১২৬০ খ্রিষ্টাব্দ। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে তখন আতঙ্কের কালো মেঘ। মঙ্গোল বাহিনীর নাম শুনলেই নগরীর দরজা বন্ধ হয়ে যেত, মানুষ পালানোর পথ খুঁজত। একের পর এক নগরী ধ্বংস করে এগিয়ে আসছিল চেঙ্গিস খানের উত্তরসূরিদের বাহিনী। এরই মধ্যে মঙ্গোল সাম্রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী সেনাপতি হুলাগু খান মধ্যপ্রাচ্যে ভয়ংকর অভিযান শুরু করেন। বাগদাদ থেকে সিরিয়া—ধ্বংসের পথে মঙ্গোল বাহিনী ১২৫৮ সালে হুলাগুর বাহিনী আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ দখল করে। শেষ আব্বাসীয় খলিফা আল-মুস্তাসিম বিল্লাহ নিহত হন এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাগদাদ ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়। এরপর হুলাগুর বাহিনী সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হয়। ১২৬০ সালের জানুয়ারিতে আলেপ্পো অবরোধ করা হয়। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই শহরটি মঙ্গোলদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর মঙ্গোল বাহিনী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হয় এবং মার্চ মাসে দামেস্কও তাদের দখলে আসে। মনে হচ্ছিল—মঙ্গোলদের থামানোর মতো কোনো শক্তিই আর অবশিষ্ট নেই। কিন্তু ইতিহাস তখন অন্য একটি অধ্যায়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মিশরে উঠে এল মামলুক শক্তি মঙ্গোলদের এই অপ্রতিরোধ...
১৮৭৬ সালের ৩১ আগস্ট এই দিনে ৩৪তম অটোমান সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ সিংহাসনে আরোহণ করেন।
সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদকে আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও তিনি রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। তিনি তার সাম্রাজ্য জুড়ে বেশ কিছু বড় বড় উন্নয়ন এবং পরিবর্তন এনেছিলেন।
দ্বিতীয় সুলতান আবদুল হামিদ তুরস্কের অবকাঠামোগত ও সাংস্কৃতিক আধুনিকায়নকে উৎসাহিত করেন। তাঁর শাসনামলে, উসমানীয় আমলাতন্ত্র যৌক্তিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছিল যেখানে সিভিল সার্ভিসে ভর্তির পাশাপাশি পদোন্নতির প্রক্রিয়াগুলো পরীক্ষা এবং নিয়মের মতো বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ডের মাধ্যমে সাজানো হয়েছিল।
আবদুল হামিদের আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত আধুনিক তুরস্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিল; তুর্কি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতারা দ্বিতীয় আবদুল হামিদ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন।
সুলতান আব্দুল হামিদ ছিলেন উম্মাহ দরদি মুসলিম বিশ্বের খলিফা যাকে ইহুদিরা বায়তুল মুকাদ্দাস হস্তান্তরের জন্য ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড দিতে চেয়েছিল কিন্তু তিনি মুসলিম বিশ্বের একচুল মাটি ছাড়তেও রাজি হননি।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন