ইতিহাসের পাতায় কিছু সমাপ্তি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং তা এক গভীর ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। ২৩ আগস্ট—উসমানীয় রাজবংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ (Caliph Abdul Majid II) -এর জীবনের এক মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধূর অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন। খেলাফতের পতন এবং উসমানীয় রাজবংশের তুরস্ক থেকে নির্বাসনের পর তাঁর জীবন কীভাবে এক নিদারুণ নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়েছিল, এটি তারই এক ঐতিহাসিক দলিল। ১. নির্বাসিত জীবন ও প্যারিসের নিঃসঙ্গ মৃত্যু তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যখন উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করা হয়, তখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, তখন চরম দুর্দিনে প্যারিসের এক ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ এতটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল যে, বেশ কয়েক দিন ধরে তা ফ্ল্যাটেই রাখা ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তাঁর মরদেহ প্যারিস মসজিদে নিয়ে গিয়ে হিমঘরে (frozen storage) রাখা হয়। ২. অপূর্ণ ইচ্ছে ও শেষ ঠিকানার সন্ধান আবদুল মজিদ জীবনের ...
রাসুল (সাঃ) এর ওফাতের পর আবু বকর ( রা) ৬৩২ সালে প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন।তিনি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন বিভিন্ন গোত্র ইসলামি আদর্শ থেকে থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে খিলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এই বিদ্রোহগুলো ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক।
হযরত আবু বকর বিদ্রোহকে প্রজ্ঞা ও কোমলতার সাথে দমন করেন এবং এভাবে মুসলিম সংহতি ও বন্ধন সুদূর করেন। তিনি বিদ্রোহীদের সামরিকভাবে মোকাবিলা করেছিলেন এবং যারা ফিরে এসেছে তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিশোধ নেননি।
আবু বকরের খিলাফত ২৭ মাস অর্থাৎ দুই বছরের কিছু বেশি সময় স্থায়ী ছিল। এ সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তাকে বেশ কিছু অস্থিতিশীলতার সম্মুখীন হতে হয় এবং তিনি তা সফলভাবে মোকাবিলা করেন। ভন্ডনবি দাবিকারী বিদ্রোহীদের তিনি রিদ্দার যুদ্ধে দমন করেন
তাঁর শাসনামলের শেষ মাসগুলোতে সিরিয়া ও পারস্যেও অভিযান পাঠানো হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর পর, এই অভিযানগুলো তাঁর উত্তরসূরিদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল, বিশেষ করে দ্বিতীয় খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব, যার শাসনামলে মুসলিম বাহিনী যথাক্রমে কাদেসিয়া এবং ইয়ারমুকের যুদ্ধে শক্তিশালী পারসিক এবং বাইজেন্টাইনদের পরাজিত করেছিল। এর ধারাবাহিকতায় কয়েক দশকে মুসলিম খিলাফত ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সাম্রাজ্যের একটিতে পরিণত হয়।
হযরত আবু বকরের শাসনামল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, শুধুমাত্র বিদ্রোহীদের উপর তাঁর বিজয়ের কারণে নয় বরং সিরিয়া ও পারস্যে মুসলিম বিজয়ের সূচনার জন্যও। এটি চিরতরে বিশ্বকে বদলে দেয়।
খলিফা হিসেবেও আবু বকর অত্যন্ত সরল ও ধার্মিক জীবনযাপন করেন। তিনি তাঁর প্রজ্ঞা, সহনশীলতা, ভাল আচরণ এবং ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি হিসাবে মশহুর।
আবু বকর (রা) ৬৩৪ সালে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি বিছানায় শায়িতাবস্থায় থাকেন। আবু বকর তাঁর উত্তরসূরি মনোনীত করার জন্য প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। যাতে তাঁর মৃত্যুর পর মুসলিমদের মধ্যে যাতে সমস্যা দেখা না দেয় এজন্য সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করে তিনি উমর ইবনুল খাত্তাবকে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে নিয়োগ দেন।
৬৩৪ সালের ২৩ আগস্ট আবু বকর (রা) মারা যান। হযরত আয়েশার ঘরে রাসুলুল্লাহর (সা) পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।তাঁর মৃত্যু নিঃসন্দেহে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য হৃদয়বিদারক।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন