ইতিহাসের পাতায় কিছু সমাপ্তি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং তা এক গভীর ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। ২৩ আগস্ট—উসমানীয় রাজবংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ (Caliph Abdul Majid II) -এর জীবনের এক মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধূর অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন। খেলাফতের পতন এবং উসমানীয় রাজবংশের তুরস্ক থেকে নির্বাসনের পর তাঁর জীবন কীভাবে এক নিদারুণ নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়েছিল, এটি তারই এক ঐতিহাসিক দলিল। ১. নির্বাসিত জীবন ও প্যারিসের নিঃসঙ্গ মৃত্যু তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যখন উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করা হয়, তখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, তখন চরম দুর্দিনে প্যারিসের এক ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ এতটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল যে, বেশ কয়েক দিন ধরে তা ফ্ল্যাটেই রাখা ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তাঁর মরদেহ প্যারিস মসজিদে নিয়ে গিয়ে হিমঘরে (frozen storage) রাখা হয়। ২. অপূর্ণ ইচ্ছে ও শেষ ঠিকানার সন্ধান আবদুল মজিদ জীবনের ...
প্রতিবেশী দুই দেশ স্পেন ও মরক্কো। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলে দুই দেশের পার্থক্য চোখে পড়ার মতোই। বিশ্বকাপ, ইউরো—সবই জিতেছে স্পেন। আর মরক্কোর সেরা সাফল্য ১৯৭৬ সালের আফ্রিকান নেশনস কাপ জয়। ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও দুই দলের পার্থক্য স্পষ্ট। স্পেন আছে ৭ নম্বরে, মরক্কোর অবস্থান ২২-এ। দুই দলের আগের তিনবারের সাক্ষাতে পাল্লাটা স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকে আছে স্পেনের দিকে। মুখোমুখি ৩ ম্যাচের ২টিতেই জিতেছে স্পেন, অন্য ম্যাচটি হয়েছে ড্র।
কিন্তু মঞ্চটা যখন বিশ্বকাপের, পরিসংখ্যান আর র্যাঙ্কিংয়ের পার্থক্য অনেক সময় শুধুই মায়াবী বিভ্রম। আর এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেও সেটা দেখা গেছে অনেকবার।প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে মরক্কো! তাও আবার সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে হারিয়ে। এরপর পর্তুগালকে হারিয়ে সেমিতে মরক্কো। মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এর চেয়ে বড় দিন আর আসেনি।
উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের দুই সার্বভৌম ভূখণ্ড সুটা এবং মেলিল্লা। কিন্তু মরক্কোর কাছে ‘সুটা এবং মেলিল্লা তাদের জায়গা যা স্পেন কয়েকশ বছর ধরে জবরদখল করে রেখেছে।তবে আফ্রিকায় মরক্কোর লাগোয়া স্পেনের এই দুই শহরের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ঝগড়া মাঝে মধ্যেই ফুঁসে ওঠে। বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে।আপাতদৃষ্টিতে এই দুই এলাকার ওপর মরক্কোর মালিকানা দাবিকে যৌক্তিক মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এই ভূখণ্ড দুটো আফ্রিকায়। কিন্তু এগুলোর ওপর যাদের মালিকানা সেই স্পেনের অবস্থান ইউরোপে।
সেই বিচারে সুটা এবং মেলিল্লা ওপর স্পেনের মালিকানা ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের একটি নমুনা। এবং জমির মালিকানা নিয়ে অন্য সব বিরোধের মত এখানেও রয়েছে ইতিহাস, আবেগ আর অহংকার।
খ্রিস্টানরা স্পেন থেকে মূর মুসলিমদের বিতাড়িত করার পর পর্যায়ক্রমে সুটা এবং মেলিল্লা দখল করে নেয় স্পেন।পঞ্চদশ শতাব্দিতে স্পেন ভূমধ্যসাগরের অন্য তীরে মেলিল্লা কব্জা করে। মেলিল্লা দখলের প্রায় দুশ বছর পর সপ্তদশ শতাব্দীতে সুটাও দখলে নেয় স্পেন।১৯৫৬ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে মরক্কো স্বাধীনতা পেলেও সুটা এবং মেলিল্লার নিয়ন্ত্রণ ছাড়েনি স্পেন। মরক্কো এবং আরব বিশ্বের অন্যান্য দেশের শত চেষ্টাও কাজে আসেনি। মুসলমানদের কাছে সুটা এবং মেলিল্লা ইউরোপীয় খ্রিষ্টান শক্তির কাছে তাদের পরাজয় এবং অপমানের স্মৃতি-চিহ্ন।
মরক্কোর একজন ঐতিহাসিক লিখেছেন, “পুরনো সেই ক্ষত এখনো সারেনি এবং তা সারবেও না যতদিন না ঐ দুই ভূখণ্ড আবারো মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে আসে।“
এই জবরদখল চলছে প্রায় পাঁচশ বছর ধরে। স্বাধীনতার পর শহর দুটি ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে আসছে মরক্কো। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের সেই দাবির প্রতি সম্মান জানায়নি স্পেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন