মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতকাল ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম একটি স্থানীয় ধর্মীয় আন্দোলন থেকে আঞ্চলিক শক্তিতে রূপ নেয়। মদিনা থেকে শুরু করে এই আন্দোলন কূটনীতি, চুক্তি এবং সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সমগ্র আরব উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়ে। মূল দিকসমূহ: রাজনৈতিক ঐক্য: আরবের বিভিন্ন গোত্র ইসলামের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব মেনে নেয়, যার ফলে দীর্ঘদিনের আন্তঃগোত্রীয় দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে। কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র: মদিনাকে কেন্দ্র করে একটি সুসংহত ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান: এই নবগঠিত রাষ্ট্রটি এমন এক সময়ে গঠিত হয়েছিল যখন এর পশ্চিমে বাইজেন্টাইন (রোমান) সাম্রাজ্য এবং পূর্বে সাসানীয় (পারস্য) সাম্রাজ্য অবস্থান করছিল—উভয় সাম্রাজ্যই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। মানচিত্র (Map Overview) ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের বিস্তৃতি বোঝাতে সাধারণত যে ঐতিহাসিক মানচিত্রগুলো (যেমন: আল মুকাদ্দামা বা অন্যান্য ঐতিহাসিক ম্যাপ) ব্যবহার করা হয়, তাতে নিম্নলিখিত ভৌগোলিক সীমানা দেখা যায়: সবুজ বা নির্দিষ্ট রঙে চিহ্নিত এলাকা: সম্পূর্ণ আরব উপদ্বীপ (মক্কা, মদিনা,...
হযরত ওমর(রা) তখন মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা। তিনি প্রায় রাতে ছদ্মবেশে বের হতেন। জনগণের সুখ দুঃখ দেখার জন্য। এমনই এক রাতে বের হয়ে সুরেলা আওয়াজ শুনতে পেলেন। একটি লোক গান গাইছিল।তাঁর সন্দেহ হলো। তিনি প্রাচীরে উঠে দেখলেন, পাশের ঘরে এক পুরুষ বসে আছে।
তার পাশে মদ ভর্তি একটি পাত্র ও গ্লাস। অদূরে এক মহিলাও সঙ্গে রয়েছে।খলিফা চিৎকার করে বললেন, ওরে আল্লাহর দুশমন! তুই কি মনে করেছিস যে, তুই আল্লাহর নাফরমানী করবি, আর তিনি তোর গোপন অভিসারের কথা ফাঁস করবেন না? জবাবে সে বললো, “আমিরুল মোমেনীন, তাড়াহুড়ো করবেন না।
আমি যদি একটি গুনাহও করে থাকি, তবে আপনি করেছেন তিনটি গুনাহ।
প্রথমত: আল্লাহ তায়ালা মানুষের দোষত্রুটি খুঁজে বেড়াতে নিষেধ করেছেন কিন্তু আপনি দোষ ত্রুটি খুঁজছেন।
দ্বিতীয়ত:আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন কারো বাড়িতে ঢুকলে দরজা দিয়ে ঢুকতে, কিন্তু আপনি প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে ঘরে প্রবেশ করেছেন।
তৃতীয়ত:আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে, নিজের বাড়ি ছাড়া অন্যের বাড়িতে অনুমতি নিয়ে ঢুকতে।কিন্তু আপনি আমার অনুমতি ছাড়াই আমার বাড়িতে প্রবেশ করেছেন।”
এ জবাব শুনে হযরত ওমর(রা) নিজের ভুল স্বীকার করলেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন না।তবে তার কাছ হতে অংগীকার আদায় করলেন যে, সে পাপের পথ ত্যাগ করে সৎ পথে ফিরে আসবে।
শিক্ষাঃ অন্যায়ের প্রতিরোধে সক্রিয় থাকা প্রত্যেক মুসলিমের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব।কিন্তু এই দায়িত্ব পালনেও অনেক সতর্কতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হয়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন