ইতিহাসের পাতায় কিছু সমাপ্তি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং তা এক গভীর ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। ২৩ আগস্ট—উসমানীয় রাজবংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ (Caliph Abdul Majid II) -এর জীবনের এক মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধূর অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন। খেলাফতের পতন এবং উসমানীয় রাজবংশের তুরস্ক থেকে নির্বাসনের পর তাঁর জীবন কীভাবে এক নিদারুণ নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়েছিল, এটি তারই এক ঐতিহাসিক দলিল। ১. নির্বাসিত জীবন ও প্যারিসের নিঃসঙ্গ মৃত্যু তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যখন উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করা হয়, তখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, তখন চরম দুর্দিনে প্যারিসের এক ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ এতটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল যে, বেশ কয়েক দিন ধরে তা ফ্ল্যাটেই রাখা ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তাঁর মরদেহ প্যারিস মসজিদে নিয়ে গিয়ে হিমঘরে (frozen storage) রাখা হয়। ২. অপূর্ণ ইচ্ছে ও শেষ ঠিকানার সন্ধান আবদুল মজিদ জীবনের ...
মাদ্রাসায় কোনো ঘটনা ঘটলে যতটা না মার্কেটিং হয় অন্য ঘটনায় সেটি দেখা যায় না। অপরাধকে স্থান কাল পাত্রভেদে অপরাধ হিসেবেই সাব্যস্ত করা উচিত। কোন ঘটনা ঘটলেই মাদ্রাসাকে নিয়ে যেভাবে তুলকালামকান্ড ঘটে তা নজিরবিহীন। শুধু কি এসব ঘটনা মাদ্রাসায় ঘটে? মাদ্রাসা বন্ধ করার হুমকি দেন, হুজুরদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করেন। রাজধানীর ইংরেজি মাধ্যম স্কুল মাস্টারমাইন্ডের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকা নূর আমিন ওরফে শাহনূরীকে ধর্ষণের পর আপনারা কতটুকু প্রতিবাদে সরব হয়েছেন?
বাংলাদেশে পারিবারিকভাবেও অনেক শিশু নির্যাতনের শিকার। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে, এক থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৮৯ শতাংশ সমীক্ষা চলাকালীন আগের এক মাসে অন্তত একবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। (প্রথম আলো) মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ‘শিশু পরিস্থিতি রিপোর্ট মতে, ২০২০ সালে একহাজার ৫২১টি শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এরমধ্যে মেয়ে শিশু ১০৮৮ আর ছেলে শিশুর সংখ্যা ৪৩৩। নির্যাতনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ৬২৬টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এরমধ্যে মেয়ে শিশুর সংখ্যা ৬১৬ এবং ছেলে শিশুর ১০টি। নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছে ১৪ শিশু। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী গত বছর (২০২০) সারাদেশে এক হাজার ৭৪১টি শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এরমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১২৫টি শিশু।২০১৩ সালে ইউনিসেফের একটি জরিপে প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে ৯ জন জানিয়েছে, তারা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক নির্যাতনের শিকার। আর প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন শিশু জানায়, তারা বাড়িতে অভিভাবকদের হাতে শারীরিক শাস্তি পায়।ইউনিসেফ বলছে, ২০১০ সাল পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতকরা ৯১ ভাগ এবং বাড়িতে শতকরা ৭১ ভাগ শিশু শারীরিক শাস্তির শিকার হয়েছে। জরিপে বলা হয়, বাংলাদেশের স্কুলগুলোতে বেত বা লাঠির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে এবং ৮৭ দশমিক ৬ শতাংশ ছাত্র এই বেত বা লাঠির শিকার হয়।
করোনাকালে শিশুদের প্রতি ৩০ শতাংশ নির্যাতন বেড়েছে। ২০২০ সালের মে মাসে দুই হাজার ১৭১ জন ও জুন মাসে দুই হাজার ৮৯৬ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। একইসাথে বেড়েছে বাল্যবিবাহের সংখ্যা।
শিশু ও নারীর প্রতি নির্যাতন নিয়ে জুন মাসে এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। এসব পরিসংখ্যান কি আপনাদের চোখে পড়ে না? দিনশেষে অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা দেখে নয়।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন