ইতিহাসের পাতায় কিছু সমাপ্তি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং তা এক গভীর ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। ২৩ আগস্ট—উসমানীয় রাজবংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ (Caliph Abdul Majid II) -এর জীবনের এক মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধূর অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন। খেলাফতের পতন এবং উসমানীয় রাজবংশের তুরস্ক থেকে নির্বাসনের পর তাঁর জীবন কীভাবে এক নিদারুণ নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়েছিল, এটি তারই এক ঐতিহাসিক দলিল। ১. নির্বাসিত জীবন ও প্যারিসের নিঃসঙ্গ মৃত্যু তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যখন উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করা হয়, তখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, তখন চরম দুর্দিনে প্যারিসের এক ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ এতটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল যে, বেশ কয়েক দিন ধরে তা ফ্ল্যাটেই রাখা ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তাঁর মরদেহ প্যারিস মসজিদে নিয়ে গিয়ে হিমঘরে (frozen storage) রাখা হয়। ২. অপূর্ণ ইচ্ছে ও শেষ ঠিকানার সন্ধান আবদুল মজিদ জীবনের ...
বিবি খানম মসজিদ একটি ঐতিহাসিক জামে মসজিদ। এই মসজিদটি উজবেকিস্তানের সামরখান্দে অবস্থিত।বিবি খানম মসজিদ মূলত স্থাপিত হয়েছে তৈমুরের স্ত্রী ‘বিবি খানম’-এর কবরের ওপরেই। অনেকটা প্রচলিত অর্থে একে মাজার সংলগ্ন মসজিদ বলা চলে। ১৩৯৯ হতে ১৪০৪ এর মধ্যে এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তৈমুর ১৩৯৯ সালে ভারত থেকে ফিরে এসে তার নতুন রাজধানী সমরখন্দে এই বিশাল মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন।১৪০৪ সালে একটি অভিযান থেকে ফিরে এসে মসজিদ প্রায় তৈরি অবস্থায় দেখতে পান তৈমুর।
বর্তমানে মূল মসজিদের বলতে গেলে কিছুই অবশিষ্ট নেই। যা আছে তা সোভিয়েত শাসনের সময় মসজিদের পুনঃসংস্কার করা অংশ। তবুও এই মসজিদ এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে নান্দনিক এক মসজিদের নাম। পুনর্নির্মাণ করা হলেও সোভিয়েত সরকার এই মসজিদে তৈমুর লংয়ের সেই মূল মসজিদের কাঠামো আর ছাপ দুটোই ধরে রাখার চেষ্টা করেছে।
১৩৯৯ সালের ভারতীয় সমর যুদ্ধের পরে তৈমুর সিদ্ধান্ত নেন যে, তার নব্য রাজধানী সামরকান্দে একটি বিশাল মসজিদ নির্মাণ করবেন। মসজিদটি নির্মাণ হয় অত্যন্ত দামী পাথর দিয়ে যা ভারতীয়দের বিপক্ষে যুদ্ধে জয়ের বৈশিষ্ট্য বহন করে। ৯০ টি অধিগ্রহণকৃত হাতী এই দামী পাথরগুলো বহনের কাজে ব্যবহৃত হয় যাতে সুউচ্চভাবে সামরকান্দের বিবি খানম মসজিদটি সুউচ্চভাবে নির্মাণ সম্ভব হয়। এক শতক ধরে মসজিদটি অব্যবহারের ফলে ধীরে ধীরে তা ধ্বংসের সম্মুখীন হয়। এই মসজিদটি ধ্বংসের উপক্রম হওয়ার প্রধান কারণ হল, এর নির্মাণ ত্রুটি, এবং এটি অতি দ্রুত নির্মাণ হওয়ার ফলে তা দূর করা সম্ভব হয় নি। তাই এর কিছু অংশ আস্তে আস্তে ভেঙে পড়ে। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে এর একটি অংশ ভেঙে পড়ে।১৯৭৪ সালে উজবেকিস্তান সরকার এই মসজিদটি পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু করে। ফলে এখন যে মসজিদ দেখা যাচ্ছে তা একেবারেই নতুন এবং এর প্রতিষ্ঠাকালীন কোন কাজ এখন আর অবশিষ্ট নেই।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন