পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কিছু শহরের জন্ম হয়েছে যা কেবল কোনো রাজ্যের রাজধানী হিসেবেই টিকে থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছে জ্ঞান, শিল্প ও সভ্যতার বাতিঘর। মধ্যযুগের সেই গোলকধাঁধার মতো বিশ্বসেরা নগরীটির নাম— বাগদাদ । খলিফাদের দাপ্তরিক নথিপত্র, তৈরি পোশাকের গায়ে বোনা লেখা কিংবা সরকারি মুদ্রায় এই শহরের নাম খোদাই করা থাকত "মদিনাত আস-সালাম" বা "শান্তির শহর"। কিন্তু ইতিহাস এবং সাধারণ মানুষের মুখে মুখে শহরটি পরিচিতি পায় তার প্রাচীন নামেই—বাগদাদ। এক বিস্ময়ের নাম বাগদাদ একাদশ শতকের বিখ্যাত মুসলিম পন্ডিত খতিব আল-বাগদাদি এই শহরের সৌন্দর্য ও বৈভব দেখে মোহিত হয়ে লিখেছিলেন: "সমগ্র বিশ্বে এমন কোনো শহর নেই যা আয়তনে, জাঁকজমকে কিংবা জ্ঞানী ও মহান ব্যক্তিত্বের সংখ্যায় বাগদাদের সাথে তুলনীয় হতে পারে... এর অসংখ্য রাস্তা, বাজার, অলিগলি, মসজিদ, হামামখানা আর দোকানপাটের দিকে তাকালেই বোঝা যায় এটি অন্য সব শহর থেকে কতটা আলাদা।" বাস্তবেই, অল্প সময়ের মধ্যে বাগদাদ মধ্যযুগের বিশ্বের বৃহত্তম নগরে পরিণত হয়েছিল। বাজার জুড়ে বইয়ের দোকান, গণগ্রন্থাগার এবং বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইসলামিক বিশ্বের কোণায় ...
আজকের ‘ অটোমেশন ’ বা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি কি সত্যিই আধুনিক যুগের আবিষ্কার ? ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় , এর শিকড় অনেক গভীরে — প্রায় ১ , ২০০ বছর আগের বাগদাদে। নবম শতাব্দীতে আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এই সময়ের তিন ভাই — মুহাম্মদ ইবন মুসা , আহমদ ইবন মুসা এবং আল-হাসান ইবন মুসা , সম্মিলিতভাবে পরিচিত বনু মুসা ( Banū Mūsā) নামে — গণিত , জ্যোতির্বিজ্ঞান ও যান্ত্রিক প্রকৌশলের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁরা এমন সব যান্ত্রিক যন্ত্রের নকশা তৈরি করেছিলেন , যার মধ্যে ছিল স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা , পানি-নির্ভর যন্ত্র , ফোয়ারা , প্রদীপ এবং নানা ধরনের কৌশলগত যান্ত্রিক ব্যবস্থা। তিন ভাই , তিন বিশেষ দক্ষতা বনু মুসার তিন ভাই একসঙ্গে কাজ করলেও তাঁদের নিজস্ব আগ্রহ ও দক্ষতার ক্ষেত্র ছিল কিছুটা আলাদা। মুহাম্মদ ইবন মুসা জ্যামিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে বিশেষভাবে পারদর্শী ছিলেন। আহমদ ইবন মুসা যান্ত্রিক প্রকৌশল ও মেকানিক্যাল ডিভাইস নিয়ে কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন। আর আল-হাসান ইব...