ইতিহাসের পাতায় কিছু সমাপ্তি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং তা এক গভীর ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। ২৩ আগস্ট—উসমানীয় রাজবংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ (Caliph Abdul Majid II) -এর জীবনের এক মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধূর অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন। খেলাফতের পতন এবং উসমানীয় রাজবংশের তুরস্ক থেকে নির্বাসনের পর তাঁর জীবন কীভাবে এক নিদারুণ নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়েছিল, এটি তারই এক ঐতিহাসিক দলিল। ১. নির্বাসিত জীবন ও প্যারিসের নিঃসঙ্গ মৃত্যু তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যখন উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করা হয়, তখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, তখন চরম দুর্দিনে প্যারিসের এক ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ এতটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল যে, বেশ কয়েক দিন ধরে তা ফ্ল্যাটেই রাখা ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তাঁর মরদেহ প্যারিস মসজিদে নিয়ে গিয়ে হিমঘরে (frozen storage) রাখা হয়। ২. অপূর্ণ ইচ্ছে ও শেষ ঠিকানার সন্ধান আবদুল মজিদ জীবনের ...
মুনিয়া লোভী, উচ্চাভিলাষী, রক্ষিতা আর যাই বলেন না কেন মানলাম। কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। হয়তো তার পজিশনের চেয়ে বেশি কিছু পাবার স্বপ্নে সে বিভোর ছিল। আচ্ছা লোভ বিষয়টা কার নেই বলুন তো? কারো কম কারো আবার খুব বেশি। মুনিয়ার না হয় একটু বেশিই ছিল। বামন হয়ে চাঁদ ছুঁতে চেয়েছে। ছেঁড়া বিছানায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখেছে। বর্তমান বিশ্ব প্রতিযোগিতার যুগ মেধা, বুদ্ধি চেহারা নিয়ে চারিদিকে একটি অসম প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। মুনিয়া তার চেহারা সৌন্দর্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছে। এটা কি তার অপরাধ? নৈতিকতার দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য হলেও জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য হয়তো তার কাছে এটা ভুল পথ নয়। তবে প্রশ্ন হলো সৌন্দর্যের আভা দিয়েই কি সব অর্জন হয়? এককথায় উত্তর না। সুন্দর চেহারা আর অবয়ব ওরা তো শোপিসে সাজিয়ে রাখবে না।সুযোগ সুবিধা দেবে গাড়ী ফ্ল্যাট দেবে। কিন্তু অভিসারে আপনার সৌন্দর্যের তারা পোস্টমর্টেম করবে না তা কি হয়? কিন্তু কেউ সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে মেয়েটাকে ব্লাকহোলে ফেলে দেবে তা কি মেনে নেয়া যায়? মুনিয়া কেমন ছিল, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো কি না, তাহাজ্জুদ পড়তো কি না? কত দামি ফ্ল্যাটে থাকতো, ভাড়া কত দিত আপাতত এসব গৌণ ম্যাটার। সে লোভী, অপরাধী স্বীকার করছি তাই বলে আত্মহননের পথে ধাবিত হবার দায়ভার আপনি এড়াবেন কেমন করে? খারাপ হলে আইন আদালত আছে কিন্তু একজনকে আপনি জীবন নাশে প্ররোচনা দিতে পারেন না। দশ খুনের আসামিকেও আপনি হাতেনাতে ধরে মেরে ফেলতে পারেন না, তার ভাগ্য নির্ধারণ করবে আইন এবং আদালত। মুনিয়ার ক্ষেত্রেও একই পথ খোলা ছিল! কিন্তু তাকে লোভী রক্ষিতা বলে তার চরিত্র হনন করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে। জেনে রাখবেন ফ্ল্যাটের চেয়ে জীবনের মুল্য অনেক বেশি। সুতরাং তার অকালে চলে যাওয়া নিয়ে যেখানে প্রশ্ন তোলার কথা, বিচার চাওয়ার কথা। সেখানে ফ্ল্যাট প্রসঙ্গ টেনে মুনিয়ার জীবনটাকে তুচ্ছ বানিয়ে দিলেন। অপরাধীর পক্ষাবলম্বন করলেন। হোক না সে লোভী রক্ষিতা, বারবণিতা। কোটি ভালো মানুষের মধ্যে সে না হয় চরিত্রহীনা । ওপর মহলের পোষা খদ্দের । কিন্তু তার স্বাভাবিক মৃত্যু কি কাম্য ছিল না? আমাদের উচিত ছিল তার বিলাসবহুল জীবন নিয়ে প্রশ্ন না তোলে তার মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলা, জড়িতদের শাস্তি দাবি করা। এরকম সুযোগ পেলে কত মুনিয়া এই অফার লুফে নেবে! তা বলে শেষ করা যাবে না। শেষে বলি মুনিয়াদের অতি লোভী মন আর অভিজাতদের রক্ষিতা পোষ মানার সিস্টেম থেকে বের হয়ে আসতে হবে। মুনিয়ার মৃত্যুর
সুষ্ঠু বিচার হতে হবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন