সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মুহাম্মদ বিন কাসিমের পতন: ক্ষমতা, রাজনৈতিক কোন্দল এবং এক ট্র্যাজিক অধ্যায়

মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুতে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তবে তাঁর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর জীবনপ্রদীপ যেভাবে নিভে গিয়েছিল, তা অত্যন্ত করুণ এবং বিতর্কিত। সাধারণ ইতিহাস কিংবা উপকথার বাইরে গিয়ে যদি ইবনে আল-বালাজুরি, জি. আর. হটিং কিংবা পি. কে. হিটি-র মতো ইতিহাসবিদদের সূত্র বিশ্লেষণ করা হয়, তবে দেখা যায় যে তাঁর মৃত্যু মূলত উমাইয়া খিলাফতের অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফলাফল ছিল। ১. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ও মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থান মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থানের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তাঁর অভিভাবক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের । ৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান হাজ্জাজকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করেন। ৭০৫ সালে আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর নতুন খলিফা আল-ওয়ালিদও হাজ্জাজকে তাঁর পদে বহাল রাখেন। এই হাজ্জাজের নেতৃত্বেই মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি সেখানে উমাইয়া শাসন সুদৃঢ় করেন। ২. অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উত্তরাধিকার সংকট হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কঠোর শাসন খিলাফতের ভেতরে বহু শত্রুর জন্ম দিয়েছিল: মুহাল্লাব পরিবারের সাথে দ্বন...

ইয়েমেন

 


 

ইয়েমেন মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ। দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়াতে আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে ওমান ও সৌদি আরবের মধ্যখানে ইয়েমেন অবস্থিত।ইয়েমেনের পশ্চিমে লোহিত সাগর এবং দক্ষিণে এডেন উপসাগর। এটি আফ্রিকা মহাদেশ থেকে বাব এল মান্দেব প্রণালীর মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন। দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বে সৌদি আরব এবং পূর্বে ওমান অবস্থিত। সৌদি আরব ও ওমান ইয়েমেনের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। ১৯৯০ সালে ইয়েমেন আরব প্রজাতন্ত্র (উত্তর ইয়েমেন) এবং গণপ্রজাতন্ত্রী ইয়েমেন (দক্ষিণ ইয়েমেন) দেশ দুইটিকে একত্রিত করে ইয়েমেন প্রজাতন্ত্র গঠন করা হয়। আরব বসন্তের পর দেশটি গরিব হয়।২০১৭সালে ইতিহাসের ৮ দশকের সবছে বড় দুর্ভিক্ষ হয়।বিংশ শতাব্দীর শেষে এসে এখানে খনিজ তেল আবিষ্কার হলে ইয়েমেনের অর্থনৈতিক উন্নতি ও জনগণের জীবনের মান উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

রাজধানীঃ সানা’আ ইয়েমেন রাজধানী ও বৃহত্তম শহর

আয়তনঃ ৫,২৭,৯৭০ বর্গকিমি।

জনসংখ্যাঃ২ কোটি ৪০ লাখ

ধর্মঃ জনসংখ্যার শতকরা ৯৯ ভাগ মুসলিম এবং বাকি এক ভাগ অমুসলিম। মুসলিমদের মধ্যে শতকরা ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ সুন্নি এবং ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ শিয়া।

ভাষা ইয়েমেনী আরবি ভাষায় কথা বলেন। দেশের দক্ষিণ-পূর্বে ওমান ও সৌদি আরবের সাথে সীমান্তবর্তী এলাকায় মেহরি নামের দক্ষিণী আরবি ভাষার প্রচলন আছেসাম্প্রতিক বছরগুলিতে সোমালিয়া থেকে আগত লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে অভিবাসী সোমালি সম্প্রদায়ে সোমালি ভাষার প্রচলন আছে। ইয়েমেন পাহাড়ি ও রুক্ষ অঞ্চল বলে এখানকার প্রায়-বিচ্ছিন্ন লোকালয় ও সম্প্রদায়গুলিতে প্রচলিত আরবি ভাষার মধ্যে বিচিত্রতার পরিমাণ বেশি এবং এগুলিতে প্রাচীন আরবির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য এখনও সংরক্ষিত।

মুদ্রাইয়েমেনি রিয়াল

প্রাচীন ইতিহাস

খ্রিস্টপূর্ব ২,০০০ অব্দের দিকে উত্তর ইয়েমেনে প্রথম জনবসতি গড়ে ওঠেখ্রিস্টপূর্ব ১৪০০ অব্দের দিকে এ অঞ্চল ব্যবসায়ীদের জন্য অতি উত্তম রুট হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে। খ্রিস্টের সময়ে এ অঞ্চলের স্বাভাবিক গতি মন্থর হয়ে পড়ে। এ সময়ে আবিসিনিয়া (ইথিওপিয়া) এ অঞ্চল দখল করে। পরবর্তী প্রায় ১৩০০ বছর এ অঞ্চলের বিভিন্ন উপজাতি ও ধর্মীয় গোত্র মিশরীয় ও অটোম্যানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। ১৯১৮ সালে অটোমান শাসকদের কবল থেকে মুক্ত হলেও ইয়েমেন ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনের কলোনি হিসেবে পরাধীনতার ঘানি ও গ্লানি বহন করেছে। বিংশ শতাব্দীর বেশিরভাগ সময় ইয়েমেন দুই ভাগে বিভক্ত ছিল।

ইসলামের আগমন

আরবে মুসলিম জাগরণের পরপরই এ অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রসার লাভ করে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মুসলমান উপজাতীয় প্রধানরা এ অঞ্চল শাসন করে আসছিল ৮৯৭ সালের গোড়ার দিকে একজন ইমামের নেতৃত্বে এদেশ শাসিত হতে থাকে।

জায়েদিয়া

জায়েদিয়া হল ইমাম জায়েদ ইবনে আলীর অনুসারী শিয়া সম্প্রদায়। এদের প্রায়শই পঞ্চমীবা পাঁচ ইমামি নামে অবিহিত করা হয়। জায়েদি, দ্বাদশী ও ইসমাইলিরা অভিন্নভাবে প্রথম চার ইমামকে স্বীকৃতি দেয়; তবে জায়েদিরা জ়ায়েদ ʾইবনে ʿআলীকে পঞ্চম ইমাম হিসেবে গণ্য করে। ইয়েমেনের জনসংখ্যার শতকরা ৪২ থেকে ৪৭ ভাগ জায়েদি মতাবলম্বী ।বহুল আলোচিত হুথিগণ এদের মধ্যে অন্যতম। শিয়াদের মধ্যে এরা সবচেয়ে প্রাচীন। আগে এদের রমরমা অবস্থা থাকলেও ১৯৬২ সালে ইমামত লোপের পরে তারা বেকায়দায় পড়েছে।

আধুনিক ইতিহাস

১৫১৭ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত উত্তর ইয়েমেন অটোম্যান সাম্রাজ্যের অধীন ছিল। ১৯২৪ সালে এদেশ লাওসান চুক্তির মাধ্যমে অটোম্যান সাম্রাজ্য থেকে মুক্ত হয়। প্রাচীনকাল থেকেই লোহিত সাগর ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে সমুদ্রপথের একমাত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে আরব সাগর তীরবর্তী দণি ইয়েমেন বাণিজ্যিক দিক দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকায় এ অঞ্চলের জীবনযাত্রার মান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরই মধ্যে সমুদ্রপথে একটি ব্রিটিশ জাহাজের ধ্বংসাবশেষ চুর হয়ে যাওয়ার অজুহাতে ১৮৩৯ সালে বৃটেন এডেন দখল করে১৯৩৭ সালে এ অঞ্চল ব্রিটিশ রাজশাসনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এডেন ব্রিটিশ ভারতের অংশ হিসেবে শাসিত হয়ে আসছিল। ১৯৬৭ সালের ৩০ নভেম্বর দক্ষিণ ইয়েমেন স্বাধীনতা লাভ করে।১৯৯০ সালের মে মাসের পূর্ব পর্যন্ত এদেশ দুটি আলাদা রাষ্ট্র উত্তর ইয়েমেন এবং দক্ষিণ ইয়েমেন নামে বিভক্ত ছিল। উভয় দেশ একত্রিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত উত্তর ইয়েমেন গণপ্রজাতন্ত্রী এবং দক্ষিণ ইয়েমেন কমিউনিস্ট শাসনাধীনে ছিল।

দুই ইয়েমেন একত্রিত

১৫১৭ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত উত্তর ইয়েমেন অটোম্যান সাম্রাজ্যের অধিনস্থ ছিল। ১৯২৪ সালে এদেশ লাওসান চুক্তির মাধ্যমে অটোম্যান টার্ক সাম্রাজ্য থেকে মুক্ত হয়। উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর উত্তর ইয়েমেনের সৃষ্টি হয়। তবে এসময় দক্ষিণ ইয়েমেন ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। ১৯৬৭ সালের ৩০ নভেম্বর দক্ষিণ ইয়েমেন স্বাধীনতা লাভ করে।ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন তথা ব্রিটিশ বাহিনী প্রত্যাহারের পরে উত্তর ইয়েমেন ও দক্ষিণ ইয়েমেন নামক দুটো নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইয়েমেনিদের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার গোড়া পত্তন ঘটে।উত্তর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর গোত্রীয় প্রতিনিধিত্ব অন্তর্ভুক্ত করে এখানে প্রজাতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। তেলের মুনাফা এবং তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রসমূহে কর্মরত নাগরিকদের কাছ থেকে রাষ্ট্রের ভালো আয় হত। দক্ষিণ ইয়েমেনে মার্ক্সবাদীদের উত্থান ঘটে।ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট প্রথমে দেশের নেতৃত্ব দেয়। পরবর্তীতে তা ইয়েমেন সোশ্যালিস্ট পার্টি হিসেবে রূপ ধারণ করে। এসময় দক্ষিণ ইয়েমেন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক সহায়তা ও অন্যান্য সমর্থন লাভ করত।১৯৭২ সালের অক্টোবরে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের মধ্যে লড়াই শুরু হয়। সৌদি আরব ও সোভিয়েত ইউনিয়ন যথাক্রমে উত্তর ইয়েমেন ও দক্ষিণ ইয়েমেনকে সমর্থন দিয়েছিল। তবে সংঘর্ষ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। দুই রাষ্ট্রকে একীভূত করার জন্য ১৯৭২ সালের ২৮ অক্টোবর কায়রো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৯৭৯ সালে দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। তবে এই সংঘর্ষও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।১৯৮০ এর দশকের শেষদিকে দুই রাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী এলাকায় তেল আবিষ্কারের পর একত্রীকরণের ব্যাপারে দুই পক্ষ আগ্রহী হয়। ১৯৮৮ সালের মে মাসে দুই সরকার সমঝোতায় উপনীত হয়। এর ফলে একত্রীকরণ নিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়। একই মাসে খনিজ ও তেল সমপদে বিনিয়োগের জন্য কোম্পানি গড়ে উঠে।১৯৮৯ সালের নভেম্বরে উত্তর ইয়েমেনের আলি আবদুল্লাহ সালেহ এবং দক্ষিণ ইয়েমেনের আলি সালিম আল-বাইদ একটি যৌথ খসড়া সংবিধান গ্রহণ করেন। এতে সীমান্তের সামরিকীকরণ বন্ধ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে ইয়েমেনিদের সীমানা অতিক্রমের বিধান করা হয় এবং সানাকে রাজধানী করা হয়।১৯৯০ সালের ২২ মে ইয়েমেন আরব প্রজাতন্ত্র (উত্তর ইয়েমেন) এবং গণপ্রজাতন্ত্রী ইয়েমেন (দক্ষিণ ইয়েমেন) দেশ দুইটিকে একত্রিত করে ইয়েমেন প্রজাতন্ত্র গঠন করা হয়। আলি আবদুল্লাহ সালেহ রাষ্ট্রপতি ও আলি সালিম আল-বাইদ প্রধানমন্ত্রী হন

রাজনীতি

ইয়েমেনের রাজনীতি একটি রাষ্ট্রপতিশাসিত প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। সরকারপ্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের উপর ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার এবং আইনসভা উভয়ের উপর ন্যস্ত। বিচার বিভাগ তাত্ত্বিকভাবে নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভা হতে স্বাধীন।

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ

আল জাওফ, হাদরামাউত, আল মাহরাহ , হাজ্জাহ ,'আমরান ,আল মাহভিত , আমানত আল আসিমাহ , সানা ,মা'রিব , আল হুদাইদাহ , রায়মাহ, দামার , ইব্ব , দালে , আল বায়দা , শাবওয়াহ , তাইজ , লাহিজ , আবইয়ান ,আদেন , সোকোটরা

ইয়েমেন সংকট

ইয়েনেন যুদ্ধে সৌদি আরবের জড়িয়ে যাওয়া যেমন ইরান ইস্যুর কারণে, ঠিক তেমনি পশ্চিমা কয়েকটি দেশ জড়িয়েছে তেলস্বার্থ এবং নিরাপত্তার কারণে। লোহিত সাগর ও আদেন উপসাগর দিয়ে বিশ্বের তেল বাণিজ্য অনেকটাই পরিবাহিত হয়। এই অংশটি নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়লে তেল পরিবহনও হুমকির মুখে পড়বে। ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী রাজধানী সানা-সহ দেশটির অধিকাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। সেই সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল হাদি হুথি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে বাঁচতে পালিয়ে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন।প্রেসিডেন্ট হাদির পেছনে রয়েছে সৌদি আরবের সমর্থন এবং হুথি বিদ্রোহীদের হঠাতে সৌদি আরব ওই অঞ্চলের কিছু দেশ নিয়ে গঠিত একটি জোটে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে প্রতিবেশী দেশ ইয়েমেনে হামলা শুরু করে সৌদি আরব। সৌদি আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে শুরু করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।হুতিদের এই উত্থানেই ভয় পেয়ে যায় সৌদি আরব। ধারণা করা হয়, হুতি প্রতিবেশী শিয়া শক্তি ইরানের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা ও সমর্থন পায়। ইরান উপসাগরের আঞ্চলিক রাজনীতির শক্তিশালী খেলোয়াড়। নানাভাবেই ওই অঞ্চলে তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়ছে। মূলত ইরান আতঙ্কের কারণেই আরো আটটি সুন্নি দেশকে সঙ্গে নিয়ে ইয়েমেনে বিমান হামলা শুরু করে রিয়াদ। ওই সময় তাদের মূল লক্ষ্য ছিল, হাদি সরকারকে আবার সানায় প্রতিষ্ঠিত করা। এই জোটকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স। গোড়ার দিকে সৌদি কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে এই যুদ্ধ। কিন্তু এই লড়াই। এখনো চলছে। রিয়াদের ওপর হুতি বিদ্রোহীদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত থাকে। এই হামলা বাড়তে থাকলে ২০১৭ সালের নভেম্বরে ইয়েমেনের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তাদের যুক্তি, হুতি বিদ্রোহীরা ইরান থেকে যে অস্ত্র চোরাচালানের মাধ্যমে পাচ্ছে, তা বন্ধ করতে এই অবরোধ জরুরি। যদিও ইরান কখনোই হুতিদের অস্ত্র দেওয়ার কথা স্বীকার করেনি। কিন্তু এই অবরোধের কারণে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়তে থাকে। বহু লোক খাদ্য সংকটে পড়ে যায়। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৫ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে অন্তত সাত হাজার ২৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১১ হাজার ১৪০ জন। নিহতদের ৬৫ শতাংশই সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিমান হামলায় প্রাণ হারায়। তবে এই গৃহযুদ্ধের ওপর নজর রাখা একটি আন্তর্জাতিক গ্রুপ জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা প্রজেক্ট গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যে পরিসংখ্যান তৈরি করেছে, তাতে দেখা যায়, ২০১৬ সাল থেকে বেসামরিক ও যোদ্ধা মিলে ৬৭ হাজার ৬৫০ জন নিহত হয়েছে। আরো কয়েক হাজার মানুষ মারা গেছে অপুষ্টি, রোগ আর খারাপ স্বাস্থ্যের কারণে।এর মধ্যেই মহামারি আকারে কলেরা ছড়িয়ে গিয়ে ২০১৭ সাল থেকে মারা গেছে প্রায় তিন হাজার জন। এই সমস্যাগুলো খুব সহজেই সমাধান করা যেত। দেশটির মোট জনসংখ্যা দুই কোটি ৪০ লাখ। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ মানুষেরই মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষার প্রয়োজন। অন্তত দুই কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার প্রয়োজন। এর মধ্যে এক কোটি মানুষ দুর্ভিক্ষ থেকে এক কদম দূরে রয়েছে। অন্তত দুই লাখ ৪০ হাজার মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা ২০ লাখ। এসব শিশু চরম পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইয়েমেনে প্রায় ৮৫ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। এ সব শিশু মারাত্মক পুষ্টিহীনতায় ভুগছিল। দেশটির প্রায় ২ কোটি মানুষ পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের সুবিধা পাচ্ছে না।

ইয়েমেন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম দরিদ্র দেশ। ইউএনডিপির দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান গৃহযুদ্ধ যদি ২০২২ সাল পর্যন্ত চলে, তবে ইয়েমেন পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র দেশে পরিণত হবে। তখন দেশটির মোট জনসংখ্যার ৭৯ শতাংশ চলে যাবে দারিদ্র্যসীমার নিচে। অন্যদিকে গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট অনুযায়ী, লৈঙ্গিক সমতার দিক থেকে ইয়েমেনে নারীদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। চলমান যুদ্ধে ঘরছাড়া হয়েছে ইয়েমেনের লাখ লাখ মানুষ। সংঘাতে ঘর ছেড়েছে দেশটির ৩৩ লাখেরও বেশি মানুষ।

হুতি বিদ্রোহী

ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেন সরকার এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে লড়াই করছে। ইয়েমেনের হুতি হচ্ছে একটি শিয়া সম্প্রদায়। যারা দেশটির রাজধানী সানা ও উত্তরাঞ্চলে বসবাস করে থাকে, এই হুতিদের একটি অংশ ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা নাজরানেও বসবাস করে থাকে।

ইয়েমেনে ৯৯.৫ শতাংশ মুসলমান, যার মধ্য ৭০ শতাংশ সুন্নী ও ৩০ শতাংশ শিয়া। এই ৩০ শতাংশ শিয়ারাই মুলত হুতি সম্প্রদায়। এই হুতিদের ইরানের শিয়া সরকার, ইরাকের শিয়া সরকার ও লেবাননের হিজবুল্লার সহযোগী সংগঠন বলে মনে করা হয়। ১৯৬২ সালে ইয়েমেন এক বিপ্লবের মাধ্যমে দেশটির এক হাজার বছর ধরে চলা জাইদি হাশেমিদের শাসন শেষ হয়। জাইদি হাশেমি নিজেকে মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধর বলে দাবি করতেন। জাইদি শাসন শেষ হওয়ার পরও ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর সাদা জাইদি অনুসারীদের শক্ত অবস্থান ও কর্তৃত্ব বহাল থাকে। নব্বইয়ের দশকে হোসেন বদর উদ্দিন আল হুতি। শিয়া ইসলামের একটি শাখা হিসেবে জাইদিবাদ প্রচার করেন। তার অনুসারীরা হুতি সম্প্রদায় বলে পরিচিতি লাভ করে।হুতি সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠা ১৯৯৪ সালে। সদর দফতর সাদা, ইয়েমেন এবং অনুসারী সংখ্যা ১ লাখের বেশি ।

২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী রাজধানী সানা-সহ দেশটির অধিকাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। সেই সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল হাদি হুথি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে বাঁচতে পালিয়ে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন।প্রেসিডেন্ট হাদির পেছনে রয়েছে সৌদি আরবের সমর্থন এবং হুথি বিদ্রোহীদের হঠাতে সৌদি আরব ওই অঞ্চলের কিছু দেশ নিয়ে গঠিত একটি জোটে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে প্রতিবেশী দেশ ইয়েমেনে হামলা শুরু করে সৌদি আরব। সৌদি আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে শুরু করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।

অর্থনীতি

ইয়েমেনে পর্যটকদের জন্য অনেক আকর্ষণীয় স্থান আছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এর রাজধানী সানা। সানা শহরটি সম্ভবত মনুষ্যনির্মিত প্রথম শহরগুলির একটি। ইউনেস্কো এটিকে World Heritage of Mankind বলে ঘোষণা করেছে। রাব আল খালি মরুভূমির প্রান্তে অবস্থিত মারিব শহর ছিল শেবার রাণীর সাম্রাজ্যের রাজধানী। এখানে ৩০০০ বছর আগে নির্মিত বাঁধ এখনও দেখতে পাওয়া যায়। ইয়েমেন পূর্বে বিভিন্ন সাম্রাজ্যের অংশ ছিল এবং এদের রাজধানীগুলি দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে আছে। প্রতিটিতেই সেই আমলের বিশেষ নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায়। ইসলামের একেবারে প্রথম দিককার হযরত মুহাম্মদের জীবদ্দশাকালীন মসজিদ থেকে শুরু করে ইসলামী যুগের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ও আরও অনেক প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থানে ইয়েমেন পরিপূর্ণ।

নোবেল জয়ী –

আরব বসন্তের অগ্রদূত নেত্রী তাওয়াক্কোল কারমান। তাওয়াক্কোল কারমান সাংবাদিক, রাজনীতিক এবং ইয়েমেনের আল ইসলাহ রাজনৈতিক দলের একজন প্রবীণ সদস্যতাওয়াক্কোল কারমান ‘উইমেন জার্নালিস্ট উইদাউট চেইন্স’ নামের নারী সাংবাদিকদের একটি দলকে নেতৃত্ব দেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানবাধিকার রক্ষাকর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। ২০০৭ সালের মে মাসে কারমান সাপ্তাহিকভাবে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। এক সময় এ প্রতিবাদের মাধ্যমে গণমাধ্যমের সংস্কারের দাবি ওঠে। তিনি ইয়েমেনীয় রাষ্ট্রপতি আলি আবদুল্লাহ সালেহর বিপক্ষে প্রবল প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। কারমান আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন ২০১১ সালের ইয়েমেন বিদ্রোহের সময়। তখন তাকে লৌহ মানবী অভিহিত করে জনগণ।তাওয়াক্কোল কারমান প্রথম আরব নারী এবং একমাত্র প্রথম ইয়েমেনি, যাকে শান্তির জন্য ২০১১ সালে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।এ ছাড়া তিনি দ্বিতীয় মুসলিম নারী ও দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে নোবেল শান্তি পদক লাভ করেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...

কাবা ঘর নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মো. আবু রায়হানঃ কাবা মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে, পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।কাবা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ মুকাআব অর্থ ঘন থেকে।কাবা একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত। (The Kaaba, meaning cube in Arabic, is a square building elegantly draped in a silk and cotton veil.)।যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।কাবার ভৌগোলিক অবস্থান ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব।পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর বায়তুল্লাহ বা পবিত্র কাবা ঘর ।আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে তা মক্কা নগরীতে। (সুরা আল ইমরান - ৯৬)। “প্রথম মাসজিদ বায়তুল্লাহিল হারাম তারপর বাইতুল মাকদিস, আর এ দুয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো চল্লিশ বছরের”।(মুসলিম- ৫২০)। ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি ...