধ অর্থের আমদানিও রয়েছে বেশ। মাদক উৎপাদন ও পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে তাজিকিস্তান এ খাতে প্রচুর অর্থ আয় করে থাকে। এ অর্থ তাজিকিস্তানের সরকার প্রশাসনকেও প্রভাবিত করে থাকে। সরকারের প্রভাবশালী কয়েকজন সদস্য এর সাথে জড়িত থাকায় দেশটি মাদকচক্র থেকে মুক্ত হতে পারছে না। তার পরও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রচেষ্টায় সাম্প্রতিক সময়ে এ প্রবণতা কিছুটা কমেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য

তাজিকিস্তানের সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেশটি স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে বেশ দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। ২০০০ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশটিতে প্রতি এক লাখ লোকের জন্য চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ২০৩ জন। দেশটিতে মৃত্যুহার হাজারে ৫৯ জন। পুরো বিশ্ব থেকে পোলিও প্রায় নির্মূল হলেও তাজিকিস্তানে এ রোগটি বাড়ছেই। ২০০৮-০৯ সালে শূন্যের কোঠায় থাকলেও ২০১০ সালে দেশটিতে পোলিও রোগীর পরিমাণ ছিল ১৪১ জন, যখন পুরো বিশ্বে এ রোগীর পরিমাণ ছিল ২৩৭ জন।[৪]

শিক্ষা

দেশটি ২০০২ সাল থেকে তার জিডিপি’র ৩.৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে খরচ করে আসছে। তবে এর পরও সার্বিকভাবে দেশটির শিক্ষা খাতকে তেমন উন্নত বলা যায় না। ইউনিসেফের দেয়া এক তথ্যমতে দারিদ্র্য এবং লিঙ্গবৈষম্যের কারণে প্রতি বছর ২৫ শতাংশ মেয়েশিশু প্রাইমারি শিক্ষা সমাপ্ত করতে পারে না। তার আগেই তারা ঝরে যায়। তবে সব কিছু ছাপিয়েও তাজিকদের যে বিষয়টি গর্ব করার মতো তা হলো দেশটির ৯৯.৫ শতাংশ লোক লিখতে ও পড়তে পারে।[৪]

খেলাধুলা

পর্বতময় তাজিকিস্তানের খেলাধুলাও পাহাড়পর্বতকেন্দ্রিক। পাহাড়ে হাঁটা, উঁচু পাহাড়ে আরোহণ করা ইত্যাদিই এখানকার প্রধান খেলা হিসেবে পরিচিত। প্রতি মৌসুমে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্বত এজেন্সিগুলো বিভিন্ন খেলার আয়োজন করে থাকে। এর পাশাপাশি দেশটিতে ফুটবলও একটি জনপ্রিয় খেলা। তারা ফিফা ও এএফসি আয়োজিত বিভিন্ন খেলায় অংশ নিয়ে থাকে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...

কাবা ঘর নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মো. আবু রায়হানঃ কাবা মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে, পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।কাবা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ মুকাআব অর্থ ঘন থেকে।কাবা একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত। (The Kaaba, meaning cube in Arabic, is a square building elegantly draped in a silk and cotton veil.)।যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।কাবার ভৌগোলিক অবস্থান ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব।পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর বায়তুল্লাহ বা পবিত্র কাবা ঘর ।আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে তা মক্কা নগরীতে। (সুরা আল ইমরান - ৯৬)। “প্রথম মাসজিদ বায়তুল্লাহিল হারাম তারপর বাইতুল মাকদিস, আর এ দুয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো চল্লিশ বছরের”।(মুসলিম- ৫২০)। ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি ...