ইতিহাসের পাতায় কিছু সমাপ্তি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং তা এক গভীর ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। ২৩ আগস্ট—উসমানীয় রাজবংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ (Caliph Abdul Majid II) -এর জীবনের এক মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধূর অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন। খেলাফতের পতন এবং উসমানীয় রাজবংশের তুরস্ক থেকে নির্বাসনের পর তাঁর জীবন কীভাবে এক নিদারুণ নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়েছিল, এটি তারই এক ঐতিহাসিক দলিল। ১. নির্বাসিত জীবন ও প্যারিসের নিঃসঙ্গ মৃত্যু তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যখন উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করা হয়, তখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, তখন চরম দুর্দিনে প্যারিসের এক ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ এতটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল যে, বেশ কয়েক দিন ধরে তা ফ্ল্যাটেই রাখা ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তাঁর মরদেহ প্যারিস মসজিদে নিয়ে গিয়ে হিমঘরে (frozen storage) রাখা হয়। ২. অপূর্ণ ইচ্ছে ও শেষ ঠিকানার সন্ধান আবদুল মজিদ জীবনের ...
সত্যের সন্ধানে দাউদ কিমের মতো হাজারো যুবক ইসলামের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অন্যদিকে মুসলিম যুবকেরা হচ্ছে ইসলাম বিমুখ।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত ব্লগার জে কিম ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি দাউদ কিম নাম ধারণ করেন। ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তিনি সারা বিশ্বে পরিচিত। নানা বিষয়ে ভিডিও তৈরি করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। তার ইসলাম গ্রহণের ভিডিও প্রায় অর্ধকোটি বার ভিউ হয়।
সর্বশেষ ওমরাহ পালনের উদ্দেশে মক্কায় পৌঁছেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত ইউটিউবার দাউদ কিম। গত শনিবার ইসলাম গ্রহণের পর দ্বিতীয়বার তিনি ইসলামের প্রধান সম্মানিত এই স্থানে যান। এর আগে ডিসেম্বরের শেষদিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্দান্ত ভ্রমণের কথা জানান।
পবিত্র কাবাঘর প্রাঙ্গণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ছবি পোস্ট করে দাউদ কিম বলেন, ‘পবিত্র এই স্থান আমার ঠিকানার মতো। এই স্থান খুবই পবিত্র ও সম্মানিত। এখানে এসে সবার মধ্যে জিজ্ঞাসা তৈরি হয় যে আমরা কেন জন্ম নিয়েছি? আমরা কেন বেঁচে আছি? আমরা কোথায় যাব?’
আল্লাহর অনুগ্রহে সুপথপ্রাপ্তির কথা জানিয়ে দাউদ কিম বলেন, ‘আমার জীবন ছিল খুবই এলোমেলো। আমি ভেবেছিলাম সবচেয়ে অসুখী ব্যক্তিটি আমি। সব সময় আমি উত্তরের আশায় ঘুরে বেড়িয়েছি। আমি উপলব্ধি করেছি যে আমি একাকী নই। আমার পাশে এমন কেউ রয়েছেন যিনি আমাকে সঠিক পথ দেখানোর চেষ্টা করছেন। অবশেষে আমি বুঝতে পারি, আল্লাহ আমার পাশে রয়েছেন।’
ইসলাম ধর্মে নিজের সব জবাব পেয়েছেন জানিয়ে দাউদ কিম লেখেন, ‘ইসলাম আমার সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। যে কারণে আমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং যে কারণে আমি বেঁচে আছি। সর্বশেষ আমাদের পার্থিব জীবনের পর আমরা যেখানে যাব। আমি খুবই আনন্দিত যে মহান আল্লাহ আমাকে মুসলিম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।’ দাউদ কিম আরো লেখেন, ‘ইসলাম আমার সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। আমার যা যা করণীয় সেই ব্যাপারে আল্লাহ আমাকে পরিচালনা করেছেন। হ্যাঁ, আমার জীবন এখনো নিখুঁত নয়। অনেক সময় সমালোচনার সম্মুখীন হই। আমি এখনো ভুল করি...। তবুও আমি একজন মুসলিম। আর আমি কখনোই আল্লাহর রহমত ত্যাগ করব না। আমার বিশ্বাস কখনো বদলাবে না। আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর রাসুল।’
মক্কা ভ্রমণের কথা লিখে দাউদ কিম বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত স্থান পবিত্র মক্কা শহরে এসেছি। মহান আল্লাহ আমার সব পাপ ক্ষমা করুন এবং আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমি আশা করি মহান আল্লাহ সেই সব ব্যক্তিদের সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন যাদের তাঁর সাহায্য প্রয়োজন। আল্লাহ সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর ওপর রহমতের ধারা অব্যাহত রাখুন সেদিন পর্যন্ত যখন আমরা জান্নাতে মিলিত হব।’

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন