সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

দক্ষিণ কোরিয়ায় মুসলমানদের আগমন ও বিকাশ


সিউল সেন্ট্রাল মসজিদ

দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ যা কোরীয় উপদ্বীপের দক্ষিণ অংশটি নিয়ে গঠিত। এর সরকারি নাম কোরীয় প্রজাতন্ত্র । দক্ষিণ কোরিয়ার উত্তরে উত্তর কোরিয়া, পূর্বে জাপান সাগর, দক্ষিণে ও দক্ষিণ-পূর্বে কোরিয়া প্রণালী, যা জাপান থেকে দেশটিকে পৃথক করেছে, এবং পশ্চিমে পীত সাগর।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে কোরীয় উপদ্বীপের উত্তর অংশটি সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনারা এবং দক্ষিণ অংশটি মার্কিন সেনারা দখলে রেখেছিল। ১৯৪৮ সালে এ থেকে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া রাষ্ট্রদ্বয়ের আবির্ভাব হয়।অবিভক্ত কোরিয়া মূলত জাপানিদের দখলে ছিল। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হেরে যাওয়ার সময় জাপানিরা সমাজতান্ত্রিক দেশ সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে আত্মসমর্পণ করে। ফলে অবিভক্ত কোরিয়া দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। তখন উত্তর কোরিয়া ১৯৫০ সালে সমাজতান্ত্রিক দেশ সোভিয়েত ইউনিয়নের মতাদর্শে সমাজতান্ত্রিক ব্লকে চলে যায়। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের মতাদর্শে পুঁজিবাদী ব্লকে যোগ দেয়। তখন থেকে কোরিয়া দুটি ভিন্ন নাম—উত্তর ও দক্ষিণ তথা দুটি ভিন্ন অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় চলতে শুরু করে।১৯৫০-১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের পরে ধ্বংসপ্রায় দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৯০ সালে এসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতিগুলির একটিতে পরিণত হয় এবং সেই সঙ্গে এশিয়ান চার ড্রাগনে পরিণত হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি ভাষা কোরীয়। এখানকার প্রায় সব লোক কোরীয় ভাষাতে কথা বলে। তবে আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করে। দেশটির মুদ্রার নাম সাউথ কোরিয়ান ওন।

দক্ষিণকোরিয়ার আয়তন এক লাখ ২১০ বর্গকিলোমিটার।২০১৮ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, দেশটির জনসংস্যা ৫ কোটি ১৪ লাখ, যার মধ্যে রাজধানী সিওল শহরে বসবাস করে ১ কোটিরও অধিক।৪৬ % কোনো ধর্মে বিশ্বাসী না হলেও সেখানে মুসলমানদের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধিই পাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের সাথে সম্পর্ক নেই এর উপরেই ভিত্তি করে আছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মোট জনসংখ্যার ৫২ শতাংশ বৌদ্ধ ও ২০ শতাংশ খ্রিস্টান। প্রায় ২৫.৩ শতাংশ কোরীয় নাগরিক নির্দিষ্ট কোনো ধর্ম পালন করেন না।খুবই অল্প সংখ্যক কোরীয় নাগরিক কনফুসীয় ধর্ম, ওন বৌদ্ধ মতবাদ, ছন-দো মতবাদ, দেসান জিনরি-হো মতবাদ মেনে চলে।বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় মাত্র ২ লাখ মুসলিম রয়েছে, যা এটির পুরো জনসংখ্যার মাত্র ০.৪ শতাংশ।৫০ সহস্রাধিক হলো স্থায়ী কোরিয়ান মুসলমান।এর মধ্যে রয়েছে মুসলিম প্রধান দেশ থেকে আসা অভিবাসী এবং বেশকিছু ধর্মান্তরিত দক্ষিণ কোরীয় বাসিন্দা। ১৯৬৫ সাকে যখন কোরিয়া মুসলিম ফেডারেশন স্থাপিত হয়, তখন মুসলিমদের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৭০০।২০১৬ সালে দেশটির ধার্মিক প্রকাশনী নিউজ অ্যান্ড জয়’এ জানানো হয়, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার মুসলিম অভিবাসী বাস করে। দ্য কোরিয়া মুসলিম ফেডারেশনের তথ্য মতে কোরিয়ায় বর্তমানে দেড় লক্ষাধিক মুসলিম রয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.৩ শতাংশ। তবে এদের বেশির ভাগই অভিবাসী। দক্ষিণ কোরিয়ায় কোরীয় মুসলিমের সংখ্যা ৩৫ হাজার। সিউল একাই দক্ষিণ কোরিয়ার মোট মুসলিম জনসংখ্যার ৪০%।

২০০৫ সালেও দেশটির আদমশুমারিতে মুসলিমদের কোন বিভাগের সদস্য হিসেবে ধরা হত না। যে দক্ষিণ কোরিয়ায় মুসলিমদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।হ্যানকক ইলবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ৫০ বছরে দক্ষিণ কোরিয়ায় মুসলিমদের সংখ্যা প্রায় ৫৪ গুণ বেড়েছে।কোরিয়ায় ইসলামের প্রথম উপস্থিতি ইউনিফাইড সিল্লা আমলে নবম শতাব্দীর পূর্বে পার্সিয়ান এবং আরব নাবিক এবং ব্যবসায়ীদের আগমনের সাথে। নবম শতাব্দীর মুসলিম পার্সিয়ান গবেষক ও ভূগোলবিদ ইবনে খোর্দাদেহ সহ অসংখ্য মুসলিম ভূগোলবিদদের মতে, তাদের অনেকেই মুসলিম গ্রাম প্রতিষ্ঠা করে কোরিয়ায় স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেছিলেন। কিছু রেকর্ড ইঙ্গিত দেয় যে এই বসতি স্থাপনকারীদের বেশিরভাগই ইরাক থেকে এসেছিল।কোরিয়ান রেকর্ডগুলি থেকে দেখা যায় যে হাসান রাজা নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে খ্রিস্টীয় নবম শতকে বিপুল সংখ্যক মুসলিম বিদেশী কোরিয়ায় বসতি স্থাপন করেছিলেন । সিল্লায় মধ্যপ্রাচ্যের একটি মুসলিম সম্প্রদায়ের উল্লেখ রয়েছে যে পার্সিয়ান বৈশিষ্ট্যের স্বতন্ত্র রাজকীয় অভিভাবকদের মূর্তি রয়েছে।, পরে অনেক মুসলমান কোরিয়ানদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।কোরিয়ার রাজধানী সিউলের টর্চ ট্রিনিটি সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজের প্রধান গবেষক জিউন কোয়ান তাঁর এক প্রবন্ধে লিখেন, নবম শতাব্দীতে সমুদ্রপথে আরব ও ফরাসি বণিকদের কোরীয় উপদ্বীপে আগমনের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে ইসলামের অনুপ্রবেশ। তারপর একাদশ শতাব্দীতে আরবের ভিন্ন একটি বাণিজ্যিক গ্রুপ এখানে ব্যবসা করতে আসে। ওই সব বণিক কোরিয়ার কেইসঙ্গ শহরে (বর্তমান উত্তর কোরিয়া) দৈনন্দিন নামাজ আদায়ের জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। এভাবে দ্বাদশ শতাব্দীর সূচনালগ্ন থেকে ইসলাম সম্পর্কে কোরিয়ানদের পরিচিতি ও কিছুটা সখ্য গড়ে ওঠে। ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে জাপান কোরিয়া উপদ্বীপের ওপর দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করলে এক মিলিয়নের চেয়ে অধিক কোরিয়ান প্রতিবেশী রাষ্ট্র চীনে আশ্রয় গ্রহণ করে। সেখানে চাইনিজ মুসলিমদের সঙ্গে তাঁদের দেখাশোনা ও বোঝাপড়া হয়। কয়েক দশক চীনে অবস্থানের ফলে কিছুসংখ্যক কোরিয়ান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। কোরিয়া স্বাধীনতা অর্জন করলে ১৯৪৫ সালে তাঁরা নিজ দেশে ফিরে আসেন। কোরিয়ান যুদ্ধের সময়, তুরস্ক জাতিসংঘের কমান্ডের অধীনে দক্ষিণ কোরিয়াকে সহায়তার জন্য বিপুল সংখ্যক সেনা পাঠিয়েছিল। যুদ্ধের ময়দানে তাদের অবদানের পাশাপাশি, তুর্কিরা মানবিক কাজে সহায়তা করেছিল। যুদ্ধ অনাথদের যুদ্ধকালীন স্কুল পরিচালনায় সহায়তা করেছিল। যুদ্ধের অল্প সময়ের মধ্যেই, ইউএন শান্তিরক্ষী হিসাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত কিছু তুর্কি কোরিয়ানদের ধর্মান্তরিত করতে শুরু করে। প্রথমদিকে ধর্মান্তরকারীরা ১৯৫৫ সালে কোরিয়া মুসলিম সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেছিল, এই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল।দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে ১৫টি মসজিদ, ৫টি ইসলামিক সেন্টার ও ১০০টি নামাজের স্থান রয়েছে।রাজধানী সিউল, বোসান প্রভৃতি অঞ্চলে বর্তমানে ১৫টি মসজিদ এবং ৬০টি মুসল্লা বা নামাজঘর রয়েছে। ১৯৬৯ সালে কোরিয়ান সরকার প্রদত্ত জমিতে গড়ে ওঠে সিউল কেন্দ্রীয় মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার।সিউল সেন্ট্রাল মসজিদ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম মসজিদ যেটা হেনাম-ডং সিউলে অবস্থিত।এ মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৭৪ সালের অক্টোবরে। কয়েকটি মুসলিম দেশের অর্থায়নে মসজিদটি নির্মিত হয়। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ১৯৭৬ সালের ২১ মে। প্রতি শুক্রবার মসজিদ পূর্ণ হয়ে আশপাশের রাস্তাঘাটে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় জমে। মসজিদটি এরই মধ্যে বিশ্বের অনন্য সুন্দর মসজিদ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।সেখানে দ্বীনি কর্মতৎপরতা পরিচালনার নিমিত্ত কয়েকটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। সেগুলো মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পেশ করছে। কোরিয়ান ভাষায় পবিত্র কোরআন অনুবাদ প্রকাশসহ বেশ কিছু প্রকাশনার কাজও তারা যথারীতি আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে।দক্ষিণ কোরিয়া পর্যটন সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে দেশটিতে বিদেশি মুসলিম পর্যটকের সংখ্যা ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটক বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে রেখে পর্যটন সংস্থা এমন ঘোষণা দিয়েছে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...

কাবা ঘর নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মো. আবু রায়হানঃ কাবা মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে, পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।কাবা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ মুকাআব অর্থ ঘন থেকে।কাবা একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত। (The Kaaba, meaning cube in Arabic, is a square building elegantly draped in a silk and cotton veil.)।যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।কাবার ভৌগোলিক অবস্থান ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব।পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর বায়তুল্লাহ বা পবিত্র কাবা ঘর ।আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে তা মক্কা নগরীতে। (সুরা আল ইমরান - ৯৬)। “প্রথম মাসজিদ বায়তুল্লাহিল হারাম তারপর বাইতুল মাকদিস, আর এ দুয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো চল্লিশ বছরের”।(মুসলিম- ৫২০)। ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি ...