ইতিহাসের পাতায় কিছু সমাপ্তি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং তা এক গভীর ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। ২৩ আগস্ট—উসমানীয় রাজবংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ (Caliph Abdul Majid II) -এর জীবনের এক মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধূর অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন। খেলাফতের পতন এবং উসমানীয় রাজবংশের তুরস্ক থেকে নির্বাসনের পর তাঁর জীবন কীভাবে এক নিদারুণ নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়েছিল, এটি তারই এক ঐতিহাসিক দলিল। ১. নির্বাসিত জীবন ও প্যারিসের নিঃসঙ্গ মৃত্যু তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যখন উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করা হয়, তখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, তখন চরম দুর্দিনে প্যারিসের এক ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ এতটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল যে, বেশ কয়েক দিন ধরে তা ফ্ল্যাটেই রাখা ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তাঁর মরদেহ প্যারিস মসজিদে নিয়ে গিয়ে হিমঘরে (frozen storage) রাখা হয়। ২. অপূর্ণ ইচ্ছে ও শেষ ঠিকানার সন্ধান আবদুল মজিদ জীবনের ...
নেটে একটি ভিডিও ঘুরপাক খাচ্ছে চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে। বলা হচ্ছে চীন একসময় আমাদের দেশের মতো দরিদ্র ছিল। চীন অর্থনৈতিকভাবে নিজেকে শক্তিশালী করার জন্য ১২ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল। চীন সরকারের বক্তব্য ছিল, এত ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কী করবে? কোথায় চাকরি পাবে তারা? এত হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান দেয়ার মতো প্রতিষ্ঠান চীনে নেই। এ সময়টায় চীন শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দিয়েছিল নানা ধরনের ট্রেড কোর্সে। স্বল্পমেয়াদি ট্রেড কোর্স শেষ করে বাস্তব জীবনে প্রয়োগের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে বেশি সময় লাগেনি। প্রতিটি বাড়ি গড়ে উঠল একটা করে ছোট ছোট কারখানা হিসেবে। পরিবারের সবাই সেখানে কাজ করে। বড় ফ্যাক্টরি করার জন্য আলাদা খরচ দরকার নেই। ফলে পণ্যের উৎপাদন খরচ কমে গেল। বর্তমানে যে কোনো পণ্য একেবারে সস্তায় উৎপাদন করার সক্ষমতা তাদের ধারে কাছে কোনো দেশ এখন পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি। পারবেও না কোনোদিন, তা সহজেই অনুমেয়। পৃথিবীর প্রতিটি দেশে চীনা পণ্যের প্রসার বাড়ছে প্রতিনিয়ত। চীন বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্যের এক অপ্রতিরোধ্য পরাশক্তি। উপযুক্ত মূল্য দিয়ে অর্ডার দিলে তারা এমন জিনিস বানিয়ে দেবে, যার গ্যারান্টি ১০০ বছরও দিতে পারবে। ইউরোপ ও আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলোয়ও চীনের তৈরি জিনিসপত্র স্থান পাচ্ছে দাপটের সঙ্গে এবং দৈনন্দিন চাহিদা মেটাচ্ছে। বাংলাদেশে আরএফএল, সিম্ফোনি, ওয়ালটনসহ বহু প্রতিষ্ঠান এই চায়নার বদৌলতেই কিছু করে খাচ্ছে, যা বলার অপেক্ষা রাখে না।
#মূল ঘটনা কি?
চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি মাত্র ৩ বছর বন্ধ ছিল। তৎকালীন সমাজতন্ত্রিক চীনকে গণতান্ত্রিক বানানোর জন্য মাও সেতুং এর নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয় ১৯৬৬ সালে। সেই আন্দোলন চলাকালীন সময় বিভিন্ন জটিলতায় ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯, এই তিন বছর চীনের ১০ লক্ষেরও বেশী স্কুল কলেজ ইত্যাদি বন্ধ থাকে।
আমাদের দেশে যেমন করোনার জটিলতায়, প্রায় দুই বছর স্কুল বন্ধ আছে। এটার পেছনে পরিকল্পনা নেই, এটা একটি পরিস্থিতি মাত্র। চীনও সেই তিন বছর পরিকল্পিতভাবে স্কুল কলেজ বন্ধ করেনি। পরিস্থিতির কারণে হয়ে গেছে।এই ঘটনাটিকে গ্রহণযোগ্য বানানোর জন্য, তাদের দেবতাতুল্য নেতা, মাও সেতুং কে সমালোচনা মুক্ত রাখার জন্যই - পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের গল্পটি বানানো হয়েছে। আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবিরা সেই বানানো গল্প না বুঝে মুখস্ত, করে আজকাল জনসম্মুখে বর্ণনা করছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন