মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুতে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তবে তাঁর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর জীবনপ্রদীপ যেভাবে নিভে গিয়েছিল, তা অত্যন্ত করুণ এবং বিতর্কিত। সাধারণ ইতিহাস কিংবা উপকথার বাইরে গিয়ে যদি ইবনে আল-বালাজুরি, জি. আর. হটিং কিংবা পি. কে. হিটি-র মতো ইতিহাসবিদদের সূত্র বিশ্লেষণ করা হয়, তবে দেখা যায় যে তাঁর মৃত্যু মূলত উমাইয়া খিলাফতের অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফলাফল ছিল। ১. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ও মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থান মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থানের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তাঁর অভিভাবক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের । ৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান হাজ্জাজকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করেন। ৭০৫ সালে আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর নতুন খলিফা আল-ওয়ালিদও হাজ্জাজকে তাঁর পদে বহাল রাখেন। এই হাজ্জাজের নেতৃত্বেই মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি সেখানে উমাইয়া শাসন সুদৃঢ় করেন। ২. অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উত্তরাধিকার সংকট হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কঠোর শাসন খিলাফতের ভেতরে বহু শত্রুর জন্ম দিয়েছিল: মুহাল্লাব পরিবারের সাথে দ্বন...
মুনিয়া লোভী, উচ্চাভিলাষী, রক্ষিতা আর যাই বলেন না কেন মানলাম। কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। হয়তো তার পজিশনের চেয়ে বেশি কিছু পাবার স্বপ্নে সে বিভোর ছিল। আচ্ছা লোভ বিষয়টা কার নেই বলুন তো? কারো কম কারো আবার খুব বেশি। মুনিয়ার না হয় একটু বেশিই ছিল। বামন হয়ে চাঁদ ছুঁতে চেয়েছে। ছেঁড়া বিছানায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখেছে। বর্তমান বিশ্ব প্রতিযোগিতার যুগ মেধা, বুদ্ধি চেহারা নিয়ে চারিদিকে একটি অসম প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। মুনিয়া তার চেহারা সৌন্দর্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছে। এটা কি তার অপরাধ? নৈতিকতার দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য হলেও জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য হয়তো তার কাছে এটা ভুল পথ নয়। তবে প্রশ্ন হলো সৌন্দর্যের আভা দিয়েই কি সব অর্জন হয়? এককথায় উত্তর না। সুন্দর চেহারা আর অবয়ব ওরা তো শোপিসে সাজিয়ে রাখবে না।সুযোগ সুবিধা দেবে গাড়ী ফ্ল্যাট দেবে। কিন্তু অভিসারে আপনার সৌন্দর্যের তারা পোস্টমর্টেম করবে না তা কি হয়? কিন্তু কেউ সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে মেয়েটাকে ব্লাকহোলে ফেলে দেবে তা কি মেনে নেয়া যায়? মুনিয়া কেমন ছিল, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো কি না, তাহাজ্জুদ পড়তো কি না? কত দামি ফ্ল্যাটে থাকতো, ভাড়া কত দিত আপাতত এসব গৌণ ম্যাটার। সে লোভী, অপরাধী স্বীকার করছি তাই বলে আত্মহননের পথে ধাবিত হবার দায়ভার আপনি এড়াবেন কেমন করে? খারাপ হলে আইন আদালত আছে কিন্তু একজনকে আপনি জীবন নাশে প্ররোচনা দিতে পারেন না। দশ খুনের আসামিকেও আপনি হাতেনাতে ধরে মেরে ফেলতে পারেন না, তার ভাগ্য নির্ধারণ করবে আইন এবং আদালত। মুনিয়ার ক্ষেত্রেও একই পথ খোলা ছিল! কিন্তু তাকে লোভী রক্ষিতা বলে তার চরিত্র হনন করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে। জেনে রাখবেন ফ্ল্যাটের চেয়ে জীবনের মুল্য অনেক বেশি। সুতরাং তার অকালে চলে যাওয়া নিয়ে যেখানে প্রশ্ন তোলার কথা, বিচার চাওয়ার কথা। সেখানে ফ্ল্যাট প্রসঙ্গ টেনে মুনিয়ার জীবনটাকে তুচ্ছ বানিয়ে দিলেন। অপরাধীর পক্ষাবলম্বন করলেন। হোক না সে লোভী রক্ষিতা, বারবণিতা। কোটি ভালো মানুষের মধ্যে সে না হয় চরিত্রহীনা । ওপর মহলের পোষা খদ্দের । কিন্তু তার স্বাভাবিক মৃত্যু কি কাম্য ছিল না? আমাদের উচিত ছিল তার বিলাসবহুল জীবন নিয়ে প্রশ্ন না তোলে তার মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলা, জড়িতদের শাস্তি দাবি করা। এরকম সুযোগ পেলে কত মুনিয়া এই অফার লুফে নেবে! তা বলে শেষ করা যাবে না। শেষে বলি মুনিয়াদের অতি লোভী মন আর অভিজাতদের রক্ষিতা পোষ মানার সিস্টেম থেকে বের হয়ে আসতে হবে। মুনিয়ার মৃত্যুর
সুষ্ঠু বিচার হতে হবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন