সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মুহাম্মদ বিন কাসিমের পতন: ক্ষমতা, রাজনৈতিক কোন্দল এবং এক ট্র্যাজিক অধ্যায়

মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুতে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তবে তাঁর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর জীবনপ্রদীপ যেভাবে নিভে গিয়েছিল, তা অত্যন্ত করুণ এবং বিতর্কিত। সাধারণ ইতিহাস কিংবা উপকথার বাইরে গিয়ে যদি ইবনে আল-বালাজুরি, জি. আর. হটিং কিংবা পি. কে. হিটি-র মতো ইতিহাসবিদদের সূত্র বিশ্লেষণ করা হয়, তবে দেখা যায় যে তাঁর মৃত্যু মূলত উমাইয়া খিলাফতের অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফলাফল ছিল। ১. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ও মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থান মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থানের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তাঁর অভিভাবক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের । ৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান হাজ্জাজকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করেন। ৭০৫ সালে আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর নতুন খলিফা আল-ওয়ালিদও হাজ্জাজকে তাঁর পদে বহাল রাখেন। এই হাজ্জাজের নেতৃত্বেই মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি সেখানে উমাইয়া শাসন সুদৃঢ় করেন। ২. অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উত্তরাধিকার সংকট হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কঠোর শাসন খিলাফতের ভেতরে বহু শত্রুর জন্ম দিয়েছিল: মুহাল্লাব পরিবারের সাথে দ্বন...

সিরিয়া

 


 

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়ার জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটি। ৯০ শতাংশ মুসলিম। সুন্নি প্রধান এ দেশেও রয়েছে শিয়া-সুন্নি-কুর্দি দ্বন্দ্ব।সিরিয়া এশিয়ার মধ্যপ্রাচ্যের একটি রাষ্ট্র। এর সরকারী নাম আরব প্রজাতন্ত্রী সিরিয উর্বর সমতলভূমি, উচ্চ পর্বত এবং মরুভূমির একটি দেশ।

রাজধানী দামেস্ক

আয়তন ১,৮৫ ,১৮০ বর্গ কিমি

লোকসংখ্যা ২ কোটি ১১ লাখ ।

জাতিগোষ্ঠী: সিরিয়ান আরব, গ্রীক, আর্মেনিয়ান, আসিরিয়ার, কুর্দি, কার্কাসিয়ান, মানডিয়ান্স এবং তুর্কি।

ধর্মঃ ৬৯ শতাংশ সুন্নি এর মধ্যে কুর্দি ৯ শতাংশ ও বাকিরা আরবীয়। ১২.৮ শতাংশ আলাভি আরব, ১৩ শতাংশ খ্রিস্টান, যাদের মধ্যে ৯ শতাংশ অর্থোডক্স এবং ৪ শতাংশ আর্মেনিয়ান, দ্রুজ আরব ৩.২ শতাংশ এবং ইসমাইলি শিয়া ৩ শতাংশ

ভাষা আরবি

মুদ্রা সিরিয়ান পাউন্ড

স্বাধীনতা ১৭ এপ্রিল ১৯৪৬

জাতিসংঘের ২৪ অক্টোবর

ইতিহাস

খ্রিস্টপূর্ব ১০,০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে সিরিয়া নবপ্রস্তরযুগীয় সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্র ছিল, (প্রাক-পটারি নিওলিথিক এ নামে পরিচিত) যেখানে কৃষি এবং গবাদি পশু প্রজনন পৃথিবীতে প্রথমবারের মতো উপস্থিত হয়। নিম্নলিখিত নবপ্রস্তরযুগীয় পিরিয়ড (পিপিএনবি) মুর্যবেট সংস্কৃতির আয়তক্ষেত্রাকার ঘরগুলি দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করে। প্রাক-মৃৎশিল্পের নবপ্রস্তরযুগীয়ের সময়ে লোকেরা পাথর, জিপ এবং পোড়া চুন দিয়ে তৈরি পাত্রগুলি ব্যবহার করত(ভাইসেল ব্লাঞ্চ)। আনাতোলিয়া থেকে প্রাপ্ত ওবিসিডিয়ান সরঞ্জামগুলির সন্ধান হ'ল প্রাথমিক বাণিজ্য সম্পর্কের প্রমাণ। হামৌকর এবং ইমার শহরগুলি নব্যলিথিক এবং ব্রোঞ্জ যুগের শেষের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলপ্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রমাণ করেছেন যে সিরিয়ার সভ্যতা পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীনতম, সম্ভবত এর আগে কেবল মেসোপটেমিয়া ছিল।সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রাচীনকাল থেকে প্রথমে গ্রীক ওপারসিক এবং পরে রোমান ওপারসিকদের মধ্যে বহুসংখ্যক যুদ্ধ সংঘটিত হয়মুসলিম আমলে সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দখল নিয়ে বাইজেন্টাইনদের সাথে বহুবার সংঘর্ষ হয়েছে। অতঃপর আসেক্রুসেডারদের যুগ ।তারপর শুরু হয় এই অঞ্চলের দখল নিয়ে মোঙ্গল ওমিশরের লড়াই । আরো পরে দেশটি তুর্কিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরসিরিয়া ফরাসিদের দখলে এবং অন্যান্য অঞ্চল ফিলিস্তিন জর্ডান ব্রিটিশদের দখলে চলে যায় । ১৯৪৬সালে সিরিয়া স্বাধীন হয়েছে।কিন্তু এখনও এর উপর প্রভাব বিস্তারের জন্য বৃহৎ শক্তিগুলোর চেষ্টার বিরাম নেই।

ইসলামের আগমন

৬৩৪ থেকে ৬৪৪০ সালের মধ্যে সিরিয়া মসলিম শাসনের অধীনে আসে মুসলিম বিজয়ের অংশ হিসাবে হযরত আবু বকর ও ওমরের শাসনামলে খালিদ ইবনে আল-ওয়ালিদের নেতৃত্বে সিরিয়া মুসলিমদের অধিকারে আসে । ফলে এই অঞ্চলটি পরিণত হয় ইসলামী সাম্রাজ্যের অংশ। ৬৩৫ সালে দামেস্ক আত্মসমর্পণ করল, জনগণকে কর প্রদানের ভিত্তিতে বাসিন্দাদের তাদের জীবন, সম্পত্তি এবং গীর্জার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এটি সমগ্র সিরিয়ার উপরে মুসলিম নিয়ন্ত্রণের দিকে পরিচালিত করে এবং সিরিয়ার ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন এনেছিল যা আজ অবধি অব্যাহত রয়েছে। ইসলাম বিজয় পূর্ব সিরিয়া গোঁড়া খ্রিস্টান ধর্মের প্রধান কেন্দ্র ছিলনতুন প্রজাদের আনুগত্য এই অঞ্চলে মুসলিম শাসনের সাফল্যের পক্ষে সর্বশ্রেষ্ঠ, অতএব অতিরিক্ত কর আদায় বা নিপীড়ন এড়ানো হয়েছিল। ।আবু বকর (রা.)-এর খিলাফত কালে তিনি সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব অপরিবর্তন রেখেই সামনে অগ্রসর হতে বলেন। এদিকে খালিদ (রা.)-কে মদিনা থেকে ইরাকের দিকে অভিযানে পাঠানোর পরপরই খলিফা আবু বকর (রা.) সেনাপতিদের পতাকা দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিজ নিজ এলাকায় পাঠিয়ে দেন। তিনি খালিদ ইবনে সাইদ (রা.)-কে ‘তায়মার’ দিকে ইয়াজিদ ইবনে আবু সুফিয়ান (রা.) কে ‘দামেশকে’র দিকে, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা.) কে হিমসের (আলেপ্পো) দিকে এবং আমর ইবনুল আস (রা.) কে ফিলিস্তিনের দিকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠান। পথে আবু উবায়দা (রা.) সে বালাকা অঞ্চলের জনগনের সঙ্গে সন্ধির মাধ্যমে ‘বালাকা’ জয় করেন। সিরিয়ায় এটাই প্রথম সন্ধি চুক্তি।ইয়ারমুক সিরিয়ার এক নদীর নাম। বর্তমানে এই নদী সিরিয়া, জর্দান এবং ইসরাইলের মধ্যে প্রবাহিত। হজরত আবু বকর সিদ্দিক রা:-এর খেলাফতের শেষ এবং হজরত ওমর রা:-এর খেলাফতের শুরুতে। রাসূল সা:-এর ইন্তেকালের পর ইয়ারমুকের যুদ্ধই ছিল মুসলমানদের জন্য বড় বিজয়। মুসলিমরা যখন সিরিয়ার দিকে আগমন করেন, তখন রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস ভয় পেয়ে যায়। কারণ সে জানত রাসুল (সা.) শেষ নবী আর তাদের খ্রিস্টান ধর্মের সময় শেষ হয়ে গেছে। আল্লাহ তাআলা নতুন ও মনোনীত শেষ ধর্ম ইসলামের আবির্ভাব ঘটিয়েছেন। হিরাক্লিয়াস তখন হিমসে অবস্থান করছিল। আবু বকর (রা.)-এর মোট সৈন্য সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ও তাদের সাহায্যার্থে ছিল ইকরিমা ইবনে আবু জাহেল (রা.)-এর ৬ হাজার সৈন্য। হিরাক্লিয়াসের সম্মুখ বাহিনীর দায়িত্বে ছিল জুরজা। যিনি পরে ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পরপরই ইয়ারমুকের জিহাদে শহিদ হন। হিরাক্লিইয়াসের ২ লাখ সৈন্যের বিরুদ্ধে মুজাহিদদের সংখ্যা কম হওয়ায় তারা খলিফা আবু বকর (রা.) এর কাছে সাহায্য চাইলে তিনি খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)-কে ইরাক থেকে সিরিয়া যেতে নির্দেশ দেন। খালিদ (রা.) পাঁচ দিন পর তার নয় হাজার মুজাহিদ নিয়ে ইয়ারমুকের যুদ্ধে মূল সেনাপতির দায়িত্বে এসে নিযুক্ত হন। খালিদ (রা.) সেখানে যেয়ে দেখেন মুজাহিদগণ রোমানদের সঙ্গে জিহাদে লিপ্ত। মুসলমানরা পৃথিবীবাসীকে অবাক করে সেই যুদ্ধে জয়লাভ করলেন। মুসলিমদের মাত্র ৩ হাজার মুজাহিদ শাহাদতবরণ করেন। আর রোমান সৈন্য নিহত হয়েছিল ১ লাখ ২০ হাজারের মতো। সিরিয়াই ছিল রোমান সাম্রাজ্যে মুসলমানদের প্রথম জয়কৃত এলাকা।

সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে উমাইয়া রাজবংশ, তৎকালীন সাম্রাজ্যের শাসকরা সাম্রাজ্যের রাজধানী দামেস্কে স্থাপন করেছিলেন।সিরিয়ার ইতিহাসজুড়ে দেখা যায়, এই অঞ্চলটি বিভিন্ন ইসলামিক শাসকদের একটি প্রদেশ ছিল, জাতিগত ভিন্নতা ও নানান ইসলামী সংস্কৃতির পরিবর্তনে যাদের অবদান ছিল। প্রথম দিকের শাসক ছিলেন উমাইয়া খিলাফত। যারা সুন্নি ধর্মাবলীএরপরে ইরাক কেন্দ্রীয় আব্বাসীয় আব্বাসীরাও ছিলেন সুন্নি ধর্মাবলম্বী। এরপরেই শাসকরা ছিলেন ফাতেমী, যারা শিয়া ধর্মাবলম্বী।এছাড়াও কিছু মুসলিম শাসক সিরিয়া শাসন করেছে যারা অনারব। যাদের শাসনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল মিশরের কায়রো। এদের মধ্যে আয়ুবিয় অন্যতমএরা কুর্দিস বংশ সুন্নি ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং মামলুকরাও ছিলেন অনারবীয়।যারা সুন্নি-শিয়া উভয় ধর্মেরই শাসক ছিলেন। তারা তুর্কি ও সারকাসন বংশের ছিলেন। সিরিয়ার শেষ ইসলামিক শাসকরা ইরানেই তাদের বসতি স্থাপন করেছিল।তাদেরকে বলা হয় সেলজুকস। এই শাসকরা তুর্কির সুন্নি ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং এরপরেই আসে উসমানরা। এরাও তুর্কির সুন্নি ধর্মাবলম্বী। বর্তমানে ইস্তানবুলকে তারা শাসনের কেন্দ্রবিন্দু বানিয়েছিল। এবং এশিয়া, ইউরোপ, উভয় জায়গাতেই এই উসমানদের প্রভাব ছিল।

সিরিয়া নিয়ে রাসুলের ভবিষ্যদ্বাণী -

ইসলাম ধর্মবিশ্বাসে সিরিয়া একটি তাৎপর্যপূর্ণ স্থান। গুরুত্বের দিক থেকে এর স্থান মক্কা-মদিনার পরে। হাদিসে সিরিয়াকে "বিলাদুশ শাম" নামে অভিহিত করা হয়েছে। মুলকে শাম বা শাম ভূখণ্ড নবী-রাসুলদের ভূখণ্ড। মূলত বিলাদুশ শাম বলতে সিরিয়া ও এর আশেপাশের দেশ ফিলিস্তিন, লেবানন, জর্ডান ও মিশরকে বোঝায়রাসুল (সা.) তার জীবদ্দশায় সিরিয়া (বিলাদুশ শাম) নিয়ে ভবিষ্যতবাণী করে গেছেন। কোরআন-হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় তার বরকত ও পবিত্রতার বর্ণনা রয়েছে। ইতিহাসের অগণিত ঘটনাপ্রবাহ তার সঙ্গে জড়িত।

হযরত শুরাইহ ইবনে উবাইদ (রহ.) বলেন, হযরত আলী (রা.) ইরাকে অবস্থানরত অবস্থায় তাঁকে শামবাসীদের ব্যাপারে বলা হলো, আপনি তাদের ওপর অভিশাপ করুন! তখন তিনি বলেন, না, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে শাম ভূখণ্ডে আবদালরা (আল্লাহর ওলিদের বিশেষ দল) থাকেন, তাঁরা ৪০ জন থাকেন, যখনই তাঁদের থেকে একজন মারা যান, আল্লাহ তাঁর স্থানে অন্য একজনকে রাখেন, তাঁদের বরকতে বৃষ্টি হয় ও শত্রুর ওপর জয়লাভ হয়। ভবিষ্যতে তাঁদের অছিলায় শামবাসীদের থেকে আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস-৮৯৬)।

শাম ভূখণ্ড মুসলিমদের দ্বিতীয় হিজরতভূমি

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, হিজরতের পর আরেকটি হিজরত শিগগিরই সংঘটিত হবে। তখন ভূপৃষ্ঠের সর্বোত্কৃষ্ট মানুষ হবে তারাই, যারা ইবরাহিম (আ.)-এর হিজরতভূমিতে (শাম দেশে) অবস্থান করবে। আর গোটা পৃথিবীতে সর্বনিকৃষ্ট মানুষরাই বাকি থাকবে। তাদের ভূমিগুলো তাদের নিক্ষেপ করবে। আল্লাহ তাদের অপছন্দ করবেন। তাদের ফিতনার আগুন বানর ও শূকরের সঙ্গে মিলিয়ে রাখবে (তাদের দুশ্চরিত্রের কারণে তারা যেখানেই যাবে, সেখানেই ফিতনা লেগে থাকবে)।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৪৮২)

হযরত নাউওয়াস ইবনে সামআন (রা.) সূত্রে বর্ণিত, একটি হাদিসে দাজ্জাল সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘দাজ্জাল ইরাক ও শামের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে বের হবে এবং ডানে-বাঁয়ে গোটা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করতে থাকবে। তাই হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ঈমানের ওপর অটল থাকবে।’ দীর্ঘ হাদিস বর্ণনার একপর্যায়ে নবী করিম (সা.) বলেন, দীর্ঘ ৪০ দিন ধরে দাজ্জালের অনিষ্টতার পর আল্লাহ ঈসা ইবনে মারিয়াম (আ.)-কে পাঠাবেন। তিনি দামেস্কের পূর্ববর্তী এলাকার শুভ্র মিনারের কাছে আসমান থেকে দুজন ফেরেশতার কাঁধে চড়ে অবতরণ করবেন। তখন তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস যে কাফেরের গায়ে লাগবে, সে মারা যাবে, আর তাঁর দৃষ্টিসীমার শেষ প্রান্তে গিয়ে তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস পড়বে। তিনি দাজ্জালকে তালাশ করবেন, অতঃপর শামের বাবে লুদ নামক স্থানে তাকে হত্যা করবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯৩৭).

হযরত আবুদ্দারদা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, “মহাযুদ্ধের সময় মুসলিমদের ছাউনি হবে ‘গোতা’ শহরে, যা দামেস্ক শহরের পাশে অবস্থিত। এটি শামের উত্কৃষ্ট শহরগুলোর একটি।”(আবু দাউদ, হাদিস - ৪২৯৮)

সিরিয়ার রাজনীতি

একটি সংসদীয় প্রজাতন্ত্রের কাঠামোয় সঙ্ঘটিত হয়। রাষ্ট্রের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি এবং বাথ পার্টির হাতে ন্যস্ত। সিরিয়া সংবিধানমতে একটি সংসদীয় প্রজাতন্ত্র হলেও ১৯৬৩ সাল থেকে দেশটিতে একটি জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং বর্তমানে সরকার পরিবর্তনের কোন ক্ষমতা নেই জনগণের। দেশটি তাই কার্যত একটি একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সিরিয়ার সরকার ইসরায়েলের সাথে ক্রমাগত যুদ্ধকে জরুরি অবস্থার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সিরিয়ার প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হাফিয আল-আসাদ পাঁচ বার গনভোট বিজয়ের মাধ্যমে নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখেন। তার ছেলে ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদও ২০০০ সালের এক গনভোটে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি পদে বহাল হন। রাষ্ট্রপতি ও তার মূল সহযোগীরাই, বিশেষত সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর লোকেরা, সিরিয়ার রাজনীতি ও অর্থনীতির মূল সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে থাকেনসিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। এই সংখ্যা জাতিসংঘ ঘোষিত সংখ্যার দ্বিগুণ। এর বাইরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৪৫ শতাংশ সিরীয়। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।সিরিয়া যুদ্ধে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সিরিয়ান সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের (এসসিপিআর)’ একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছেপ্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের বিভীষিকায় পড়ে সিরিয়ার জাতীয় সম্পদ ও অবকাঠামো প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। নিহত হয়েছে ৪ লাখ ৭০ হাজার লোকদেড় বছর আগে পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে জাতিসংঘ যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছিল এটি তার প্রায় দ্বিগুণ। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ সংখ্যা আড়াই লাখ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাকল্যে সিরিয়ার জনগণের সাড়ে ১১ শতাংশই নিহত বা আহত হয়েছে। ‘আরব বসন্ত’ নামে পরিচিত স্বৈরাচারবিরোধী তথাকথিত গণ-অভ্যুত্থানের জোয়ার সিরিয়াতেও এসে লাগে ২০১১ সালে। ওই বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছরে এই জোয়ারের সুফল না মিললেও এই সময়ে হতাহত হয়েছে বিরাটসংখ্যক জনগোষ্ঠী। প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট করে আহত ব্যক্তির সংখ্যা বলা হয়েছে ১৯ লাখ। যুদ্ধ শুরুর আগে ২০১০ সালে সিরিয়ার মানুষের গড় আয়ু যেখানে ছিল ৭০ বছর, সেটাই ২০১৫ সালে নেমে দাঁড়ায় ৫৫ বছর ৪ মাসে। দেশটির অর্থনীতির সার্বিক ক্ষতির পরিমাণও নিতান্ত কম নয়, আনুমানিক ২৫ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার।এসসিপিআরের মতে, নিহত ৪ লাখ ৭০ হাজার লোকের মধ্যে প্রায় ৪ লাখই মারা গেছে যুদ্ধের প্রত্যক্ষ সহিংসতার শিকার হয়ে। বাকি ৭০ হাজার মারা গেছে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধের ঘাটতিতে, সংক্রামক ব্যাধিতে, খাবার ও পানির অভাবে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ ২০১০ সালে শুরু হওয়া আরব বসন্তের বিপ্লবের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়। সিরিয়ান সেনার একটি কঠোর ব্যবস্থার দ্বারা অনুসৃত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের একটি চেইন হিসেবে ২০১১ সালে শুরু হয়। জুলাই ২০১১ সালে , সেনাবাহিনীর দলত্যাগীরা ফ্রি সিরিয়ান সেনা গঠনের ঘোষণা করেন এবং যুদ্ধ ইউনিট গঠন শুরু হয়। এই বিরোধিতা সুন্নি মুসলমানদের দ্বারা প্রভাবিত হয়, যেখানে নেতৃস্থানীয়রা আলাউয়ি।

গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০১৬-তে বিশ্বের সবচেয়ে অশান্ত দেশ সিরিয়া। বিগত কয়েক বছর ধরে সিরিয়ায় তাণ্ডব চালাচ্ছে আইএস জঙ্গিরা। এ কারণে কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন জঙ্গিদের হাতে বা আইএস বিরোধী অভিযানে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বেশ উদ্বেগজনক।

আরবি ভাষা সিরিয়ার সরকারি ভাষা। এখানকার প্রায় চার-পঞ্চমাংশ লোক আরবি ভাষাতে কথা বলে। সিরিয়াতে প্রচলিত অন্যান্য ভাষার মধ্যে আদিজে ভাষা, আরামীয় ভাষা,আর্মেনীয় ভাষা, আজারবাইজানি ভাষা, দোমারি ভাষা (রোমানি ভাষা), কুর্দি ভাষা এবং সিরীয় ভাষা উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক কাজকর্মে ফরাসি ভাষা ব্যবহার করা হয়।

বাথ পার্টি

মাইকেল আফ্লাক নামের এক সিরীয় খ্রিস্টান এবংসালাহ আল দিন আল বিতর দুজনে প্যারিসে উচ্চশিক্ষা গ্রহন করেন।। দেশে ফিরে১৯৪০ সালে তারা সিরিয়ায়প্রতিষ্ঠা করলেন ‘আরব ইহইয়া মুভমেন্ট’ নামের একটি রাজনৈতিক দল। প্যারিস ফেরত আরেক বুদ্ধিজীবী জাকি আল আরসুজি ততদিনে ‘আরব বাথ পার্টি’ নামের একটি দল গঠন করেন। তবে জাকি রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি। ক্রমেই তার দলের লোকেরা মাইকেল আফ্লাকের দলে ভিড়তে থাকলে শেষমেষ তিনিও মাইকেল আফ্লাকের দলে চলে যান। দুই পার্টি মিলে ১৯৪৭ সালের ৭ এপ্রিল প্রতিষ্ঠাকরা হলো আরব বাথ মুভমেন্ট বা বাথ পার্টি। বাথ শব্দটি এসেছে আরবি ভাষা থেকে। এর অর্থ ‘রেনেসাঁ’। সোজা কথায় বাথিজম একটি সংযুক্ত আরব রাষ্ট্রের কথা চিন্তা করে যেটি হবে ধর্মনিরপেক্ষ। সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করবার পাশাপাশি নিজের জনগণের জন্য সোশ্যালিজম কায়েম করাটাই বাথ পার্টির উদ্দেশ্য। অবশ্য বাথ পার্টিকে কম্যুনিস্ট পার্টির সাথে গুলিয়ে ফেললে চলবে না, কারণ বাথিস্টরা আবার সোভিয়েত বা চীনা ধাঁচের সমাজতন্ত্র পছন্দ করে না। কাজেই বাথিস্ট চিন্তাভাবনা আরবি তথা ইসলামী ধাঁচে মোড়ানো থাকবে, এই ছিল এই মতবাদের মূল কথা।দ্রুত এই দল আরব দেশগুলোতে শাখা বিস্তার করে। তবে এটি শুধু ইরাক ও সিরিয়ায় ক্ষমতা লাভে সমর্থ হয়।বাথিজম আরব বিশ্বকে একটি একক রাষ্ট্র হিসেবে একীভূত হওয়ার ডাক দেয়। এর নীতিবাক্য হল, “একতা, স্বাধীনতা, সমাজবাদ”। এর দ্বারা আরব ঐক্য এবং অনারব নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব থেকে স্বাধীন থাকা বোঝায়। আরব বাথ পার্টি ১৯৫২ সালে আকরাম আল হাউরানির নেতৃত্বাধীন আরব সোশ্যালিস্ট পার্টির সাথে একীভূত হয়ে আরব সোশ্যালিস্ট বাথ পার্টিতে পরিণত হয়।

হাফেজ আল-আসাদ

হাফেজ আল-আসাদ প্রায় তিন দশক যাবত সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি ছিলেন। হাফেজ আল-আসাদ তৎকালীন ফ্রান্স-অধ্যুষিত সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে লাতাকিয়া প্রদেশের ক্কারদাহা শহরে একটি সংখ্যালঘু আলওয়াইট পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লাতাকিয়ার জুলস জামাল স্কুল হতে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। উল্লেখ্য যে হাফেজের পূর্বে তার পরিবারের কোন সদস্য উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেনি।

১৯৪৬ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে হাফেজ বাথ পার্টিতে যোগ দেন। তার পরিবার তার উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ যোগানে সমর্থ্য ছিলনা। স্কুল শেষ করে তাই হাফেজ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে সিরীয় মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন। এখানে তার সাথে তার পরবর্তী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সহযাত্রী মুস্তাফা ত’লাসের দেখা হয়। সশস্ত্র বাহিনীতে থাকা অবস্থায় তিনি এর অধীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ লাভ করেন। দায়িত্ম পালন কালে হাফেজ বুদ্ধিমত্তা ও প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন যার কারণে তাকে উচ্চ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রেরণ করা হয়। ১৯৫০ সালের দিকে হাফেজ আল-আসাদ সিরীয় বাহিনীতে একজন নিয়মিত বৈমানিক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন যে সময়ে তিনি মিত্রবাহিনীর প্রথম জেট বিমান গ্লস্টার মিটিয়ার চালিয়েছেন। সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে সময়ের সাথে পদবীর দিক থেকে হাফেজের উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটতে থাকে যার ফলে একটি সময়ে তিনি সিরিয়ার প্রতিরক্ষা কাঠামোতে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেন।

তৎকালীন মিশরীয় নেতা জামাল আব্দেল নাসেরের পরিকল্পনায় ১৯৫৮ সালে সিরিয়া ও মিশরকে একত্র করে যে সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র বা ইউএআর গঠিত হয়েছিল, হাফেজ তার পক্ষপাতী ছিলেন না। তিনি সিরীয় বাহিনীতে তার সমমনা অফিসারদের এই একত্রীকরণের বিরুদ্ধে সংগঠিত করেছিলেন। হাফেজ তার প্যান-আরব আদর্শে স্থির ছিলেন কিন্তু এই একত্রীকরণকে মেনে নিতে পারেননি কারণ তিনি লক্ষ্য করতেন যে ইউনিয়নটির মূল ক্ষমতা জামাল আব্দেল নাসেরের হাতেই থেকে যাচ্ছে। হাফেজ তার এই বিরোধী অবস্থানের কারণে ১৯৬১ সালে ইউনিয়নটির ভেঙ্গে যাবার ঘটনাবহে মিশরীয় কর্তৃপক্ষের হাতে আটকও হয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে হাফেজের আটকাবস্থায় ঘনিষ্ঠ সহযোগী মুস্তাফা ত’লাস তার পরিবারকে মিশর থেকে সিরিয়ায় নিয়ে যাবার ব্যাবস্থা করেন। কিছুদিন আটক রাখবার পর হাফেজকে মুক্তি দেয়া হয় এবং তিনি সিরিয়ায় ফিরে আসেন।ইউএআর ভেঙ্গে যাবার পর মিশরের প্রশাসনে যুগান্তকারী কোন পরিবর্তন না এলেও সিরিয়ায় বামপন্থী শক্তিগুলো বাথ পার্টির সাথে একত্রিত হয়ে সশস্ত্রবাহিনীর সহায়তায় একটি অভুত্থান ঘটায় যার ফলে সিরিয়ার নিয়মিত সরকারের পতন ঘটে। ইউএআরের পতনকালে অনুষ্ঠিত অভ্যুত্থানের পর ১৯৬৬ বাথ পার্টির নেতৃত্বে সিরিয়াতে আরেকটি অভ্যুত্থান হয় যার মাধ্যমে বাথ পার্টি ক্ষমতাসীন দল হিসেবে তাদের পূর্ববর্তী বামপন্থী সহচরদের ঝেড়ে ফেলে। বিমান বাহিনী প্রধান হাফেজ আল-আসাদ নবগঠিত বাথ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ম প্রাপ্ত হন। মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জনের ফলে হাফেজ সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের একজন হয়ে উঠেন। ১৯৬৭ সাল ছয় দিনের যুদ্ধে সিরিয়ার অবদান অনেকটাই ব্যার্থতার পরিচায়ক ছিল। বিশেষ করে ফিলিস্তিন-জর্ডান ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর যুদ্ধে বাথ প্রশাসনের ভূমিকা সাধারণ সিরীয় জনমতের প্রতিফলন ছিলনা। সরকারের প্রতি সাধারণের এই ক্ষোভ যতটা না প্রতিরক্ষা নীতিনির্ধারকদের উপর নির্দিষ্ট হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রকাশিত হয়েছিল রাষ্ট্রপতি নুরুদ্দীন আল-আতাসি ও বাথ পার্টির মহাসচিব সালাহ জাদিদের উপর। পরিস্থিতি বিচার করে ১৯৭০ সালে রাষ্ট্রপতি আল-আতাসি হাফেজ ও ত’লাসকে ডেকে সকল সরকারি ও সামরিক দায়িত্ম থেকে অব্যাহতি দানের নির্দেশ দেনকিন্তু পরিস্থিতি তখন কোন ভাবেই আর কেন্দ্রীয় প্রশাসনের আয়ত্তে ছিলনা। তাই সরে দাড়াবার নির্দেশ পাবার পরপর হাফেজ আল-আসাদ ও মুস্তাফা ত’লাস বাথ পার্টির অভ্যন্তরে একটি অভ্যুত্থান ঘটান যার দ্বারা রাষ্ট্রপতি আল-আতাসি, বাথ মহাসচিব সালাহ জাদিদ সহযোগী সমেত কারান্তরীণ হন। এই অভ্যুত্থানটিকে সাধারণ সিরীয়রা স্বাগত জানিয়েছিল যা সিরিয়ার সংশোধনী বিপ্লব (কারেক্টিভ রেভোল্যুশান) নামে খ্যাত হয়হাফেজ এমন এক সময় রাষ্ট্রপতিত্ব গ্রহণ করেন যখন সিরিয়ার প্রশাসন অভ্যুত্থান, পাল্টা-অভ্যুত্থান ও একের পর এক অস্থিতিশীল সামরিক-বেসামরিক শাসনে জর্জরিত ছিল। হাফেজ ক্ষমতা গ্রহণের আগেই সিরিয়া বাথ পার্টির একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা রাষ্ট্রভার গ্রহণের পর হাফেজ পরিবর্তন করেননি। বরং হাফেজ সারা দেশে সরকারী গোয়েন্দা ও চরদের এক বিস্তীর্ণ জাল বিছিয়ে দেন যা সরকারের বিরুদ্ধে কোনরূপ কার্যক্রমের খবর সংগ্রহে সদা নিয়োজিত থাকত। তাৎক্ষণের জন্য সিরিয়া একটি কঠোর তত্ত্বাবধানের রাষ্ট্রে পরিণত হয় যেখানে সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রচারমাধ্যমে ও সরকারি পর্যায়ে হাফেজকে জাতীয় মহান নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়। সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বাবা ১৯৭১ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দেশটি শাসন করেন।২০০০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাফেজ আল-আসাদের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি ঘটে। মৃত্যুর পর তার ছেলে বাশার আল-আসাদ সর্বসম্মত ভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশটির দায়িত্ম গ্রহণ করেন।

বাশার আল-আসাদ

বাশার আল-আসাদ সিরিয়ার অর্থাৎ সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি, বাথ পার্টির আঞ্চলিক সচিব এবং সাবেক সিরীয় রাষ্ট্রপতি হাফেজ আল-আসাদের পুত্র ও রাজনৈতিক উত্তরসূরী।১৯৬৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দামেস্কে জন্ম নেন বাশার আল-আসাদ। ১৯৮৮ সালে দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে সেনাবাহিনীতে চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন। এর চার বছর পর যুক্তরাজ্যে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য পাড়ি জমান।বাবা হাফিজ আল-আসাদের মৃত্যুর পর ২০০০ সালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন বাশার। হাফেজ আল-আসাদ উত্তরাধিকারী হিসেবে বড় ছেলে বাসিল আল-আসাদকে বেছে নিয়েছিলেন ও তাকে সেই অনুযায়ী রাজনৈতিক ও সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল।কিন্তু ১৯৯৪ সালের ২১ জানুয়ারিতে একটি মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় দামেস্কে বাসিল আল-আসাদের মৃত্যু ঘটে। এই অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর পর হাফেজ আল-আসাদ বাসিলের ছোট বাশার আল-আসাদকে উত্তরাধিকারী হিসেবে বেছে নেন। বাশার লন্ডনে অফথ্যালমলজি বিষয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন যেখান থেকে তাকে পিতার অধীনে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের জন্য সিরিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়। দীর্ঘদিন জনসম্মুখের বাইরে থাকা এবং রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকায় ছেলেকে হাফিজ আল-আসাদ ও তার জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা উপদেষ্টা কয়েক বছর সামরিক ও রাজনীতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেন। নিজেদের সমাজতান্ত্রিক বাথ পার্টি ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ সম্পর্কেও ছেলেকে জ্ঞান দান করেন হাফিজ।২০০০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাফেজ আল-আসাদের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি ঘটে। মৃত্যুর পর তার ছেলে বাশার আল-আসাদ সর্বসম্মত ভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশটির দায়িত্ম গ্রহণ করেন।কিন্তু কতদিন আর শোষণ-দুর্নীতির ফল ভোগ করবেন আসাদ। ২০১১ সালের মার্চে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রূপ নেয় বিদ্রোহে, শুরু হয় গৃহযুদ্ধ।

সিরিয়া সংকট –

২০১১ সালের ২৬শে জানুয়ারি সিরিয়ায় শুরু হওয়া দেশব্যাপী গণ বিক্ষোভ প্রদর্শন এক সময় অভ্যুত্থানে রূপ নেয়বিক্ষোভকারীদের দাবী ছিল রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদের পদত্যাগ, তার সরকারের ক্ষমতাচ্যুতি এবং সিরিয়া দীর্ঘ ৫ দশকের আরব সোশ্যালিস্ট বাথ পার্টি শাসনের পতন। রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের এক পক্ষে রয়েছে সিরিয়ায় ৪২ বছর ধরে শাসনকারী আলওয়াইটস গোত্রের নেতৃত্বে বাথ পার্টি এবং তাদের সমমনারা। অন্যদিকে আছে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা, যাদের মধ্যে আছে সিরিয়ার ৬০ শতাংশ সুন্নি জনগোষ্ঠী এবং তাদের সমমনারা।অভ্যুত্থান ঠেকাতে সিরীয় সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করে এবং তাদের বাহিনী বেশ কিছু শহর অবরোধ করে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে, যে সৈন্যরা সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল সিরীয় সেনাবাহিনী তাদেরকে হত্যা করেছে। সিরীয় সরকার দেশে সরকারি দলদ্রোহিতা অস্বীকার করেছে এবং সশস্ত্র কয়েকটি দলকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে অভিযুক্ত করে। ২০১১ সালের শেষদিকে বেসামরিক জনগণ ও সেনাবাহিনীর দলত্যাগী সৈন্যরা আলাদা যোদ্ধা দল গঠন করে সিরীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের জন্ম দিয়েছে। বিদ্রোহীরা ফ্রি সিরিয়ান আর্মি নামে একটি নামের অধীনে একত্রিত হয়ে আরও সংঘবদ্ধ আক্রমণ করতে থাকে। অবশ্য তাদের বেসামরিক অংশটির সংগঠিত নেতৃত্বের অভাব ছিলসিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বিদেশিদের নগ্ন হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। ২০১৫ সালে দৃশ্যপটে রাশিয়ার সরব উপস্থিতি। শিয়া ইরান ও ইরাক সরকার এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ বাশার আল-আসাদকে সমর্থন-সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ তুরস্ক, কাতার এবং সৌদি আরব আসাদবিরোধীদের সমর্থন ও সহযোগিতা করে আসছে। সিরিয়া যুদ্ধের নাটকীয় পরিবর্তনের শুরু ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে। রাশিয়া সিরিয়ার বিদ্রোহীদের ওপর সরাসরি বিমান থেকে বোমাবর্ষণ শুরু করেতখন থেকে বিদ্রোহীদের ওপর এখনো চলছে রুশ বাহিনীর বিমান হামলা। রুশদের সহায়তায় একে একে দামেস্কের বড় অংশ ও আলেপ্পো শহরে নিজেদের হারানো নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় বাশারের সেনারা। বাশার আল-আসাদের বাহিনীর বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলে দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, হামলায় তিনটি দেশই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহার করেআরব বিশ্বের বাইরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ন্যাটোসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররাও সিরিয়ার হামলাকে সমর্থন করে।

দীর্ঘ সময় ধরা চলা যুদ্ধের কারণে মানুষ সিরিয়া ছেড়ে চলে যায়। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) হিসেবে আনুমানিক ১০ মিলিয়ন মানুষ সিরিয়া ছেড়ে গেছে। লেবানন, জার্মানি, ইরান ও তুরস্ক সিরিয়ার শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়। তাদের অনেকে ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছে আরও ভালো সুবিধা পাওয়ার জন্য। তবে ২০১৭ সালে ৬৬ হাজার শরণার্থী আবার নিজভূমে ফিরে আসে।১০ বছরে পা দিয়েছে সিরিয়ার যুদ্ধ। এ সময়ে সংঘাতে ৩ লাখ ৮৪ হাজার নিহতের মধ্যে বেসামরিক মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজারেরও বেশি। সাধারণ শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন থেকে সূত্রপাত হওয়া এ যুদ্ধে মারা গেছে ২২ হাজার শিশু। এবং অন্তত ১৩ হাজার নারী নিহত হয়। এসব তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৬৯৭ জন হিজবুল্লাহ সদস্যসহ এ যুদ্ধে সিরীয় যোদ্ধা মারা গেছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৭৬ জন। নিহত বিদ্রোহী যোদ্ধার সংখ্যা প্রায় ৫৭ হাজার। একই সঙ্গে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের সদস্য নিহত হয়েছে ১৩ হাজার ৬২৪। এছাড়া আইএস ও হায়াত তাহরির আল-শামের সমর্থক জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য মারা গেছে ৬৭ হাজার ২৯৬ জন। এছাড়া পরিচয় পাওয়া যায়নি নিহত ৪২১ জনের।বর্তমানে সিরিয়ার ৭০ শতাংশের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার। সরকারের এ সফলতার পেছনে রয়েছে রাশিয়া, ইরান ও হিজবুল্লার সহায়তা। কিন্তু এ যুদ্ধে দেশটির অর্থনৈতিক ভিত্তি একেবারে ভেঙে গেছে। সব মিলিয়ে গৃহহারা হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি সিরীয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি এমনই এক যুদ্ধ, যে যুদ্ধের যেন কোনও শেষ নেই। আছে শুধু মানবিক সংকট, খাদ্য, নিরাপত্তা ও শান্তির হাহাকার। তাই বলাই যায়, এ যেন এক নিরন্তর যুদ্ধ, নিজের বিরুদ্ধে নিজেরই যুদ্ধ! আরব লীগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, এবং বেশ কিছু দেশ বিদ্রোহীদের দমনে সরকারের সহিংস পন্থা অবলম্বনকে ধিক্কার জানিয়েছে। চীন ও রাশিয়া সরাসরি ধিক্কার জানানো থেকে বিরত থেকেছে এই যুক্তিতে যে, তা আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের সামিল হবে। অবশ্য, অধিকাংশ দেশই অন্য দেশের সিরিয়াতে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। আরব লীগ সরকারের সহিংস পথ অবলম্বনের কারণে তাদের সংস্থা থেকে সিরিয়ার সদস্যপদ বাতিল করেছে।

সংস্কৃতি

ভাল দেশ সিরিয়া তবে বিগত কিছু বছর ধরে এখানে সহিংসতা হয়ে আসছে রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় দল গুলোর মধ্যে। যদিও বিগত কয়েক বছর থেকে এখন সহিংসতা কিছুটা কমে এসেছে।

শিক্ষা

৬ বছর থেকে ১২ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষা নিখরচায় এবং বাধ্যতামূলক। বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ৬ বছর রয়েছে, যার মধ্যে ৩ বছরের সাধারণ বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সময়কাল এবং পরের ৩ বছরে একাডেমিক বা বৃত্তিমূলক প্রকল্পের শিক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য দ্বিতীয় ৩ বছরের মেয়াদী একাডেমিক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। মোট তালিকাভুক্তি পোস্ট-সেকেন্ডারি বিদ্যালয়ের সংখ্যা দেড় লক্ষেরও বেশি। ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সের সিরিয়ানদের সাক্ষরতার হার পুরুষদের ক্ষেত্রে ৯০.৭% এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৮২.২%।

১৯৬৭ সাল থেকে সমস্ত বিদ্যালয়, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বা'য়াথ পার্টির দ্বারা সরকারি তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

সিরিয়ায় ৬ টি রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়এবং ১৫ টি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। প্রধান দুটি রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হ'ল দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয় (২০১৪ সালে ২১০,০০০ শিক্ষার্থী) এবং আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয়। সিরিয়ার শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি হল: সিরিয়ান বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, আরব আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, কালামুন বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সিরিয়ায় অনেকগুলি উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেমন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন উচ্চতর ইনস্টিটিউট, যা ব্যবসায় অস্নাতক এবং স্নাতক প্রকল্প সরবরাহ করে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...

কাবা ঘর নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মো. আবু রায়হানঃ কাবা মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে, পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।কাবা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ মুকাআব অর্থ ঘন থেকে।কাবা একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত। (The Kaaba, meaning cube in Arabic, is a square building elegantly draped in a silk and cotton veil.)।যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।কাবার ভৌগোলিক অবস্থান ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব।পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর বায়তুল্লাহ বা পবিত্র কাবা ঘর ।আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে তা মক্কা নগরীতে। (সুরা আল ইমরান - ৯৬)। “প্রথম মাসজিদ বায়তুল্লাহিল হারাম তারপর বাইতুল মাকদিস, আর এ দুয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো চল্লিশ বছরের”।(মুসলিম- ৫২০)। ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি ...