ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু যুদ্ধ রয়েছে, যা কেবল দুটি সাম্রাজ্যের ভাগ্যই পরিবর্তন করে দেয় না, বরং পুরো পৃথিবীর সভ্যতার গতিপথ বদলে দেয়। ৬৩৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে সংঘটিত ইয়ারমুকের যুদ্ধ এমনই এক যুগান্তকারী অধ্যায়। এই যুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমেই ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার জমিনে বাইজেন্টাইন (পূর্ব রোমান) সাম্রাজ্যের আধিপত্য চিরতরে ধসে পড়েছিল। ১. যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সপ্তম শতাব্দীর প্রথমার্ধে পারস্যের সাসনানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্যের পর উদীয়মান ইসলামী শক্তির সামনে প্রধান পরাশক্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছিল বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য। সেই সময় সাম্রাজ্যের নেতৃত্বে ছিলেন সম্রাট হেরাক্লিয়াস (Heraclius)। ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে বাইজেন্টাইনরা সাময়িকভাবে দামেস্ক পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, পরবর্তীতে তারা ইয়ারমুকের মাঠে মূল মুসলিম বাহিনীর মুখোমুখি হয়। যদিও এই যুদ্ধকে সাধারণভাবে ইসলাম ও খ্রিস্টান শক্তির সংঘাত হিসেবে দেখা হয়, তবে সেসময়ের বাস্তবতায় অনেক যোদ্ধা ছিলেন যারা সরাসরি এই দুই ধর্মের কোনোটির সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত ছিলেন না। ২. সংখ্যায় কম, ঈমানে বলীয়ান: কৌশলগত লড়াই ইয়ারমুকের প্রান্তরে বাইজেন্টাইন...
রুমানা আহমদের পিতামাতা ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে আমেরিকায় যান। তাঁরা মার্কিন রাজধানীর সন্নিকটে ম্যারিল্যান্ডে বসবাস করেন। এখানেই রুমানার জন্ম। তাঁর পিতা ব্যাংক অব আমেরিকায় কাজ শুরু করে এই ব্যাংকের সহকারী উপপ্রধান পদে উন্নীত হন।২০১১ সালে বারাক ওবামার শাসনামলে রুমানা হোয়াইট হাউসে চাকরি গ্রহণ করেন।যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের একমাত্র মুসলিম সদস্য ছিলেন তিনি। রুমানা নিজেকে ‘হিজাবি’ বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। বারাক ওবামার প্রশাসনে তিনি নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান বেন রোডসের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। হোয়াইট হাউসে প্রতিদিন হিজাব পরেই প্রবেশ করতেন। বারাক ওবামার সঙ্গে তাঁর একটি ছবি সে সময় হোয়াইট হাউস ব্যাপকভাবে প্রচার করে। ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের উদ্যোগে বাংলাদেশিদের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁর আলাপচারিতার একটি ঘটনাও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।
২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে অস্বস্তি বোধ করা সত্ত্বেও নিরাপত্তা পরিষদে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু আট দিনের বেশি তাঁর পক্ষে সে চাকরিতে থাকা সম্ভব হয়নি। ২০ জানুয়ারি ২০১৭ সালে দায়িত্ব নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর এক সপ্তাহ পরই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে অস্থায়ীভাবে ও সিরীয় শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। এ কারণেই রুমানা ২৮ জানুয়ারি চাকরি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন ‘যে প্রশাসন আমাকে ও আমার মতো (মুসলিমদের) যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ভাবার বদলে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, সেখানে আমার পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।রুমানা জানান, তিনি কেন পদত্যাগ করছেন, সে কথা নিরাপত্তা পরিষদের যোগাযোগ উপদেষ্টা মাইকেল এন্টনকে ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, ট্রাম্পের মুসলিম আগমন নিষিদ্ধ ঘোষণার পর কাজ চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে ওঠে। ‘আমি তাঁকে জানাই, (এই ঘোষণার পর) দেশের সবচেয়ে ঐতিহাসিক এই ভবনে প্রতিদিন প্রবেশ করা আমার জন্য রীতিমতো অপমানজনক হয়ে উঠেছে।’ দীর্ঘ চার বছর পররুমানা এবার বাইডেনের ট্র্যাঞ্জিশন টিমে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম টিমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ পেয়েছেন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন