ইতিহাসের পাতায় কিছু সমাপ্তি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং তা এক গভীর ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। ২৩ আগস্ট—উসমানীয় রাজবংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ (Caliph Abdul Majid II) -এর জীবনের এক মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধূর অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন। খেলাফতের পতন এবং উসমানীয় রাজবংশের তুরস্ক থেকে নির্বাসনের পর তাঁর জীবন কীভাবে এক নিদারুণ নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়েছিল, এটি তারই এক ঐতিহাসিক দলিল। ১. নির্বাসিত জীবন ও প্যারিসের নিঃসঙ্গ মৃত্যু তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যখন উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করা হয়, তখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, তখন চরম দুর্দিনে প্যারিসের এক ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ এতটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল যে, বেশ কয়েক দিন ধরে তা ফ্ল্যাটেই রাখা ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তাঁর মরদেহ প্যারিস মসজিদে নিয়ে গিয়ে হিমঘরে (frozen storage) রাখা হয়। ২. অপূর্ণ ইচ্ছে ও শেষ ঠিকানার সন্ধান আবদুল মজিদ জীবনের ...
এবার ফেসবুকে বেশ ভাইরাল হয়েছিল হযরত ওমরের ঈদ শপিং কাহিনীটি। সবাই লাইক কমেন্ট শেয়ার করলাম। কিন্তু ঘটনা কী এখানেই শেষ? কি ছিল সেই কাহিনী থেকে শিক্ষণীয়?আসুন কাহিনীটা আরেকবার পড়ে ঝালাই করে নেই। শেষে কাহিনীর বার্তা পাবেন। চলুন শুরু করি।
অর্ধ পৃথিবীর খাদেম খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) ঈদে নিজের সন্তানদের নতুন জামা পর্যন্ত কিনে দিতে পারেননি। ঈদের পূর্ব দিনে তাঁর স্ত্রী এসে বললেন, ‘আমাদের জন্য ঈদের কাপড় না হলেও চলবে। কিন্তু ছোট্ট বাচ্চাটি ঈদের জামার জন্য কাঁদছে।’ হযরত ওমর বললেন, ‘আমারতো জামা কেনার সামর্থ্য নেই।’ তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের দায়িত্বে নিয়োজিত সাহাবী হযরত আবু উবায়দা (রাঃ) এর নিকট অগ্রীম এক মাসের ভাতা চেয়ে একটি পত্র প্রেরণ করলেন। মুসলিম জাহানের খলিফার এমন অসহায়ত্বের সংবাদ সম্বলিত চিঠি পেয়ে হযরত আবু উবায়দা কেঁদে ফেললেন। তিনি পত্রবাহককে ভাতা না দিয়ে চিঠির জবাবে লিখলেন, আমিরুল মুমেনিন, আমি আপনাকে অগ্রীম ভাতা দিতে পারি। তবে আপনাকে দু’টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে হবে।
প্রথমত: আপনাকে আগামী মাস পর্যন্ত জীবিত থাকার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।
দ্বিতীয়ত : যদি জীবিত থাকেন তাহলে মুসলমানরা যে আপনাকে আগামী মাস পর্যন্ত তাদের শাসক রূপে মনোনীত রাখবে এর নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।
ভাতার পরিবর্তে কোষাধ্যক্ষের এ পত্র পেয়ে খলিফা হযরত ওমর নির্বাক! হতভম্ব। তিনি এতো বেশী ক্রন্দন করলেন যে, তাঁর দাঁড়ি মুবারক পর্যন্ত অশ্রুতে ভিজে গেল।
কী বিস্ময়কর শাসক! কী মহান রাষ্ট্রপতি! যিনি অভাবের তাড়নায় নিজ সন্তানকে ঈদের জামা পর্যন্ত কিনে দিতে পারলেন না। আর আমাদের সমাজপতিদের কী ভয়াল চিত্র! যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে। মাত্র কয়েক বছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকায় নিজ সম্পদ বেড়ে চারশত-পাঁচশত গুণে রূপান্তরিত হচ্ছে। অপরদিকে ইসলামের ইতিহাস হলো-সততার ইতিহাস, ন্যায়পরায়নতার ইতিহাস। নিজ স্বার্থকে বিনাশ করে মানবতার কল্যাণে সবকিছু উৎসর্গ করার ইতিহাস। কবি নজরুল উমর ফারুক কবিতায় বলেছেন,
"অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখ্তে বসি
খেঁজুর পাতার প্রাসাদ তোমার বারে বারে গেছে খসি
সাইমুম-ঝড়ে। পড়েছে কুঠির, তুমি পড়নিকো নুয়ে,
ঊর্ধ্বের যারা – পড়েছে তাহারা, তুমি ছিলে খাড়া ভুঁয়ে!
শত প্রলোভন বিলাস বাসন ঐশ্বর্যের মদ
করেছে সালাম দূর হতে সব, ছুঁইতে পারেনি পদ।
সবারে ঊর্ধ্বে তুলিয়া ধরিয়া তুমিছিলে সব নিচে,
বুকে করে সবে বেড়া করি পার, আপনি রহিলে পিছে!"
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন