মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুতে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তবে তাঁর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর জীবনপ্রদীপ যেভাবে নিভে গিয়েছিল, তা অত্যন্ত করুণ এবং বিতর্কিত। সাধারণ ইতিহাস কিংবা উপকথার বাইরে গিয়ে যদি ইবনে আল-বালাজুরি, জি. আর. হটিং কিংবা পি. কে. হিটি-র মতো ইতিহাসবিদদের সূত্র বিশ্লেষণ করা হয়, তবে দেখা যায় যে তাঁর মৃত্যু মূলত উমাইয়া খিলাফতের অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফলাফল ছিল। ১. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ও মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থান মুহাম্মদ বিন কাসিমের উত্থানের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তাঁর অভিভাবক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের । ৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান হাজ্জাজকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করেন। ৭০৫ সালে আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর নতুন খলিফা আল-ওয়ালিদও হাজ্জাজকে তাঁর পদে বহাল রাখেন। এই হাজ্জাজের নেতৃত্বেই মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি সেখানে উমাইয়া শাসন সুদৃঢ় করেন। ২. অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উত্তরাধিকার সংকট হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কঠোর শাসন খিলাফতের ভেতরে বহু শত্রুর জন্ম দিয়েছিল: মুহাল্লাব পরিবারের সাথে দ্বন...
শুধুমাত্র গত আড়াই দশকে বিভিন্ন যুদ্ধে অন্তত ১ কোটি ২৫ লাখ মুসলিম নিহত হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান দিয়েছেন তুরস্কের বিশিষ্ট গবেষক ও বিশেষজ্ঞ ড. রফিক তুরান। ২০২০ সালে তুরস্কের ইস্তান্বুলে আন্তর্জাতিক ইতিহাস বিষয়ক এক কনফারেন্সে তিনি বলেন,শেষ ২৫ বছরের খতিয়ানে দেখা যাচ্ছে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে যুদ্ধে কমপক্ষে ১কোটি ২৫ লাখ মুসলিম নিহত হয়েছেন। বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ সাধারণত যুদ্ধমান দুটো দেশের মধ্যেই হয়। তবে এর বাইরেও বিভিন্ন দেশে ক্ষমতা দখলের লড়াই তীব্র হিংসাত্মক হয়ে উঠছে। যকে গৃহযুদ্ধ বলা হয়।এই পরিসংখ্যানে শুধুমাত্র যুদ্ধের হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। দেশে দেশের নির্যাতিত বা নিহত মুসলিমদের সংখ্যা আনা হয়নি।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন তো বন্ধ হচ্ছেই না বরণ ষড়যন্ত করে নিজের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, সিরিয়া, লিবিয়া, সোমালিয়াসহ বিশ্বের নানা দেশে মুসলিমদের মোকাবিলা হচ্ছে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। প্রতিদিন কোথাও না কোথায় মুসলিমদের হত্যা করা হচ্ছে। আর এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
এদিকে ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার অধ্যাপক গিডেয়ন পোলিয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে দেখিয়েছেন, ৯/১১-পরবর্তী বিভিন্ন যুদ্ধে তিন কোটি ২০ লাখ মুসলমান মারা গেছেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিনা যুদ্ধে অকাতরে সন্ত্রাসী নয় এমন সব মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। অধ্যাপক গিডেয়ন পোলিয়া তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, সরাসরি যুদ্ধ ও এর প্রভাবে দুই কোটি ৭০ লাখ মুসলমান প্রাণ হারিয়েছেন। এর সঙ্গে তিনি আরও ৫০ লাখ মুসলমানকে যোগ করে বলছেন যুদ্ধে যেসব মুসলমান প্রাণ হারিয়েছেন তারা বেঁচে থাকলে তাদের ঔরসে জন্ম নিতো এই ৫০ লাখ মুসলমান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইয়েমেনে কেবল সরাসরি যুদ্ধে যারা নিহত হচ্ছেন তাদের একটা পরিসংখ্যান নিয়মিত তুলে ধরছে। ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৯/১১-এর পর ওই পাঁচ মুসলিম দেশে সরাসরি যুদ্ধে মারা গেছেন আট লাখের বেশি মানুষ। এছাড়া সর্বস্ব হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছেন আরও ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন