১২৬০ খ্রিষ্টাব্দ। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে তখন আতঙ্কের কালো মেঘ। মঙ্গোল বাহিনীর নাম শুনলেই নগরীর দরজা বন্ধ হয়ে যেত, মানুষ পালানোর পথ খুঁজত। একের পর এক নগরী ধ্বংস করে এগিয়ে আসছিল চেঙ্গিস খানের উত্তরসূরিদের বাহিনী। এরই মধ্যে মঙ্গোল সাম্রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী সেনাপতি হুলাগু খান মধ্যপ্রাচ্যে ভয়ংকর অভিযান শুরু করেন। বাগদাদ থেকে সিরিয়া—ধ্বংসের পথে মঙ্গোল বাহিনী ১২৫৮ সালে হুলাগুর বাহিনী আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ দখল করে। শেষ আব্বাসীয় খলিফা আল-মুস্তাসিম বিল্লাহ নিহত হন এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাগদাদ ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়। এরপর হুলাগুর বাহিনী সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হয়। ১২৬০ সালের জানুয়ারিতে আলেপ্পো অবরোধ করা হয়। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই শহরটি মঙ্গোলদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর মঙ্গোল বাহিনী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হয় এবং মার্চ মাসে দামেস্কও তাদের দখলে আসে। মনে হচ্ছিল—মঙ্গোলদের থামানোর মতো কোনো শক্তিই আর অবশিষ্ট নেই। কিন্তু ইতিহাস তখন অন্য একটি অধ্যায়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মিশরে উঠে এল মামলুক শক্তি মঙ্গোলদের এই অপ্রতিরোধ...
সত্যের সন্ধানে দাউদ কিমের মতো হাজারো যুবক ইসলামের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অন্যদিকে মুসলিম যুবকেরা হচ্ছে ইসলাম বিমুখ।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত ব্লগার জে কিম ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি দাউদ কিম নাম ধারণ করেন। ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তিনি সারা বিশ্বে পরিচিত। নানা বিষয়ে ভিডিও তৈরি করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। তার ইসলাম গ্রহণের ভিডিও প্রায় অর্ধকোটি বার ভিউ হয়।
সর্বশেষ ওমরাহ পালনের উদ্দেশে মক্কায় পৌঁছেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত ইউটিউবার দাউদ কিম। গত শনিবার ইসলাম গ্রহণের পর দ্বিতীয়বার তিনি ইসলামের প্রধান সম্মানিত এই স্থানে যান। এর আগে ডিসেম্বরের শেষদিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্দান্ত ভ্রমণের কথা জানান।
পবিত্র কাবাঘর প্রাঙ্গণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ছবি পোস্ট করে দাউদ কিম বলেন, ‘পবিত্র এই স্থান আমার ঠিকানার মতো। এই স্থান খুবই পবিত্র ও সম্মানিত। এখানে এসে সবার মধ্যে জিজ্ঞাসা তৈরি হয় যে আমরা কেন জন্ম নিয়েছি? আমরা কেন বেঁচে আছি? আমরা কোথায় যাব?’
আল্লাহর অনুগ্রহে সুপথপ্রাপ্তির কথা জানিয়ে দাউদ কিম বলেন, ‘আমার জীবন ছিল খুবই এলোমেলো। আমি ভেবেছিলাম সবচেয়ে অসুখী ব্যক্তিটি আমি। সব সময় আমি উত্তরের আশায় ঘুরে বেড়িয়েছি। আমি উপলব্ধি করেছি যে আমি একাকী নই। আমার পাশে এমন কেউ রয়েছেন যিনি আমাকে সঠিক পথ দেখানোর চেষ্টা করছেন। অবশেষে আমি বুঝতে পারি, আল্লাহ আমার পাশে রয়েছেন।’
ইসলাম ধর্মে নিজের সব জবাব পেয়েছেন জানিয়ে দাউদ কিম লেখেন, ‘ইসলাম আমার সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। যে কারণে আমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং যে কারণে আমি বেঁচে আছি। সর্বশেষ আমাদের পার্থিব জীবনের পর আমরা যেখানে যাব। আমি খুবই আনন্দিত যে মহান আল্লাহ আমাকে মুসলিম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।’ দাউদ কিম আরো লেখেন, ‘ইসলাম আমার সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। আমার যা যা করণীয় সেই ব্যাপারে আল্লাহ আমাকে পরিচালনা করেছেন। হ্যাঁ, আমার জীবন এখনো নিখুঁত নয়। অনেক সময় সমালোচনার সম্মুখীন হই। আমি এখনো ভুল করি...। তবুও আমি একজন মুসলিম। আর আমি কখনোই আল্লাহর রহমত ত্যাগ করব না। আমার বিশ্বাস কখনো বদলাবে না। আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর রাসুল।’
মক্কা ভ্রমণের কথা লিখে দাউদ কিম বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত স্থান পবিত্র মক্কা শহরে এসেছি। মহান আল্লাহ আমার সব পাপ ক্ষমা করুন এবং আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমি আশা করি মহান আল্লাহ সেই সব ব্যক্তিদের সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন যাদের তাঁর সাহায্য প্রয়োজন। আল্লাহ সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর ওপর রহমতের ধারা অব্যাহত রাখুন সেদিন পর্যন্ত যখন আমরা জান্নাতে মিলিত হব।’

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন