মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুতে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তবে তাঁর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর জীবনপ্রদীপ যেভাবে নিভে গিয়েছিল, তা অত্যন্ত করুণ এবং বিতর্কিত। সাধারণ ইতিহাস কিংবা উপকথার বাইরে গিয়ে যদি ইবনে আল-বালাজুরি, জি. আর. হটিং কিংবা পি. কে. হিটি-র মতো ইতিহাসবিদদের সূত্র বিশ্লেষণ করা হয়, তবে দেখা যায় যে তাঁর মৃত্যু মূলত উমাইয়া খিলাফতের অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফলাফল ছিল। ১. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ও মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থান মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থানের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তাঁর অভিভাবক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের । ৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান হাজ্জাজকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করেন। ৭০৫ সালে আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর নতুন খলিফা আল-ওয়ালিদও হাজ্জাজকে তাঁর পদে বহাল রাখেন। এই হাজ্জাজের নেতৃত্বেই মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি সেখানে উমাইয়া শাসন সুদৃঢ় করেন। ২. অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উত্তরাধিকার সংকট হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কঠোর শাসন খিলাফতের ভেতরে বহু শত্রুর জন্ম দিয়েছিল: মুহাল্লাব পরিবারের সাথে দ্বন...
জার্মানির কোলন শহরের সেন্ট্রাল মসজিদে আজ শুক্রবার থেকে মাইকে জুমার নামাজের আজান দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার কোলন শহর কর্তৃপক্ষ ও জার্মানিতে বসবাসকারী তুরস্কের নাগরিকদের সংগঠন ‘ডিটিব’-এর মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। এ চুক্তির মধ্য দিয়ে মাইকে জুমার আজান দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট আজান দিতে পারবেন মুয়াজ্জিন। তবে আজানের শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে।
জার্মানির আইন অনুযায়ী, দেশটিতে ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের স্বাধীনতা রয়েছে। আযানের অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমে শহরের মুসলমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে।
কোলন সেন্ট্রাল মসজিদটি পরিচালনা করেন তুরস্কের নাগরিকদের ধর্মীয় সংগঠন ‘ডিটিব’। জার্মানিতে নয়শরও বেশি মসজিদ পরিচালনা করে এ সংগঠনটি। ২০১৮ সালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জার্মানি সফরকালে কোলন সেন্ট্রাল মসজিদটি উদ্বোধন করেছিলেন।
ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি আয়তনের দিক দিয়ে ইউরোপের সপ্তম বৃহৎ রাষ্ট্র। সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা আট কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৮৫১ জন। ১৬টি অঙ্গরাজ্য নিয়ে জার্মান ফেডারেল ইউনিয়ন গঠিত। ১৮৭১ সালের আগে জার্মানরা সুসংঘবদ্ধ জাতি ছিল না। তিন লাখ ৫৬ হাজার ৯৭১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের জার্মান রাষ্ট্রের রাজধানী বার্লিন। ‘বন’ পশ্চিম জার্মানির অস্থায়ী রাজধানী। প্রধান ভাষা জার্মান। দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ রোমান ক্যাথলিক অথবা প্রোটেস্ট্যান্ট। মোট আট কোটি ৩২ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৫৫ লাখ মুসলমান, যাদের বেশির ভাগই তুরস্ক থেকে আসা। বিভিন্ন শহরে ২১ লাখ তুর্কি বংশোদ্ভূত মুসলমান বসবাস করে। জার্মান বংশোদ্ভূত মুসলমানের সংখ্যা দু’লাখের মতো। বার্লিন, কোলন, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ, আচেন এবং মুলহেইমে মুসলমানের অবস্থান ৪ থেকে ৫ শতাংশ। অবশ্য সব শহরে এ সংখ্যার অনুপাত সমান নয়। আচেন এলাকায় মুসলমানের সংখ্যা ১০ শতাংশ। বার্লিনের ৩০ লাখ জনগণের মধ্যে পাঁচ লাখ মুসলমান। জার্মানিতে মসজিদ আছে দুই হাজার ৮০০।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন