মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতকাল ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম একটি স্থানীয় ধর্মীয় আন্দোলন থেকে আঞ্চলিক শক্তিতে রূপ নেয়। মদিনা থেকে শুরু করে এই আন্দোলন কূটনীতি, চুক্তি এবং সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সমগ্র আরব উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়ে। মূল দিকসমূহ: রাজনৈতিক ঐক্য: আরবের বিভিন্ন গোত্র ইসলামের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব মেনে নেয়, যার ফলে দীর্ঘদিনের আন্তঃগোত্রীয় দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে। কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র: মদিনাকে কেন্দ্র করে একটি সুসংহত ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান: এই নবগঠিত রাষ্ট্রটি এমন এক সময়ে গঠিত হয়েছিল যখন এর পশ্চিমে বাইজেন্টাইন (রোমান) সাম্রাজ্য এবং পূর্বে সাসানীয় (পারস্য) সাম্রাজ্য অবস্থান করছিল—উভয় সাম্রাজ্যই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। মানচিত্র (Map Overview) ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের বিস্তৃতি বোঝাতে সাধারণত যে ঐতিহাসিক মানচিত্রগুলো (যেমন: আল মুকাদ্দামা বা অন্যান্য ঐতিহাসিক ম্যাপ) ব্যবহার করা হয়, তাতে নিম্নলিখিত ভৌগোলিক সীমানা দেখা যায়: সবুজ বা নির্দিষ্ট রঙে চিহ্নিত এলাকা: সম্পূর্ণ আরব উপদ্বীপ (মক্কা, মদিনা,...
এবার ফেসবুকে বেশ ভাইরাল হয়েছিল হযরত ওমরের ঈদ শপিং কাহিনীটি। সবাই লাইক কমেন্ট শেয়ার করলাম। কিন্তু ঘটনা কী এখানেই শেষ? কি ছিল সেই কাহিনী থেকে শিক্ষণীয়?আসুন কাহিনীটা আরেকবার পড়ে ঝালাই করে নেই। শেষে কাহিনীর বার্তা পাবেন। চলুন শুরু করি।
অর্ধ পৃথিবীর খাদেম খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) ঈদে নিজের সন্তানদের নতুন জামা পর্যন্ত কিনে দিতে পারেননি। ঈদের পূর্ব দিনে তাঁর স্ত্রী এসে বললেন, ‘আমাদের জন্য ঈদের কাপড় না হলেও চলবে। কিন্তু ছোট্ট বাচ্চাটি ঈদের জামার জন্য কাঁদছে।’ হযরত ওমর বললেন, ‘আমারতো জামা কেনার সামর্থ্য নেই।’ তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের দায়িত্বে নিয়োজিত সাহাবী হযরত আবু উবায়দা (রাঃ) এর নিকট অগ্রীম এক মাসের ভাতা চেয়ে একটি পত্র প্রেরণ করলেন। মুসলিম জাহানের খলিফার এমন অসহায়ত্বের সংবাদ সম্বলিত চিঠি পেয়ে হযরত আবু উবায়দা কেঁদে ফেললেন। তিনি পত্রবাহককে ভাতা না দিয়ে চিঠির জবাবে লিখলেন, আমিরুল মুমেনিন, আমি আপনাকে অগ্রীম ভাতা দিতে পারি। তবে আপনাকে দু’টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে হবে।
প্রথমত: আপনাকে আগামী মাস পর্যন্ত জীবিত থাকার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।
দ্বিতীয়ত : যদি জীবিত থাকেন তাহলে মুসলমানরা যে আপনাকে আগামী মাস পর্যন্ত তাদের শাসক রূপে মনোনীত রাখবে এর নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।
ভাতার পরিবর্তে কোষাধ্যক্ষের এ পত্র পেয়ে খলিফা হযরত ওমর নির্বাক! হতভম্ব। তিনি এতো বেশী ক্রন্দন করলেন যে, তাঁর দাঁড়ি মুবারক পর্যন্ত অশ্রুতে ভিজে গেল।
কী বিস্ময়কর শাসক! কী মহান রাষ্ট্রপতি! যিনি অভাবের তাড়নায় নিজ সন্তানকে ঈদের জামা পর্যন্ত কিনে দিতে পারলেন না। আর আমাদের সমাজপতিদের কী ভয়াল চিত্র! যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে। মাত্র কয়েক বছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকায় নিজ সম্পদ বেড়ে চারশত-পাঁচশত গুণে রূপান্তরিত হচ্ছে। অপরদিকে ইসলামের ইতিহাস হলো-সততার ইতিহাস, ন্যায়পরায়নতার ইতিহাস। নিজ স্বার্থকে বিনাশ করে মানবতার কল্যাণে সবকিছু উৎসর্গ করার ইতিহাস। কবি নজরুল উমর ফারুক কবিতায় বলেছেন,
"অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখ্তে বসি
খেঁজুর পাতার প্রাসাদ তোমার বারে বারে গেছে খসি
সাইমুম-ঝড়ে। পড়েছে কুঠির, তুমি পড়নিকো নুয়ে,
ঊর্ধ্বের যারা – পড়েছে তাহারা, তুমি ছিলে খাড়া ভুঁয়ে!
শত প্রলোভন বিলাস বাসন ঐশ্বর্যের মদ
করেছে সালাম দূর হতে সব, ছুঁইতে পারেনি পদ।
সবারে ঊর্ধ্বে তুলিয়া ধরিয়া তুমিছিলে সব নিচে,
বুকে করে সবে বেড়া করি পার, আপনি রহিলে পিছে!"
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন