সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মুহাম্মদ বিন কাসিমের পতন: ক্ষমতা, রাজনৈতিক কোন্দল এবং এক ট্র্যাজিক অধ্যায়

মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুতে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তবে তাঁর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর জীবনপ্রদীপ যেভাবে নিভে গিয়েছিল, তা অত্যন্ত করুণ এবং বিতর্কিত। সাধারণ ইতিহাস কিংবা উপকথার বাইরে গিয়ে যদি ইবনে আল-বালাজুরি, জি. আর. হটিং কিংবা পি. কে. হিটি-র মতো ইতিহাসবিদদের সূত্র বিশ্লেষণ করা হয়, তবে দেখা যায় যে তাঁর মৃত্যু মূলত উমাইয়া খিলাফতের অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফলাফল ছিল। ১. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ও মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থান মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থানের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তাঁর অভিভাবক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের । ৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান হাজ্জাজকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করেন। ৭০৫ সালে আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর নতুন খলিফা আল-ওয়ালিদও হাজ্জাজকে তাঁর পদে বহাল রাখেন। এই হাজ্জাজের নেতৃত্বেই মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি সেখানে উমাইয়া শাসন সুদৃঢ় করেন। ২. অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উত্তরাধিকার সংকট হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কঠোর শাসন খিলাফতের ভেতরে বহু শত্রুর জন্ম দিয়েছিল: মুহাল্লাব পরিবারের সাথে দ্বন...

মধ্যপ্রাচ্য

 


এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী একটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত বলে একে মধ্যপ্রাচ্য বলা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস আদিকাল থেকেই প্রসিদ্ধ ছিল এবং এর ইতিহাস থেকেই এটি সারা বিশ্বের এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে। ইতিহাসের আদিকাল কাল থেকে এই অঞ্চল নানান কারণে বিখ্যাত ছিল। ধর্মীয় কারণে এই অঞ্চল যুগে যুগে বিখ্যাত ও শ্রদ্ধেয় হয়ে রয়েছে পৃথিবীর বুকে যেমন ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্ট ধর্ম, ইসলাম ইত্যাদি ধর্মের আবির্ভাব প্রচার ও প্রসার এই অঞ্চলে হয়েছে। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যে শুস্ক ও গরম জলবায়ু বিদ্যমান। এর চারপাশে প্রধান কিছু নদী রয়েছে যা সীমিত এলাকায় কৃষি ব্যবস্থায় সহায়তা করে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ পারস্য উপসাগর তীরে অবস্থিত এবং প্রচুর অশোধিত পেট্রোলিয়াম জ্বালানী তেল সম্পদে ভরপুর। মধ্যপ্রাচ্য আধুনিক বিশ্বে অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিক, এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বা জনপদে পরিণত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা

বর্তমানে উত্তর আফ্রিকার উপকূল থেকে আফগানিস্তানের পশ্চিম ভাগ পর্যন্ত মুসলিমপ্রধান দেশগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের নামের প্রবক্তা ক্যাপ্টেন মাহানের মতে ভূমধ্যসাগর থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ডই হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য । কিন্তু ধারণাটি ছিল একান্তই নৌবাহিনী দৃষ্টিকোণ প্রসূত।আমেরিকার middle east institute প্রতিষ্ঠানের মতে মরক্কো থেকে ইন্দোনেশিয়া এবং সুদান হতে উজবেকিস্থান পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম জাহানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তর্ভুক্ত ।আবার সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যপ্রাচ্য বলতে শুধুফারটাইল ক্রিসেন্টকে (সিরিয়া লেবানন জর্ডান ইরাক ও ইসরাইল) কী বোঝানো হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইতিহাস থেকে সঠিক দিক নির্দেশনা পাওয়া যায় না। কেননা সময়ের বিবর্তনে ও রাজনৈতিক কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সীমা পাল্টেছে বহুবার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার মধ্য প্রাচ্য শব্দটির প্রথম সরকারীভাবে ১৯৫৭ ব্যবহার করেছিল যা সুয়েজ সঙ্কটের সাথে সম্পর্কিত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন ফস্টার ডুলস মধ্য প্রাচ্যকে "পশ্চিমে লিবিয়া এবং পূর্বে পাকিস্তান, উত্তরে সিরিয়া এবং ইরাক এবং দক্ষিণে আরব উপদ্বীপ, পাশাপাশি সুদান এবং ইথিওপিয়া হিসাবে চিহ্নিত অঞ্চলকে সংজ্ঞায়িত করেছেন।" । ১৯৫৮ সালে, পররাষ্ট্র দফতর ব্যাখ্যা করেছিল যে "মধ্যপ্রাচ্য" অঞ্চলটিকে কেবল মিশর, সিরিয়া, ইস্রায়েল, লেবানন, জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন এবং কাতারসহ অন্তর্ভুক্ত করেছে.ইরানকে কখনো কখনো পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সাথে দক্ষিণ এশিয়ার বর্ধিতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।এ দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক ঐতিহাসিক ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যভুক্ত দেশ বলে মনে করেন না ।কিন্তু পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত এতদঞ্চলের অন্যতম তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তর্ভুক্ত মনে করাই যুক্তিসঙ্গত। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে ইরানের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ।অনেকে আফগানিস্তানকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তর্ভুক্ত করতে চান কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে আফগানিস্তান ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে এতনিবিরভাবে সংশ্লিষ্ট যে একে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তর্ভুক্ত করা যুক্তিসঙ্গত ন। সাম্প্রতিককালে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলটিকে বুঝাতে হলে মধ্যপ্রাচ্য ভুক্ত দেশগুলো থেকে ইউরোপের দেশ তুরস্ক এবং আফ্রিকার দেশ মিশরকে বাদ দিতে হবে।এ অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ধর্মীয়ভাবে মুসলমান এবং জাতিগতভাবে আরব।তুরস্ক ও ইরানকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। বাহরাইন, সাইপ্রাস, মিশর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, জর্দান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, প্যালেস্তাইন, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়ান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন।

ইতিহাস

৩১৫০ খ্রিষ্টপূর্বে প্রথম ফারাও অধীনে উচ্চ ও নিম্ন মিশরের রাজনৈতিক একীকরণ সঙ্গে মিশরীয় সভ্যতা একসঙ্গে বেড়ে ওঠে। প্রায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে শাসন করতে আসা বেশ কিছু শক্তিশালী সাম্রাজ্য বিশেষ করে ১৩৬৫-১০৭৬ খ্রিষ্টপূর্বের অ্যাসিরিয়ান সাম্রাজ্য এবং ৯১১-৬০৫ খ্রিষ্টপূর্বের নব্য- অ্যাসিরিয়ান সাম্রাজ্য এর জন্য মেসোপোটেমিয়া ছিল বিচরণস্থান। খ্রিষ্টপূর্ব ৭ শতকের শুরুর দিকে এই এলাকা পারসিয়ান সাম্রাজ্যের ইরানিয়ান মিডিরা এবং পরবর্তি ইরানের রাজ্য সাম্রাজ্যের অধীনে থাকেখ্রিষ্টপূর্ব ১ম শতকে বিস্তৃত রোমান সাম্রাজ্য পুরো পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল দখল করে যার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অনেকাংশই ছিল।বলকান থেকে ইউফ্রেটিস সাম্রাজ্য পর্যন্ত শাসন করেছিল এই পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য যা এখন বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য নামে পরিচিতএরা ক্রমবর্ধমানভাবে পরিচিতি পেয়েছিল এবং খ্রিষ্টধর্মের প্রতি অন্ধবিশ্বাসী ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে অনেক জায়গাতে তাদের খ্রিষ্টধর্ম মতবাদ প্রতিষ্ঠার হুকুম এবং বিশ্বাসীদের মধ্যে ধর্মীয় ফাটল ধরায়।৩য় থেকে ৭ম খ্রিষ্টাব্দে পুরো মধ্য প্রাচ্য শাসন করেছে বাইজেন্টাইন ও পারস্যের সাসনীয়রা। ৭ম শতাব্দী থেকে মধ্যপ্রাচ্য এ ইসলামের নতুন শক্তি জেগে উঠে,আরবদের শাসন হঠাৎ করেই ১১ শতকের মাঝামাঝি এসে সেলজুক রাজবংশের তুর্কিদের আগমনের সঙ্গে শেষ হয়। ১৩ শতকের শুরুর দিকে নতুন আক্রমনকারীর দল, মঙ্গল সাম্রাজ্যের সৈন্য দল মূলত তুর্কীয়রা এ অঞ্চলে আসে। ১৫ শতকের শুরুর দিকে পশ্চিম আনাতোলিয়ায় নতুন শক্তি জেগে উঠে,উসমানীয় সাম্রাজ্য ,ভাষাগত ভাবে তুর্কীয় এবং ধর্মীয় ভাবে মুসলিম, যারা ১৪৫৩ তে কনস্টান্টিনোপল খ্রিস্টান বাইজেন্টাইন রাজধানী দখল করে এবং নিজেদের সুলতান বানায়।

১৬ শতকের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল অংশ উসমানীয় ও ইরানিয়ান সাফাভিদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে পরিনত হয়। ১৭০০ তে উসমানীয়রা হাঙ্গেরি থেকে বিতারিত হয় এবং পশ্চিমের পক্ষে সীমান্তে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতভাবে অপসারিত হয়েছিল। ব্রিটিশরাও পার্সিয়ান উপসাগরে তাদের নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং ফরাসীরা তাদের প্রভাব লেবানন এবং সিরিয়াতেও বাড়িয়েছিল। ১৯১২ তে ইতালিয়ানরা উসমানীয় ভুখন্ডের আনাতোলিয়ার উপকূলের কিছু দূরে লিবিয়া ও ডোডেকানিস দ্বীপ দখল করে।১৯ শতকের শেষ ও ২০ শতকের শুরুর দিকে ইউরোপিয়ান শক্তির সাথে তাল মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের শাসকরা তাদের রাজ্যকে আধুনিক করতে চেষ্টা করেছিলেন। ১৯০৮ এ পারস্যে এবং পরে সৌদি আরব,লিবিয়া আলজেরিয়াসহ অন্যান্য পারস্য উপসাগরের রাজ্যে তেল আবিষ্কারের পর মধ্যপ্রাচ্য ঘুরে দাড়ায়। পশ্চিমের তেলের উপর নির্ভরতা এবং ব্রিটিশদের প্রভাবের পতনের জন্য আমেরিকার এই অঞ্চলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।১৯২০,১৯৩০,১৯৪০ এ সিরিয়া ও মিশর স্বাধীনতার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিল। ২য় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) সময় ও পরে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু অঞ্চল থেকে ব্রিটিশ,ফরাসী ও সোভিয়েতরা বিদায় নিয়েছিল।১৯৪৭ এ জাতিসংঘের ফিলিস্তিন ভাগের পরিকল্পনা আরব ও ইহুদিদের মধ্যে সংগ্রাম চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। পরে স্নায়ুযুদ্ধের দুশ্চিন্তার মধ্যে,উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ার আরবি ভাষী দেশগুলো একাত্মতা উত্থান হয়। ইউরোপিয়ান শক্তির সরাসরি নিয়ন্ত্রন দূর,ইসরাইলের প্রতিষ্ঠা এবং তৈল শিল্পে গুরুত্ব আধুনিক মধ্যপ্রাচ্য তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশগুলোতে, রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি , অস্ত্র ও প্রতিপত্তি প্রকল্পে বাড়তি খরচ, এবং তেল রাজস্বের উপর অধিক নির্ভরতার জন্য বাজার অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল। অঞ্চলের সফল অর্থনীতি ছিল কম জনসংখ্যার তেল সম্পদযুক্ত দেশ গুলোতে,যেমন কাতার,বাহরাইন, কুয়েত, এবং এবং আরব আমিরাত।

জনগোষ্ঠী

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বসবাস এদের মধ্যেআরবইহুদি পারসিক তুর্কি কুর্দি আসিরিয়ান আর্মেনিয়ান প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর রয়েছে । ইহুদীরা ইসরাইলে তাদের নিজস্ব আবাসভূমি করে তুলেছে।পারসিকরা ইরানে এবং তুর্কিরা তুরস্কের জাতিরাষ্ট্র গঠন করেছে। ইরাক ইরান সিরিয়া তুরস্ক এই চারটি দেশে ছড়িয়ে থাকা কুর্দিরা নিজেদের জন্য কোন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।আসিরীয় গণ ইরাক ও ইরানে বসবাস করে। আর্মেনীয়দের বসবাস মূলত ইউরোপের আর্মেনিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ক্ষুদ্রজাতিস্বত্তা হিসেবে এদের বসবাস রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী হলো আরব মধ্যপ্রাচ্যে তারা বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে বসবাস করে।

আরব কারা ?

খ্রিস্টপূর্ব নবম শতকথেকে দক্ষিণ আরবের ইয়েমেনে আরব শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয় ।এসময় শব্দটির ব্যবহার ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ তখন আরবে উপদ্বীপে দুই ধরনের জনগোষ্ঠী বাস করত স্থায়ী জনগোষ্ঠী ও যাযাবর জনগোষ্ঠী। অবশ্য এখনও এ দু'ধরনের জনগোষ্ঠীর রয়েছে । তবে যাযাবরদের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। আরব উপদ্বীপ জর্ডান সিরিয়া ইরাক এবং উত্তর আফ্রিকায় এসব যাযাবরদের দেখতে পাওয়া যায়। তাদের কে বলা হয় বেদুইন। পরবর্তীকালে আরো ব্যাপক অর্থে আরব শব্দটি ব্যবহৃত হতে থাকে।এ অর্থে আরব বলতে বোঝানো হয়েছে আরব গোত্রসমূহহতেউদ্ভূত জনগোষ্ঠীকে। যারা আরব উপদ্বীপে এবং সিরিয়ার মরুভূমিতে বসবাস করে।আরব বলতেএকটি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে। অনেকে মনে করে থাকেন যে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসকারী সকল আরব মুসলমান।কিন্তু ধারণাটি সঠিক নয়।মধ্যপ্রাচ্যে অনেক খ্রিস্টান রয়েছে যারা ইসলামের আবির্ভাবের পূর্ব থেকে এ অঞ্চলে বসবাস করে আসছে।সিরিয়া লেবানন ইরাক ও ফিলিস্তিন এসব খৃষ্টান আরবের বসবাস।সাম্প্রতিক কালের সংজ্ঞা অনুযায়ী একজন ব্যক্তি যদি এমন একটি দেশের নাগরিক হয় যে দেশের জাতীয় ভাষা আরবি অথবা আরবি একটি সরকারি ভাষা রূপে স্বীকৃত অথবা যে দেশ আরব লীগের সদস্য তাহলে সেই ব্যক্তিকে আরব বলে অভিহিত করা যাবে। এক্ষেত্রে বিশ্বের ৩০কোটিরও বেশি জনগোষ্ঠীকে আরব জাতি ভুক্ত করা যায়।মূলত পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা, আফ্রিকার শিং নামক অঞ্চল ও আরব বিশ্বের অন্যান্য স্থানে এই জাতির আবাসস্থল। এদের মধ্যে লেবানিজ, সিরিয়ান, আমিরাতি, কাতারি, সৌদি, বাহরাইনি, কুয়েতি, ইরাকি, ওমানি, জর্ডানি, ফিলিস্তিনি, ইয়েমেনি, সুদানি, আলজেরিয়ান, মরক্কান, তিউনিসিয়ান, লিবিয়ান ও মিশরীয়রা রয়েছে।

ধর্ম

মধ্যপ্রাচ্য যখন ধর্মের ক্ষেত্রে আসে তখন এটি অনেক বৈচিত্র্যময়, যার বেশিরভাগই সেখানে উত্পন্ন হয়েছিল। ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম ধর্ম, তবে অন্যান্য ধর্মের উত্স যেমন ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মেরও রয়েছে, সেগুলিরও প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। খ্রিস্টানরা লেবাননের ৪০.৫% প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে লেবাননের রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার অর্ধেক এবং সংসদের অর্ধেক অংশ খ্রিস্টান আচার অনুসরণ করে। বহু বিশ্বাস, ইয়ারসানিজম, ইয়াজিদিজম, জোরোস্ট্রিয়ানিজম, ম্যান্ডাইজম, দ্রুজ এবং শাবাকিজমের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যালঘু ধর্মও রয়েছে এবং প্রাচীন কালে এই অঞ্চলটিতে মেসোপটেমিয়ান ধর্ম, কেনানীয় ধর্ম, ম্যানিকিএইজম, মিত্রেজম এবং বিভিন্ন একেশ্বরবাদী সম্প্রদায় ছিল।

হরমুজ প্রণালী

হরমুজ প্রণালী মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এর বাইরে তেল সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই অঞ্চলের প্রাণ হরমুজ প্রণালী কয়েক দশক ধরে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। হরমুজ প্রণালীর জলাধারের প্রবাহ ইরান ও ওমানকে পৃথক করেছে, এটি উপসাগরীয় অঞ্চল ওমান ও আরব সাগরের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করেছে। এ প্রণালী সংকীর্ণ বিন্দুতে ২১ মাইল (৩৩ কিলোমিটার) প্রশস্ত, তবে উভয় দিক থেকে জাহাজ চলাচলের রাস্তা শুধুমাত্র দুই মাইল (৩ কিলোমিটার) প্রশস্ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক তথ্য মতে, প্রতিদিন ১৮.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই প্রণালী দিয়ে সরবরাহ হয়। এটি ২০১৬ সালের হিসাব। ওই হিসাবে বলা হয়েছে, এই তেল সরবরাহের মধ্যে ৩০ শতাংশ অপরিশোধিত ও বাকি অংশ বিভিন্ন তরল তেল। তেল বিশ্লেষণ সংস্থা ভরটেক্সা তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে এই প্রণালী দিলে ১৭.২ মিলিয়ন ব্যারেল (বিপিডি) অপরিশোধিত তেল সরবরাহ হয়েছে। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি (বিপিডি) তেলের সরবরাহ ছিল ১৭.৪ মিলিয়ন ব্যারেল। বিশ্বে ১০০ মিলিয়ন বিপিডি তেলে চাহিদা রয়েছে এর এক পঞ্চামাংশ এ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ হয়। অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে উল্লেযোগ্য হলো সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং ইরাক। এসব দেশগুলো পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক সংগঠনের সদস্য। যারা জাহাজে পানিপথে তেল সরবরাহ করে। এই প্রণালীটি প্রাকৃতিক তরল গ্যাস (এরএনজি) সরবরাহেরর জন্য বিশ্বের সরচেয়ে বড় রফতানিকারক দেশ কাতার ব্যবহার করে আসছে। ১৯৮০-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরান-ইরাকের যুদ্ধে দুই পাশ থেকে তেল রফতানিকারকদের হয়রানি করা হয়। যেটি ট্যাঙ্কার যুদ্ধ নামে পরিচিত। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম ফ্লিট এসব এলাকার বাণিজ্যিক জাহাজগুলো রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে।

সুয়েজ খাল

মিসরের একটি জনপ্রিয় প্রবাদ হলো, ‘আপনি পৃথিবীর যেখানেই থাকুন, সুয়েজ খাল দ্বারা উপকৃত।’ সুয়েজ খাল মিশরের সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত একটি কৃত্তিম সামুদ্রিক খাল। এটি ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সাথে যুক্ত করেছে। ২৫ এপ্রিল ১৮৫৯ তারিখে নির্মাণ কাজ আরম্ভ হয়,শেষ হয় ২৫ এপ্রিল ১৮৬৯। দশ বছর ধরে খননের পর পথটি ১৭ নভেম্বর ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়। প্রতিদিন প্রায় ৭০টি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল করে সুয়েজ খালে। এতে পণ্য পরিবহন করা হয় তিন থেকে পাঁচ মিলিয়ন টন। বছরে প্রায় ২৫ হাজার জাহাজ সুয়েজ খাল ব্যবহার করে। এর বিনিময়ে মিসর ৪৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব উপার্জন করে। ধারণা করা হয়, ২০২৩ সাল নাগাদ সুয়েজ খালে দৈনিক ৯৭টি জাহাজ চলাচল করতে পারবে। তখন মিসরের বার্ষিক আয় হবে ১৩.২২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।উত্তরে ইউরোপ থেকে দক্ষিণে এশিয়া, উভয়প্রান্তে পণ্যপরিবহনে সুয়েজ খাল একটি জলপথ হিসাবে ব্যবহৃত হয়, এতে করে সম্পূর্ণ আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে আসতে হয়না। সুয়েজ খাল খননের আগে ইউরোপের জাহাজগুলোর দক্ষিণ এশিয়ায় আসতে সময় লাগত ৪০-৫০ দিন। আর পাড়ি দিতে হতো অতিরিক্ত সাত হাজার কিলোমিটার পথ। কিন্তু সুয়েজ খাল ব্যবহার করে জাহাজগুলো মাত্র ২০ দিনে দক্ষিণ এশিয়ায় পৌঁছতে পারে। সময় ও জ্বালানি বেঁচে যাওয়ায় বিশ্বজুড়েই বাণিজ্যিক পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের খরচ কমেছে অনেকাংশে।

খালটি উন্মুক্ত হবার পূর্বে, কখনো কখনো পণ্য জাহাজ থেকে নামিয়ে মিশরের স্থলপথ অতিক্রম করে, ভূমধ্যসাগর হতে লোহিত সাগরে এবং লোহিত সাগর হতে ভূমধ্যসাগরে অপেক্ষমাণ জাহাজে পারাপার করা হত। এর ব্যপ্তি ভূমধ্যসাগরের পোর্ট আবু সাঈদ হতে লোহিত সাগরের সুয়েজ পর্যন্ত। ১৮৫৪ সালে ফরাসি প্রকৌশলী ফার্দিনান্দ ডি লেসেপ্স মিসর ও সুদানের শাসক সাইয়েদ পাশাকে সুয়েজ খাল খননের জন্য একটি আন্তর্জাতিক কম্পানি গঠনের প্রস্তাব দেন। সাইয়েদ পাশা তাতে সম্মত হন এবং ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম সুয়েজ চ্যানেল কম্পানি নামের একটি কম্পানি গঠন করা হয়। তাঁর অধীনে ১৮৫৯ সালে খননকাজ শুরু হয়। বিভিন্ন দেশের প্রায় ১.৫ মিলিয়ন শ্রমিক সুয়েজ খাল খননের কাজে নিযুক্ত হয়। এদের মধ্যে লক্ষাধিক শ্রমিকের মৃত্যুও হয়। শুরুতে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১৬৪ কিলোমিটার এবং গভীরতা ছিল ৮ মিটার। বেশ কিছু সংস্কার ও সম্প্রসারণের পর ২০১০ সালের হিসাব মতে এর দৈর্ঘ্য ১৯০.৩ কিলোমিটার , গভীরতা ২৪ মিটার।সুয়েজ খালের মালিকানা ও পরিচালনা মিসরের সুয়েজ ক্যানেল অথরিটির ওপর ন্যাস্ত। আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, সুয়েজ খাল শান্তিকালীন সময় অথবা যুদ্ধকালীন সময় - সব সময়েই যে কোন দেশের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক বা যুদ্ধ জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।এটি ২৬ জুলাই ১৯৫৬ তে মিসর জাতীয়করণ করে। সুয়েজ খাল জাতীয়করণের পর ইঙ্গ-ফরাসি-ইসরায়েলি বাহিনী সম্মিলিত হামলা চালায় মিসরে। ২৯ অক্টোবর ইসরায়েল সিনাই উপদ্বীপে এবং ৩১ অক্টোবর কায়রোতে বিমান হামলা চালায় ইঙ্গ-ফরাসি বাহিনী। মিসরের ওপর অন্যায় এই হামলার প্রতিবাদে সারা বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এবং মিসরের বন্ধু রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন হামলা বন্ধ না করলে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দেয়। বৈশ্বিক প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ নভেম্বর ১৯৫৬ তারিখে হামলা বন্ধ করে ব্রিটিশ-ফরাসি-ইসরায়েলি বাহিনী। এই হামলার কারণে সুয়েজ খালে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৫৭ সালের এপ্রিলে তা আবার চালু হয়। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর সুয়েজ খাল আবারও বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৭৫ সালে মিসর-ইসরায়েল শান্তিচুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ আট বছর পর জাহাজ চলাচল শুরু হয় সুয়েজ খালে।

আরব দেশসমূহ-

বর্তমানে আরব লিগের সদস্য রাষ্ট্র ২২টি। আরবি রাষ্ট্রভাষার দেশ ২৫টি। এর মধ্যে ১৯টির প্রধান রাষ্ট্রভাষা আরবি। এগুলো হলো, ইয়েমেন, ওমান, বাহরাইন, কাতার, আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, জর্দান, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, মিসর, সুদান, লিবিয়া, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, মৌরিতানিয়া ও মরক্কো। বাকি ছয়টিতে আরবি দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা। এগুলো হলো—ইসরায়েল, জিবুতি, চাদ, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া ও কমরোজ। এগুলোর মধ্যে জিবুতি, কমরোজ ও সোমালিয়া আরব লিগের সদস্য। অন্যদিকে চাদ ওআইসির সদস্য হলেও ইসরায়েল ও ইরিত্রিয়া তা নয়। এ ছয় দেশের মধ্যে ইসরায়েল ছাড়া বাকিগুলো আফ্রিকা মহাদেশভুক্ত। আরব লিগের সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১২টিই এশিয়া মহাদেশভুক্ত ও এগুলোর সবার প্রধান রাষ্ট্রভাষা আরবি। আরব দেশগুলো কয়েকটি অঞ্চলে বিভক্ত। তার মধ্যে আরব উপদ্বীপে রয়েছে সাতটি দেশ। এগুলো হলো—ইয়েমেন, ওমান, বাহরাইন, কাতার, আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কুয়েত। শাম অঞ্চলে রয়েছে পাঁচটি দেশ। এগুলো হলো—ইরাক, জর্দান, সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিন। অবশ্যই ইরাককে পৃথক অঞ্চল হিসেবেও গণ্য করা যায়। মিসর অঞ্চলের মধ্যে মিসরসহ লিবিয়া, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, মৌরিতানিয়া ও মরক্কোকে যুক্ত করা যায়। কারণ এ অঞ্চলের মানুষের ভাষা ও বর্ণ প্রায় এক। অনারবি রাষ্ট্রভাষার দেশগুলোর মধ্যে ইরানের খুজিস্তান ও তাঞ্জানিয়ার জিঞ্জিবার প্রদেশেই সবচেয়ে বেশি আরবিভাষী নাগরিক বিদ্যমান। আরব দেশগুলোর মধ্যে ওমান, বাহরাইন, কাতার, আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, জর্দান ও মরক্কোয় রাজতন্ত্র বিদ্যমান। তার মধ্যে জর্দান, মরক্কো, কুয়েত ও বাহরাইনে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র (নির্বাচিত পার্লামেন্ট) ও বাকিগুলোতে মনোনীত শুরা সদস্যনির্ভর সংসদ রয়েছে। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত শব্দ দ্বারা বর্তমানে চারটি আরব দেশ রয়েছে। সেগুলো হলো—মিসর, ইসরায়েল (এটি নবী ইয়াকুবের অন্য নাম), বাহরাইন ও মরক্কো। আফ্রিকার আরব দেশগুলোর মধ্যে মিসর ও সুদানই একসময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনস্থ ছিল। বাকিগুলোর মধ্যে তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো, মৌরিতানিয়া, জিবুতি ও কমরোজে ছিল ফ্রান্সের শাসন। লিবিয়া দখল করেছিল ইতালি। 

আরবলীগ

আরবলীগ আরব দেশগুলোর সবচেয়ে বড় সংস্থা। ওআইসির পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সংস্থা এটি। আরবি ভাষাভাষী বিশ্বের ৪৩ কোটি মানুষ ও ১কোটি ৩০ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার জনপদের প্রতিনিধিত্ব করে আরবলীগ। ৭ অক্টোবর ১৯৪৪ সালে স্বাক্ষরিত আলেকজান্দ্রিয়া প্রটোকল ছিল আরব লীগের ভিত্তি। মাত্র ছয়টি আরব মুসলিম রাষ্ট্র সৌদি আরব, মিসর, লেবানন, ইরাক, সিরিয়া, জর্দান নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে আরবলীগের সদস্য রাষ্ট্র ২২টি। দেশগুলো হচ্ছে: আলজেরিয়া, বাহরাইন, কমোরোজ, জিবুতি, মিসর, ইরাক, জর্দান, কুয়েত, লেবানন, মৌরতানিয়া, লিবিয়া, মরক্কো, ওমান, ফিলিস্তিন, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, তিউনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের সংখ্যা ৫।যেসকল দেশে ইসলাম ধর্ম প্রধান এবং ভাষা আরবি, সেসকল দেশ আরবদেশ ।মূলত সেসব দেশের সংগঠন আরবলীগ।আরবি রাষ্ট্রভাষার দেশ ২৫টি। এর মধ্যে ১৯টির প্রধান রাষ্ট্রভাষা আরবি হলেও অধুনা বহিষ্কৃত সিরিয়াসহ ২২টি রাষ্ট্র আরব লীগের সদস্য। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত হলেও ইরান, ইসরাইল, তুরস্ক আরবদেশ নয়, কারণ এদের ভাষা যথাক্রমে ফার্সি, হিব্রু এবং তুর্কি। ১৯৭৯ সালের মিশর ইসরাইল শান্তি চুক্তি পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৯ সালেই আরবলীগ মিশরের সদস্যপদ স্থগিত করে, এবং তিউনিশিয়ার এর সদর দপ্তর স্থানান্তর করে। এক দশক পরে ১৯৮৯ সালে মিশরকে আবার সদস্যপদ দেওয়া হলে আরবলীগের সদর দপ্তর কায়রোরে পুনঃস্থাপিত হয়।আরব লীগের জনসংখ্যার ৯০% মুসলমান, ৬% খ্রীষ্টান এবং ৪% অন্যান্য।আরবলীগের উদ্দেশ্য মূলতঃ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও পারস্পরিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা।

১৯৪৫ এর পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত আরবলীগের ভুমিকা বরাবরই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। যে উদ্দেশ্য নিয়ে আরব লীগের যাত্রা শুরু হয়েছিল তার কোন কিছুরই প্রতিফলন নেই আরব লীগের। সাম্রাজ্যবাদের তাবেদারি ছাড়া আরব লীগের নেতারা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য কিছুই করেনি।আরব লীগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ছিল আরব জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, পারস্পরিক সংকট মোকাবেলায় নিজস্ব উদ্যোগ গ্রহণ এবং বহির্বিশ্বের হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা। কিন্তু এর কোনোটাই ঠিকমতো করতে পারেনি সংস্থাটি। অভিযোগ রয়েছে, আরবলীগ ও আরব নেতাদের রহস্যময় ভূমিকার জন্য ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান হচ্ছে না। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের স্বাধীনতা ঘোষণার পর প্রথম বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয় আরবলীগ। এ সময় ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতেও জড়িয়ে পড়ে কয়েকটি সদস্য দেশ। আরব দেশগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়। কিন্তু তার ভেতরই অখণ্ড ফিলিস্তিনের দাবি থেকে সরে যায় সদস্য দেশ জর্দান। আরব রাষ্ট্রগুলোর মতামত উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে সমর্থন দেয়। ১৯৭৯ সালে মিসর ইসরায়েলের সঙ্গে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি স্বাক্ষরের পর আরবলীগে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। মিসরের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। ১৯৮৯ সালে তা আবারও ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ১৯৫৮ সালে লেবানন সংকট মোকাবেলা এবং ১৯৬২ সালে স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মিসরের রাজধানী কায়রোতে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) প্রতিষ্ঠাকে আরব লীগের অন্যতম সাফল্য বিবেচনা করা হয়। আরবলীগ ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বিবেচনা করে। ১৯৯৬ সালে আরবলীগ ফিলিস্তিনকে পূর্ণাঙ্গ সদস্য পদ দেয়।। আরব দেশগুলোর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার অঙ্গীকার করা হয়েছে আরবলীগের ২০ ধারাবিশিষ্ট সংবিধানে।

তাতে বলা হয়েছে, যেকোনো বিদেশি আগ্রাসন রোধে সদস্য দেশের পাশে থাকবে আরবলীগ। নিজেদের ভেতর সৃষ্ট সংকটেরও শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেবে। কিন্তু ইরাক ও লিবিয়ায় ইঙ্গ-মার্কিন বাহিনীর হামলার সময় অন্য সদস্য দেশের সহযোগিতা, সিরিয়ার বিভিন্ন গোষ্ঠীকে অস্ত্র সরবরাহ, ইয়েমেনে সৌদি জোটের হামলা ইত্যাদি সংকটে আরব লীগের ভূমিকা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব রোধের নামে আরব দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টিতে আরবলীগকেও দায়ী করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩৬টি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩-১৭ জানুয়ারি ১৯৬৪ তারিখে মিসরের রাজধানী কায়রোতে সর্বপ্রথম এবং ৩১ মার্চ ২০১৯ তারিখে তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে সর্বশেষ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ শীর্ষ সম্মেলনে আরব লীগের মাত্র ১১ জন শীর্ষ নেতা অংশগ্রহণ করেন।আরব লীগের প্রতি মুসলিম বিশ্বের, বিশেষত আরব মুসলিমদের ব্যাপক প্রত্যাশা থাকলেও শীর্ষ সম্মেলনগুলোতে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। কিছু নিন্দা প্রস্তাব ও অঙ্গীকারসর্বস্ব ঘোষণায় শেষ হয় প্রতিটি শীর্ষ সম্মেলন। ঘোষণা ও অঙ্গীকার থাকে; কিন্তু তা বাস্তবায়নের রূপরেখা কেমন হবে তার উল্লেখ থাকে না। যেমন—সেবারের শীর্ষ সম্মেলনের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণা। আরবলীগের শীর্ষ সম্মেলনে এই ঘোষণার নিন্দা করা হয়েছে। কিন্তু গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব কিভাবে রক্ষা করা হবে, সে ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা নেই। ২০১১ সালে সৌদিআরব, আমেরিকা ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থনে সিরিয়ায় উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে লেলিয়ে দেয়া হয়। বিদেশি মদদে ওই সহিংসতা শুরু হওয়ার পর ২০১১ সালেই সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের চাপে সিরিয়ার সদস্যপদ বাতিল করে আরব লীগ।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিজয়ের মাধ্যমে দেশটির বিরুদ্ধে পশ্চিমা ও আরব দেশগুলোর ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় বহু পশ্চিমা ও আরব দেশ এবং সংস্থা সিরিয়ার সঙ্গে আবার কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছে।সাম্প্রতিক সময়ে আরবলীগ ফের আলোচনায় । ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহারাইনের নিন্দা করতে আরব লীগের বৈঠকে একটি প্রস্তাব তোলে ফিলিস্তিন কিন্তু সে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় নি। এ ঘটনাকে কৌশলে আরব লীগ ইসরাইলের পক্ষ নিয়েছে বলে মনে করছে ফিলিস্তিন। আরবলীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমিরাত-ইসরাইল চুক্তির নিন্দা জানানোর জন্য একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। নাম উল্লেখ না করে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানায়, কয়েকটি আরব দেশ ওই চুক্তির নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এদিকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে কয়েকটি আরব দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রতিবাদে আরব লীগের সভাপতি পদের দায়িত্ব গ্রহণ করছে না ফিলিস্তিন। অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র ও অভিবাসী বিষয়ক মন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি বলেন, সর্বশেষ ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র আরব লীগের পর্যায়ক্রমিক সভাপতির পদ প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পরও আরব লীগ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহারাইনের পক্ষ অবলম্বন করায় আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের চুক্তিকে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং আরবলীগের নীতি লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিন। এ চুক্তির ফলে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হয়ে গেল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।গত ১৫ জুলাই বাহারাইন এবংসংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি সই করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে এ চুক্তি সই হয় এবং এতে মধ্যস্থতা করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শিগগিরই আরবের আরো কয়েকটি দেশ আমিরাত-বাহরাইনের মতো একই পথে হাঁটবে বলে দাবি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...

কাবা ঘর নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মো. আবু রায়হানঃ কাবা মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে, পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।কাবা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ মুকাআব অর্থ ঘন থেকে।কাবা একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত। (The Kaaba, meaning cube in Arabic, is a square building elegantly draped in a silk and cotton veil.)।যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।কাবার ভৌগোলিক অবস্থান ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব।পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর বায়তুল্লাহ বা পবিত্র কাবা ঘর ।আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে তা মক্কা নগরীতে। (সুরা আল ইমরান - ৯৬)। “প্রথম মাসজিদ বায়তুল্লাহিল হারাম তারপর বাইতুল মাকদিস, আর এ দুয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো চল্লিশ বছরের”।(মুসলিম- ৫২০)। ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি ...