ইতিহাসের পাতায় কিছু সমাপ্তি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং তা এক গভীর ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। ২৩ আগস্ট—উসমানীয় রাজবংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ (Caliph Abdul Majid II) -এর জীবনের এক মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধূর অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন। খেলাফতের পতন এবং উসমানীয় রাজবংশের তুরস্ক থেকে নির্বাসনের পর তাঁর জীবন কীভাবে এক নিদারুণ নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়েছিল, এটি তারই এক ঐতিহাসিক দলিল। ১. নির্বাসিত জীবন ও প্যারিসের নিঃসঙ্গ মৃত্যু তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যখন উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করা হয়, তখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, তখন চরম দুর্দিনে প্যারিসের এক ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ এতটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল যে, বেশ কয়েক দিন ধরে তা ফ্ল্যাটেই রাখা ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তাঁর মরদেহ প্যারিস মসজিদে নিয়ে গিয়ে হিমঘরে (frozen storage) রাখা হয়। ২. অপূর্ণ ইচ্ছে ও শেষ ঠিকানার সন্ধান আবদুল মজিদ জীবনের ...
১৪৯২ সালে নৃশংস স্প্যানিশ ইনকুইজিশনের সময়, খ্রিস্টানরা খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করতে অস্বীকারকারী মুসলিম ও ইহুদিদের নির্যাতন, হত্যা এবং বহিষ্কার করেছিল। ওই সময় প্রায় ১৩ হাজার ইহুদিদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেছিল তৎকালীন স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ।
এ স্প্যানিশ ইহুদিরা তখন সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ছিলেন। তাদের স্পেনের ইনকুইজিশন কোর্টের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা ছিলো। ওই কোর্ট বা আদালতের রায় ছিলো নিপীড়নমূলক। এটাকে ইহুদি ইতিহাসের সবচেয়ে বিপর্যয়মূলক ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে গণ্য করা হয়। ওই সময় আল-হামরা ডিক্রি বা আদেশ অনুসারে ইহুদিদের স্পেন থেকে চলে যেতে বলা হয়। তাদের আরও বলা হয় যে তারা যেন আর কখনও স্পেনে ফিরে না আসেন।১৪৯২ সালের ৩১ মার্চ তারিখে স্বাক্ষরিত ডিক্রিটি ছিলো ১৪৯২ সালের ২ আগস্টের মধ্যে স্পেন থেকে প্রত্যেক ইহুদিকে বহিষ্কারের একটি আদেশ।
উসমানীয় সুলতান বায়েজিদ যখন এই কথা শুনলেন, তখন তিনি ইহুদিদের উদ্ধার করে মুসলিম ভূমিতে তাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য পুরো উসমানীয় নৌবাহিনীকে স্পেনে পাঠান। তারপর তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছিল, এবং ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে আচরণ করা হয়েছিল।হাজার হাজার ইহুদি উসমানীয় অঞ্চল ইস্তাম্বুল ও থেসালোনিকিতে বসতি স্থাপন করে।
যারা ইহুদি উদ্বাস্তুদের সাথে শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করেছিল তাদের সবাইকে কারারুদ্ধ করার হুমকি দিয়েছিলেন সুলতান। তিনি ধনী মুসলমানদের ইহুদি পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে বাধ্য করেছিলেন যখন তারা প্রয়োজন ও অসুবিধায় ছিল।
স্পেন থেকে উসমানীয় ভূমিতে ইহুদিদের আগমনের কারণে এ অঞ্চলে ইহুদি সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল।উসমানীয় শাসনের অধীনে বসবাসকারী ইহুদিদের প্রায় ৯০ শতাংশ স্প্যানিশ বংশোদ্ভূত ছিলো। মহামতি সুলতান সুলেমানের সময় ইস্তাম্বুলের পাঁচ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার ইহুদি ছিলো।
এটাই ইসলাম এবং এটাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন