ইতিহাসের পাতায় কিছু সমাপ্তি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং তা এক গভীর ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। ২৩ আগস্ট—উসমানীয় রাজবংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ (Caliph Abdul Majid II) -এর জীবনের এক মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধূর অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন। খেলাফতের পতন এবং উসমানীয় রাজবংশের তুরস্ক থেকে নির্বাসনের পর তাঁর জীবন কীভাবে এক নিদারুণ নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়েছিল, এটি তারই এক ঐতিহাসিক দলিল। ১. নির্বাসিত জীবন ও প্যারিসের নিঃসঙ্গ মৃত্যু তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যখন উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করা হয়, তখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, তখন চরম দুর্দিনে প্যারিসের এক ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ এতটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল যে, বেশ কয়েক দিন ধরে তা ফ্ল্যাটেই রাখা ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তাঁর মরদেহ প্যারিস মসজিদে নিয়ে গিয়ে হিমঘরে (frozen storage) রাখা হয়। ২. অপূর্ণ ইচ্ছে ও শেষ ঠিকানার সন্ধান আবদুল মজিদ জীবনের ...
একজন সাংবাদিককে হতে হবে সত্য প্রকাশে নির্ভীক এবং নিঃসঙ্কোচে তা প্রকাশ করার প্রবল ইচ্ছা।সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার সৎ সাহস। কলম চলবে নির্যাতিত ও অসহায়দের পক্ষে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে হবেন আপোষহীন। দলবাজি চাটুকারিতা ও সত্য ঘটনাকে আড়াল করা, অন্যায়ভাবে ভাবে কাউকে ফাঁসানো সাংবাদিকদের কাজ নয়। ঘটনার গভীরে গিয়ে সত্য উন্মোচন ও তা জনগণের কাছে উপস্থাপন করা সাংবাদিকের অন্যতম কাজ। সত্য গোপন করে মিথ্যা ও গোঁজামিল সংবাদ দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা সাংবাদিকতার এথিকসের পরিপন্থি । অসত্য সংবাদ সমাজে শুধু নৈরাজ্যই সৃষ্টি করে না বরং এর ক্ষত ও প্রভাব থেকে যায় বহুদিন। আল্লাহ তায়ালা সূরা বাকারার ৪২ নম্বর আয়াতে এরশাদ করেন, ‘এবং তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিও না এবং জেনে-বুঝে সত্য গোপন করো না।’ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া কবিরা গুনাহ।’ বুখারি, মুসলিম।কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীরা! আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্য কথা সোজাভাবে বল। (সূরা আল আহজাব, আয়াত ৭০)
সূরা সাবা’তে হুদহুদ পাখির সংবাদ প্রচারের ধরন বড় চমৎকারভাবে আলোচনা করা হয়েছে। সংবাদ কেমন হবে ও একজন সাংবাদিকের কী কী গুণাবলি থাকা দরকার- একটি পাখির মাধ্যমে জগৎবাসীকে শিখিয়েছেন আল্লাহতায়ালা। আল্লাহ বলেন, ‘তারপর হুদহুদ এসে বলল, ‘আমি সে সংবাদ জেনে এসেছি আপনি তা জানেননি। আমি সাবা থেকে আপনার জন্য সঠিক তথ্য নিয়ে এসেছি। আমি দেখেছি, একজন নারী রাজত্ব করছে। তাকে দেয়া হয়েছে সব কিছু। আর তার আছে এক বিশাল সিংহাসন। আমি তাকে এবং তার জনগণকে আল্লাহকে বাদ দিয়ে সূর্যকে সেজদা করতে দেখেছি। আর শয়তান তাদের কাজগুলো বিশেষ রং মেখে দিয়েছে। ফলে তারা কুফরি ও শিরকে আনন্দের সঙ্গে ডুবে আছে। তারা আল্লাহর হেদায়েত থেকে দূরে সরে আছে।’ (সূরা আন-নামল, আয়াত ২২-২৬)।আয়াতের আলোকে একজন সাংবাদকর্মীর যে গুণগুলো থাকতেই হবে তা হল- ১. সংবাদটি নির্ভরযোগ্য ও সঠিক কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে; ২. সংবাদটি প্রমাণ ও যুক্তিনির্ভর হতে হবে; ৩. সরেজমিন খবরের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে; ৪. বিশ্লেষণধর্মী সমালোচনা থেকে রাজা-প্রজা কেউই বাদ যাবে না; ৪. সমস্যার গভীর পর্যালোচনার পাশাপাশি সম্ভাব্য সমাধানও তুলে ধরতে হবে। সূরা হুজুরাতের ৬ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে, ‘হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো বার্তা আনয়ন করে, তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে, পাছে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে বসে এবং তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে হয়।’

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন