সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মুহাম্মদ বিন কাসিমের পতন: ক্ষমতা, রাজনৈতিক কোন্দল এবং এক ট্র্যাজিক অধ্যায়

মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুতে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তবে তাঁর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর জীবনপ্রদীপ যেভাবে নিভে গিয়েছিল, তা অত্যন্ত করুণ এবং বিতর্কিত। সাধারণ ইতিহাস কিংবা উপকথার বাইরে গিয়ে যদি ইবনে আল-বালাজুরি, জি. আর. হটিং কিংবা পি. কে. হিটি-র মতো ইতিহাসবিদদের সূত্র বিশ্লেষণ করা হয়, তবে দেখা যায় যে তাঁর মৃত্যু মূলত উমাইয়া খিলাফতের অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফলাফল ছিল। ১. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ও মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থান মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থানের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তাঁর অভিভাবক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের । ৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান হাজ্জাজকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করেন। ৭০৫ সালে আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর নতুন খলিফা আল-ওয়ালিদও হাজ্জাজকে তাঁর পদে বহাল রাখেন। এই হাজ্জাজের নেতৃত্বেই মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি সেখানে উমাইয়া শাসন সুদৃঢ় করেন। ২. অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উত্তরাধিকার সংকট হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কঠোর শাসন খিলাফতের ভেতরে বহু শত্রুর জন্ম দিয়েছিল: মুহাল্লাব পরিবারের সাথে দ্বন...

কাজাখস্তান

 


 

কাজাখস্তান মধ্যএশিয়ার একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র।এর উত্তরে রাশিয়া, পূর্বে গণচীন, দক্ষিণে কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, ও তুর্কমেনিস্তান এবং পশ্চিমে কাস্পিয়ান সাগর ও রাশিয়া। কাজাখস্তান প্রায় সম্পূর্ণভাবে এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত। তবে দেশটির কিয়দংশ উরাল নদীর পশ্চিমে ইউরোপ মহাদেশে পড়েছে। ভৌগোলিকভাবে বলতে গেলে, কাজাখাস্তান বিশ্বের সর্বউত্তরে অবস্থিত মুসলিম প্রধান দেশ কাজাখ একটি তুর্কি শব্দ। এর অর্থ বিস্ময়। কাজাখিস্তানের অর্থ বিস্ময়ের ভূমি।

রাজধানী – স্বাধীনকাজাখস্তানের প্রথম রাজধানী ছিল 'আলমাআতা। স্বাধীনতা লাভের পর কাজাখস্তান সরকার শহরটির নাম পরিবর্তন করে রাখে আলমাতি। ১৯৯৭ সালের ১০ ডিসেম্বরে আস্তানা শহরে রাজধানী স্থানান্তরিত হয় এবং ১৯৯৮ সালের ১০ জুন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শহরটিকে কাজাখস্তানের রাজধানী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বর্তমানে শহরটির নাম নূর–সুলতান। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নূর সুলতান নাজারবায়েভের নামেই রাজধানীর নতুন নামকরণ করা হয়েছে।

আয়তনঃ ২৭ লাখ ২৪ হাজার ৯০০ বর্গকিলোমিটার। এটি বিশ্বের ৯ম বৃহত্তম রাষ্ট্র রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, চীন ও ভারতের পরেই কাজাখস্তানের স্থান এবং বৃহত্তম স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র ।আয়তন পশ্চিম ইউরোপের আয়তনের সমান। আয়তনে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ কাজাখস্তান। আর জনসংখ্যায় পৃথিবীর বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া।

জনসংখ্যাঃ১কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৮ জন।

নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীঃ দেশটির ১৩১টি জাতিগত গ্রুপের মধ্যে কাজাখ নামের তুর্কী জাতি এখানকার প্রধান জনগোষ্ঠী।যারা মোট জন্যসংখ্যার প্রায় অর্ধেক।কাজাখ ৬৬.৪৮%, রুশ ২০.৬১%, অন্যান্য ১২.৯১%। অন্যান্য মুসলিম নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীগুলো হলো উজবেক, উইঘুর এবং তাতার।

ধর্মঃ কাজাখস্তানের সর্বাধিক প্রচলিত ধর্ম ইসলাম।মোট জনসংখ্যার ৭০ ভাগ মুসলিম। বাকী ৩০ ভাগ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।নৃতাত্ত্বিক কাজাখরা প্রধানত হানাফী মাজহাবভুক্ত সুন্নী মুসলিম। এখানে কিছু সংখ্যক শিয়া ও আহ্মদীয়াও রয়েছে।

ভাষাঃ ১৯৪০ সাল পর্যন্ত সরকারি ভাষা রুশ ।ঐ বছর কাজাখ ভাষা কে কাজাখস্তানের সরকারি ভাষার মর্যাদা দেয়া হয় ।

মুদ্রা : টেংগে।

জাতিসংঘে যোগদান- ২ মার্চ,১৯৯২।

ইসলামের আগমন-

অষ্টম শতাব্দীতে আরবদের আগমনের ফলে এই অঞ্চলে ইসলাম পরিচিতি লাভ করে। ইসলাম প্রথমে দক্ষিণের তুর্কেস্তানে প্রতিষ্ঠা লাভ করে, তারপর উত্তর দিকে বিস্তার লাভ করে।

ইতিহাস

কাজাখরা একটি তুর্কি জাতি । তুর্কি ও মোঙ্গল উপজাতি থেকেই কাজাখাস্তানের উদ্ভব ।খিস্ট্র পূর্বে প্রথমে এরা এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে।এ দেশের উপর দিয়েই এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য হতো বিখ্যাত 'সিল্ক রোড'-এর মধ্য দিয়ে। ১৩ শতকে মোঙ্গলরা এখানে রাজত্ব শুরু করে। ১৬ শতক পর্যন্ত মোঙ্গলরা বিনা বাধায় এখানে রাজত্ব করে। ১৮৭০-১৮৭৬ সালের মধ্যে রাশিয়া কাজাখ দখল নেয়। ১৯২০ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত কাজাখস্তান সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল।১৯২০ সালের ২৬ আগস্ট প্রথম কিরঘিজ সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।১৯২৫ সালে এর নাম পরিবর্তন করে কাজাখ সোভিয়েতসমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র রাখা হয় এবং পরিশেষে ১৯৩৬ সালের ৫ ডিসেম্বর আলমাতাকে রাজধানী করে কাজাখস্তান সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।কাজাখস্তান ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯১ সালে নিজেকে স্বাধীন দেশ হিসাবে ঘোষণা করেছিল। সর্বশেষ সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র এটি ঘোষণা করে। এর কমিউনিস্ট-যুগের নেতা, নুরসুলতান নাজারবায়েভ, দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হন।১৯৯৫ সালে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়, যাতে রাষ্ট্রপতিকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়। কাজাকিস্তানের রাজনীতি একটি রাষ্ট্রপতিশাসিত প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। সরকার প্রধান রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হন। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের উপর ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার এবং দ্বিকক্ষ আইনসভা উভয়ের উপর ন্যস্ত।সোভিয়েত শাসনের সময় ঐতিহ্যবাহী মুসলিম দেশটির ধর্মীয় কার্যক্রমের ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং হাজার হাজার মসজিদ-মাদরাসা বন্ধ করে দেয়। ২০১৯ সালে ৮০টি মসজিদ উদ্বোধন করা হয়েছে। সরকারি হিসাবমতে, কাজাখস্তানে বর্তমানে দুই হাজার ৬৯১টি মসজিদ রয়েছে। আরও শতাধিক মসজিদ নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। এটি এখন মধ্য এশিয়ায় প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসাবে বিবেচিত হয়। দেশটি জাতিসংঘ, ন্যাটো'র অংশীদারত্বের জন্য শান্তির স্বতন্ত্র রাষ্ট্র, কমনওয়েলথ অফ ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থাসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার অন্তর্ভুক্ত। ২০১০ সালে কাজাখস্তান ইউরোপের সুরক্ষা ও সহযোগিতা সংস্থার সভাপতিত্ব করে। ২০১১ সালে, এটি রাশিয়া এবং বেলারুশের সাথে শুল্ক ইউনিয়ন গঠন করে।

পর্যটন

কাজাখস্তানের পাঁচটি পর্যটন অঞ্চল: আস্তানা শহর, আলমাটি শহর, পূর্ব কাজাখস্তান, দক্ষিণ কাজাখস্তান, এবং পশ্চিম কাজাখস্তান এলাকা।

নুরঝল বুলেভার্দ - কাজাখস্তানের জাতীয় বুলেভার্দ। ইশিম নদীর তীরে গড়ে ওঠা রাজধানী শহর আস্তানার একটি পায়ে চলা পথ। বুলভার্দটি শহর এবং দেশটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। বুলভার্দ সহ শহরটির নকশা করেছেন বিখ্যাত স্থাপত্যবিদ কিশো কুরোকাওয়া। বুলভার্দটি প্রেসিডেন্টের বাসভবন এক অরদা থেকে তাবু আকৃতির খান শাতির বিনোদন কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত।

খাবার

কাজাখ রান্নার মূল ভিত্তি হচ্ছে টর্ট টালিক মাল - চার ধরনের গবাদি পশু (বা চার ধরনের মাংস): ঘোড়া, উট, গরু এবং ভেড়া। ঘোড়া মাংস হল প্রধান উৎসব মাংস,গ মেষের মাংস সাধারণ মাংস হিসাবে ব্যবহৃত হয়, উটের মাংসটিও উৎসব অনুষ্ঠানের মান্স, কিন্তু প্রধান নয় কারণ কাজাখস্তানে ঘোড়ার মতো উট সহজে পাওয়া যায় না। গরুর মাংস হল সাধারণ মাংস। ঘোড়া বা ভেড়ার মাংস সিদ্ধ করে তৈরী বেশবেরমেক সর্বাধিক জনপ্রিয় কাজাখ খাবার। এটাকে খাবার ধরণের উপর ভিত্তি করে পঞ্চ অঙ্গুলী বলা হয়। সিদ্ধ মাংসের টুকরো গুলো কেটে অতিথির গুরুত্ব অনুসারে পরিবেশন করা হয়। বেশবারমেওক সিদ্ধ পাস্তা দিয়ে খাওয়া হয় এবন সাথে সরপা নামে এক প্রকার মাংসের ঝোল থাকে যা ঐতিহ্যবাহী কাজাখ বাটি কেসেতে পরিবেশন করা হয়। কাজাখদের আরেকটি জাতীয় খাবার হচ্ছে কুউরদাক। অন্যান্য জনপ্রিয় মাংসের খাবারের মধ্যে আছে কেজি যা ঘোড়া মাংস দিয়ে তৈরী হয়ে এবং শুধুমাত্র বিত্তশালীরা খেয়ে থাকে, শুঝুক, কুইরদাক, ঝাল এবংঝায়া ইত্যাদি। আরেকটি জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে পিলাফ (পোলাও) যা গাজর, পেঁয়াজ এর সাথে চাল ও মাংস মিশিয়ে রান্না করা হয়।

আপেল

বিশ্বের যে কয়েকটি স্থানে আপেলের উৎপত্তি হয় বলে গণ্য করা হয় সেগুলোর মধ্যে কাজাখস্তান অন্যতম। এখানকার আপেলের প্রাচীন জাতটা হলো ম্যালাস সিভারসি। কাজাখস্তানের স্থানীয় ভাষায় এটাকে আলমা বলা হয়। যে অঞ্চলে এর উৎপত্তি ঘটে তাকে বলে আলমাতি অর্থাৎ আপেল সমৃদ্ধ স্থান। মধ্য এশিয়ার দক্ষিণ কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তান এবং চীনে ঝিনজিয়াংয়ের পার্বত্য বন-জঙ্গলে এখনো প্রাকৃতিকভাবে এই আপেল গাছ জন্মে।



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...

কাবা ঘর নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মো. আবু রায়হানঃ কাবা মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে, পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।কাবা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ মুকাআব অর্থ ঘন থেকে।কাবা একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত। (The Kaaba, meaning cube in Arabic, is a square building elegantly draped in a silk and cotton veil.)।যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।কাবার ভৌগোলিক অবস্থান ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব।পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর বায়তুল্লাহ বা পবিত্র কাবা ঘর ।আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে তা মক্কা নগরীতে। (সুরা আল ইমরান - ৯৬)। “প্রথম মাসজিদ বায়তুল্লাহিল হারাম তারপর বাইতুল মাকদিস, আর এ দুয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো চল্লিশ বছরের”।(মুসলিম- ৫২০)। ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি ...